বদ্ধচিন্তার খাপ থেকে মুক্তি দরকার


এ লেখাটি লিখছি শহরে, গ্রামে ও প্রবাসে সেইসব বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য যারা বয়সে তরুণ। যাঁরা ‘তরুণ প্রজন্ম’ অবশ্যই, কিন্তু শুধু ঢাকা শহরের নয়। মফস্বল ও গ্রামেরও। গ্রামে আছে তরুণ প্রজন্মের বিশাল একটি অংশ যারা কৃষি সহ বিভিন্ন উৎপাদনমূলক কাজে জড়িত। কলকারখানায় মেহনত দিয়ে অর্থনীতির চাকা যাঁরা সচল রাখছেন তাঁরাও তরুণ প্রজন্ম; প্রায় পুরানা দাস ব্যবস্থার মতো ‘তরুন প্রজন্ম’ তরতাজা শ্রমশক্তি হয়ে চালান হয়ে যাচ্ছেন বিদেশে, বিশাল একটি অংশ চলে যাচ্ছেন নিজের দেশ থেকেই, অথচ মন পড়ে থাকে দেশে – মা বাবা ভাইবোন পাড়া প্রতিবেশীর জন্য; মাসে মাসে ঘামে-রক্তে কামাই করা আয় দেশে পাঠান, দেশের অর্থনীতি প্রবাসীদের সেই আয়ের ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয় হয় তরুণ প্রজন্মের আরেক অংশের জন্য যারা মুলত কনজিউমার বা ভোগী, দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনে যাদের বিশেষ কোন অবদান নাই। কিন্তু দেখা যায় তারাই সমাজ সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশী সরব। খুব কম তরুণই ভাবেন যে তাঁরা যে কম্পিউটারটি ব্যবহার করেন, যে প্রাইভেট গাড়িটি চালান, যে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে খান, কিম্বা যে টেলিফোন ব্যবহার করেন -- সেই সব প্রতিটি ভোগের জিনিস বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছে। আর এই আমদানির অর্থ জুগিয়েছে কারখানার শ্রমিকেরা – বিশেষত পোশাক কারখানার কিশোর কিশোরীরা। যারা পুড়ে মরে, ভবন ধসে মাটির নীচে চাপা পড়ে, কিম্বা ন্যায্য দাবি জানাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিরন্তর প্রাণ দেয়।

অথবা এর অর্থ জোগাচ্ছে সেইসব শ্রমিক যারা দাসের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কোন কনস্ট্রাকশান কোম্পানিতে মরুভূমিতে পুড়ে মরছে। কিম্বা মালয়েশিয়ায় বিপদসংকুল রাবার বাগানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, সাপের কামড় খেয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। কেউ ট্যাক্সি চালাচ্ছে নিউ ইয়র্কে, টরেন্টোতে; কেউ হোটেলের বাসন মাজছে বিলাতে। আবার কেউ রোমে, মাদ্রিদে, গ্রিসে কোন রকমে টিকে আছে নিত্যদিনের অসম্ভব যুদ্ধে।

এই অসাম্য কুৎসিত। তরুণদের মধ্যে যারা এই অসম সম্পর্ক সম্বন্ধে ভাবতে সক্ষম, তাঁরা অন্যদের তুলনায় সুবিধাভোগী হলেও কখনই অহংকারী নন। তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক, তাঁদের ভাবনার দিগন্ত প্রসারিত থাকবারই কথা, এটা অনায়াসেই অনুমান করা যায়। অন্যদিকে যাঁরা জীবিত ভাবে শ্বাসনিশ্বাস নেবার প্রায় পুরা সময়টাই প্রাণধারণের জন্য লড়ে যাচ্ছেন, সেই সব মেহনতি মানুষ অন্যদের প্রতি ক্রোধ আর হিংসা দ্বারা তাড়িত হয়ে থাকেন এটা ভাবাও ঠিক নয়। যারা সমাজ ও ইতিহাসকে আর দশটা বিজ্ঞানের মতো নৈর্ব্যক্তিক জায়গা থেকে বিচার বিশ্লেষণ করতে সক্ষম তারাও এই অসাম্যকে নিছকই নৈতিক অন্যায় বলে নিন্দা করে নিজেদের বিবেকের দায় থেকে মুক্তি পাবার চেষ্টা করেন না। ইতিহাস বলে আধুনিক যুগে আসলে শিক্ষিত শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির একটি অংশের সচেতনতাই একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাদের চিন্তাচেতনা ও সংস্কৃতিই সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতির নির্ধারক শক্তি হয়ে ওঠে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এমন কোন চিন্তা, মতাদর্শ ও সংস্কৃতি আমরা তৈয়ার করতে পেরেছি কিনা যা ষোলকোটি মানুষকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। যদি সে মতাদর্শকে ‘জাতীয়’ হতে হয় তাহলে তার কেন্দ্রে শ্রমিক, কৃষক মেহনতি মানুষের স্বার্থের কথা থাকবে। শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থ নয়, তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি, লোকায়ত চিন্তা, বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সম্পর্কে তাদের নিজেদের মূল্যায়ন এবং সর্বোপরী নৈতিক মূল্যবোধ ও সংবেদনা --- অর্থাৎ তাদের সজীব জীবনের সকল বিষয়ই এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে বাধ্য। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা কতোটা ‘মুক্ত’ চিন্তার অধিকারী? কতোটা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ ও উৎকন্ঠাকে তথাকথিত শিক্ষিত শ্রেণি আমলে নিতে রাজি? সাধারণ মানুষের ভাবনা চিন্তার বিপরীতে কতোটা নিজেদের চিন্তা ও আদর্শ সম্পর্কে আত্মপ্রত্যয়ী? আমার মনে হয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণি আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া দূরে থাকুক, তারা কী বলে বা কী বলছে সে সম্পর্কে তাদের নিজেদের কোন হুঁশ আছে বলে মনে হয় না।

আত্মপ্রত্যয়ী হতে হবে কেন? এই অর্থে আত্মপ্রত্যয়ী যে জনগণ যদি ভুল চিন্তা করে, বা মতাদর্শিক বিচারে পশ্চাতপদ থাকে তাহলে নিজেদের চিন্তার জায়গা থেকেই তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা ও সঠিক ভাবে অবশ্যই বোঝানো সম্ভব। কিম্বা নিজে শিক্ষিত হয়ে ওঠারও সুবিধা। জনগণের চেয়ে ভাল শিক্ষক আর কেউই হতে পারে না। ফলে নিজের চিন্তার ভুল থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জাত চিন্তা থেকে শিক্ষা নেওয়া অবশ্যই সম্ভব। যদি আমরা নিজেদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম গণ্য করি, সাধারণ মানুষের সঙ্গে চিন্তার পার্থক্য হবার কথা নয়। অর্থাৎ নিজেদের যদি একই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত গণ্য করি, তাহলে সংখাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক বয়ান তৈরী করা কখনই কঠিন হতে পারে না। আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার মানে আমার চিন্তাই সঠিক এই অহংকার নয়, যাদের জন্য আমি রাজনৈতিক ভাবে ভাবতে চাই, তৎপর থাকতে চাই তাদের চিন্তার ভাল্মন্দ মোকাবিলার মধ্য দিয়ে রাজনীতির সঠিক নীতি ও কৌশল কি হতে পারে তা আমি নির্ধারণ করতে সক্ষম। কারণ আমি গোঁড়া নই, চিন্তায় প্রাচীন বা বদ্ধমুল ময়লা নালায় হাবুডুবু খাচ্ছি না। আমি বিচারবিশ্লেষোন করতে জানি।

কিন্তু যারা নিজেরা চিন্তার গোঁড়ামিতে ভোগে, নিজেরা চিন্তা করবার ক্ষমতা হারিয়েছে, যাদের বুদ্ধির জগত মরুভূমিতে পরিণতি হয়েছে, বালু ছড়ানো ছাড়া তাদের আর বিশেষ কোন প্রতিভাব অবশিষ্ট নাই। তারা আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারে না। তারা যে রাজনীতি সামনে নিয়ে আসে তাকে বলা যায় আতংকবাদ। আবারও বলি, সাধারণ মানুষের মধ্যে নানান ভুল ও পশ্চাতপদ চিন্তা থাকতেই পারে, কিন্তু কারবারটা মানুষের সঙ্গেই হতে হবে, মানুষের সঙ্গেই করতে হবে , কোন বিমূর্ত মতাদর্শের সঙ্গে নয়। যারা জীবন্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনের লড়াই সংগ্রাম থেকে জাত চিন্তা মোকাবিলা করতে অক্ষম তারাই নানান মতাদর্শিক জুজুর ভয় দেখায়। একসময় এটা ছিল কমিউনিজম। আজ ইতিহাসের কী প্রহসন, সেটা হয়েছে ইসলামি জঙ্গিবাদ। সোজা কথায় ইসলাম। শিক্ষিত মধ্যবিত্তের যে অংশ নিজেদের খামাখা প্রগতিশীল ভাবে তারা ইসলামের ভয়ে ভীত! এই ভীতি রীতিমতো কৌতুককর।

আজ আমরা কথায় কথায় ‘জাতি’ এই চায়, ‘জাতি’ ঐ চায়, অনায়াসে ‘জাতি’ নিয়ে হাজার প্রকার চাওয়ার কাহিনী ফেরি করি, বাগাড়ম্বর করি। জাতিকে দিয়ে বহু কিছু চাওয়াই, নিজে যা চাই তা জাতির নামে বলি। ‘জাতি’ বিমূর্ত কিছু নয়, জীবন্ত মানুষ নিয়েই জাতি। আর জাতির চিন্তা অনড় বা অপরিবর্তনীয় কিছু নয়। জাতি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান চেয়েছিল, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ চেয়েছে – আগামি দিনে কি চাইবে জানি না, কিন্তু কোন জাতীয়তাবাদ চাইবে বলে মনে হয় না। জাতিকে অখণ্ড ভারতের সঙ্গে যুক্ত করবার চেষ্টা চলতে পারে, কিম্বা বিপরীতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টাও কোন অংশে কম তীব্র হবে না। পুঁজিতান্ত্রিক গোলকায়নের এই কালে আন্তর্জাতিকতাবাদের আবেদন থাকবে। সেটা ইসলাম হোক, কিম্বা হোক কমিউনিজম। কথা হচ্ছে সাধারণ মানুষ কী চাইছে তাকে আমলে না নিয়ে বাংলাদেশকে তরুণরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে না।

রাজনৈতিক মতাদর্শ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতার বড় কারন হয়ে উঠেছে। একটু যদি আমরা খেয়াল করি তাহলে দেখব সমাজে যে বিভক্তি, বিভাজন, রক্তপাত, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও নির্বিচারে গুলি, হরতাল, অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাশের উৎসব – সবকিছুর হোতা হচ্ছে সেই শ্রেণি যারা অর্থনৈতিক ভাবে সুবিধাভোগী। রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতি করে, লুটপাট করে – এগুলো আমাদের জানা। কিন্তু যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কথা বলে আজ দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে সেটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিতর্ক। এই বিতর্কের কোন গুরুত্ব নাই, সেটা আমার দাবি নয়। কিন্তু এতো রক্ত ও এতো লাশের পরেও এমন কোন মতাদর্শিক বয়ান গড়ে ওঠেনি যা বিভক্তি ও বিভাজনের বাইরে একটা ঐক্যের জায়গা শনাক্ত করতে পারে। আমাদের নিশ্চয়ই চোখ নষ্ট হয় নি। যদি না হয়, আমরা অনায়াসেই দেখব রাজনীতির পক্ষাপক্ষ যেভাবে স্থির হয়েছে তার কোন পক্ষেই কৃষক বা শ্রমিক দৃশ্যমান ভাবে হাজির নাই। তাদের কোন পক্ষে সম্পৃক্ত হবার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিণতি কি হবে জানি না, কিন্তু এই অনুপস্থিতি ইঙ্গিত করে যে আমরা ঠিক পথে যাচ্ছি না। আমরা ঠিকই একটি খাদের কিনারে এসে পড়েছি। এ জন্য নয় যে খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা সংলাপ করছেন না। এই জন্য যে আমরা এমন একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির কবলে পড়েছি যে শ্রেণি চিন্তার দিক থেকে প্রাচীন ও অন্তঃসারশূন্য। নতুন ভাবে চিন্তার ক্ষমতা তার নাই। বাংলাদেশে এখনকার যে রাজনৈতিক বাস্তবতা সেই পরিপ্রেক্ষিতে রাজনীতিতে আস্থা রাখা দুঃসাধ্য। এটা একটি জনগোষ্ঠির জন্য খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি, কিন্তু বাস্তবতা এটাই। যাঁরা রাজনীতি করেন তাঁরা প্রধানত কোন না কোন দল করেন। সেটা দোষের নয়। কিন্তু সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ যখন বিবেক ও চিন্তার ক্ষমতাকে রুদ্ধ করে দেয় তখন সেটা একটি জনগোষ্ঠির অধঃপতনের কারন হয়ে ওঠে।

এই দ্রুত অধঃপতন আমরা দ্রুত রুদ্ধ করতে পারবো কিনা জানিনা। আমি মনে করি সেটা সম্ভব যদি আমরা চিন্তার পদ্ধতি হিসাবে খাঁজ কাটা পাথুরে মতাদর্শ থেকে শুরু না করে সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়ার দিকে আন্তরিক ভাবে কান পাততে শিখি। শুধু অর্থনৈতিক দাবি দাওয়ার কথা বলছি না। পুরানা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা স্বাস্থ্য বাসস্থানের দাবি থাকুক, কিন্তু এগুলো অর্থনৈতিক দাবি। সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দাবি সমান গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভবত এই সময়ে অনেক বেশি নির্ধারক। এই বিবেচনা থেকেই আমি সবসময় বলছি ধর্ম বনাম ধর্ম নিরপেক্ষতার যে পাথুরে বিভাজন আগাম অনুমান করে রাজনীতির নীতি ও কৌশল নির্ণয়ের পুরানা পদ্ধতি নিয়ে আমরা চলি তা নতুন করে পর্যালোচনা করা দরকার।

কেউ চাক বা না চাক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসাবে হাজির রয়েছে। এর বেগ বাংলাদেশে রুদ্ধ করা কঠিন। কিন্তু তা আমাদের এগিয়ে নেবে নাকি পিছিয়ে দেবে তা নির্ভর করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ও ইহলৌকিক লড়াই সংগ্রামে তাকে আত্মস্থ করার ওপর। ‘ইসলাম’ কোন একাট্টা এক রকম ব্যাপার নয়। যারা ইসলামপন্থি তাঁরা তাদের জায়গা থেকে কথা বলবেন, সে অধিকার তাদের আছে। কিন্তু চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তির জায়গা থেকে যে কাজ দরকার সেটা হচ্ছে কী ধরণের চিন্তা সমাজকে পিছিয়ে দেয়, আর কী চিন্তা এগিয়ে নিয়ে যায় খোলা মনে সেই তর্ক করা। আলোচনাকে ইসলামি মৌলবাদ বনাম প্রগতিশীলতা নামক বদ্ধ খাপের মধ্যে পুরে ফেলা নয়। ওতে আমরা বদ্ধ জায়গাতেই বন্দী হয়ে থাকব।

আগামি দিনে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেবার ক্ষেত্রে তরুণরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবেন; দর্শন, বুদ্ধি, জ্ঞানবিজ্ঞান, সংস্কৃতি সহ সবকিছুতেই। প্রধানত রাজনৈতিক নেতৃত্বের কথাই বেশী গুরুত্ব দিচ্ছি, কারন সকল ক্ষেত্রে একটি জনগোষ্ঠির চিন্তা ও চৈতন্যের সারসত্তা রাজনৈতিকতার মধ্য দিয়েই পরিস্ফূট হয়। রাজনীতির যে দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্দশা ঘটেছে তার কারণে রাজনীতির পক্ষে গলা ফুলিয়ে কিছু বলা কঠিন। কিন্তু ইতিহাস শিক্ষা দেয় রাজনৈতিক ভাবেই একটি জনগোষ্ঠি পরাধীন চিন্তা ও পরাধীনতা থেকে মুক্ত হতে পারে; নিজেদের পথ নিজেদের নির্ণয় করবার আর কোন শর্টকার্ট পথ আছে বলে আমার জানা নাই।

১৩ ডিসেম্বর ২০১৩। ২৯ অগ্রহায়ন ১৪২০। আরশিনগর