বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতেই কি কাঁদবে?


এক

বিচারকরা সমাজের বাইরের কেউ নন, সমাজের উর্ধেও নন। সমাজের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ সমাজের আর দশজনের মতো তাদেরকেও স্পর্শ করে। এই সীমাবদ্ধতা জেনেও কাকে ‘বিচার’ বলা যায় আর কাকে ‘বিচার’ বলা যায় না সে ব্যাপারে বিচারশাস্ত্রের আইনী ও ব্যবহারিক দিক থেকে কিছু ‘মানদণ্ড’ ঐতিহাসিক ভাবে গড়ে উঠেছে, যাকে আজকাল ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’ বলা হয়।

ঐতিহাসিক ভাবে গড়ে ওঠা কথাটার তাৎপর্য বোঝা দরকার। এই অর্থেই বিচারের মানদণ্ড ঐতিহাসিক যে কাকে ‘বিচার’ বলা হবে আর কাকে বিচার বলা হবে না সেটা কেউ ওয়াশিংটনে, জেনিভায় বা ইংলণ্ডে বসে নির্ধারণ করে দেয় নি। বিচারের এই মানদণ্ড যুগে যুগে দেশে দেশে মানবেতিহাসকে লড়ে অর্জন করতে হয়েছে। এই মানদণ্ড অর্জনের জন্য বিচারের প্রত্যাশী মানুষকে বহু রক্তপাত ও বহু জুলুম সহ্য করতে হয়েছে, অকাতরে বহু প্রাণের বিসর্জনও ঘটেছে। এই লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস নাগরিক ও মানবিক অধিকার অর্জনের ইতিহাস বলেও পরিচিত। আর অন্যান্য অধিকারের মতো ‘বিচার’ পাবার নাগরিক ও মানবিক অধিকারের ওপরই আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। আর ইউরোপে সেটা কায়েম হয়েছে জনগণের বিপ্লবী গণ অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে।

এই ঐতিহাসিক মানদণ্ডকে ‘আন্তর্জাতিক’ বললে কিছু জটিলতা তৈরি হয়, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’ কথাটা সঙ্গত কারণেই পর্যালোচনার দাবি রাখে। ঔপনিবেশিক কালপর্বে আন্তর্জাতিকতার মানদণ্ড মানে ঔপনিবেশিক মানদণ্ড। সেইদিক থেকে সাম্রাজ্যবাদী যুগে তার সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র থাকবার কথা। সেটা আছেও। মানবাধিকার লংঘনের অজুহাতে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো দুর্বল দেশের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পিছপা হয় না, সেটা আমরা দেখেছি। প্রতিটি রাষ্ট্রই সার্বভৌম এবং কোন রাষ্ট্রেরই আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অন্য রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অধিকার নাই – এই নীতি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কার্যকারিতা অনেক আগেই হারিয়েছে। ফলে দুর্বল দেশের ওপর সবল দেশের আধিপত্য বিস্তার ও আগ্রাসন এখন কোন অন্যায় বলে গৃহীত হয় না। শুধু এই অভিযোগ তোলাই যথেষ্ট যে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের শিকার দেশটি কোন না কোন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লংঘন করেছে। সেটা মানবাধিকার হতে পারে, হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্র কিম্বা রাসায়নিক অস্ত্র রাখা, বানানো বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে গৃহীত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড। ইরাক হামলা হয়েছিল সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকবার মিথ্যা অজুহাতে। এই ধরণের কোন না কোন ‘মানদণ্ড’ লংঘন করলে কোন স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের সরকারকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অধীনে পরিচালিত সামরিক হস্তক্ষেপের মধ্য দিয়ে বদলানোর কথা (regime change) আজকাল অনায়াসেই বলা হয়। জাতিসংঘ তখন কাগুজে প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে এবং শক্তিশালী দেশগুলোর কূটনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়। ইত্যাদি নানা কারনে ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’ কথাটার প্রতি সন্দেহ থাকা খারাপ কিছু না।

তাহলে ‘আন্তর্জাতিক’ ও ‘ঐতিহাসিক’ এই দুটো কথার পার্থক্য সম্পর্কে সজাগ থাকা জরুরী। একটি দেশের জনগোষ্ঠিকে যে কোন সময় অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তথাকথিত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের বিরুদ্ধে অবশ্যই দাঁড়াতে হতে পারে, কিন্তু মানুষের ইতিহাস যে সকল নীতি, আদর্শ ও পারস্পরিক সম্পর্ক চর্চার মানদণ্ড লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জন ও প্রতিষ্ঠিত করেছে তাকে অস্বীকার করার সুযোগ খুবই কম। যেমন, ব্যক্তির অধিকার, কিম্বা একটি জনগোপষ্ঠির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। এযুগে দাস ব্যবস্থা কায়েম করা বা কোন মানুষের সঙ্গে দাসের মতো আচরণ কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিক তেমনি কারো নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণ করাও মেনে নেওয়া যায় না। কিম্বা কোন জনগোষ্ঠিকে অন্য জনগোষ্ঠির অধীনস্থতা মেনে নিতেও বাধ্য করা যায় না।

একজন ব্যক্তি ভয়াবহ খুনি হতে পারে, মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করেছে বলে তার বিরুদ্ধে সত্য কিম্বা মিথ্যা অভিযোগ উঠতে পারে। হয়তো আসলেই অভিযুক্ত সেই অপরাধ করেছে। কিন্তু সুষ্ঠ বিচারের মাধ্যমে তার অপরাধ প্রমাণ না করা পর্যন্ত তাকে ‘নির্দোষ’ গণ্য করাই বিচারের ঐতিহাসিক মানদণ্ড। এগুলো তো খুবই প্রাথমিক ব্যাপার। অর্থাৎ 'বিচার' বলতে কী বোঝায় মানুষের ইতিহাসের দীর্ঘদিনের লড়াই সংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেই মানদণ্ড না মানলে তাকে আর যাই হোক 'বিচার' বলা যায় না। কোন বিচারব্যবস্থাই অপরাধের প্রমাণ ছাড়া শাস্তি দিতে পারে না, এটা একালে ব্যক্তির 'অধিকার' বলে স্বীকৃত ও মান্য। তাছাড়া 'প্রমাণ' কথাটারও সুনির্দিষ্ট অর্থ আছে। বিচারক নিজের খেয়ালখুশি বা মর্জি মাফিক কাউকে শাস্তি দিতে পারে না। সাক্ষ্য-প্রমাণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম বিচার প্রক্রিয়াকে মানতে হয়। যাকে বিচারের ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া (due process of law) বলা হয়। কোন বিচারব্যবস্থা যদি ব্যক্তির এই অধিকার অস্বীকার করে, কিম্বা এমন একটা আদালত গঠন করে যেখানে তার গঠন, বিধিবিধান ও কাঠামোর মধ্যেই এই অধিকার লংঘনের সমূহ বিপদ নিহিত রয়েছে, তখন তাকে আদৌ বিচার বলা যাবে কিনা বিচারশাস্ত্র এই অভিযোগ তুলবেই। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আন্তর্জাতিক মহলে যে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখী হয়েছে তার গোড়া এখানে। কোন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে এই গোড়ার মুশকিলের সমাধান হবে না।

বর্তমান সমাজে চরম ব্যক্তিতান্ত্রিকতা বা মানুষের স্বার্থপরতার সংকীর্ণতা ও বিপদ আমরা হরদমই দেখছি। পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা এই স্বার্থপরতাকে একটা সার্বজনীন রূপ দেয়। আমরা সেইসবের হাজারো সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু তার সমাধান হিসাবে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও অধিকার হরণ করার চিন্তা অবাস্তব চিন্তা। ব্যক্তির নিজের স্বাধীন সত্তার যে স্বাদ বাজার ব্যবস্থায় ব্যক্তি উপভোগ করে সেই স্বাদের অধিকার হরণের কথা আমরা ভাবতে পারি না।

অন্যদিকে ব্যক্তির অধিকারই ইতিহাসের চরম সত্য নয়। ব্যক্তিই যদি একমাত্র সত্য হয় তবে সমাজ বলে তো কিছুই থাকে না। সমাজের সত্য কি তাহলে? আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রসঙ্গে এটি একটি মৌলিক প্রশ্ন। আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তির ওপর এবং পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণের সেটা টিকেও থাকবে। সমাজ যদি সংকীর্ণ ব্যাক্তি স্বার্থের প্রতিযোগিতা ও ব্যাক্তি সর্বস্বতায় পর্যবসিত হয় তাহলে সমাজ বা রাষ্ট্র কোন্টিই টিকিয়ে রাখা যায় না।সমাজ ও রাষ্ট্রের দিক থেকে সে কারণে ব্যক্তির অধিকারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে। আধুনিক রাষ্ট্রের এতাও রেওয়াজ যাতে কোন ব্যক্তি নিজের অধিকার চর্চা করতে গিয়ে অন্যের বা সমাজের অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে না পারে। ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, আইনের কিম্বা রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব এতে মিটেছে বলা যাবে না। বরং এই দ্বন্দ্ব আছে বলেই রাষ্ট্র থাকে। কিন্তু আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাছে এর চেয়ে ভাল কোন সমাধান নাই।

এখান থেকেই যারা আরও বিকশিত সমাজের কথা ভাবেন তাদের সমালোচনা শুরু হয়। ব্যক্তিবাদী, ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বার্থপর সমাজই মানুষের বিকাশের শেষ অবস্থা, আর তার অধিকারের হেফাজত করাই রাষ্ট্রের কাজ সঙ্গত কারণেই তারা একে অস্বীকার করেই তাদের সমালোচনা শুরু করেন। এটা তো আসলেই ঠিক হতে পারে না। যারা মানুষের ইতিহাসের এই কাল পর্ব অতিক্রম করে যাবার ঐতিহাসিক কর্তব্য বোধ করেন তাদের ভাবতে হয় কিভাবে ভিন্ন ধরণের সমাজ ও তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়া যায় যেখানে ব্যাক্তি ও সমষ্টির – কিম্বা নিজের ও সমাজের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো সম্ভব। রাষ্ট্রচিন্তা তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন সমাধানের দিকে নিবিষ্ট হতে চেষ্টা করে। সেটা হোল, সমাজের স্বার্থ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির স্বার্থ আর ব্যক্তির স্বার্থ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে সমাজের স্বার্থ নিশ্চিত করা সম্ভব কিনা। তার জন্য অবশ্যই চিন্তা করতে হবে। একটা দার্শনিক দাবি তো আছেই যে একমাত্র রাষ্ট্র শুকিয়ে মরলে বা রাষ্ট্রের বিলয় হলেই কেবল এই সমন্বয় সম্ভব। কিন্তু তার মানে তো পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক ও তার থেকে সৃষ্ট শ্রেণি ব্যবস্থার বিলয়। এখান থেকেই কার্ল মার্কসের বিখ্যাত সূত্রের প্রস্তাবনা যে, শ্রেণীর বিলয় মানে রাষ্ট্রের বিলয়, আর কমিউনিজমের অভিমুখ কোন রাষ্ট্রবাদী চিন্তায় নয় – বরং রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক বিলয় ত্বরান্বিত করবার দিকেই নিষ্ঠ।

ব্যক্তিতান্ত্রিকতার ও স্বার্থপরতার বিরুদ্ধে ব্যক্তির মহিমা নয়, বরং সমষ্টি বা সমাজের সকলের স্বার্থই একমাত্র সত্য – এই চিন্তার ওপর ভিত্তি করে বিপ্লব হয়েছে। ওর মধ্যে ব্যক্তি কখনই হারিয়ে যায় নি। কিন্তু ইতিহাসের ব্যক্তির আবির্ভাবের শক্তি এতো প্রচণ্ড যে ‘সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব’ ঘটে যাবার পরেও ব্যক্তিবোধ ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা আস্বাদনের শক্তি রোধ করা যায়নি। মানবেতিহাসের নানান পরীক্ষানিরীক্ষার সফলতা ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা ব্যক্তি আর সমাজের সম্পর্ক সম্বন্ধে মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ব্যক্তির অধিকার, রাষ্ট্র, বিচার, গণতন্ত্র ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা ও চর্চারও বিকাশ ঘটেছে অনেক। মূল কথা হচ্ছে ব্যক্তি ও ব্যক্তির অধিকার এমনই ঐতিহাসিক সত্য যে তাকে যান্ত্রিক ভাবে বা রাষ্ট্রের বল প্রয়োগের অধীনে রেখে, আটকে রাখা অসম্ভব। সমাজ ব্যক্তির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ সেটা ব্যক্তিকে উপলব্ধি করতে দিতে হবে। তা না করে ‘সমাজ’ নামক বিমূর্ত সত্তার মহিমা রক্ষার জন্য ব্যক্তির দমন হিতে বিপরীতই হয়েছে।

ব্যক্তিতান্ত্রিক সমাজের প্রতি প্রতিক্রিয়াবশত অনেকে কমিউনিজম বলতে বোঝেন ‘আদিম সাম্যবাদী’ সমাজে ফিরে যাওয়া যখন ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল না। মানুষের ইতিহাস যে সামাজিকতার ধারণা নিয়ে বিকশিত হয়ে চলেছে সেটা অতীতের রোমাণ্টিক কল্পনার ‘আদিম সাম্যবাদী’ সমাজে ফিরে যাওয়া নয়, বরং বর্তমানের মধ্যে ভবিষ্যৎ বা নতুন ধরণের সমাজের সম্ভাব্য অভিমুখ বা গন্তব্যের নিশানা শনাক্ত করতে পারা। সেই অভিমুখ কিভাবে ফুটে উঠছে তা শনাক্ত ও বিকশিত করার কাজই ।

ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বার্থপর সমাজকে মার্কস ও লেনিনের অনুসারীরা সাধারণত ‘বুর্জোয়া’ সমাজ বলে থাকেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও দার্শনিক পরিভাষা। মার্কস বা লেনিন মোটেও মনে করতেন না ব্যক্তিতান্ত্রিক চরিত্র বা স্বার্থপরতা মানুষের চরিত্রগত বৈশিষ্ট যা স্রেফ নীতি নৈতিকতা বা ধর্ম শিক্ষা দিয়ে দূর করা সম্ভব। মানুষের এই স্বভাবের উৎপত্তি ব্যক্তিগত সম্পত্তির মধ্যে ব্যক্তি জীবন চরিতার্থ হবার ও করবার চেতনা, বোধ ও উপলব্ধির সঙ্গে জড়িত। যতোদিন জগতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ব্যক্তিগত সম্পর্কের বৈষয়িক স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে ততোদিন ব্যক্তিতন্ত্র ও স্বার্থপরতার বিনাশ ঘটবে না। এই সমস্যার সমাধান অতএব ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিচারের সঙ্গে জড়িত।

পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বার্থপরতার খাসিলতটা একটা সার্বজনীন রূপ পরিগ্রহণ করে। কারণ ব্যক্তিগত সম্পত্তির সম্পর্কটাই পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক হয়ে হাজির হয়। একে ‘বদলে দাও, বদলে যাও’ মার্কা শ্লোগান দিয়ে বদলানো যায় না। এই চেষ্টা একটা হাস্যকর কর্পোরেট তামাশায় পরিণত হয়। আসলে কথা হচ্ছে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি ব্যক্তিতান্ত্রিকতা ও স্বার্থপরতাকে মানুষের সার্বজনীন স্বভাব করে তোলে তাহলে পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার উৎখাত ও বিলয় ছাড়া তার মোচন অসম্ভব। এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রামের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে নাগরিক ও মানবিক অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। কারণ এই অধিকার রাষ্ট্রের এখতিয়ার বা সীমাকে প্রশ্ন করে, কারন রাষ্ট্র যখন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ করে তখন রাষ্ট্র নিজের ন্যায্যতাকেই মুলত প্রশ্নবিদ্ধ করে। কিম্বা আদতে নিজের ন্যায্যতাই হারায়।

এই ভূমিকার অভিনিবেশ এখানেই নিবিষ্ট থাকুক। বিচারব্যবস্থা যখন আন্তর্জাতিক (অর্থাৎ ঐতিহাসিক) ভাবে স্বীকৃত ব্যাক্তির নাগরিক ও মানবিক অধিকার অস্বীকার করে তখন সে ব্যবস্থা নিজেকে বিচারব্যবস্থা বলে দাবি করতে পারে না। এই অধিকার ক্ষুণ্ণ করা একান্তই বাংলাদেশের আদালতের এখতিয়ার -- এই যুক্তি সে কারণে কখনই গ্রহণযোগ্য হয় না। এই যুক্তি অসার যে যারা অপরাধ করেছে তারা এতোই ঘৃণ্য যে তাদের জন্য যে বিচারব্যবস্থা সেখানে আন্তর্হাতিক ভাবে স্বীকৃত অধিকার মানা হবে না। দেশীয় আইনে ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ করে যে আদালত গঠন করা হয় সেই আদালত আন্তর্জাতিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবেই – এতে কোন সন্দেহ নাই।

দুই

একাত্তর সালে যারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে তাদের বিচার চেয়েছে বাংলাদেশের জনগণ। সে বিচার নিশ্চিত করবার প্রথম শর্ত হচ্ছে সঠিক আইন, সঠিক বিচার পদ্ধতি ও ন্যায়নিষ্ঠ আদালত প্রতিষ্ঠা। সেটা আদৌ হয়েছে কিনা সেই গোড়ার প্রশ্ন উহ্য রেখে আমরা এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের স্কাইপ কেলেংকারি, কিম্বা সম্প্রতি রায় আগাম ফাঁস হওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। এই সকল কেলেংকারিতে আন্তর্জাতিক আদালতের ভাবমূর্তি ভয়ানক ক্ষুণ্ণ হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু একই সঙ্গে এই দেশের মানুষের ইনসাফের আকাংখাও মারাত্মক ভাবে অস্বীকৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এবং ক্ষমতাসীন সরকার উভয়কেই এর দায় বহন করতে হবে।

আরেকটি বিরাট সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেটা হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পর্ক। নাগরিকদের মধ্যে যাঁরা একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চাইছেন, তারা তাদের উদ্বিগ্নতা নানান ভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য হচ্ছেন। আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে অনেকে উদ্বিগ্ন। তারা সেটা প্রকাশ করা নৈতিক দায়িত্ব মনে করছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল নিজের ন্যায়নিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হলে তার দায়ভার আদালতকেই নিতে হবে। কিন্তু আদালত সে ব্যাপারে কতো সজ্ঞান সেটা এখনও অস্পষ্ট হয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি আদালত ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে আদালত অবমাননার দায়ে তলব করেছে। একটি টেলিভিশন টক শোতে ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী কিছু বক্তব্য দিয়েছেন যা আদালত আমলে নিয়ে তাঁকে তলব করেছে। আমলে নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের ১১(৪) ধারার অধীনে। একই ভাবে সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইনজীবী খোন্দকার মাহবুব হোসেন যে বক্তব্য দিয়েছেন তার কারনে তাঁর বিরুদ্ধেও আদালত অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমি এখানে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রসঙ্গেই আমার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখব।

ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী চেয়েছেন বিচার সম্বন্ধে কোন সন্দেহ যেন মানুষের না থাকে। তিনি চান নি ‘বিচারের বাণী নীরবে নির্ভৃতে কাঁদুক’। তিনি টক শোতে বলেছেন,

“আজকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আমরা চিরকাল জেনে এনেছি, এটা আমি বিশ্বাসও করেছি, আজকে সে বলছে, সে নাকি ছিলোই না, সেটা সত্য, যাই হোক, সে ৪টা সাক্ষী ই করেছে, একটা তো বললাম আমাদের সালমান, আরেকজন হলেন একজন সিটিং জজসাহেব, এই হাইকোর্টের বর্তমান জজসাহেবকে সে সাক্ষী মেনেছে এবং উনি বলেছেন উনি সাক্ষী দিতে চান, উনি নাকি দরখাস্ত দিয়েছিলেন, আমাদের মোজাম্মেল হোসেন সাহেবের কাছে সাক্ষী দেবার অনুমতি চেয়েছিলেন, তাকে অনুমতি দেয়া হয় নি এবং একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত দিয়েছেন, উনি শুনেছেন। এই যে জিনিসটা এর ফলে কি হবে? সন্দেহটা কিন্তু মানুষের মনে থেকেই যাবে। আইনে বলে এ দশজন আসামী খালাস পেয়ে যাক কিন্তু একজন নিরাপরাধ যেন শাস্তি না পায়।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধরীকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করি আমি, এই লোক দাবী করেছে সে ছিল না, সে হাসনাইন নামের এক জজ সাহেবকে সাক্ষী মেনেছে, সেই জজ সাহেবকে কেন সাক্ষী দেন নাই, এটাকে যদি না দেয়া হয়, তাহলে কি বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে না?... এই বিচারক কেন সাক্ষী দেবে না”?

বাংলাদেশে একটা প্রবাদ আছে মায়ের চেয়ে মাসীর দরদ বেশী হলে সেটা সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। ডা: জাফরউল্লাহ চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তর সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্রামগঞ্জে যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধে অসম সাহসী ভুমিকা রেখেছেন। স্বাধীনতার পর দেশের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে তাঁর অবদান অসামান্য। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেশের গণমানুষের অসীম শ্রদ্ধার পাত্র, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি তৃণমূল মানুষের স্বাস্থ্য অধিকারের অগ্রদূত হিসেবে পরিগণিত। তাছাড়া ১৯৭২ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক এবং ১৯৭৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

একথা বলছি তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বলে আইনের উর্ধে বলার জন্য নয়। এটাই বলার জন্য যে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ যারা করেছে তাদের শাস্তি দেবার ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে আন্তরিক কেউ হতে পারে না। সেই ক্ষেত্রে তাঁকে আদালত অবমাননের জন্য তলব করার ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালকেই খোদ বিতর্কিত করা ছাড়া আর কি হতে পারে?

এই লেখায় আজ আমি খুবই ছোট একটি প্রশ্ন তুলে শেষ করব। সেটা হোল একই দেশে দুটি আইনী ব্যবস্থা থাকতে পারে কি না? আইসিটি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থা থেকে পৃথক। আইসিটি এক্ট (International Crimes Tribunal Act, 1973) ১৯৭৩ সালে জারির পর ২০০৩ সাল অবধি চার বার সংশোধিত হয়েছে। আদালতের বিচার প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে অনেকে অনেক কথা দেশে বিদেশে বলেছেন। এখানে তার পূর্বানুবৃত্তি করবো না। নাগরিক ও মানবিক অধিকারের যে প্রশ্ন তুলেছি সেই আলোকে আপাতত একটি মাত্র প্রশ্ন তুলব।

 

প্রচলিত সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এবং প্রচলিত ক্রিমিনাল পেনাল কোড (CrPC) আইসিটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য নয়। সাক্ষ্য আইন ও ফৌজদারি বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে বিচার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে আইসিটি এক্ট অতএব তার থেকে আলাদা। প্রথমেই তাহলে প্রশ্ন ওঠে একটি দেশে বিচারের দুটো ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়া থাকতে পারে কি না।

কোনটা সাক্ষ্য প্রমান বলে গণ্য হবে কোনটা নয়, তা কি আইসিটির ক্ষেত্রে একরকম আর বাংলাদেশের অন্য আদালতে অন্যরকম হবে? শোনা কথা বা উড়ো কথা সাক্ষ্য নয়। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের সম্পর্কে সত্যমিথ্যা নানান কাহিনী থাকতে পারে। আদালতের কাজ হচ্ছে বিচারের মধ্য দিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠা করা। সে কাজ করতে গিয়ে কোন অপরাধী যদি প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যায় তাও ভাল, কিন্তু বিনা প্রমাণে কেউ যেন শাস্তি না পায় এটাই হচ্ছে বিচারের দিক থেকে নাগরিক ও মানবিক অধিকারের মূল কথা। এই যুক্তিতেই তাহলে নিউজ পেপার কাটিং জাতীয় কোন কিছুর প্রমাণ-মুল্য নাই। সাক্ষ্য আইন এভাবে সাজানোর পিছনে মুল অনুমান হলো, কোন ঘটনা বর্ণনা করতে, জানাতে বা জানতে এইসবের মূল্য থাকতে পারে, কিন্তু এগুলো অপরাধের প্রমাণ নয়। তাই বাংলাদেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থায় ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত’ কথাটার অর্থ সাক্ষ্য আইনের পরিপ্রেক্ষিতেই বুঝতে হবে আক্ষরিক অর্থে নয়।

প্রচলিত ফৌজদারি বিধানে বিচার হচ্ছে সুনির্দিষ্ট ধারা অবলম্বন করে বিচার যেখানে ‘অপরাধ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে তা আইনের দ্বারা সংজ্ঞায়িত। যে কারনে আমরা বলি অমুক ধারায় সাজা হয়েছে। সেই ধারায় অপরাধ ‘সন্দেহাতীত ভাবে’ প্রমাণিত হলে সাজা কী হবে সেটাও প্রচলিত ফৌজদারি বিধানে আগেই উল্লেখিত থাকে। অর্থাৎ অমুক ধারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যে সাজা হয়েছে তা আইনী প্রক্রিয়া মেনেই হয়েছে।

এই ধারা ও সাজা আগাম নির্ধারণ রাখার অর্থ হচ্ছে বিচার প্রক্রিয়ার সময় দুই পক্ষের উকিল ও বিচারপতিদের শুধু সুনিদ্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে মনোযোগী থাকতে বাধ্য করা নয়, বিচারক যেন তার নিজের মর্জি মাফিক কিছু না করেন সেটাও আগাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া। সুবিচারের ধারণার সঙ্গে ধারা ও সাজা আগাম নির্ধারণ করে দেওয়া যুক্ত।

এখন তর্কের খাতিরে ধরা যাক, একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে যারা অপরাধ করেছে আইসিটি এক্ট তাদের জন্য। তাহলে আদালত একজন মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে যখন কে আদালত অবমাননার জন্য তলব যখন করল তখন সেই ক্ষেত্রে তিনি আদৌ আদালত অবমাননা করেছেন কিনা তার সাক্ষ্য প্রমাণ কোন আইনের অধীনে হবে? একজন মুক্তিযোদ্ধা মানবতার বিরুদ্ধে যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার সুষ্ঠ ভাবে না হওয়ায় উদ্বিগ্ন। আদালত এই উদ্বিগ্নতার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছেন বলে মনে হচ্ছে না। তিনি টেলিভিশান টক শোতে কিছু মন্তব্য করেছেন। তিনি দেশের নাগরিক। ফলে দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থাতেই তাঁর বীরুধে কোন অভিযোগ থাকলে তা আমলে নেওয়া যাবে। আইসিটির পৃথক চিচার ব্যবস্থা। সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধার বীরুধে তোলা অবিযোগের বিচার আইসিটি কিভাবে করবে?

মনে রাখা দরকার রাজপথ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল সরকারের সাথে আঁতাতের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আব্দুল কাদের মোল্লাকে আদালত লঘু দণ্ড দিয়েছে। এই ধরনের অবমাননাকর ও রাজনৈতিক অভিযোগ আদালতের বিরুদ্ধে তোলা হলেও এ ব্যাপারে আদালত কোন পদক্ষেপ নেয় নি।

রাজনৈতিক বিতর্ককে আদালতের আঙিনায় নিয়ে গিয়ে আদালত নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এটা অনভিপ্রেত ছিল। কিন্তু আদাদলত রাজপথের সমালোচনাকে অবমাননাকর মনে করে নি। এখন টক শোর একজন মুক্তিযোদ্ধারত মন্তব্য যদি অবমাননাকর মনে করে তাহলে সেটা নাগরিকদের প্রতি আদালতের অসম আচরণ। নাগরিকদের মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আতংক তৈরী ও হয়রানি কোনভাবেই কাম্য নয়।

আমরা মনে করি ব্যক্তি বা আদালত কেউই আইনের উর্দ্ধে নয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক অধিকার ও মানবিক অধিকার ক্ষুন্ন করার এখতিয়ার কারোরই থাকতে পারেনা। তাছাড়া দেশে আদালত অবমাননার যে আইন বিদ্যমান ছিল সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ তা বাতিল করেছে। এখন আর বাংলাদেশে আদালত অবমাননার কোন আইন বা বিচারিক ভিত্তি না থাকাটাও নাগরিকদের জন্য খুবই ভীতিকর একটি পরিস্থিতি।

যেহেতু আইসিটি নিজেই একটি সমান্তরাল বিচার ব্যবস্থা তার ফলে আইন ও ন্যয়বিচারের দিক থেকে এতে নানান জটিলতা তৈরী হয়েছে। তার মীমাংসা হয় নি। প্রচলিত আইনে আদালত অবমাননা আইন বাতিল হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আইসিটি কোন আইনে আদালত অবমাননার বিচার করবে? যদি আইন বহালও থাকত তাহলেও বা আইসিটি কোন আইনে বিচার করতো?

বিচার যদি আমাদের পাপের বোঝা না কমিয়ে আরও বাড়িয়ে দেয় তার চেয়ে দুর্ভাগ্য একটি দেশের জনগণের জন্য আর কী হতে পারে?

১৯ আশ্বিন ১৪২০। ৪ অক্টোবর ২০১৩।


ছাপবার জন্য এখানে ক্লিক করুন


৫০০০ বর্ণের অধিক মন্তব্যে ব্যবহার করবেন না।