নষ্ট শহরে হেফাজতের গণবিস্ফোরণ


হেফাজতি ইসলামের ছয় এপ্রিলের সমাবেশ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে টান টান উত্তেজনা এবং আতংকের সাময়িক অবসান ঘটেছে। সাময়িক এ কারণে যে সমাজের বিরোধ যে-রাজনৈতিক রূপ লাভ করেছে তাতে এই টান টান অবস্থার পরিসমাপ্তি সহজে ঘটবে না। বরং হেফাজতে ইসলামের মধ্য দিয়ে নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব আমরা দেখলাম। যাদের সম্পর্কে সমাজের ধারণা খুবই অল্প। বিদ্যমান দ্বন্দ্ব-সংঘাতের বাস্তবতা ও চরিত্রের কারণে তারা তাদের ধর্মীয় দাবিকে রাজনৈতিক দাবি হিশাবে হাজির করতে সক্ষম হয়েছে। শহুরে ভদ্রলোক ও বিদ্যমান ব্যবস্থার সুবিধাভোগী শ্রেণি তাদের পশ্চাতপদ ও গণবিরোধী চিন্তাচেতনার আবর্জনা এরপরও ঘাঁটতে থাকবে। দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকবে তারা। বুঝতে চেষ্টা করবে না কেন ঘটনাটি ঘটল। এর আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ কী হতে পারে। গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের বিপজ্জনক ঘাটতিগুলো কোথায়। না, সেই কঠিন পর্যালোচনার জায়গায় তারা যাবে না। তারা বলতে থাকবে এরা অসভ্য, অশিক্ষিত ও বর্বর। এরা যদি সমাজে প্রাধান্য বিস্তার করে তাহলে ‘সভ্যতা’ বলে কিছু থাকবে না। নোংরা বর্ণবাদ ও শ্রেণিঘৃণার তীব্রতা দেখব আমরা। ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ঘৃণার রাজনীতি সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর ইসলাম আতংকের সঙ্গে একাকার হয়ে যেতে থাকবে।

বাংলাদেশে যারা খেয়ে না খেয়ে ইসলাম বিরোধী রাজনীতির বিরোধিতা করেন তারা জোরে শোরে প্রচার করছেন হেফাজতে ইসলাম আসলে জামাতে ইসলামেরই নামান্তর। একাত্তরে জামাতে ইসলামির ভূমিকার কারণে ইসলাম সম্পর্কে জনগণের মধ্যে যে মন্দ ধারণা রয়েছে তারা তাকে ব্যবহার করে হেফাজতে ইসলামকেও কালিমালিপ্ত করতে চাইছেন। অথচ জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামের সম্পর্ক সাপে নেউলে বললেও খুব অত্যুক্তি হয় না। এই ধরণের প্রচার বা প্রপাগাণ্ডা ইসলামের প্রতি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির একাংশের ঘৃণা ও বিদ্বেষ শুধু নয়, তুমুল অনাগ্রহও প্রমাণ করে। বাংলাদেশে ইসলামি রাজনীতির বিভিন্ন ধারাকে বুঝতেও সহায়ক হয় না।

বলাবাহুল্য, হেফাজতে ইসলামির কর্মসূচি, রাজনীতি কিম্বা তাদের কাজের কৌশল ইত্যাদি সবকিছুরই পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ধর্ম ও রাজনীতি উভয় দিক থেকে। হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা বা পর্যালোচনা যে কেউই করতে পারেন। কিন্তু শুরুতেই যে দিকটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে ছয় তারিখের কর্মসূচি বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতির একটা গুণগত পরিবর্তন ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলাম আর গৌণ অবস্থানে নয়, বরং নির্ধারক অবস্থানে নিজেকে হাজির করবার ইঙ্গিত দিয়ে গেছে। এট ভাল কি মন্দ সেই বিচার এখানে এখন করব না। বরং এই সমাবেশের কয়েকটি শিক্ষণীয় দিক রয়েছেন সেই দিকগুলোই সংক্ষেপে আলোচনা করব।


আসুন নিজেরা মধ্যযুগীয় কুসংস্কার থেকে আগে মুক্ত হবার চেষ্টা করি। তার আগে অন্যকে মুক্তির বাণী শোনানোর অভ্যাস যতো তাড়াতাড়ি ত্যাগ করতে পারব ততোই আমরা রাজনৈতিক ভাবে হুঁশে আসব। অন্তত এক কদম এগিয়ে যাবো।


এটা তো পরিষ্কার যে এই নষ্ট শহরে যে সকল জালিম শ্রেণি এই দেশের জনগণকে শোষণ লুন্ঠন করে টিকে থাকে এবং যারা মনে করে এই দেশ শুধু তাদের, গণমানুষের পদভারে শহর প্রকম্পিত করে হেফাজতের জমায়েত বুঝিয়ে দিয়েছে তারা ছাড়াও বাংলাদেশে আরও কোটি কোটি মানুষ আছে। যে যুদ্ধ এই জালিম শ্রেণী শুরু করেছে তার সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে তার খানিক আভাস মাত্র তারা দিয়ে গেল। ক্ষমতাসীন ও তাদের পক্ষের শ্রেণি ও শক্তিগুলো সেই দিকেই দেশকে নেবে কিনা সেটা এখন তাদের ওপরই নির্ভর করছে।

হেফাজতে ইসলাম শুধু ঢাকায় সমাবেশ করতে চায় নি, তারা তাদের কর্মসূচিকে বলেছে ‘লং মার্চ’। মাও জে দং-এর নেতৃত্বে চিনের নিপীড়িত লড়াকু শ্রমিক-কৃষকদের নিয়ে গঠিত গণসৈনিকদের যুদ্ধকৌশল হিশাবে এই দীর্ঘ পদযাত্রার সঙ্গে তাদের কর্মসূচির নামকরণে মিল রাখার মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম বুঝিয়ে দিয়েছে পার্থক্য থাকলেও মজলুমের যে কোন লড়াইয়ের ধরণের মধ্যে মিল থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাছাড়া তাঁরা দাবি করেছেন, দীর্ঘ পদযাত্রার মধ্য দিয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করবার এই কৌশল কমিউনিস্টদের রণকৌশল বলা ঐতিহাসিক ভুল। কারণ ইসলামের ইতিহাসে এই ধরণের পদযাত্রার প্রচুর উদাহরণ রয়েছে।

এই সমাবেশ পণ্ড করবার জন্য সরকার সব রকমের চেষ্টা করেছে। শেষ চেষ্টা ছিল সেক্টরস কমাণ্ডার্স ফোরাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং আরও সাতাশটি সংগঠ্নকে মাঠে নামানো। হেফাজতে ইসলামকে ‘প্রতিরোধ’ করবার জন্য হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচিও দেওয়া হয়েছে। ট্রেন, বাস, ফেরি, নৌকা, লঞ্চসহ সব যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপরও লক্ষ লক্ষ মানুষের বৃহত্তম যে সমাবেশ ঢাকায় হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। ঢাকায় যারা আসতে পারেন নি, তারা সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ করেছেন। যদি তাদের হিশাব নেওয়া হয় এবং যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে দেখা যায় বড়োজোর এক দশমাংশ মানুষ ঢাকায় পৌছাতে পেরেছেন। এর পরও যে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢাকায় এসেছে তা রীতিমতো বিস্ময়কর।

এটাও বিস্ময়কর যে সমাবেশ আগাগোড়াই ছিল শান্তিপূর্ণ। হেফাজতের নেতৃবৃন্দ পুলিশ ও প্রশাসনকে যে কথা দিয়েছেন, সেই ওয়াদা মাফিক সময় মতো তাঁদের সমাবেশ শেষ করেছেন। এতে স্পষ্ট বোঝা গেল কর্মীদের ওপর নেতৃবৃন্দের নিয়ন্ত্রন যথেষ্ট শক্তিশালী। শান্তিপূর্ণ লড়াইয়ের উদাহরণ তাঁরা তৈরী করলেন।

এবার এই সমাবেশের দুই একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্যের ইঙ্গিত দিয়ে শেষ করব।

প্রথমত এ যাবতকাল বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকলেও এই প্রথম বার ইসলাম নিজের প্রাধান্য নিয়ে হাজির হোল। শেখ হাসিনা ইসলামি রাজনীতিকে নির্মূল করতে গিয়ে তাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করে গেলেন। ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের যে আধিপত্য গত ৪২ বছর আমরা বাংলাদেশে দেখেছি, তার দুর্বলতা ও ক্ষয়ের দিকটাও এতে প্রকট হয়ে উঠল।


নিজের মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সভা সমাবেশ করবার অধিকার বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের আছে। হেফাজতের ১৩ দফা আমরা সমর্থন করি বা না করি নাগরিক হিশাবে আমাদের স্বীকার করতে হবে যাদের আমরা সমাজের বাইরে রেখে দিয়েছি, কথা বলতে দেই নি, যাদের ব্যাপারে অযৌক্তিক আতংক আমাদের মধ্যে কাজ করে – এই সমাজ ও রাষ্ট্র তাদেরও। অন্যের অধিকার অস্বীকার করলে নিজের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা আমরা হারাই। তাদের ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’ বলার মধ্য দিয়ে নিজের অশিক্ষা, বর্বরতা ও অসভ্যতাই আমরা প্রকাশ করি। যে কারুরই আমরা বিরোধিতা করতে পারি, সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার নাগরিক অধিকার যদি আমরা স্বীকার না করি তাহলে বাংলাদেশকে আরও অন্ধকার গহ্বরে আমরা ঠেলে দেব।


দ্বিতীয়ত ইসলাম প্রশ্ন আগামি দিনে বাংলাদেশের রাজনীতির নির্ধারক হয়ে উঠবে। রাজনীতি যেভাবে গঠিত হতে থাকবে তার মধ্যে ইসলাম প্রশ্নের মীমাংসা গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য হয়ে নানা ভাবে হাজির হতে থাকবে। সমাজতত্ত্বে, রাজনৈতিক বিশ্লেষণে, সাংস্কৃতিক বিনির্মাণে। কে কিভাবে করবেন তার ওপর তাঁদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে। ইসলাম প্রশ্নের সঠিক মোকাবিলা না হলে রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রবণতা বাড়বে। অন্যদিকে এর সঠিক মীমাংসা বাংলাদেশের রাজনীতির বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটাতে পারে। অর্থাৎ বাংলাদেশের বৈপ্লবিক রূপান্তরের প্রশ্নও ইসলাম প্রশ্নের মীমাংসার সঙ্গে আরও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়ল। অর্থাৎ ইসলাম আদৌ জালিমের বিরুদ্ধে মজলুমের লড়াইয়ের সহায়ক হতে পারে কিনা, সেটা এখন রাজনীতির ব্যবহারিক প্রশ্নে পরিণত হবে। একে উপেক্ষা করবার সুযোগ কম। বাংলাদেশের জনগণের বিপ্লবী রণনীতি ও রণকৌশলের বয়ান অন্যদের কাছ থেকে মুখস্থ ধার করবার ও বাইরে থেকে আমদানি করবার সুযোগ কমে যাবে। গণবিচ্ছিন্ন থেকে কেতাবি দিবাকল্পনা পেটিবুর্জোয়া অতো তাড়াতাড়ি হয়তো ত্যাগ করবে না। কিন্তু যাঁরা জানেন কেতাব নয়, জনগণই বিপ্লব করে তারা বাংলাদেশের মজলুম বা নিপীড়িত জনগণকে আন্তরিক ভাবেই বোঝার চেষ্টা করবেন। বিশ্ব ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সৃষ্টিশীল ভাবে ভাবতে দেরি করবেন না। সুনির্দিষ্ট সামাজিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিচার করে নিজেদেরই লড়াই সংগ্রামের অভিজ্ঞতার আলোকে ইসলাম প্রশ্নে্র মীমাংসা তারা করবেন। এই কাজ এড়িয়ে যাবার বিশেষ আর উপায় নাই।

তৃতীয়ত, এই সমাবেশের তাৎপর্য হেফাজতে ইসলামের দাবির মধ্যে নয়, বরং সমাবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা প্রদর্শন। হেফাজতে ইসলাম সমাবেশে তাদের ১৩ দফা দাবি পেশ করেছে। যেসব দাবিগুলোর প্রতি সমাজে আপত্তি উঠেছে এবং সেই দাবিকে প্রচার প্রপাগাণ্ডার কেন্দ্রে আনা হচ্ছে সেইসব নতুন কোন দাবি নয়। আমরা চাই বা না চাই, ভবিষ্যতে এই দাবির পক্ষেবিপক্ষে তর্কবিতর্ক ও জনমতই রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক হয়ে উঠবে।

নিজের মত প্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সভা সমাবেশ করবার অধিকার বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকের আছে। হেফাজতের ১৩ দফা আমরা সমর্থন করি বা না করি নাগরিক হিশাবে আমাদের স্বীকার করতে হবে যাদের আমরা সমাজের বাইরে রেখে দিয়েছি, কথা বলতে দেই নি, যাদের ব্যাপারে অযৌক্তিক আতংক আমাদের মধ্যে কাজ করে – এই সমাজ ও রাষ্ট্র তাদেরও। অন্যের অধিকার অস্বীকার করলে নিজের অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা আমরা হারাই। তাদের ‘অশিক্ষিত’, ‘বর্বর’, ‘অসভ্য’ বলার মধ্য দিয়ে নিজের অশিক্ষা, বর্বরতা ও অসভ্যতাই আমরা প্রকাশ করি। যে কারুরই আমরা বিরোধিতা করতে পারি, সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার নাগরিক অধিকার যদি আমরা স্বীকার না করি তাহলে বাংলাদেশকে আরও অন্ধকার গহ্বরে আমরা ঠেলে দেব। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা আমাদের মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে না, কারন ইতিহাস যা অতিক্রম করে আসে সেখানে প্রত্যাবর্তন করে না, যদিও বর্তমানে থেকে অতীতের ভার কাঁধে নিয়েই তাকে ভবিষ্যৎ গঠনের কাজ করে যেতে হয়। সেই দিক থেকে নাগরিক অধিকার অস্বীকার করবার রাজনীতি ও সংস্কৃতিটাই বরং মধ্যযুগীয়।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে গরিব ও সমাজের প্রান্তিক মানুষগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ দূরে থাক, তাদের কথা বলার অধিকারও আমরা স্বীকার করি না। কারণ আমাদের আপত্তি তারা ধর্মের ভাষায় কথা বলে, পবিত্র কোরান শরিফকে আক্ষরিক ভাবে ব্যাখ্যা করে, কথায় কথায় হাদিসের উদাহরণ দেয়, পুঁজিতান্ত্রিক ভোগী সমাজে গা ঢেলে দেবার বিরোধিতা করে, নীতিনৈতিকতার ওপর অতিরিক্ত জোর দেয়, ইত্যাদি। এতে আমাদের মধ্যবিত্ত জীবন আতংকিত বোধ করে। আমরা চিৎকার শুরু করি তের দফা মানা যায় না। ফলে ধর্মতাত্ত্বিক বয়ানের মোড়কের মধ্যে এই মানুষগুলোর নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক উদ্বিগ্নতা আমাদের কানে এসে পোঁছায় না। কারন এদের আমরা মানুষ বলেই গণ্য করি না। আমরা আগেই প্রচার শুরু করি বাংলাদেশ তালেবান হয়ে যাচ্ছে। হেফাজতে ইসলামের হাত থেকে পাশ্চাত্য শক্তি এখন আমাদের রক্ষা করুক। পাশ্চাত্য সভ্যতা ছাড়া অন্য কোন সভ্যতা আমরা কল্পনাও করতে অক্ষম। হেফাজতিদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবার কাতর প্রার্থনায় আকাশ বাতাস ধ্বনিত হয়ে ওঠে। নিজেদের বদ্ধমূল কুসংস্কারের দুর্গন্ধ নিজেদের নাকে এসেও আর লাগে না। বহুদিন হয় আমাদের ঘ্রাণ শক্তিসহ ইন্দ্রিয়ের অন্যান্য বৃত্তিও আমরা নষ্ট করে ফেলেছি।

আসুন নিজেরা মধ্যযুগীয় কুসংস্কার থেকে আগে মুক্ত হবার চেষ্টা করি। তার আগে অন্যকে মুক্তির বাণী শোনানোর অভ্যাস যতো তাড়াতাড়ি ত্যাগ করতে পারব ততোই আমরা রাজনৈতিক ভাবে হুঁশে আসব। অন্তত এক কদম এগিয়ে যাবো।

৭ এপ্রিল ২০১৩। ২৪ চৈত্র ১৪১৯। শ্যামলী।

 

 


ছাপবার জন্য এখানে ক্লিক করুন


৫০০০ বর্ণের অধিক মন্তব্যে ব্যবহার করবেন না।