Thursday 01 January 70

আকবর আলী খান। বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি ক্রান্তিকালীন অধ্যায়ে আজকে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি। এবং এই ক্রান্তিকালীন অধ্যায়ে এমন একটা মুহূর্ত য়ামরা পার করছি যখন আমরা কোন দিকে যাব সেটা এই মুহূর্তে স্পষ্ট না। এই অনিশ্চয়তার কারনে আমাদের জাতীয় জীবনের বিভিন্ন দিককে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। এর প্রধান আমরা দীর্ঘদিন সংঘাতের রাজনীতির মধ্যে আছি। এখনও আছি। ভবিষ্যতে এ সংঘাত আরো তীব্রতর হবার সম্ভাবনা রয়েছে। আজকে সবাই ভয় করছে যে আমরা একটি একদলীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে চলেছি। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে একদলীয় নির্বাচন মোটেও খাপ খায় না। এবং এধরনের নির্বাচনের মাধ্যেমে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিসর্জন হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। আমার যেটা সবচেয়ে বড় ভয় যে এই সংঘাতের মধ্যে দিয়ে আমাদের রাজনীতিতে যদি অপবৃত্তি শক্তি আসে, একটি অপবৃত্তি শক্তির কারনে মিশরের রাজনীতি চরমপন্থিদের হাতে চলে যাচ্ছে। চরমপন্থিদের হাতে চলে যাবার ফলে তারা যেকোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করুক সংঘাতের চক্র আরো বিস্তৃত হতে থাকবে এবং সেটা আমরা বাংলাদেশেও দেখতে পারব। দ্বিতীয়ত এই চরমপন্থিদের হাতে চলে যাবার ফলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অবাস্তব হয়ে্দাঁড়িয়েছে। এখানে আমাদের যে দল দুটি আছে তারা মনে করে যে তারা একজোট অপরজোটকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করতে। এটা কখনও সম্ভব না ।এটা করা যাবে না। এই অবাস্তব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য যারা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তারা প্রকৃতপক্ষে সামগ্রিক ভাবেঈ দেশের ওবোশঠা অশটীটীসিল করে তুলছে এবং সমস্যা বেড়েই চলছে। এই অবস্থাতেই আমাদের আজকে গণমাধ্যেমে উপর যে হামলা সেই হামলাকে সংঘাতের রাজনীতিড় একটি রণকৌশল হিসাবে আমাদের। যেটা ব্যবহার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব এখনও অবশিষ্ট আছে আছে সেগুলো গ্রাস করে ফেলা হচ্ছে। দেশে আজকে সিভিল সমাজ বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। এক সময় দেখা গেছে ঔপনিবিশেক আমলে আমাদের সাংবাদিক, পাকিস্তানি ঔপনিবিশিক শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। আজকে সাংবাদিক বলুন শিক্ষক বলুন, বুদ্ধিজীবী বলুন, আইনজীবি বলুন, চিকিৎসক বলুন সমস্ত পেশার সিভিল সমাজের কমিটি হয়েছে। এই স্বাধীন দেশে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মূল শক্তি গণতান্ত্রিক চেতনা। গণতান্ত্রিক চেতনা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনো বিকশিত হতে পারে না। আমরা এমন এক পর্যায় উপস্থিত হয়েছি যেখানে আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিলীন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরণের পথ কি সেটা সহজ ভাবে নির্ধারন করা সত্ত্বেও কিন্তু একটি বিষয় আমাদের করতে হবে, সেটা হলো আমাদের আরও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই ঐক্যবদ্ধ হবার জন্য আমাদের সবাইকে -- আমাদের প্রতিবেশী থেকে শুরু করে আমাদের পেশার ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ শুরু করে --- সবার সাথে আলাপ আলোচনা করে আমরা যদি বৃহত্তর ঐক্য গড়তে পারি তাহলে নিশ্চিত যে আমরা এ সমস্ত অপশক্তি ও তাদের নানান ধারা মোকাবেলা করতে পারব। আর এটা যদি না পারি তাহলে বাংলাদেশের যে বর্তমান পরিস্থিতি সেখানে দ্রুত অবনতির সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতে কঠিন বিপর্যয়ের সম্মুখিন হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা বিপর্যয় অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। আমি তাই আশাবাদি যে আবারও আজকেও যেসমস্ত বিপর্যয় অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাবে। ধন্যবাদ।


৫০০০ বর্ণের অধিক মন্তব্যে ব্যবহার করবেন না।