চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নারীর সংগ্রাম

কিছু বিষয় আছে যা মেয়েদের খুব গভীরে আহত করে, যা মেয়ে না হলে বোঝা কঠিন।

সালেহা বেগম, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের মা। তিনি ঢাকায় ছুটে এসেছেন ছেলের ওপর আক্রমণ এবং তাকে রিমান্ডে নেয়া থেকে মুক্তি দিতে। ছেলের জীবন বাঁচাবার জন্যে কতখানি অসহায় হলে, হাত জোড় করে একজন মা বলতে পারেন, ‘আমার মণিকে তোমরা মাফ করে দাও। শুধু মুক্তি দাও। ও আর চাকরী চাবে না গো। ওকে ভিক্ষা দাও। আমার মণিকে আমি ঢাকায় আর রাখব না গো। গ্রামে নিয়ে চলে যাব।’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাত পেতে তিনি সন্তান ভিক্ষা চাইছেন। যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে আজ সে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থির মায়ের ক্ষমা চাইবার ভাষা সব মায়ের মাথা নুইয়ে দিয়েছে। এই (আরো পড়ূন)

এবারের ঈদ

আজ ঈদ। ঈদ মোবারক।

বাংলাদেশের জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রেখে ঈদুল ফিতর পালন করছে। এ এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। রাজনৈতিক সংবেদনা ও উপলব্ধির দিক থেকে অস্বস্তির।

আইন প্রণেতা ও আইন বাস্তবায়নকারীর মধ্যে যখন ফারাক লুপ্ত হয়, তখন আইন, অধিকার বা ন্যায় বিচারের তর্ক অর্থহীন। জনগণকে এই সহজ সত্যটুকু বোঝাবার কার্যকর কোন চেষ্টা বিএনপি করে নি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় শুধু আইনী পদ্ধতিতে ন্যায়-অন্যায় মীমাংসার রাজনীতি আত্মঘাতী চিন্তা। যার পরিণতি খালেদা কেন, বাংলাদেশের বহু নাগরিক ভোগ করছেন। অথচ পাশাপাশি দরকার ছিল এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট রাজনীতি ও গণআন্দোলন।

দিল্লির মসনদে উপমহাদেশের ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ শক্ত (আরো পড়ূন)

কবি ফররুখ আহমদের কি অপরাধ?

এই লেখাটি ফররুখ আহমদকে নিয়ে আহমদ ছফা লিখেছিলেন ১৯৭৩ সালে। সেই সময়ের 'গণকন্ঠ' পত্রিকায় সম্ভবত  ১৬ জুন তারিখে এটি  ছাপা হয়েছিল। এই লেখার মধ্যে আহমদ ছফার মানবিক দিকটি স্পষ্টতই ধরা পড়ে। ফররুখের কাব্য প্রতিভার শক্তি নিয়ে ছফার কোন দ্বিধা ছিল না। তবে ছফা বাংলাদেশে আরও অনেক ভাল মানুষের মতো ফররুখ আহমদকে 'ইসলামি রেঁনেসা'র কবির অধিক ভাবতে পারেন নি। উচ্চবর্ণের হিন্দুর হাতে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাঙালির যে নবজাগরণ ঘটেছিল শিল্প-সংস্কৃতির আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার মানদণ্ড তার দ্বারাই নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বলাবাহুল্য ১৯৭৩ সালে সেই সাম্প্রদায়িক অচলায়তন আহমদ ছফার পক্ষেও ভাঙা সহজ ছিল না। তারপরও ফররুখ আহমদ সম্পর্কে ছফার এই সাহসী, স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন অ (আরো পড়ূন)

ঘাস

থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিধরন চট্টগ্রামে ঘাস রোপন করছেন, এই ছবিটি আমার মনে গভীর ভাবে দাগ কেটেছে। ঘাস রোপন করা যে একটি রাজকীয় কর্ম হতে পারে রাজকুমারির বিন্না ঘাস রোপন দিয়ে বুঝতে পারছি।  কিন্তু এই রাজকীয় বার্তা সবার কাছে এবং সর্বদিকে ঠিকমতো পৌঁছালো কিনা হলফ করে বলতে পারব না। আমার ভাল লাগছে।  প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করি বলে ঘাসের প্রতি আমার মমতা অতিশয় গভীর, রীতিমতো আধ্যাত্মিকতার স্তরের মায়া বলা যায়। তাই এখন তুচ্ছ ঘাস নিয়ে কিছু কথা বলার চেষ্টা করব।

ঘাস রোপন 'বিন্না ঘাস উন্নয়ন কেন্দ্র' উদ্বোধনের অংশ। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বিন্না ঘাস ব্যবহার করে পাহাড়ে ভূমিক্ষয় রোধ করা। চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকায় বিন্না ঘাস উন্নয়ন প্র (আরো পড়ূন)

সব বাড়ে শ্রমিকের মজুরি বাড়ে না

গ্যাসের দাম বাড়ে, বিদ্যুতের দাম বাড়ে, বাড়ী ভাড়া বাড়ে, শুধু গার্মেন্ট শ্রমিকের মজুরী বাড়ে না। রানা প্লাজায় শ্রমিকদের জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। যদি স্রেফ বেঁচে থাকা আর মজুরির তুলনা করা হয় তাহলে বলতে হয় গার্মেন্ট মালিকরা তিলে তিলে নিত্যদিনই শ্রমিকদের মারে। সে্টা কম ভয়াবহ নয়। রানা প্লাজার পাঁচ বচর পর্যালোচনা করতে এসে শ্রমিক নেতারা এই সময়ের গার্মেন্ট শ্রমিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যে মজুরি সেটাই বারবার জোর দিয়ে বললেন।

বর্তমানে গার্মেন্ট শ্রমিকরা যে বেতন পায় বাড়ী ভাড়া তার চেয়েও বেশি। দু’বছর আগে শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন যে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা হলো ৫৩০০ টাকা। এই টাকা থেকে বাড়ি ভাড়া দিতে হচ্ছে চার হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে বা (আরো পড়ূন)

আফগানিস্তান: মাদ্রাসার হাফেজ ও শিশুকিশোর হত্যা

কিশোর হাফেজ হত্যার ক্ষরণ

আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশে মাদ্রাসার শহিদ কিশোর ছাত্রদের ছবি মন ভয়ংকর ভাবে বিষন্ন ও শোকার্ত করে। এই কিশোরদের অনেকে সবে মাত্র মাদ্রাসায় তিরিশ পারা কোরান হেফজ ব মুখস্থ করেছে। হাফেজ হবার স্বীকৃতি ও সনদ পত্র পাবার জন্য মাদ্রাসার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় তারা জড়ো হয়েছিল। এই বাচ্চাদের মিলিটারি হেলিকপ্টার থেকে বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো কোয়ালিশানের 'পরামর্শদাতা'দের সহায়তায় আফগান এয়ার ফোর্স হত্যা অভিযানগুলো পরিচালনা করে। আল জাজিরার কাছে একজন প্রত্যক্ষদর্শী হাজি গোলাম বলছেন, 'আমি ক্ষেতে কাজ করছিলাম, এমন সময় আমি হেলিকপ্টার ও জেট বিমানের ম (আরো পড়ূন)

মানুষ ও পিঁপড়া: প্রসঙ্গ পরিচয়

সরল জিজ্ঞাসা, গভীর বিষয়

পিঁপড়া সমাজবদ্ধ জীব। সামাজিক প্রাণী। পিঁপড়া বা পিপীলিকা ফর্মিসিডি (Formicidae) গোত্রের অন্তর্গত সামাজিক জীব। এদের ঘনিষ্ঠ প্রজাতি বোলতা ও মৌমাছি। সকলে একই বর্গ হাইমেনপ্‌টেরার (Hymenoptera) অন্তর্গত। পিঁপড়া, বোলতা বা মৌমাছি সবসময় দলে থাকে। দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা বা ওড়াওড়ি করে। তাদের মধ্যে কাজের সম্বন্ধ ও সহযোগিতাও আছে; নিজেরা পতঙ্গ না হলেও পিঁপড়াদের বোলতা ও মৌমাছির মতো পিঁপড়ার দললীয় জীবন যাপনের বৈশিষ্ট্য আমরা বুঝতে পারি। দলে থেকে খাদ্য সংগ্রহের জন্য কাজ না করলে এবং নিজেদের প্রজাতি উৎপাদনে তৎপর না থাকলে তারা প্রকৃতিতে টিকে থাকতে পারত না। দলে থাকা এবং কাজের (আরো পড়ূন)

তরুণ মার্কসের হেগেল 'ক্রিটিক'

হেগেলের রাষ্ট্রতত্ত্ব নিয়ে তরুন বয়সের মার্কসের পর্যালোচনামূলক রচনা (Kritik des Hegelschen Staatsrechts (§§ 261-313)) নানান ভাবে পড়া সম্ভব এবং তার গুরুত্বকে নানান দিক থেকে পর্যালোচনা করা যায়। এই লেখাটির দুটো ইংরেজি অনুবাদ সহজ লভ্য। একটি রদনি লিভিংস্টোনের অনুবাদ (Marx 1975)। লুসিও কোলেত্তির সম্পাদিত Early Writings'-এ অন্তর্ভূক্ত: Critique of Hegel' Doctrine of the State ((§§ 261-313)) । আরেকটি হচ্ছে, এনেট জোলিন ও জোসেফ ও'মালের অনুবাদ Critique of Hegel's Philosophy of Rights'; এই অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন জোসেফ ও'মালে এবং তিনি একটি ভূমিকাও লিখেছেন (Marx, Critique of Hegel's 'Philosophy of Right'; tr. Annette Jolin & Jose (আরো পড়ূন)

সাম্রাজ্যবাদী পানীয় কোক-পেপসি

কোকাকোলা কোম্পানি নিয়ে এই লেখাটি পাক্ষিক চিন্তা পত্রিকার 'সাম্রাজ্যবাদঃ যুদ্ধ ও বাণিজ্য' সংখ্যায় (বছর ১৪, সংখ্যা ২; কার্তিক ১৪১৩/নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছিল। এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে চিন্তা অনলাইনে ২৬ মে ২০১০ সালে আমরা আরেকবার ছেপেছিলাম। সম্প্রতি ভাষার মাসে কোকাকোলার 'নিখোঁজ' বাংলা শব্দ প্রকল্প আমাদের আবার হুঁশে এনেছে। কর্পোরেট বাণিজ্যের সাংস্কৃতিক রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করবার জন্য লেখাটি আবার পেশ করছি।

এই প্রসঙ্গে বলা জরুরি যে বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বহুজাতিক কর্পোরেট বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো গভীর ভাবে জড়িত। আমরা আগেও অনেকবার বলেছি, পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোন সংস্কৃতি নাই, পুঁজির আছে শুধু এডভারটাইজ (আরো পড়ূন)

মোদী, আসাম ও মমতা ব্যানার্জি

'বঙ্গাল খেদা' থেকে 'মুসলমান বিতাড়ন'

ন্যাশনাল রেজিস্ট্রেশন অব সিটিজেন ১৯৫১ আসামে একটি আইনী হাতিয়ার; যার দ্বারা কারা আসামের নাগরিক তা নির্ণয় করা হচ্ছে। নাগরিকপঞ্জির ভিত্তিতে কে আসামে থাকত পারবে আর কে পারবে না সেটাই নির্ণয় করা হচ্ছে। যারা নিবন্ধিত হতে ব্যর্থ হবে তাদের বিতাড়ন করা হবে। এই নিবন্ধন শুধু আসামেই, অন্য কোন রাজ্যে নয়। রাষ্ট্রের আইন মানুষের জন্মগত অধিকারও হরণ করতে পারে এবং অনায়াসে লক্ষ লক্ষ লোককে 'রাষ্ট্রহীন' বানিয়ে আইনী সুরক্ষা ও অধিকারের বাইরে ছুঁড়ে ফেলতে পারে। আসামের আইনী পরীক্ষা জাতিবাদ ও আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার ব্যরাম, পুরা দক্ষিণ এশিয়ায়া উত্তাপ ছড়িয়ে এই অসুখ নিজেকে (আরো পড়ূন)