চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

উপসাগরীয় দুই শাহজাদা'র কাহিনী

 সাংবাদিক জামাল খশগগীর হত্যার ঘটনা ৩৩ বছর বয়সী সউদী শাহজাদা মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) ক্যারিয়ারে কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ এবং পর্যবেক্ষকরা নানা আন্দাজ পেশ করছেন। ঠিক সেই সময় তার চেয়ে ২৫ বছরের বড় আরেক শাহজাদা একটু দূরে থেকে সব দেখছেন এবং নিশ্চয়ই একটু অস্বস্তি বোধ করছেন।

এমবিএসের সঙ্গে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ইস্যুতে জড়িয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাহজাদা মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড)। এর মধ্যে দুটি হচ্ছে, ইয়েমেন যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্র কাতারের বিরুদ্ধে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ।

এই দুটি বিষয়ের ফল বেশি সুখকর ছিল না। ইয়েমেন য (আরো পড়ূন)

নারীর মান-মর্যাদার প্রশ্ন

সম্প্রতি ‘নারীর প্রতি কটূক্তি’ করার কারণে সমাজের প্রভাবশালী একটি অংশ হঠাৎ ভীষণ রকম সক্রিয় হয়েছে। ফলে নারীর প্রতি যিনি কটূক্তি করেছেন, তার বিরুদ্ধে দ্রুত বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে, তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জামিনযোগ্য হলেও আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চলছে, কথা বলা, সভা-সমাবেশের অধিকার গায়েব হয়ে গেছে। মানহানির মামলায় ত্বরিত অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে বাংলাদেশের বিদ্যমান ক্ষমতাচর্চার পরিপ্রেক্ষিতেই বিচার করতে হবে। কিন্তু এ ঘটনায় অনেকে এমন ধারণা দিতে চাইছেন যে বাংলাদেশে ‘নারীবাদ’ খুব শক্তিশালী। প্রমাণ হচ্ছে নারীকে কোনো অবস্থায় বাংল (আরো পড়ূন)

কৃষির কর্পোরেট চরিত্র ও জিএমও

সবুজ বিপ্লবের রাজনীতি, বিষ ও প্যাকেজ

গত শতাব্দির মাঝামাঝি সময় থেকে কৃষির কৃৎকৌশলে পরিবর্তন আনবার পরিপ্রেক্ষিতে বীজের ধারণায় এবং বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনা হয়। সরকারি উদ্যোগে হলেও সেটা ছিল আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। ফসলের একাংশকে বীজ হিশাবে সংগ্রহে রাখা, বীজ বাছাই, পরের মৌসুমে বীছন তৈরি এবং জমির বৈচিত্র ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে বিভিন্ন জাতের ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনের সিদ্ধান্ত কৃষক পরিবারই নিতেন। সেখানে কৃষক নারীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকত। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, বিশেষ ভাবে চিনে, কৃষকদের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টি কৃষকদের সংগঠিত করে এবং গণযুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিপ্ল (আরো পড়ূন)

নারীর মুক্তি: কতিপয় বাস্তবিক প্রসঙ্গ

মানুষ কে যে কোন একসময় সকল কর্মের হিসাব দিতে হয়; এটা জীবনের এমন এক অকাট্য সত্য যা নানান জাতির নানান ভাষায় প্রবাদ বাক্য হয়ে টিকে আছে। ইংরেজিতে বলে ' As you sow, so you reap' । খুব সম্ভবত বাইবেলের Old Testament থেকে উদ্ভূত। ইসলাম ধর্মে একে বলে ‘আমলনামা’ আর হিন্দু ধর্মে বলে ‘কর্মফল’। কর্মফলে বিশ্বাস করতে গেলে, আস্তিক হতে হবে কিম্বা বেহেস্ত-দোজখে বিশ্বাস করতে হবে, এমনটির প্রয়োজন নাই। নিউটন এই প্রাকৃতিক ঘটনাকে একটি পদার্থবিদ্যার ধর্ম (Law of Physics) হিসাবে দেখেছেন; তাই বলেছেন, Every action has an equal and opposite reaction '। ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’এই প্রাকৃতিক আইন যেমন ব্যক্তির জন্য সত্য, তেমনই এটা গোষ্ঠি বা জ (আরো পড়ূন)

ওমর মুখতার ও উপনিবেশবিরোধী যুদ্ধ

“হয় জিতবো নয় মরবো” -ওমর মুখতার

“অবিচার নিপীড়িত মানুষকে নায়ক করে তোলে। প্রতিরোধের একজন আইকনিক নেতা হিসেবে লিবিয়ার জনগণ আজও স্মরণ রেখেছে ওমর-আল-মুখতারকে ( ১৮৬২-১৯৩১ ), যিনি তার জীবনের শেষ বিশ বছর নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন ইতালির আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। লিবিয়াবাসীদের কাছে আল-মুখতার মৃত্যুর ছিয়াশি বছর পরেও, সমষ্টিগত চেতনায় জীবিত ; তিনি বেঁচে আছেন আমাদের মধ্যেও। শুধুমাত্র একজন প্রতিরোধ যোদ্ধা হিসেবেই নয় বরং তার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব এবং তার ট্রেডমার্ক এর মতো চোখের সেই চিকন ফ্রেমের চশমার কারণেও” --ঠিক এভাবেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, ওমর-আল-মুখতারে (আরো পড়ূন)

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাক্রম

নিরাপদ সড়কের দাবি কেন্দ্র করে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থিদের আন্দোলন সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এদের অধিকাংশই ছিল শিশু-কিশোর বয়েসি। কিন্তু আন্দোলনের মাত্রা বিস্তার ও শৃংখলা সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শিশু-কিশোর আন্দোলন আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও বিস্ময় তৈরি করে। সরকার ও রাষ্ট্র এই আন্দোলনের মুখে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখমুখি হয় যা এর আগে কোন সরকারকে মোকাবিলা করতে হয় নি। যথারীতি এই আন্দোলন দমন করবার জন্য সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়।

বাসের নীচে চাপা পড়ে শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুজন শিক্ষার্থির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে স্কুলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়কের দাবি গড়ে ওঠে। এবং তৎক্ষণাৎ তা বিক্ষুব্ধ আন্দোলনে র (আরো পড়ূন)

সাবা মাহমুদঃ ইসলাম প্রশ্ন ও পাশ্চাত্য মোকাবেলা

প্রাক কথা

৯/১১ পরবর্তী দুনিয়ায় সাধারণ ভাবে ধর্ম এবং বিশেষ ভাবে ইসলাম প্রশ্ন সামনে চলে আসার কারনে একাডেমিক জগতে ধর্ম, দর্শন, রাষ্ট্র ইত্যাদি নতুন করে পর্যালোচনার অধীন হচ্ছে আবার, বিশেষত এদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিচার জরুরী হয়ে উঠেছে। এই তাগিদে নতুন উৎসাহে ইসলাম নিয়ে নতুন পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। ‘আধুনিকতা’, ‘প্রগতি’, ‘স্বাধীনতা’, ‘অধিকার’ ইত্যাদি ধারণা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তার ছেদ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গিয়ে সেক্যুলার, উদারনৈতিক এবং প্রগতিশীল ধারার যে চিন্তা জারি আছে, সেটাও বাস্তব ও ব্যবহারিক প্রশ্নের কোন কার্যকর মীমাংসার প্রস্ (আরো পড়ূন)

মাহমুদুর রহমান ও ‘বাঙালি মুসলমান’

মাহমুদুর রহমানকে ভালবাসেন এমন মানুষের অভাব নাই। তেমনি, তাঁকে ঘোরতর অপছন্দ করেন এমন লোকও আছেন। এর মধ্য দিয়ে একটি বিভক্ত ও বিভাজিত সমাজের ছবি আমাদের সামনে হাজির  হয় যারা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিশাবে নিজেদের সামষ্টিক স্বার্থের জায়গা থেকে কোন রাজনৈতিক প্রশ্নে বাস্তবোচিত অবস্থান নিতে অক্ষম। সমাজ ও রাজনীতিতে সক্রিয় যে কোন ব্যক্তি সম্পর্কে সমাজে নানান মূল্যায়ন থাকতেই পারে। কিন্তু মাহমুদুর রহমান যেভাবে গুণ্ডামি, হামলা, মামলা এবং অবিশ্বাস্য অবিচারের মুখোমুখি হয়েছেন তার তুলনা নাই। কুষ্টিয়ার আদালতে তিনি প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনেই পুলিশের উপস্থিতিতে গুণ্ডামির শিকার হয়েছেন, মারাত্মক জখম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনা, বলা বাহুল্ (আরো পড়ূন)

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নারীর সংগ্রাম

কিছু বিষয় আছে যা মেয়েদের খুব গভীরে আহত করে, যা মেয়ে না হলে বোঝা কঠিন।

সালেহা বেগম, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের মা। তিনি ঢাকায় ছুটে এসেছেন ছেলের ওপর আক্রমণ এবং তাকে রিমান্ডে নেয়া থেকে মুক্তি দিতে। ছেলের জীবন বাঁচাবার জন্যে কতখানি অসহায় হলে, হাত জোড় করে একজন মা বলতে পারেন, ‘আমার মণিকে তোমরা মাফ করে দাও। শুধু মুক্তি দাও। ও আর চাকরী চাবে না গো। ওকে ভিক্ষা দাও। আমার মণিকে আমি ঢাকায় আর রাখব না গো। গ্রামে নিয়ে চলে যাব।’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাত পেতে তিনি সন্তান ভিক্ষা চাইছেন। যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে আজ সে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থির মায়ের ক্ষমা চাইবার ভাষা সব মায়ের মাথা নুইয়ে দিয়েছে। এই (আরো পড়ূন)

এবারের ঈদ

আজ ঈদ। ঈদ মোবারক।

বাংলাদেশের জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রেখে ঈদুল ফিতর পালন করছে। এ এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। রাজনৈতিক সংবেদনা ও উপলব্ধির দিক থেকে অস্বস্তির।

আইন প্রণেতা ও আইন বাস্তবায়নকারীর মধ্যে যখন ফারাক লুপ্ত হয়, তখন আইন, অধিকার বা ন্যায় বিচারের তর্ক অর্থহীন। জনগণকে এই সহজ সত্যটুকু বোঝাবার কার্যকর কোন চেষ্টা বিএনপি করে নি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় শুধু আইনী পদ্ধতিতে ন্যায়-অন্যায় মীমাংসার রাজনীতি আত্মঘাতী চিন্তা। যার পরিণতি খালেদা কেন, বাংলাদেশের বহু নাগরিক ভোগ করছেন। অথচ পাশাপাশি দরকার ছিল এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট রাজনীতি ও গণআন্দোলন।

দিল্লির মসনদে উপমহাদেশের ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ শক্ত (আরো পড়ূন)