চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

‘এখনকার তরুণরা তাদের সময়ে বাস করে না’

‘আজকের পত্রিকা’র জন্য ফরহাদ মজহারের এই সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন কবি সিফাত বিনতে ওয়াহিদ। তরুণ কবি সিফাত বিনতে ওয়াহিদের দুটো কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে:  'নিঃসঙ্গতায় আরো কিছু দেখা হোক' (২০১৯), এবং 'ঘরের ভেতরে ঘর নাই' (২০১৮)।

সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয় ২০১৯ সালের ঈদ সংখ্যায়। এখানে দুই একটি জায়গায় অর্থ স্পষ্ট করবার জন্য বাক্য ঠিক করা ছাড়া আজকের কাগজ ঈদ সংখ্যায় যেভাবে ছাপা হয়েছে সেভাবেই তুলে দেওয়া হোল। যারা নেটে সাক্ষাৎকারটি সহজলভ্য চাইছিলেন তারা এখন সহজে পড়তে পারবেন আশা করি। সাক্ষাৎকারটি ছাপার সময়, ফরহাদ মজহার সম্পর্কে ‘আজকের পত্রিকা’ লাইন কয়েকের  পরিচিতিমূলক ভূমিকা পেশ (আরো পড়ূন)

'আগামী একশো বছর নজরে রেখে কবিতা লিখি'

 ফরহাদ মজহারের এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পশ্চিম বাংলার কবি অতনু সিংহ। অতনু সিংহের পরিচিতি 'ঘুমের চেয়ে প্রার্থনা শ্রেয়' কাব্যপুস্তিকার জন্য। দুজনেই মনে করেন সীমান্তের দুই পাশে বাংলাভাষীদের মধ্যে জানাশোনার সম্পর্ক আরও দ্রুত বাড়ানো দরকার, ঔপনিবেশিক আমলের বিভাজন, বিভেদ ও ক্ষতস্থানগুলো নিরাময়ের ক্ষেত্রে কবিতা ভূমিকা রাখে, বলাবাহুল্য কবিরাও। ফরহাদ মজহারের সঙ্গে অতনু সিংহ প্রায় দুই বছর আগে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা বলেছিলেন। সেই কথাগুলোরই প্রধান অংশ সাক্ষাৎকার হিশাবে এখানে পেশ করা হোল।

'প্রথম বিপ্লবের খুন বেরুবে ভাষা থেকে' শিরোনামে এই সাক্ষাৎকার 'ত্রৈমাসিক দেশক (আরো পড়ূন)

১. চিন এবং আমরা

নিজের ঠিক নাই কিন্তু চিন ও ভারত নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার অবধি নাই। সম্প্রতি ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিবাদ বাংলাদেশে খুবই হাস্যকর কিছু তর্ক তৈরি করেছে। যেমন, আমরা কার পক্ষে থাকব? বালখিল্য জোকারে দেশ ভর্তি বলেই এই ধরণের প্রশ্ন তোলা হয়। কেন বললাম? কারন আপনি কার পক্ষে থাকবেন কি থাকবেন না সেটা কেউই বাংলাদেশকে জিজ্ঞাসা করে নি, করবেও না। ঘুড়ির সুতা অনেক আগেই ছিঁড়ে গিয়েছে। ভূ-রাজনীতির হিশাব নিকাশ এখন বাংলাদেশের নাগালের বাইরে।

দশক দেড়েক আগেও ভূ-রাজনৈতিক কারণে পরাশক্তিগুলো কিছুটা হলেও বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিত। সেসময় চিন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বঙ্গোপসাগরীয় দেশ বাংলাদেশকে পক্ষে রাখা না রাখার প্রতিযো (আরো পড়ূন)

১৪. করোনাভাইরাস, জীবানু মারণাস্ত্র এবং বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ

একদিকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ থেকে জীবন বাঁচাবার জন্য এলাকা লকড ডাউন করা, মানুষকে ঘরবন্দী বা কোয়ারান্টাইন করবার চেষ্টা, পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ ঘোষণা করা, পুলিশ হঠাৎ ক্ষমতা পেয়ে অভ্যাসবশত নাগরিকদের লাঠিপেটা চর্চা, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের টহল নামানো, অন্যদিকে কথা নাই বার্তা নাই পোশাক ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানগুলোর আকস্মিক ঘোষণা যে ৫ এপ্রিল (রবিবার) থেকে কারখানা খুলে দেওয়া হবে! শ্রমিকদের বৃহৎ একটি অংশ বাড়ি চলে গিয়েছিল। গাড়িঘোড়া নাই, এখন ফিরবে কি করে? পথের মাঝে অল্পকিছু ট্রাক, বাস, মোটর সাইকেল পেয়ে কেউ কেউ ফিরেছে। অধিকাংশই পায়ে হেঁটে, অমানবিক ও অমানুষিক ধকল সহ্য করে শহরে ফিরতে বাধ্য হয়েছে। প্রথমত চাকুরি হারাবার ভ (আরো পড়ূন)

১৩. করোনাভাইরাস, জীবানু মারণাস্ত্র এবং বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ

মার্চের তিরিশ তারিখে নিউইয়র্ক টাইমসের একটি খবরের শিরোনাম হচ্ছে এরকম: For Autocrats, and Others, Coronavirus Is a Chance to Grab Even More Power। একনায়কতান্ত্রিক সরকার এমনিতেই অবারিত ক্ষমতা ভোগ করে। করোনাভাইরাসের সুবিধা নিয়ে তারা আরও ক্ষমতা হস্তগত করবে। যারা ইতোমধ্যেই একনায়কতান্ত্রিক শুধু তারা না, অন্যেরাও আরও ক্ষমতা কব্জা করবে। একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা আরও পোক্ত ও সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন একনায়কী ক্ষমতা উৎপাদিত হবে। মার্চের ১৩ তারিখ থেকে এই সিরিজটি লিখছি। কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারীর বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা আমাদের উদ্দেশ্য। তার মধ্যে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ (আরো পড়ূন)

১২. করোনাভাইরাস, জীবানু মারণাস্ত্র এবং বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ

বয়ান চলতেছে।

আপনাদের আর কোন আবেগ থাকতে পারবে না। বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। কেন আপনারা মসজিদে যেতে চান? আপনারা কি জানেন না এতে ভাইরাস সংক্রমণ ছড়াবে?

না জানি না।

যারা এই সব বড় বড় কথা এখন বলছে তাদের হাতে দীর্ঘ সময় ছিল, তারা সাধারণ মানুষকে এই বিশাল কোভিড-১৯ বিপর্যয় সম্পর্কে জানাতে পারত। মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ছোঁয়াচে রোগে ছোঁয়াছুঁয়ির ভয়ংকর বিপদ বোঝাতে পারত। তাদের সংগঠিত করতে পারত। মুসল্লিদের দিয়েই মসজিদের নেতৃত্বে পাড়ায় পাড়ায় সঙ্গরোধ কমিটি করতে পারত। কিন্তু হাতে বিস্তর সময় থাকা সত্ত্বেও তারা জনগণকে একদমই সচেতন করে নি। মহামারী বিপর্যয়ে মানুষ সহায়তা পাবে তার জন্যও নিজেরা কোন প্রস্ত (আরো পড়ূন)

১১. করোনাভাইরাস, জীবানু মারণাস্ত্র এবং বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ

 “ভূয়া যুক্তিরকায়দা সবসময় একই রকম। সন্ত্রাসের অজুহাতে বলা হয়েছিল স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে স্বাধীনতা দমন করতে হবে, এখন বলা হচ্ছে জীবন রক্ষা করতে চাইলে আমাদের জীবনযাপন বিসর্জন দিতে হবে” – জর্জিও আগামবেন

.......................................

জর্জিও আগামবেনের লেখা কেন্দ্র করে দার্শনিক মহলে যে তর্ক উঠেছে তার অধিকাংশই অযৌক্তিক। এমনকি জাক দেরিদার বন্ধু জাঁ-লুক ন্যন্সির আপত্তিও। ন্যন্সি জর্জিওকে বন্ধু দাবি করেছেন। হার্ট ট্রান্সপ্লান্টেশান সম্পর্কে জর্জিও তাঁকে ব্যক্তিগত ভাবে কি বলেছেন সেটা প্রকাশ্যে এনে জাঁ-লুক ন্যান্সির যুক্তি প্রতিষ্ঠা করাটাও আমার ভাল লাগে নি।

(আরো পড়ূন)

১০. করোনাভাইরাস, জীবানু মারণাস্ত্র এবং বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ

“আমরা সারাবছর সংকট এবং জরুরি অবস্থার মধ্যে বাস করতে করতে এমন অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি যে এখন আর খেয়ালই করতে পারি না যে জীবন স্রেফ একটি বিশুদ্ধ জৈবিক পদার্থে পর্যবসিত। এই অবস্থায় আমরা রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবন -- এমনকি মানবিক ও আবেগের জায়গাগুলিও হারিয়ে ফেলেছি। একটি সমাজ যখন সার্বক্ষণিক জরুরি অবস্থার মধ্যে থাকে তাকে আর মুক্ত বলা যায় না। বাস্তবিকই আমরা তথাকথিত ‘নিরাপত্তা’র চিন্তা করতে গিয়ে আমাদের স্বাধীনতাকে কোরবানি দিয়ে দিয়েছি, নিজেদের সেই গজবে নিক্ষেপ করেছি যেখানে সারাক্ষণ ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আমাদের বাঁচতে হয়”।

“এ কেমন সমাজ স্রেফ বাঁচা ছাড়া যার আর কোন মূল্য নাই& (আরো পড়ূন)

৯. করোনাভাইরাস, জীবানু মারণাস্ত্র এবং বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ

ইংরেজি ‘হার্ড’ (Herd) কথাটার মানে 'পশুর পাল'। এখান থেকে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ (Herd Immunity) কথাটার জন্ম। অর্থাৎ পুরা পশুর পালের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির চেষ্টা করা। করোনাভাইরাস জাতীয় সংক্রমণের ক্ষেত্রে 'পাল' মানে পশুর পাল না, মানুষের পাল। জনগোষ্ঠি। ‘হার্ড ইমিউনিটি’র মানে পালের , অর্থাৎ জনগোষ্ঠির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন যাতে কোভিড-১৯ আমাদের কাবু করতে না পারে।

কিভাবে আমরা ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করি? দুই ভাবে সেটা সম্ভব। একটি হচ্ছে রোগ প্রতিষেধক টিকা-ভ্যাক্সিন দেওয়া, অর্থাৎ কৃত্রিম ভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা। অন্যটি হচ্ছে প্রাকৃতি (আরো পড়ূন)

৮. করোনাভাইরাস, জীবানু মারণাস্ত্র এবং বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ

ভাইরাস অজৈব ও জৈব জগতের মাঝখানে এক অদ্ভূত আমিষ পদার্থ। না জীব না বস্তু। পরাশক্তিগুলোর মধ্যে এই আজব জগতের ওপর আধিপত্য বিস্তারের তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। এই আজব চিজের ওপর বৈজ্ঞানিক, সামরিক ও কৃৎকৌশল্গত আধিপত্য অর্জনের ওপর আগামিতে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক কারা হতে যাচ্ছে তা নির্ভর করে। কোভিড-১৯ সম্পর্কে জৈব মারণাস্ত্রের তর্ক ভাইরাসের আজব বৈশিষ্ট্যের কারণেই রয়েছে। সংক্রমণের বিপর্যয় থেকে সুরক্ষার প্রশ্ন ছাড়াও শুরু থেকেই আমি তাই এর উপর জোর দিচ্ছি। আধিপত্য বিস্তারের ক্ষমতা আমাদের নাই। কিন্তু কেন বারবার হাত ধোবার পরামর্শ দেওয়া হয় সেই বৈজ্ঞানিক কারণ নিদেন পক্ষে জানা কি আমাদের কর্তব্য নয়?< (আরো পড়ূন)