Forgot your password?

মা


রাতে আমরা ঘুমোতে যাই অনেক দেরিতে। কেননা রাত জেগে ডাক্তারি পড়ার পাশাপাশি আমাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হয়। মোবাইল কোম্পানীগুলোর শেষ রাতের লোভনীয় অফার কাজে লাগাতে কিংবা অস্থির আবেগের মাতাল স্বার্থে 'প্রিয়তমা'র সাথে কথা চলে রাতভর। বহুজাতিক মোবাইল কোম্পানীগুলোর পকেটভারী করে যখন সকাল হয় হয় করে, তখন আমাদের রাত হয়। তাই রাতে মায়ের সাথে কথা হয়না। সকালে উঠতে একটু বেলা হয়। তারপর ফ্রেশ হওয়া, নাস্তা করা, রেডি হওয়া, কলেজে যাওয়া, অতঃপর ক্লাশ। না! সকালেও মায়ের সাথে কথা বলার সময় নেই। ক্লাশের মাঝে দুই-এক ঘন্টা ফ্রি-টাইম পেলেও সময় করে উঠতে পারিনা। কারণ তখন লাইব্রেরী বা ক্যান্টিন থেকে তরঙ্গাকারে ভেসে আসে প্রিয়তমার মিসড কল (!)........ যেতে তো হবেই। আর ওদিকে মা আমার কাজের ফাকেঁ ফাকেঁ বারবার, হয়তবা মনের অজান্তেই চলে যান ফোনের কাছে-খোকার ফোন এল কিনা? ক্লাশ শেষ হয় ভর দুপুরে। রুমে ফিরে গোসল-আড্ডা-খাওয়া-দাওয়ার পর এবার যে একটু ঘুমোতে হয়। রাত জাগতে হবে। পড়ালেথা করতে হবেনা(?)আমাদের যে ডাক্তার হতে হবে। তাই দুপুরেও মা-কে ফোন করা হয়ে ওঠে না। বিকেলটা একটু ফ্রি থাকার কথা থাকলেও তখন যেতে হয় ক্লাবে। ডাক্তারি পড়ব আর ক্লাব করব না তা কি হয়? ভালোই লাগে। কিন্তু যখনই কোন খেটে খাওয়া দিনমজুর অথবা রিকশাচালক তার মায়ের জন্য এক ব্যাগ রক্ত নিতে এসে কোথাও না পেয়ে আমার নিজের কাছেই চেয়ে বসে, তখন গ্রুপ মিলা সত্ত্বেও রক্ত দিতে রাজি হইনা বরং বিরক্ত হই অনেকাংশে। আসলে মায়ের জন্য ঐ লোকটির আকুতি আমরা বুঝিনা, বুঝতে চাইনা। জানি তার মা তাকে কখনো ম্যাগী নুডলস রান্না করে খাওয়ায়নি, বসুন্ধরা সিটি থেকে নতুন ফ্যাশনের জামা কিনে দেয়নি, ছেলের ফেরার প্রতীক্ষায় আমাদের মায়ের মত তার মা কখনো না খেয়ে, রাত জেগে অপেক্ষায় থাকেনি। তবুও সে মায়ের জন্য হন্য হয়ে এক ব্যাগ রক্ত খুজেঁ বেড়ায়। আর আমরা একটিবারের জন্যও মা-কে ফোন করার সময় পাইনা। তবুও আমরা গলা ফাটিয়ে বলি মাকে ভালোবাসি। কিন্তু আদতে 'মা' শব্দের আগে তিনটি অক্ষর বসিয়ে 'প্রিয়তমা'র জন্য আমাদের সব কল্পনাগুলো সময়গুলো বিসর্জন দেই। বছরের বিশেষ একটি দিনে মা দিবস পালন করে, archies, hallmark বা অন্য কোন বাহারি গিফটশপ থেকে গিফট কিনে মায়ের প্রতি ভালোবাসা জাহির করি। কিন্তু ছয় মাসে-এক বছরে একবারও মায়ের কোলে ফিরার সময় করতে পারিনা। বুঝতে চাইনা মায়ের কাছে সন্তানই পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ও প্রিয় গিফট। কেন? কেন মায়ের চেয়ে আজ 'প্রিয়তমা আমাদের কাছে অধিক প্রিয়? কেন মায়ের স্নেহের পরশ বুলানো, আদর মমতা মাখা বুলির চেয়ে মিথ্যার চাদরে ঢাকা, পাশ্চাত্যের সৌন্দর্য-শিল্প-সংস্কৃতির পোশাকে সজ্জিত, নীল চোখের প্রিয়তমার প্রগলভতা আমাদের কাছে বেশি ভালো লাগে? প্রিয়তমার অভিমান ভাঙ্গাতে উতলা হয়ে পড়ি,তার রাগ ভাঙ্গাতে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইলে প্রেমের কাব্য বুনে যাই। অথচ সন্তানের একটি ফোনের জন্য, তাকে একনজর দেখার জন্য মায়ের হৃদয়ের তীক্ষ্ণ যাতনা আমরা অনুভব করিনা। কিন্তু কেন......??? ভেবে দেখুন তো, আমরা আসলেই মা-কে ভালোবাসি তো...........?????

নিজের সম্পর্কে লেখকঃ / About Me:



Available tags : ,

View: 3914

comments & discussion (0)

Bookmark and Share