শিষ্টাচারের নসিহত: বাচ্চালোগ তালিয়া বাজাও


ফরহাদ মজহার || Monday 26 January 15

বাংলাদেশ বিস্ময়কর দেশ। এই এক দেশ যেখানে পশ্চিমা মিডিয়ার বর্ণবাদী ও পুরুষতান্ত্রিক চিন্তার প্রাবল্যের জন্য পড়াশোনা জানা শিক্ষিত ভদ্রলোকরা বিশ্বাস করে বাংলাদেশের সকল নষ্টের গোড়া দুই বেগম। তাদের ভাষায় ‘ব্যাটলিং বেগামস’। সমাজে যারা শিক্ষিত, অভিজাত ও বুদ্ধিমান বলে পরিচিত তাদের এই বিশ্বাস কি করে এতো বদ্ধমূল হোল সেটা সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয়। অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতির ইতিহাস এই সংকটের জন্য কতোটা দায়ী, কতোটা বাহাত্তরে রাষ্ট্র গঠনের ত্রুটি -- সেই দিকে তাদের কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের একমাত্র কারণ দুইজন মহিলা। ফলে কখন কিভাবে রাষ্ট্র যারপরনাই সন্ত্রাসী হয়ে নাগরিকদের সকল অধিকার হরণ করতে শুরু করেছে তার কোন হদিস নেওয়া তারা দরকার মনে করে না। সমাজে ফ্যাসিবাদী চিন্তাচেতনার প্রাবল্য বেড়েছে, কিন্তু খবর নাই। দিনে দিনে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজন ও প্রতিহিংসা পরস্পরকে নির্মূলের বাসনায় হিংস্র হয়ে উঠেছে সেই দিকে হুঁশ নাই। এটা সাইকোলজিকাল সমস্যা না। শ্রেণি ও গোষ্ঠি স্বার্থের দ্বন্দ্ব ছাড়াও কাছা খোলা বাজার অর্থনীতির কারণে নব্য মাফিয়াদের উৎপত্তি বড় একটি কারন। অথচ যখনই এই বিভাজন ও বিভক্তির কারনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সহিংস রূপ পরিগ্রহণ করে তখনই ঢাকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর এই অভিজাত, সুবিধাভোগী ও বিবেকবুদ্ধিবর্জিত এলিটকুল যাত্রার বিবেকের মতো মঞ্চে বিবেক বিবেক বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। চিৎকার করতে শুরু করে সহিংসতা থামাও, মানুষ মরছে। এই পরিস্থিতিতে যে ব্যাটলিং বেগমদের জন্য তাদের জীবন অতীষ্ঠ হয়ে গিয়েছে বলে তারা নিত্যদিন কাঁদুনি গায় তাদেরই হাতে পায়ে ধরতে শুরু করে। অনুনয় বিনয় কাকুতি মিনতি করে বলতে আরম্ভ করে যেন একবার, আহা একবারটি যেন তারা দুইজন কথা বলে, একটা ডায়লগ যেন হয়। ডায়লগ, সংলাপ। ডায়লগ হলেই বাংলাদেশের বর্তমান সহিংসতা ও রাজনৈতিক সংকটের বুঝি অবসান হবে। বড়ই বিস্ময়ের দেশ এই বাংলাদেশ।

আরাফাত রহমান কোকোর অকাল মৃত্যুর পর এখন দেখছি এই শহুরে শিক্ষিত এলিটরা হঠাৎ দুই ব্যাটলিং বেগমকে মা জননী ডাকতে শুরু করেছে। এই এক বিচিত্র নাটক। এক সন্তানের জননী নাকি শোকে কাতর আরেক মা জননীকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন, কিন্তু সন্তান হারা শোকার্ত জননী গেটের দরজা খোলেন নি, ফলে এলিটদের মহা অভিমান হয়েছে। ক্ষমতাবান মা কতো মহানুভব সেই কাঁদুনি শুনতে শুনতে ইতোমধ্যে কান ঝালাপালা হয়ে যাবার জোগাড়। আর মন্দ মা হলেন তিনি যিনি সবে সন্তান হারিয়েছেন। শুধু তাঁর নিজের সন্তান নয়, হারিয়েছেন আরও সন্তান। হামলা মামলা তো আছেই, যৌথ অভিযানে তার জোটের নেতাকর্মীদের গুম করা হচ্ছে, যাদের অনেকের লাশই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। গুলি তো চলছেই, তার পরও তাদের দেখা মাত্রই গুলি করবে বলে ইতোমধ্যে বিজিবি প্রধান ঘোষণা করেছেন। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ঘোষণা দিচ্ছেন, এখন আর বিচারের দরকার নাই, গুলি চলবে। সংসদ সদস্যরা চিৎকার করে সরকার কঠোর হবার দাবী করছেন। আঙ্গুল নাচিয়ে বলা হচ্ছে খালেদা জিয়াকে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে গ্রেফতার করা হবে। তারপরও ডায়ালগ চাই। ডায়ালগ।

না, যারা রাষ্ট্রের সন্ত্রাসী অভিযানে প্রাণ হারিয়েছে তারা কেউই আরাফাত রহমান কোকোর মতো হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় নি। দুর্ভাগ্য আরাফাতের, নিজ দেশে সে মায়ের মুখ দেখে তার চোখ শেষবারের মতো বন্ধ করতে পারলো না। কিন্তু অন্যরা শহিদ হয়েছে বুকে গুলি নিয়ে, কিম্বা আইন শৃংখলা বাহিনীর নির্যাতনে; গুম হয়ে গিয়েছে যারা তারা কোথায় কিভাবে আছে আমরা জানি না। তারা কীটপতঙ্গের আহার হয়েছে হয়তো। তাদের লাশ পেলেও আমরা জানবো না কিভাবে কী পরিমান নির্যাতন করে তাদের অমানুষিক ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এরপরও একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীর কাছে যিনি জননীর কাতরতা নিয়ে ছুটে গিয়েছেন তাঁর মহানুভবতায় আমাদের মুগ্ধ হবার জন্য নসিহত করা হচ্ছে। পরে দেখেছি যে-মহানুভব জননী তাঁকে শোক জানাবার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন তাঁরই অধীনস্থ প্রশাসন সন্তান হারা জননীকে মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য হুকুমের আসামি করেছে। চমৎকার। আমরা মুগ্ধ!।

রাজনৈতিক সহিংসতায় মানুষ পুড়ছে, পেট্রোল বোমায় মানুষ দগ্ধ হচ্ছে। তাদের অবশ্য কোন মা বাবা নাই। আপা কিম্বা ম্যাডাম কেউ নাই তাদের। মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ঝলসে যাওয়া মানুষের আহাজারি বাতাস ভারি করে তুলছে, কে কোথায় কিভাবে গুম ও লাশ হয়ে যাচ্ছে আমরা জানি না। এই লেখা যখন লিখছি তখন কয়জনের বুকে গুলি এসে হৃদপিণ্ড ভেদ করে চলে গিয়েছে কে তার হিসাব করবে! তারা খবর হবে কি? অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম তো তাদের নাগরিক বলেই স্বীকার করে না। তারা ‘সন্ত্রাসী’। ‘জঙ্গী’। আইনের আশ্রয় পাবার অধিকার তাদের নাই। তারা কেন কিভাবে মরলো সেটা জানবার ও জানাবারও কোন দরকার নাই। তারা আইনের বাইরে। তারা দুষমন। এনিমি কম্ব্যাটেন্ট। এদের বেলায় আইন খাটবে না।

এর জন্য কে দায়ী? খালেদা জিয়া? শেখ হাসিনা? না, এই দুইজনের কেউই নয়। তারা ব্যক্তি মাত্র নন। তারা এই শহুরে অভিজাত শ্রেণিরই প্রতিনিধি। অতএব দায়ী এই শহুরে অভিজাতরাই। যারা মনে করে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙ্গে নাগরিক ও মানবিক অধিকার কায়েম ও তা কঠোর ভাবে বাস্তবায়নের কোন দরকার নাই। দরকার শুধু দুই জননীর ডায়ালগ। যখন একজন আরেকজনের পুত্রশোকে সান্ত্বনা দিতে ছুটে গিয়েছিলেন দরকার ছিল শিমুল বিশ্বাসের বদ্ধ দুয়ার খুলে দেওয়া। এই মুহূর্তের দরকার দুইজন মা জননীর ফটো সেশান। তারপর দরকার ছিল পত্রিকায় হেড লাইন খবর, ‘বরফ গলতে শুরু করেছে’। ‘দুই জনে মুখোমুখি হয়েছেন’। সব সমস্যা এবার সমাধান হয়ে যাবে। বাচ্চা লোগ তালিয়া বাজাও।

এই সকল শহুরে অভিজাতদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, সংকট চিহ্নিত করন ও সমাধানের দৌড় এতোটুকুই। এতদিন একজন অন্যজনকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কোন অভিযোগ নাই, আইন নাই, অপরাধ হয়ে থাকলে বিধিবদ্ধ গ্রেফতার নাই, বলা হয়েছে তিনি বেরুতে চাইলে শুধু নিজের বাড়িতে যেতে পারবেন। কিন্তু এখন যিনি অবরুদ্ধ করে রেখেছেন তিনি স্বয়ং দ্বারে উপস্থিত। তিনি নাকি তখন প্রধান্মন্ত্রী নন। একজন মা, একজন নারী। বাহ্‌। শিমুল বিশ্বাসের উচিত ছিল দরজা খুলে দেওয়া। যদিও চাবি তার কাছে ছিল কিনা সন্দেহ। শোকাতুরা জননীর পুরা ভবন ইতোমধ্যে প্রধান মন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবার কথা। কিন্তু তাদের কোন নির্দেশ বা প্রটোকল ছাড়াই গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন আরেক মা, যিনি বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী। আর শিমুল বিশ্বাস আমাদের গল্প শোনালেন (১) শোকাতুরা জননীকে ইঞ্জেকশান দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে, আর (২) তিনি শোক বই হাতে দৌড়ে এসে দ্বারে আসবার আগেই অন্যজন প্রত্যাখিত বোধ করে ফিরে গিয়েছেন। খুবই অন্যায় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যথাযোগ্য শিষ্টাচার প্রদর্শন করা হয় নি। খুব খারাপ। খুবই খারাপ কাজ!

সবকিছুরই সীমা থাকে, কিন্তু বাংলাদেশ এক বিস্ময়ের দেশ। আমার মিনতি, এই লেখাটি রূপকথা হিসাবে পড়বেন পাঠক, প্লিজ।

দুই

দুই বেগমই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের গোড়া এই চিন্তা এতোই বদ্ধ মূল যে এক এগারোর সময় দুই মহিলাকে রাজনীতি থেকে চিরতরে অপসারণ এবং প্রয়োজনে নির্মূল করবার প্রয়াসও হয়েছে। যারা এই কাজে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল তারা এই সমাজে এখনও বহাল তবিয়তে সম্মানের সঙ্গে হাজির। যারা রাজনীতিকে দুই বেগমের ঝগড়া হিসাবে বোঝে এবং তাদের অপসারণ, নির্বাসন ও নির্মূলের জন্য এক এগারোতে সেনা সমর্থিত সরকার ও জরুরী অবস্থা ঘোষণা করতে এবং দুই বেগমকে কারাগারে নেওয়া ও হেনস্থা করতে ছাড়ে নি, তারা হামেশা টেলিভিশানে ও গণমাধ্যমে সুশীলদের বিবেকের কন্ঠস্বর হিসাবে হাজির হয়। আমি তাদের চেহারা দেখি, চোখের পলক কিভাবে নড়ে নিরীক্ষণ করি। কোন অনুতাপ ছাড়া সদাই তারা হাজির হন। এই যখন সমাজ বাংলাদেশের সংকট পর্যালোচনা ও সমাধানের পথ এই শ্রেণির পক্ষে বের করা কঠিন।

প্রধান মন্ত্রী আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ছুটে গিয়েছেন, তার সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রয়োজন নাই। কিন্তু খালেদা জিয়া তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তৈরি কিনা সেটা না জেনে যাঁরা তাকে নিয়ে গিয়েছিলো তাদের ইচ্ছাকে আমি সন্দেহ করি। কারন সেটা নিশ্চিত না করে যাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্বলের ওপর সবলের সুযোগ নেবার একটা নিম্নস্তরের কৌশল। যাকে প্রতিদিন গ্রেফতার করা হচ্ছে, কিম্বা কারাগারে নেওয়া হচ্ছে বলে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে, যার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দেওয়া হচ্ছে তার সন্তানের মৃত্যুর পর শোক জানাবার ইচ্ছা থাকলে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়েই সেটা ঘটত। এভাবে প্রধান মন্ত্রীকে ফিরে আসতে হোত না। প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত আন্তরিক ভাবেই ছুটে গিয়েছিলেন, তাকে পদদলিত করে যারা প্রধান মন্ত্রীকে তাদের স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী তাদের সাজানো নাটকে অভিনয় করতে বাধ্য করেছে তারাই তাকে হেয় করেছে। কারন তারা দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ দূরে থাকুক এই ধরনের পরিস্থিতিতে কাছে আসার সুযোগটিকেও নস্যাৎ করতে চায়।

কেন তাদের ইচ্ছা নিয়ে আমি প্রশ্ন তুলছি? শোকার্ত পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার কার্যালয় সুশৃংখল না থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীকে গেইট থেকে কেন ফিরে আসতে হোল তার একটা ব্যাখা বিএনপি দিয়েছে। তারা সত্য বলেছে, নাকি পরিস্থিতির নাজুক অবস্থা বুঝতে পেরে নিজেদের পক্ষে একটা যুক্তি খাড়া করছে সেই তর্ক অমূলক। কিন্তু বিএনপি বোঝাতে চাইছে প্রধানমন্ত্রীর ফিরে যাওয়া তাদের ইচ্ছা ছিল না। এই ব্যাখ্যার পরও ক্রমাগত প্রধান মন্ত্রীর মহানুভবতা প্রচার, আর শিষ্টাচার শেখার নসিহত চরম বিরক্তিকর বটে। প্রধান মন্ত্রীর মহানুভবতায় আমাদের খুশি হবার কথা। কিন্তু প্রশংসা করতে পারছি না কারন নসিহতের মতলব প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা প্রচার নয়, বরং বিপরীতে খালেদা জিয়া কতো খারাপ ও শিষ্টাচার বর্জিত এই সত্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত করা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে রাজনৈতিক ফায়দা আদায় করা। বড়ই আফসোস, মুখে খিস্তি আর কুৎসিত বাক্য ছাড়া যারা কথা বলতে অক্ষম এখন তাদের কাছে আমাদের ‘শিষ্টাচার’ শিখতে হচ্ছে।

যারা তাদের সুবিধা মতোন দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রক্তক্ষয়ী বিরোধকে দুই জননীর আকুলতা ও শোকের কেচ্ছায় পরিণত করতে চাইছেন, তাঁদের সঙ্গে একমত হবার কোন কারন নাই। প্রধান মন্ত্রীর গুলশানে ছুটে যাওয়াটা রাজনীতি থেকে বাইরের কিছু না। তিনি রাজনৈতিক কারনেই গিয়েছেন। মা বা নারী বলে গিয়েছেন দাবি করা স্রেফ পুরুষালি বা পুরুষতান্ত্রিক ব্যাখ্যা। তিনি পুরুষ হলে এই কেচ্ছা আমাদের শুনতে হোত না। দল নির্বিশেষে যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধান মন্ত্রীর পারিবারিক শোকের সময় যাবেন, এখানে মহানুভবতার কী আছে? এটা তার কর্তব্যও বটে। অতি সাধারণ একটি ভদ্রতা।

যেখানে তাঁর যৌথ বাহিনী ২০ দলীয় জোটের কর্মী ও নেতাদের হত্যা, গুমখুন ও গ্রেফতার করছে সেই পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার দরজা বন্ধ রাখা অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। কিন্তু বিএনপি বলছে যা ঘটেছে সেটা তাদের ঐচ্ছিক ছিল না। ব্যাপারটা এখানেই শেষ হয়ে যেতে পারতো। কিন্তু এখন শিষ্টাচারের নসিহতে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে।

রাজনীতিবিদদের মহানুভবতা কিম্বা শিষ্টাচার ব্যক্তিগত আচার আচরণের মধ্যে আবিষ্কার করবার চেয়ে চরম মূর্খতা আর কিছুই হতে পারে না। যারা সেটা করতে চাইছে তারা ফ্যাসিবাদ ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মহৎ প্রমাণ করবার জন্য উন্মাদ হয়ে গিয়েছে। যিনি যে ভাষায় কথা বলেন ভাষার নোংরামি তাদের রাজনীতিরই প্রতিনিধিত্ব করে। এতোটুকু বোঝার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের আছে।

কিন্তু শহুরে অভিজাত ও শিক্ষিতদের বড় অংশই সেই কাণ্ডজ্ঞান বহুদিন হয় হারিয়েছে।

২৬ জানুয়ারি ২০১৫। ১৩ মাঘ, ১৪২১, শ্যামলী