চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

কলা আর ছাগল, ধর্ম নয়: গ্রামে জীবিকার দ্বন্দ্ব

পদ্মার চর সংলগ্ন কল্যাণপুর গ্রামে গরিব নারীদের প্রধান আয়ের উৎস ছাগল পালন। এই গ্রামে ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবার ছাগল পালন করেই সংসার চালান। এদের জায়গা জমি নেই। এই সব পরিবারের পুরুষরা ইটের ভাটায় অথবা ভ্যান চালানোর কাজ করে। গ্রামটি কুষ্টিয়া জেলায় কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নে অবস্থিত। ইতিমধ্যে গ্রামটি মিডিয়াতে পরিচিত হয়ে গেছে ‘ফসলের ক্ষেতে নারীদের যাওয়া নিষেধ’ এই শিরোনামে। এদিকে এই গ্রামের কৃষকের প্রধান ফসল কলার আবাদ। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষকেরা কলার আবাদ করে। বাণিজ্যিক চাষে কৃষকদের কলা চাষে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করতে হয়। কাজেই কলার বাগানে কোন প্রকার সমস্যা হলে তাদের বড় লোকসান গুনতে হয়।

ছাগল পালনের জন্য আলাদা কোন তৈরী খাদ্যের জন্য (আরো পড়ূন)

রাজনৈতিক রূহানিয়াত ও মিশেল ফুকো

‘রাজনৈতিক রূহানিয়াত’ (spiritualite politique) ধারণাটি ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো (১৯২৬-১৯৮৪) ব্যবহার করেছেন। মার্কসের ব্যবহারিক সম্বন্ধ চর্চার পরিপ্রেক্ষিতে ফুকোর 'রাজনৈতিক রূহানিয়াত' নিয়ে এখানে আলোচনা করব।

ইরানে গত শতাব্দির সত্তর দশকের শেষে বৈপ্লবিক উত্থান পতনের সময় ফুকো ১৯৭৮ সালে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে একবার এবং দ্বিতীয়বার নভেম্বরের শুরুতে ইরানে গিয়েছিলেন। ইটালির সংবাদপত্র ‘করিয়েলে দেরা সেরা’ (Corriere Derra Sera) আন্তর্জাতিক ঘটনা নিয়ে ফুকোকে লিখবার অনুরোধ করায় ফুকো লিখতে রাজি হন। সেই প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি ইরানে যান। ইটালির সংবাদপত্রের সম্পাদক অবশ্য খুবই উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু এর আগে ইরানের শাহের শাসনের বি (আরো পড়ূন)

ব্যবহারিক সম্বন্ধ ও রূহানিয়াত

এর আগের আলোচনায় আমরা দেখিয়েছি মানুষ ও জগতের সম্বন্ধ বিচারই মার্কসের দার্শনিক পর্যালোচনার প্রধান ভরকেন্দ্র। বিমূর্ত দর্শনের পরিমণ্ডল বাদ দিয়ে অর্থশাস্ত্রের পর্যালোচনা দার্শনিক জিজ্ঞাসারই অনিবার্য পরিণতি। অর্থশাস্ত্রীয় বিচার মানুষ ও জগতের সম্বন্ধ বিচার, সেকারণে মার্কসের অর্থশাস্ত্র দর্শনেরই বিষয়।

দুটো শব্দ সাধারণত অদল বদল করে প্রায় একই অর্থে অনেক সময় আমরা ব্যবহার করি: জগত এবং প্রকৃতি। যেন গোলমাল না হয় তার জন্য বলে রাখা দরকার মানুষের সঙ্গে জগতের সম্বন্ধ কথাটাকেই আমরা আরও সংকীর্ণ অর্থে সাধারনত বলি, মানুষ ও প্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার। যা কিছুই মানুষের বাইরে মানুষের ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি, কল্পনা বা ইচ্ছা-অভিপ্রায়ের বিষয় হিসাবে মানুষ হাজির দেখতে পা (আরো পড়ূন)

অর্থশাস্ত্রের দার্শনিক চাবি: ‘ব্যবহারিক সম্বন্ধ’

মার্কস পাঠের ক্ষেত্রে এই সাধারণ ভুলটা মার্কস অনুসারী কিম্বা মার্কস বিরোধী প্রায় সকলেই করে থাকেন যে মার্কস দর্শন থেকে প্রস্থান করেছেন। বাংলাদেশে এর অতিশয় স্থূল মানেও আছে। সেটা অনেকটা এরকম যে মার্কস বলেছেন, চিন্তাভাবনা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ যা করবার সেটা এ যাবতকাল দার্শনিকরা করেছেন। দর্শনচর্চা বা তত্ত্ব গিরি করা বিপ্লবীর কাজ নয়। এখন কাজ হচ্ছে দর্শন বা চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে শুধু বিপ্লব করা। মার্কস সম্পর্কে এই ধারণা যে একদমই ভুল সেটাই আমরা এখানে আলোচনা করব।

এরপর মার্কসের অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণার সঙ্গে আমরা পরিচিত হব। সেটা হচ্ছে মানুষ ও জগতের ‘ইন্দ্রিয়পরায়ন মানবিক ব্যবহারিক চর্চা’ (practical, human sensuous ativity) বা সংক্ষ (আরো পড়ূন)

‘জর্মান ভাবাদর্শ’: পাঠ প্রস্তুতি

মার্কস আর এঙ্গেলস-এর তরুণ বয়সের যৌথ রচনার খসড়া ‘জর্মান ভাবাদর্শ’। তাঁদের জীবদ্দশায় এই খসড়া ছাপা হয় নি। কমিউনিজম সম্পর্কে কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি ভাষ্যের সঙ্গে এর মর্ম পুরাপুরি মেলানো কঠিন। ফলে ছাপা হবার পরে এর যে সারকথা ও ব্যাখ্যা সরকারি ভাবে হাজির করা হয়েছিলো তার সীমাবদ্ধতা ধরা পড়তে দেরি হয় নি। আমরা অধিকাংশই জানিনা যে ‘মার্কসবাদ’ নামে যা আমাদের কাছে পরিচিত তার নির্ধারক  ভাষা,পরিভাষা বা বর্গ-- যেমন, ‘ঐতিহাসিক বস্তুবাদ’, ‘দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ’, ‘ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যাখ্যা’, ইত্যাদি মার্কসের নয়, এঙ্গেলসের। মার্কসকে এঙ্গেলস যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং কমিউনিস্ট পার্টি যে ভাষ্য (আরো পড়ূন)

মার্কস-এঙ্গেলস বনাম মার্কস এবং এঙ্গেলস

আমরা মার্কস ও এঙ্গেলসের নাম এক নিঃশ্বাসে নিতে অভ্যস্ত। অনুমান করি তাঁদের চিন্তা অবিভাজ্য। কিন্তু ব্যক্তি হিসাবে তাঁরা আলাদা এবং তাঁদের চিন্তাও গড়ে উঠেছে ভিন্ন প্রক্রিয়ায়। এই ভিন্নতার কথা মনে রেখে উভয়কে তাঁদের নিজ নিজ চিন্তার জায়গা থেকে বোঝা দরকার। দুজনে নামের মাঝখানে হাইফেন দিয়ে যুক্ত করে এক না ভবে বরং তাঁদের স্বতন্ত্র সত্তাকে 'এবং' দিয়ে যুক্ত রাখাই যুক্তি সঙ্গত সেটাই এই লেখায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব।

আমাদের আগ্রহ বিশেষ ভাবে মার্কস সম্পর্কে। পাশ্চাত্য দর্শনের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা মার্কসের দার্শনিক প্রকল্প নতুন ভাবে পর্যালোচনা এবং একালে তার উপযোগিতা নির্ণয় আমাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যে কিছু বদ্ধমূল অনুমানকে প্রশ্ন করা জরুরী হয়ে (আরো পড়ূন)

রুশ বিপ্লবের একশ বছর

রুশ বিপ্লবের একশ বছর পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বামপন্থিরা বিপ্লবের শতবর্ষ পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগ অবশ্যই দরকারি, তবে তখনই অর্থপূর্ণ হবে যদি রুশ বিপ্লব নিয়ে ‘উচ্ছ্বসিত’ না হয়ে একে বাস্তব ইতিহাস এবং বৈপ্লবিক রাজনীতি পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহন করা হয়। বাংলাদেশে বাস্তব পরিস্থিতি রাজনীতি নিয়ে নতুন ভাবে ভাববার দায় তৈরি করেছে। এই দায় আমাদের এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না।

উদযাপনের জন্য সময়টা খুবই উপযোগী। ইউরোপে ১৯৯০ সালে বার্লিনের দেয়াল ভেঙ্গে পড়তে শুরু করে; সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয় ১৯৯১ সালে; সমাজতন্ত্র ও পুঁজিতন্ত্র নামক দুই শিবিরে বিভক্ত দুনিয়া এবং উভয়ের মধ্যে চলতে থাকা ‘স্নায়ু যুদ্ধ’ নব্বইয়ে শেষ হয়, (আরো পড়ূন)

রুশ বিপ্লবে নারী

“নারী শ্রমিকরা বিপ্লবের সময় দারুন ভূমিকা রেখেছে। তারা না হলে আমরা জয়ী হতে পারতাম না”
-- ১৯২০ সালে ক্লারা জেটকিনের সাথে আলাপকালে লেনিন

রুশ বিপ্লবের শত বার্ষিকী পালন হচ্ছে। এই বিপ্লবের সঙ্গে আমাদের অনেক আবেগ, কল্পনা ও আশা জড়িয়ে ছিল। আমরা বিপ্লব দেখি নি, তার গল্প শুনে বড় হয়েছি। স্বপ্ন দেখেছি আমরাও পুরানা সমাজ ভেঙে নতুন ধরনের সমাজ বানাবো, যেখানে পুরুষতন্ত্র আমাদের টুঁটি টিপে ধরে রাখবে না। সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে পড়ার পর সেই কল্পনার জগতও ভেঙে পড়েছে। আশাভঙ্গ গত শতাব্দির সবচেয়ে বেদনাজনক দিক। আজ যে বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে আমরা খাবি খাচ্ছি তা যতোটা আমাদের কাবু করে তার চ (আরো পড়ূন)

লেনিনের স্বাস্থ্য ভাবনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতাল

ঈশ্বর বাস করেন বহু উঁচুতে স্বর্গে
জার থাকেন বহুদূরে মস্কোতে’
-- বিপ্লব-পূর্ব রাশিয়ার কৃষকদের লোকগীতি

পূর্বকথা

বহু মনীষী পৃথিবীকে স্বর্গে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছেন যুগে যুগে। লেনিন নামে খ্যাত ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ (Vladimir Ilyich Ulyanov: ১৮৭০ – ১৯২৪) তাদের অন্যতম।

পুঁজিবাদী বিশ্বে ১৮৯৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। এই বছর বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও কবি সাহিত্যিকদের সম্মানিত করার জন্য আলফ্রেড নোবেল পুরষ্কার তহবিল সৃষ্টি করেছিলেন । এই একই বছর রাশিয়ান ফার্মেসী সোসাইটি স্থাপিত হয়।

১৮৯৫ সন পৃথিবীর পরিবর্তনের সূচনার বছর। সেন্ট পিটার্ (আরো পড়ূন)

'দুর্ঘটনা' নয়, নিয়মিত মৃত্যু

দুর্ঘটনা এখন ‘নিয়মিত’ ঘটনা

পাহাড় ধসের কারনে মানুষ মরছে। এটা এখন আর দুর্ঘটনা নয়, নিয়মিত ঘটনা। বর্ষা এলেই কোন কোন উপজেলায় পাহাড় ধসে মানুষ জ্যান্ত কবর হয়ে যাচ্ছে। এবার একটু আগাম ও টানা বর্ষণ নামতে না নামতেই চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১৫০ জনের বেশী মানুষ মরেছে বলে কিছু পত্রিকা দাবি করেছে। দৈনিক যুগান্তরের ১৪ জুনের সংবাদ বলছে, ‘পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ১৪১’; একই তারিখে দৈনিক প্রথম আলোর হিসাব ১২৬ (‘পাহাড় ধসে নিহত ১২৬’)। এর আগে ২০০৭ সালে ১২৭ জন মারা যায়। এবার মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লো। গত ১০ বছরে (২০০৭-১৬) ২০১ জন নিহত হয় প্রথম আলো ১৪.০৬. ১৭) (আরো পড়ূন)