চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন: ঘটনাক্রম

নিরাপদ সড়কের দাবি কেন্দ্র করে বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থিদের আন্দোলন সারা পৃথিবীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এদের অধিকাংশই ছিল শিশু-কিশোর বয়েসি। কিন্তু আন্দোলনের মাত্রা বিস্তার ও শৃংখলা সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শিশু-কিশোর আন্দোলন আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও বিস্ময় তৈরি করে। সরকার ও রাষ্ট্র এই আন্দোলনের মুখে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখমুখি হয় যা এর আগে কোন সরকারকে মোকাবিলা করতে হয় নি। যথারীতি এই আন্দোলন দমন করবার জন্য সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়।

গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আন্দোলন সঠিক ভাবে নথিকরণ না হলে ইতিহাস হিসাবে হারিয়ে যায়। জনগণের স্মৃতি থেকেও ক্রমে আন্দোলন এবং তার তাৎপর্য ফিকে হয়ে আসে। এই কথা ভেবে আমরা সুনির্দিষ্ট তারিখ ধরে ধরে ২৯ জুলাই থ (আরো পড়ূন)

সাবা মাহমুদঃ ইসলাম প্রশ্ন ও পাশ্চাত্য মোকাবেলা

প্রাক কথা

৯/১১ পরবর্তী দুনিয়ায় সাধারণ ভাবে ধর্ম এবং বিশেষ ভাবে ইসলাম প্রশ্ন সামনে চলে আসার কারনে একাডেমিক জগতে ধর্ম, দর্শন, রাষ্ট্র ইত্যাদি নতুন করে পর্যালোচনার অধীন হচ্ছে আবার, বিশেষত এদের পারস্পরিক সম্পর্ক বিচার জরুরী হয়ে উঠেছে। এই তাগিদে নতুন উৎসাহে ইসলাম নিয়ে নতুন পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। ‘আধুনিকতা’, ‘প্রগতি’, ‘স্বাধীনতা’, ‘অধিকার’ ইত্যাদি ধারণা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তার ছেদ ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গিয়ে সেক্যুলার, উদারনৈতিক এবং প্রগতিশীল ধারার যে চিন্তা জারি আছে, সেটাও বাস্তব ও ব্যবহারিক প্রশ্নের কোন কার্যকর মীমাংসার প্রস্ (আরো পড়ূন)

মাহমুদুর রহমান ও ‘বাঙালি মুসলমান’

মাহমুদুর রহমানকে ভালবাসেন এমন মানুষের অভাব নাই। তেমনি, তাঁকে ঘোরতর অপছন্দ করেন এমন লোকও আছেন। এর মধ্য দিয়ে একটি বিভক্ত ও বিভাজিত সমাজের ছবি আমাদের সামনে হাজির  হয় যারা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক হিশাবে নিজেদের সামষ্টিক স্বার্থের জায়গা থেকে কোন রাজনৈতিক প্রশ্নে বাস্তবোচিত অবস্থান নিতে অক্ষম। সমাজ ও রাজনীতিতে সক্রিয় যে কোন ব্যক্তি সম্পর্কে সমাজে নানান মূল্যায়ন থাকতেই পারে। কিন্তু মাহমুদুর রহমান যেভাবে গুণ্ডামি, হামলা, মামলা এবং অবিশ্বাস্য অবিচারের মুখোমুখি হয়েছেন তার তুলনা নাই। কুষ্টিয়ার আদালতে তিনি প্রকাশ্যে ক্যামেরার সামনেই পুলিশের উপস্থিতিতে গুণ্ডামির শিকার হয়েছেন, মারাত্মক জখম নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এই ঘটনা, বলা বাহুল্ (আরো পড়ূন)

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নারীর সংগ্রাম

কিছু বিষয় আছে যা মেয়েদের খুব গভীরে আহত করে, যা মেয়ে না হলে বোঝা কঠিন।

সালেহা বেগম, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের মা। তিনি ঢাকায় ছুটে এসেছেন ছেলের ওপর আক্রমণ এবং তাকে রিমান্ডে নেয়া থেকে মুক্তি দিতে। ছেলের জীবন বাঁচাবার জন্যে কতখানি অসহায় হলে, হাত জোড় করে একজন মা বলতে পারেন, ‘আমার মণিকে তোমরা মাফ করে দাও। শুধু মুক্তি দাও। ও আর চাকরী চাবে না গো। ওকে ভিক্ষা দাও। আমার মণিকে আমি ঢাকায় আর রাখব না গো। গ্রামে নিয়ে চলে যাব।’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হাত পেতে তিনি সন্তান ভিক্ষা চাইছেন। যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে আজ সে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শিক্ষার্থির মায়ের ক্ষমা চাইবার ভাষা সব মায়ের মাথা নুইয়ে দিয়েছে। এই (আরো পড়ূন)

এবারের ঈদ

আজ ঈদ। ঈদ মোবারক।

বাংলাদেশের জনগণ বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী রেখে ঈদুল ফিতর পালন করছে। এ এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। রাজনৈতিক সংবেদনা ও উপলব্ধির দিক থেকে অস্বস্তির।

আইন প্রণেতা ও আইন বাস্তবায়নকারীর মধ্যে যখন ফারাক লুপ্ত হয়, তখন আইন, অধিকার বা ন্যায় বিচারের তর্ক অর্থহীন। জনগণকে এই সহজ সত্যটুকু বোঝাবার কার্যকর কোন চেষ্টা বিএনপি করে নি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় শুধু আইনী পদ্ধতিতে ন্যায়-অন্যায় মীমাংসার রাজনীতি আত্মঘাতী চিন্তা। যার পরিণতি খালেদা কেন, বাংলাদেশের বহু নাগরিক ভোগ করছেন। অথচ পাশাপাশি দরকার ছিল এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুস্পষ্ট রাজনীতি ও গণআন্দোলন।

দিল্লির মসনদে উপমহাদেশের ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ শক্ত (আরো পড়ূন)

কবি ফররুখ আহমদের কি অপরাধ?

এই লেখাটি ফররুখ আহমদকে নিয়ে আহমদ ছফা লিখেছিলেন ১৯৭৩ সালে। সেই সময়ের 'গণকন্ঠ' পত্রিকায় সম্ভবত  ১৬ জুন তারিখে এটি  ছাপা হয়েছিল। এই লেখার মধ্যে আহমদ ছফার মানবিক দিকটি স্পষ্টতই ধরা পড়ে। ফররুখের কাব্য প্রতিভার শক্তি নিয়ে ছফার কোন দ্বিধা ছিল না। তবে ছফা বাংলাদেশে আরও অনেক ভাল মানুষের মতো ফররুখ আহমদকে 'ইসলামি রেঁনেসা'র কবির অধিক ভাবতে পারেন নি। উচ্চবর্ণের হিন্দুর হাতে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাঙালির যে নবজাগরণ ঘটেছিল শিল্প-সংস্কৃতির আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার মানদণ্ড তার দ্বারাই নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বলাবাহুল্য ১৯৭৩ সালে সেই সাম্প্রদায়িক অচলায়তন আহমদ ছফার পক্ষেও ভাঙা সহজ ছিল না। তারপরও ফররুখ আহমদ সম্পর্কে ছফার এই সাহসী, স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন অ (আরো পড়ূন)

ঘাস

থাইল্যান্ডের রাজকুমারী মহাচক্রী সিরিধরন চট্টগ্রামে ঘাস রোপন করছেন, এই ছবিটি আমার মনে গভীর ভাবে দাগ কেটেছে। ঘাস রোপন করা যে একটি রাজকীয় কর্ম হতে পারে রাজকুমারির বিন্না ঘাস রোপন দিয়ে বুঝতে পারছি।  কিন্তু এই রাজকীয় বার্তা সবার কাছে এবং সর্বদিকে ঠিকমতো পৌঁছালো কিনা হলফ করে বলতে পারব না। আমার ভাল লাগছে।  প্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে কাজ করি বলে ঘাসের প্রতি আমার মমতা অতিশয় গভীর, রীতিমতো আধ্যাত্মিকতার স্তরের মায়া বলা যায়। তাই এখন তুচ্ছ ঘাস নিয়ে কিছু কথা বলার চেষ্টা করব।

ঘাস রোপন 'বিন্না ঘাস উন্নয়ন কেন্দ্র' উদ্বোধনের অংশ। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বিন্না ঘাস ব্যবহার করে পাহাড়ে ভূমিক্ষয় রোধ করা। চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকায় বিন্না ঘাস উন্নয়ন প্র (আরো পড়ূন)

সব বাড়ে শ্রমিকের মজুরি বাড়ে না

গ্যাসের দাম বাড়ে, বিদ্যুতের দাম বাড়ে, বাড়ী ভাড়া বাড়ে, শুধু গার্মেন্ট শ্রমিকের মজুরী বাড়ে না। রানা প্লাজায় শ্রমিকদের জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছিল। যদি স্রেফ বেঁচে থাকা আর মজুরির তুলনা করা হয় তাহলে বলতে হয় গার্মেন্ট মালিকরা তিলে তিলে নিত্যদিনই শ্রমিকদের মারে। সে্টা কম ভয়াবহ নয়। রানা প্লাজার পাঁচ বচর পর্যালোচনা করতে এসে শ্রমিক নেতারা এই সময়ের গার্মেন্ট শ্রমিকদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যে মজুরি সেটাই বারবার জোর দিয়ে বললেন।

বর্তমানে গার্মেন্ট শ্রমিকরা যে বেতন পায় বাড়ী ভাড়া তার চেয়েও বেশি। দু’বছর আগে শ্রমিকদের জন্য সর্বনিম্ন যে মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা হলো ৫৩০০ টাকা। এই টাকা থেকে বাড়ি ভাড়া দিতে হচ্ছে চার হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে বা (আরো পড়ূন)

আফগানিস্তান: মাদ্রাসার হাফেজ ও শিশুকিশোর হত্যা

কিশোর হাফেজ হত্যার ক্ষরণ

আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশে মাদ্রাসার শহিদ কিশোর ছাত্রদের ছবি মন ভয়ংকর ভাবে বিষন্ন ও শোকার্ত করে। এই কিশোরদের অনেকে সবে মাত্র মাদ্রাসায় তিরিশ পারা কোরান হেফজ ব মুখস্থ করেছে। হাফেজ হবার স্বীকৃতি ও সনদ পত্র পাবার জন্য মাদ্রাসার ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় তারা জড়ো হয়েছিল। এই বাচ্চাদের মিলিটারি হেলিকপ্টার থেকে বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো কোয়ালিশানের 'পরামর্শদাতা'দের সহায়তায় আফগান এয়ার ফোর্স হত্যা অভিযানগুলো পরিচালনা করে। আল জাজিরার কাছে একজন প্রত্যক্ষদর্শী হাজি গোলাম বলছেন, 'আমি ক্ষেতে কাজ করছিলাম, এমন সময় আমি হেলিকপ্টার ও জেট বিমানের ম (আরো পড়ূন)

মানুষ ও পিঁপড়া: প্রসঙ্গ পরিচয়

সরল জিজ্ঞাসা, গভীর বিষয়

পিঁপড়া সমাজবদ্ধ জীব। সামাজিক প্রাণী। পিঁপড়া বা পিপীলিকা ফর্মিসিডি (Formicidae) গোত্রের অন্তর্গত সামাজিক জীব। এদের ঘনিষ্ঠ প্রজাতি বোলতা ও মৌমাছি। সকলে একই বর্গ হাইমেনপ্‌টেরার (Hymenoptera) অন্তর্গত। পিঁপড়া, বোলতা বা মৌমাছি সবসময় দলে থাকে। দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা বা ওড়াওড়ি করে। তাদের মধ্যে কাজের সম্বন্ধ ও সহযোগিতাও আছে; নিজেরা পতঙ্গ না হলেও পিঁপড়াদের বোলতা ও মৌমাছির মতো পিঁপড়ার দললীয় জীবন যাপনের বৈশিষ্ট্য আমরা বুঝতে পারি। দলে থেকে খাদ্য সংগ্রহের জন্য কাজ না করলে এবং নিজেদের প্রজাতি উৎপাদনে তৎপর না থাকলে তারা প্রকৃতিতে টিকে থাকতে পারত না। দলে থাকা এবং কাজের (আরো পড়ূন)