চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

লেনিনের স্বাস্থ্য ভাবনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতাল

ঈশ্বর বাস করেন বহু উঁচুতে স্বর্গে
জার থাকেন বহুদূরে মস্কোতে’
-- বিপ্লব-পূর্ব রাশিয়ার কৃষকদের লোকগীতি

পূর্বকথা

বহু মনীষী পৃথিবীকে স্বর্গে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছেন যুগে যুগে। লেনিন নামে খ্যাত ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ (Vladimir Ilyich Ulyanov: ১৮৭০ – ১৯২৪) তাদের অন্যতম।

পুঁজিবাদী বিশ্বে ১৮৯৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। এই বছর বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও কবি সাহিত্যিকদের সম্মানিত করার জন্য আলফ্রেড নোবেল পুরষ্কার তহবিল সৃষ্টি করেছিলেন । এই একই বছর রাশিয়ান ফার্মেসী সোসাইটি স্থাপিত হয়।

১৮৯৫ সন পৃথিবীর পরিবর্তনের সূচনার বছর। সেন্ট পিটার্সবার্গে শ (আরো পড়ূন)

'দুর্ঘটনা' নয়, নিয়মিত মৃত্যু

দুর্ঘটনা এখন ‘নিয়মিত’ ঘটনা

পাহাড় ধসের কারনে মানুষ মরছে। এটা এখন আর দুর্ঘটনা নয়, নিয়মিত ঘটনা। বর্ষা এলেই কোন কোন উপজেলায় পাহাড় ধসে মানুষ জ্যান্ত কবর হয়ে যাচ্ছে। এবার একটু আগাম ও টানা বর্ষণ নামতে না নামতেই চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১৫০ জনের বেশী মানুষ মরেছে বলে কিছু পত্রিকা দাবি করেছে। দৈনিক যুগান্তরের ১৪ জুনের সংবাদ বলছে, ‘পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ১৪১’; একই তারিখে দৈনিক প্রথম আলোর হিসাব ১২৬ (‘পাহাড় ধসে নিহত ১২৬’)। এর আগে ২০০৭ সালে ১২৭ জন মারা যায়। এবার মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লো। গত ১০ বছরে (২০০৭-১৬) ২০১ জন নিহত হয় প্রথম আলো ১৪.০৬. ১৭) (আরো পড়ূন)

‘বিপ্লব’

‘বিপ্লব’, ‘বৈপ্লবিক’, ‘বৈপ্লবিকতা’ ইত্যাদি শব্দ হামেশা ব্যবহারের ফলে এই শব্দগুলো ক্লিশে হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ব্যবহারে ব্যবহারে জীর্ণ, অনেকটা ছেঁড়া টাকার মতো। অথচ জাতীয় টাঁকশাল থেকে ছাপা টাকা সবসময়ই বৈধ। ছেঁড়া টাকা এখনও বিনিময়ের বৈধ মাধ্যম, কিন্তু বাজারে সেই টাকা চলে না, কেনাবেচা কঠিন হয়ে পড়ে। ছেঁড়া টাকা সহজে কেউ নিতে চায় না। তেমনি পরস্পরের মধ্যে চিন্তার বিনিময়ের জন্য কিছু উপযুক্ত ভাষা-পরিভাষার দরকার আছে, চিন্তার টাঁকশাল থেকেই তাদের উৎপত্তি। কিন্তু অতি ব্যবহারে সেটাও যখন জীর্ণ হয়, তখন তা ভাবের বিনিময় ও চিন্তার বিকাশে বাধা হয়ে পড়ে। যার সঙ্গে ভাবের বিনিময় ঘটাতে চাই তিনি শব্দটির অন্তর্গত মর্ম বিশেষ কবুল করতে র (আরো পড়ূন)

‘বুর্জোয়া’

আমরা ‘বুর্জোয়া’ বুঝি কি?

বামপন্থায়, তবে বিশেষ ভাবে কমিউনিস্ট আন্দোলনে, একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা হচ্ছে ‘বুর্জোয়া’। শ্রেণি রাজনীতি যারা করেন তাদের কাছে এই শব্দটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। আমরা তরুণ বয়সে যখন কমিউনিস্ট রাজনীতিতে দীক্ষা নেই তখন শব্দটার প্রতি আমাদের আকর্ষণ ছিল প্রবল। শব্দটি মনের মধ্যে প্রচণ্ড শত্রু শত্রু ভাব জাগাতো কারন এর বিরুদ্ধেই শ্রমিক শ্রেণি বা কমিউনিস্ট ভাষায় ‘প্রলিতারিয়েত’কে লড়ে বিপ্লব করতে হবে। শব্দটার প্রতি প্রবল আকর্ষণ থাকলেও রহস্যে টইটুম্বুর এই বিদেশি শব্দের আসল মানে আমরা সেকালে ততো জানতাম না। ‘বুর্জোয়া’ বলতে আমর (আরো পড়ূন)

‘নো ট্যাক্স উইথাউট রিপ্রেজেন্টেশান’

ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়বেন না
বাজেটের পরিসংখ্যান নিয়ে তর্কাতর্কি পরে করুন। গণিত পরে। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেবেন না। সহজ করে ভাবুন, যাতে সহজ ভাবে ট্যাক্স ব্যাপারটা কী এবং অর্থমন্ত্রী আবুল আল আব্দুল মোহিত চাইলেই জনগণ রাষ্ট্রকে দিতে বাধ্য কিনা বুঝতে পারেন। রাষ্ট্র আপনার কাছ থেকে নানান ধরনের খাজনা নিচ্ছে। কেন নিচ্ছে? কারন রাষ্ট্রের খর্চাখরচ আছে। যেমন, পুলিশ-র‍্যাব-সেনাবাহিনী-আমলাদের বেতন, জাতীয় সংসদের সদস্যদের বেতন, রাস্তাঘাট তৈরিতে খরচ, বড় বড় প্রকল্পের জন্য খরচ, ইত্যাদি । তো ঠিক আছে। এটা তো মোগল আমলে রাজরাজড়াও নিতো, তাই না? ইংরেজ আমলে নিতো ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি। তারপর নিতেন বিলাতের (আরো পড়ূন)

কমরেড ও প্রগতিশীল ভাইবোনেরা, দৌড়ান!!

এক জায়গা থেকে সরিয়ে শাড়ি পরা দেবি থেমিসকে আবারও আদালত প্রাঙ্গনে পুনর্স্থাপন করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ‘গ্রিক দেবী থেমিসের এই প্রতীককে চিরতরে পরিত্যাগ করতে হবে”। কারন হিসাবে বলেছেন, শাড়ী পরা দেবি থেমিসকে ‘জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ স্থাপন করা হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গনে শাড়ি পরা থেমিসের মূর্তি কোন প্রত্নতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক ভাস্কর্য নয় যে একে রক্ষা করবার কোন প্রত্নতাত্ত্বিক কিম্বা ঐতিহাসিক যুক্তি আছে। আদালত প্রাঙ্গনে এই প্রকার কোন দেবিমূর্তি বসাবার কোন ইচ্ছা বাংলাদেশের জনগণ ব্যক্ত করে নি। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের বিরোধী এই দেবিকে বাংলাদেশের কোথাও স্থান দেয়া যাবে না। ‘গণমানুষের সকল (আরো পড়ূন)

প্রথম আলোর রাজনীতির একটি ব্যবচ্ছেদ

'গণতন্ত্রমনস্ক অনুভূতিসম্পন্ন' উপলব্ধি মাপার ডাক্তার!

প্রথম আলোর মিজানুর রহমান খান বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া “গণতন্ত্রমনস্ক অনুভূতিপ্রসূত” ব্যক্তি কিনা সেই সন্দেহ রেখেছেন। ‘গণতন্ত্রমনস্ক অনুভূতিপ্রসূত’! কী দুর্দান্ত ভাষা! আর সেই বিশেষ ‘অনুভুতি’ মাপার ডাক্তার হয়েছেন মিজান। বাহ! বাহ! এটা কি রাজনীতি পর্যালোচনার ভাষা নাকি যাকে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা জাতীয় মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ? অথবা ‘ব্যাটলিং বেগামস’ এবং ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার ভিত্তিতে প্রথম-আলো-ডেইলি স্টার গ্রুপের এক এগারোর রাজনীতির নতুন ড্রিল? গত ১১ মে ২০১৭ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো মিজানুর রহমান খানের (আরো পড়ূন)

ঐতিহাসিক ‘সন্ধি’!

কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে শেখ হাসিনার ‘সন্ধি’ বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক হিসাব নিকাশ নিমেষে বদলে দিয়েছে। সমাজে বিভিন্ন শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এই ‘সন্ধি’ গুণগত রূপান্তরের ইঙ্গিত। চরম ইসলাম বিদ্বেষী ‘নাস্তিক’, সেকুলার বা ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীরা আওয়ামি লীগের ঘাড়ে বন্দুক রেখে এই দেশে যেভাবে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা চর্চা করছিল  তাদের উত্তাপ কতোটা কমবে এটা আগাম আন্দাজ করা মুশকিল। কারন এদের শক্তির ভিত্তি বাংলাদেশের জনগণ নয়, বরং দিল্লী ও সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি। এই 'সন্ধি'তে শেখ হাসিনার হাতে গড়ে ওঠা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন হবে না। দিল্লির কাছ থেকে তিস্তার পানি (আরো পড়ূন)

কঠিন সত্য হোল চুক্তির বাস্তবতা নেই

‘সাবমেরিন কেনা’ ব্যাপারটা আমাদের মিডিয়ায় আস্তে আস্তে যত পেছনে চলে যাচ্ছে, ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’ ব্যাপারটা ততই ভাসুরের নাম নেয়ার মতো আকার-ইঙ্গিত হয়ে থাকছে না, ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

এই বিচারে পয়লা এপ্রিল ছিল ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’-এর পক্ষে বড় ও প্রকাশ্য উচ্চারণের দিন। সংবাদ সংস্থা বাসস জানাচ্ছে, সেদিন ‘ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (আইক্ল্যাডস) আয়োজনে রাজধানীতে গোলটেবিল বৈঠক হয়েছে। সেখানে আলোচনার শুরুতে ধারণাপত্র হাজির করেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনার (আরো পড়ূন)

মিডিয়াদস্যুতা

গত ২ মার্চ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটামুটি বড় একটা গণ্ডগোল হয়ে গেল। প্রথমে ঘটনা তুচ্ছই ছিল। গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয় (১ মার্চ দিবাগত রাতে) ওই এলাকার এক নিরাপত্তারক্ষী ও এক ছাত্রের মধ্যে। এর জের ধরে ছাত্রটিকে পিটিয়ে আহত করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। বিভিন্ন পত্রিকার খবর অনুযায়ী, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্র শাহরিয়ার হাসনাত তপুকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রদের এবং স্থানীয় অনেকের অভিযোগ হচ্ছে, ওখানকার নিরাপত্তরক্ষীরা প্রায়ই বাড়াবাড়ি করে থাকেন। কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। এ নিয়ে ওই এলাকায় বাস করা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে একটা ক্ষোভ ছিল । আগের ক্ষোভের সাথে সহপাঠিকে পিটিয়ে আহত কর (আরো পড়ূন)