রাজনীতি, সংবিধান ও সেনাবাহিনী


ফরহাদ মজহার || Saturday 04 July 15

বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কৌশলের ব্যর্থতা ও দুর্দশা নিয়ে প্রায়ই অনেককে কথা বলতে শুনি। নানান জনে নানান কারনের কথা বলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেইসকল মন্তব্য অকাজের। অর্থাৎ বিশ্লেষণ বলি কিম্বা ভবিষ্যতে বিরোধী দলের কি করা উচিত সেই ঔচিত্যের ক্ষেত্র থেকে বলি – লক্ষ্যহীন বাগাড়ম্বর কোন কাজে আসে না।

তাহলে এক কথায় বিরোধী রাজনীতির কৌশলগত ব্যর্থতার সারমর্ম কিভাবে করা যায়! এর উত্তর মিলবে যদি প্রশ্ন করি বিরোধী দল আসলে কি চেয়েছিল? তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছিল। ভাল কথা। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেবার কোন ইচ্ছা তার নাই। অতএব তার কোন সম্ভাবনাও নাই। বিরোধী দলকে ক্ষমতায় যেতে হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম করা ছাড়া বিকল্প নাই। অতি বিশুদ্ধ আহাম্মক না হলে এটা না বোঝার কথা না। দ্বিতীয়ত বিরোধী দলের ওপর দমন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা এটাও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বিরোধী দল চাইলেও নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ অসম্ভব করে তোলাই তাঁর নীতি। তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। হয় আন্দোলন করে আমাকে ক্ষমতা থেকে সরাও, অথবা আমার শাসন মেনে নাও – এর বাইরে কোন সুযোগ ছিল না।

এই হোল বাস্তবতা। বিরোধী দলের কৌশলের বিচার এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই করতে হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিরোধী দলের সামনে দুটো পথ খোলা ছিল। এক. আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণ অভ্যূত্থান আর দুই. আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকে এমন একটি স্তরে নেওয়া যাতে তথাকথিত ‘তৃতীয় শক্তি’র হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে পড়ে। তখন ক্ষমতা সাময়িক কালের জন্য সেনাবাহিনীর হাতে থাকলেও সময়মতো একটি নির্বাচন পেলে বিএনপি নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবে।

প্রথম নীতি অনুসরনের অর্থ ছিল আন্দোলন-সংগ্রামে জনগণকে সম্পৃক্ত করা। গণ অভ্যূত্থান একটি গণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। গণ অভ্যূত্থানের জন্য দরকার জনগণের আকাংখা ধারণ করে এমন দাবিদাওয়া ও কর্মসূচির ভিত্তিতে আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা যাতে গণ অভ্যূত্থানের পক্ষে জনগণের সম্মতি ও রাজনৈতিক শর্ত তৈরি হয়। কিন্তু মুখ ফসকে মাঝে মধ্যে বললেও বিএনপি সেই পথে গেল না। তাছাড়া এটা বিএনপির চরিত্রের সঙ্গেও যায় না। তারা অতএব আন্দোলনকে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবির মধ্যে সংকীর্ণ করে রাখলো। যদি রূঢ় রাজনৈতিক বাস্তবতা মোকাবিলা করবার ইচ্ছা ও সংকল্প  বিএনপির থাকত তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি ভিন্ন গতিপথ অনুসরণ করত। রাজনীতির অভিমুখ বারবার অভ্যূত্থানের চরিত্র পরিগ্রহণ করলেও জাতীয় নেতৃত্বের অভাবে বুদবুদের মতো মিলিয়ে গেলো।

বিরোধী দলের পক্ষে নির্ধারক শক্তি ছিল জোটভূক্ত ও জোটের বাইরে ইসলামপন্থী দল ও শক্তি। কিন্তু বিএনপির অভ্যন্তরে আওয়ামি রাজনীতির অনুকুল সেকুলারপন্থিদের আধিপত্য এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলাম প্রশ্ন মীমাংসার তাৎপর্য বোঝার অক্ষমতার জন্য বিএনপি রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নীতি ও কৌশল নির্ণয় কিম্বা অনুসরণ করতে পারে নি। দোনামোনা অবস্থানের কারনে দল হিসাবে বিএনপি ইসলামপন্থিদের সমর্থন ও আস্থা পুরোপুরি অর্জন করতে পারে নি।  তার মানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠির সঙ্গেও তার দূরত্ব বাড়ছে বিএনপি তা উপলব্ধি করতে পারছিল না। আন্দোলন-সংরামে বিএনপির ঝাণ্ডার তলে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয় নি। নির্ধারক মুহূর্তগুলোতে ডাক দিলেও জনগণ সাড়া দেয় নি। ।জনগণ ইসলামি শাসন বা ইসলামি রাষ্ট্র চাইছিল না, কিন্তু তাদের ধর্ম ও নবী রসুলের অমর্যাদার বিরুদ্ধে বিএনপি কঠোর ভাবে দাঁড়াক সেটা চেয়েছিলো। সেখানেও ঘাটতি ছিল।  খালেদা জিয়ার চেষ্টা থাকলেও দলের বৃহৎ অংশই ইসলামপন্থিদের কাছ থেকে ফারাক বজায় রাখার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ছিল তাদের কাছে নির্বাচনী জোট – কোন আদর্শগত ঐক্যের ভিত্তিতে আন্দোলন-সংংগ্রামের ঐক্য নয়। এর পরিণতি হয়েছে মারাত্মক। ঐক্য দূরের কথা এক সঙ্গে আন্দোলন সংগ্রামের পরও দূরত্ব কমে নি। মনে রাখা দরকার নির্বাচনী জোট আর আন্দোলন সংগ্রামের মৈত্রী এক কথা নয়। বিএনপি নির্বাচনী জোট চায়, কিন্তু একটি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপান্তর ঘটানির কাজ নির্বাচনী ঐক্যের কাজ নয়।  নিদেন পক্ষে একটি ফ্যাসিস্ট শক্তিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য জরুরী নীতিগত ঐক্যের দরকার। বিএনপি সেটাও  চায় নি। চর্চাও করে নি।

অনেকে দাবি করেন বিএনপির কাছ থেকে এটা আশা করার কোন যুক্তি নাই। তারা ভুল বলেন। একাত্তরে আওয়ামি লীগের কাছ থেকেও স্বাধীনতা সংগ্রামে  মুখ্য ভূমিকা পালন করার প্রত্যাশা করার কোন যুক্তি ছিল না। কিন্তু আওয়ামি  লীগ ছয় দফার স্বায়ত্ব শাসন দাবির আন্দোলন করেছে এবং একটি নিয়মতান্ত্রিক পার্লামেন্টারি রাজনীতিতে বিশ্বাসী দল হয়েও ক্ষমতাধর পাকিস্তানী শাসকদের নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে। শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতা চান নি, কিন্তু রাজনৈতিক নীতি ও কৌশলের কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন শেখ মুজিবর রহমানকে অনিবার্য করে তুলেছে। সঠিক নীতি ও কৌশল নির্ণয় করলে বিএনপিও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারত। কিন্তু সেটা ঘটেনি। এটাই সত্য। এই ব্যর্থতার কারনে ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলকে অনায়াসেই একটি কোনায় ঘিরে রেখে দমন পীড়ন চালাতে পেরেছে। বিএনপি অত্যাচারিত ও নির্যাতীত হয়েছে, কিন্তু আদর্শের অভাব  তাকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে নি যাতে ক্ষমতাসীন্দের পতন ঘটে।

বিএনপির অভ্যন্তরে সুবিধাবাদী নীতির অন্তঃসারশূন্য দিক হচ্ছে সেকুলার বা ধর্ম নিরপেক্ষবাদীরা বিএনপির নির্বাচনী সমর্থনের ভিত্তি না। তারা সবসময় আওয়ামি লীগকেই ভোট দিয়েছে। অথচ নির্বাচনে ভোটের আশায় বিএনপি ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদী ভোটারদের মন জয় করতে চায়। এই ভুল কাজ করতে গিয়ে তারা ইসলামপন্থিদের জোটে রাখলেও তাদের সঙ্গে পার্থক্য বজায় রেখে ভেবেছে এতে ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীরা তাদের প্রতি সদয় হবে। বলা বাহুল্য সেটা হয় নি। এতে বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত না হয়ে দুর্বল হয়েছে। শেখ হাসিনা কষে বিএনপির নেতাকর্মীদের দমন নিপীড়ন করতে পেরেছেন। পাশাপাশি ইসলাম্পন্থিদেরও। শেখ হাসিনা বুদ্ধিমান। তার নীতি হচ্ছে বিএনপিকে ধ্বংস করা। বিএনপি নিজেই ইসলাম প্রশ্নে রাজনৈতিক দ্বিধার জন্য তার সমর্থকদের কাছে প্রশ্নবোধক হয়ে উঠেছে। এতে তার প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক।  অন্যদিকে দমনপীড়ন সহ্য করতে না পেরে বিএনপি ছোট দলে পরিণত হবার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এই আসোংকাকেকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতির মেরুকরণ ঘটাতে চান আওয়ামি লীগ বনাম বিএনপি নয় -- অরং আওয়ামি লীগ বনাম  ইসলামপন্থার। এটাই তাঁর জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থান। শেখ হাসিনা ওয়ার অন টেররের সেনাপতি হিসাবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য অনিবার্য হয়ে উঠতে চেয়েছেন। তিনি সেটা পেরেছেন। একেই তিনি আরও গভীর করতে চান। পাশ্চাত্য তাকে পছন্দ করে না, কিন্তু শেখ হাসিনা ছাড়া তাদের চলবে না। এই জায়গায় বাংলাদেশের রাজনীতি এসে ঠেকেছে।

হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন রাজনৈতিক দিকে থেকে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। এটা ছিল বাংলাদেশে ইসলামবিদ্বেষি সেকুলার পন্থা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ক্ষয় ও পতনের চিহ্ন। যার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের বিশাল একটি অংশ প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছিলো। বিএনপি তাকে ইতিবাচক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার মধ্যে আত্মস্থ করতে পারলো না। রণধ্বনি যাই হোক কিম্বা কর্মসূচিতে যে দাবিই তারা করুক, হেফাজতের আন্দোলন ছিল বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির পরিসরে সমাজের উপেক্ষিত ও প্রান্তিক জনগণের সশব্দ ও দৃশ্যমান প্রবেশ। বাংলাদেশের রাজনীতি এরপর আর আগের জায়গায় নাই। কিন্তু বিএনপি এই নতুন বাস্তবতাকে বুঝতে পারে নি। এখনও পারে না। এই বাস্তবতা বোঝার অক্ষমতা বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা নয়, রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতা। জনগণ নয়, বিদেশী শক্তির সমর্থনে বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়। সেটা দিল্লি প্রীতি অবধি গড়িয়েছে। জনগণের মনের কথা বোঝা এবং উদার গণতান্ত্রিক পরিমণ্ডলের মধ্যে তার মীমাংসা করবার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিএনপির নাই।  তার কৌশলও দলটির জানা নাই।

তাহলে বোঝা গেল বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে জনগণকে আন্দোলন-সংগ্রামের  জন্য ঐক্যবদ্ধ করা এবং একটি ফ্যাসিস্ট সরকার অপসারণের জন্য গণ অভ্যূত্থানের পথ নির্ণয় বিএনপির পক্ষে অসম্ভব। এই হিম্মত তার নাই। ফলে যা হবার তাই হয়েছে।

এতে বোঝা যায় আন্দোলনে বিএনপির কৌশল গণ অভ্যূত্থান ছিল না। তাহলে বিএনপি আন্দোলন করছিল কী জন্য? তার একটি মাত্র উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সেটাই হোল দ্বিতীয় পথ, যা আমরা আগে উল্লেখ করেছি। আন্দোলনকে এমন একটি স্তরে নেওয়া যাতে তথাকথিত ‘তৃতীয় শক্তি’র হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ক্ষমতা সাময়িক কালের জন্য সেনাবাহিনীর হাতে গেলেও বিএনপির আপত্তি ছিল না। তারা ভেবেছে সময়মতো নির্বাচন হলে বিএনপি নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যেতে পারবে। শেষের অনুমান এখনও কতোটা সত্য বলা মুশকিল। দিল্লীর প্রতি বিএনপির নীতির পরিবর্তনও বিএনপির প্রতি জনগণের অনাস্থা বাড়িয়েছে, কমা তো দূরের কথা। রাজনীতিতে যে কৌশল বিএনপি অবলম্বন করেছে তার পরিণতি বিএনপিকে ভোগ করতে হচ্ছে।

বিএনপির আন্দোলন কৌশলের মধ্যে সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ প্রত্যাশার মধ্যে ছিল। ভাববার কোন কারন নাই যে ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগ তা অনুমান করতে সক্ষম নয়। তারা তা যথার্থই অনুমান করতে পেরেছে। জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক চর্চার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সেই সম্ভাবনা রহিত করে দিতে পেরেছেন। সেনাবাহিনীর প্রত্যাশা পূরণের মধ্য দিয়ে তিনি সেটা মোকাবিলা কঠিন ছিল না। অনায়াসেই তিনি তা সামাল দিতে পেরেছেন।

সারকথা হচ্ছে বিএনপি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের রাজনীতি করে নি। জনগণের আশাআকাংখা ও প্রত্যাশা মেটানোর চেষ্টা করে নি। তার মোটেও বিপ্লবী হবার দরকার নাই। দরকারও ছিল না। বিএনপি উদার রাজনীতি করতে চায়। করুক। সেই জায়গা থেকেও বোঝা উচিত যে বাংলাদেশে তুমুল দরকার একটি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার। বিএনপির ইচ্ছা ও আদর্শগত জায়গা থেকেই যা অনায়াসেই প্রস্তাব করা সম্ভব। তার পক্ষে জনমত তৈরি করাও বর্তমান বাস্তবতায় একটি জাতীয় পর্যায়ের দলের জন্য খুবই সহজ একটি কাজ। কিন্তু এই ধরণের সংস্কারের তুমুল প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য কী ধরণের লক্ষ্য নির্ণয় ও কর্মসূচি প্রণয়ন দরকার তা নিয়ে ভাববার সামর্থ বিএনপির নাই। সমস্যাটা এখানেই।  বিএনপির বুদ্ধিজীবিদের লেখালিখি পড়লেই আমরা তা বুঝতে পারব। ফলে বিএনপি না ঘরকা না ঘাটকার ফাঁদে পড়েছে। জনগণকে নিয়ে গণ অভ্যূত্থানের কৌশল যেমন তার জানা নাই,  হিম্মতও নাই; অন্যদিকে আন্দোলনকে এমন স্তরে নিতেও বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে যাতে তৃতীয় শক্তির হস্তক্ষেপ বিএনপির ক্ষমতায় যাবার পক্ষে সহায়ক হয়। আন্দোলনে তারা দ্বিতীয় কৌশলই গ্রহণ করেছিল। তারা শেখ হাসিনার ভাষায়: উত্তর পাড়ার দিকে তাকিয়ে ছিল। জনগণের দিকে নয়।

শেখ হাসিনা ধমক দিয়েছেন!

এই পরিস্থিতিতেই শেখ হাসিনা ধমক দিয়েছেন। শুনতে মন্দ লাগতে পারে, কিন্তু সংবিধানকে ব্যবহার করবার ইচ্ছা নিয়ে তিনি যেভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করেছেন তাতে এই ধরনের ধমক অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই’। বলছেন, খালেদা জিয়াকে। তাঁর ধারনা উত্তরপাড়া থেকে কেউ এসে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবেন। এরপর বলেছেন, “ তিনি যাদের নিয়ে ভাবেন, তারাও জানে এভাবে ক্ষমতায় এলে পরিণতি কী হয়। অতীতে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদেরও খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। অনেককে দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তাই এভাবে আগুনে কেউ পা দিতে আসবে বলে মনে করি না”। (দেখুন, প্রথম আলো ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) ।

বাইশ ফেব্রুয়ারি তা্রিখ রোববার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতি হিসাবে এই ছিল তাঁর বক্তব্য। সুশীল সমাজের তেরো জনেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। কামাল হোসেন ও মাহমুদুর রাহমান মান্নাকেও তিনি ছাড়েন নি [১]। তাঁর বলার ধরণ এবং অন্যকে হীন করবার কায়দা নিয়ে সমালোচনা হতে পারে। ব্যাক্তিগত আক্রমণ একটি দেশের প্রধান নির্বাহীর মুখে মানায় না। নিজের নৈতিক দৃঢ়তা যদি অক্ষুণ্ণ থাকে তাহলে ব্যাক্তিগত আক্রমণ বাদ দিয়ে সরকারি কর্মচারিদের নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে তিনি কথা বলতেই পারেন। তাঁর দলেই নৈতিক অবক্ষয়গ্রস্ত সেক্রেটারি ও সরকারি কর্মচারিদের সমাহার দেখি আমরা। অসংখ্য ছিদ্রে ফুটা চালুনি সুঁচকে তার পেছনের একটি মাত্র ছিদ্রের জন্য তো নিন্দা করতে পারে না। শেখ হাসিনা সেই কাজটিই করলেন, বলছেন: ‘আমরা আগের বার (’৯৬ সালে) যখন ক্ষমতায় ছিলাম, তখন এঁদের কেউ কেউ সচিব ছিলেন। অনেকে পদ-পদবির জন্য, পদোন্নতির জন্য তদবিরও করেছেন। কিছু দিনের জন্য হলেও কেবিনেট সেক্রেটারি হতে চেয়েছেন। সরকারি চাকরি শেষ হলেই তাঁরা সুশীল হয়ে যান। তাঁদের কাছ থেকে এখন আমাদের সবক নিতে হবে”। প্রশ্ন হচ্ছে, যদি তারা ভাল কিছু বলেন তো সবক নিতে ক্ষতি কি?

এই প্রকার বীতশ্রদ্ধ মন্তব্য সুশীল সমাজের প্রাপ্য কিনা সেটা তর্ক হতে পারে। তারা সুশাসনের কথা বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন, আরো অনেক কিছু পাশ্চাত্য উদারনৈতিক রাজনীতির কাছ থেকে তৈয়ারি ফর্মূলা হিসাবে চর্চা করেন। কিন্তু এদের কাউকেই বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন ও বিভক্তির গোড়ার কারণ অনুসদ্ধান করতে আমরা দেখি না, বা দেখি নি। নিদেন পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধে আওয়ামি লীগের দলীয় মতাদর্শ সম্বলিত একটি সংবিধান চাপিয়ে দেয়া বাংলাদেশের বর্তমান সংকট ও সহিংসতার গোড়ার কারণ এবং এই অবস্থা থেকে নিষ্ক্রান্ত হবার একমাত্র উপায় হচ্ছে জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে নতুন ভাবে বাংলাদেশ গঠন। সেটা, বলাবাহুল্য, সুশাসন বা আইনের শাসন কায়েম মার্কা রাজনীতি না। এই কাণ্ডজ্ঞানটুকুও তথাকথিত সুশীল সমাজের মধ্যে আমরা দেখি না। যতো ভালো দণ্ডই হোক শাসনদণ্ডের ভয় দেখিয়ে সুশাসন কায়েম করা যায় না, যদি না শাসন ব্যবস্থার ভিত্তিকে জনগণ তাদের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ গণ্য না করে। আইনের শাসন কথারও কোন মানে হয় না, কারন সেই আইন কালো আইন কিম্বা নাগরিক ও মানবিক অধিকার হরণকারী আইনও হতে পারে।

এই সকল বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবতে হবে।

'উত্তরপাড়া' নিয়ে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর মানায় না।

তবে শেখ হাসিনা ‘উত্তরপাড়া’ সম্পর্কে যেভাবে কথা বলেছেন তাতে উদ্বিগ্ন হবার যথেষ্ট কারন আছে। তাঁর এই মন্তব্য সেনাবাহিনীকে বিব্রত করবে কিনা জানি না, কিন্তু দায়িত্বশীল নাগরিকেরা এ ধরণের মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ করবেন। রাজনৈতিক বাদানুবাদে সেনাবাহিনীর প্রসঙ্গ টানা বর্তমান সংবেদনশীল সময়ে খুবই মন্দ পরিণতির দিকে ধাবিত হতে পারে। বাংলাদেশ বড় দ্রুতই সেই সীমারেখা অতিক্রম করে চলে যাচ্ছে। ফলে আমরা আসলে কোনদিকে যাচ্ছি তা নিশ্চিত করে কেউ কিছুই বলতে পারছে না।

সন্দেহ নাই, বাংলাদেশে আমরা গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে খাবি খাচ্ছি। এই পরিস্থিতি থেকে জনগণকে উদ্ধার করবার দায় সবার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর। সেনাবাহিনীর নয়। সংকটের মীমাংসা না করে আমরা যদি সংকট গভীর করতে থাকি তার দায় রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে। ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাবহির্ভূত উভয়কেই। উত্তরপাড়া থেকে কেউ এসে কাউকে এতো সহজে ক্ষমতায় বসিয়ে দিতে পারে না। এটা শুধু আইন বা সংবিধানের প্রশ্ন নয়, সেটা বাস্তবিক পরিস্থিতি এবং জনগণের ইচ্ছা ও আকাংখার সঙ্গেও যুক্ত। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ভেঙে পড়তে থাকে তখন জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্ন নিছকই আইনি বা সাংবিধানিক প্রশ্ন হয়ে আর থাকে না।

সৈনিক অবশ্যই সংবিধান রক্ষা করে এবং সংবিধান রক্ষা করতে সে বাধ্য। কিন্তু সৈনিক হিসাবে সংবিধানের সুরক্ষার অর্থ জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা। অর্থাৎ জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাই এখানে মুখ্য। সংবিধান নিছকই আইনের বই নয়। আইন রক্ষা ও পালন সকল নাগরিকেরই কর্তব্য। এই কর্তব্যকে ইতিহাস ও পরিস্থিতি ভেদে সবসময় সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে সংকীর্ণ রাখা যায় না। সংবিধানের সঙ্গে সৈনিকের সম্পর্ক জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার কর্তব্যের জায়গা থেকে নির্ধারিত হয়। রাজনীতিবিদরা জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আশংকা বোধ করলে সাংবিধানিক বিধি বিধানের মধ্য দিয়ে ‘জরুরী অবস্থা’ জারি করেন; তারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সংবিধান পুরোটা বা আংশিক স্থগিত রাখতে পারেন। সংবিধান স্থগিত করা কিম্বা প্রয়োজনে সামরিক শাসন জারি সংবিধানে আছে নাকি নাই তার দ্বারা সর্বদা স্থির হয় না। স্থির হবেও না। সমাজে শ্রেণি, গোষ্ঠি বা শক্তির ভারসাম্য সবসময় সংবিধানের ওপর নির্ভর করে না। সমাজ বা ইতিহাসের বাস্তবতা সংবিধানের বাইরের ব্যাপার। বাস্তবে সেই ঘটনাঘটন ঘটে। ফলে বাংলাদেশে কি হবে না হবে তাকে যদি রাজনৈতিক দলগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয় তাহলে আসলে কি হবে সেটা আমরা কেউই আগাম বলতে পারি না।

বিচারকদের চেয়ে ভাল কেউই জানেন না যে সংবিধানের অতিরিক্ত ক্ষমতা-চর্চার মধ্য দিয়ে (extra-constitutional takeover) ক্ষমতা দখল কোন আইন বা সংবিধান ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। আইন (jurisprudence) ও বিচার ব্যবস্থা সবসময়ই এই ক্ষেত্রে দোদুল্যমানতায় ভুগেছে। সংবিধান না মেনে কেউ ক্ষমতা দখল করলে বিচারকরা কি করবেন সেটাও এক দোদুল্যমান বিষয়। বিচারপতি মোস্তফা কামাল সম্প্রতি আমাদের ছেড়ে গিয়েছেন। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর এক বইতে তিনি অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা দখল নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে একজন আর্জেন্টিনার বিচারকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, বিচারকরা অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে বড়জোর তিনটা কাজ করতে পারে। (১) চাকুরি ছেড়ে দেওয়া (২) উচ্চবাচ্চ না করে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা মেনে নেওয়া আর (৩) যতোদূর পারা যায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করার চেষ্টা করা।

শেখ হাসিনার এই অনুমানও ভুল যে সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেই অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা দখল বন্ধ হবে কিম্বা বন্ধ করা সম্ভব। সমাজে শক্তি ও শ্রেণিসমূহের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার কাজ সংবিধান করে না, সেটা করে রাজনীতি। বিচারপতি মুস্তফা কামাল তাঁর Bangladesh Constitution: Trends and Issues বইতে অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা দখলের প্রতি আইনের দৃষ্টিভঙ্গী কি হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাঁকে সাক্ষী মেনে দুই একটি কথা বলে রাখতে চাইছি।

অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা দখল

অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে বিচারপতিরা দুটো আইনি ধারণা প্রয়োগ করতে পারেন। একটি হচ্ছে হান্স কেলসেনের প্রস্তাব। ক্ষমতার যে কোন অসাংবিধানিক বৈপ্লবিক রূপান্তর তার বৈপ্লবিক সাফল্যের মধ্য দিয়েই নিজের আইনি বা সাংবিধানিক ন্যায্যতা (revolutionary legality) প্রমাণ করে। অর্থাৎ বিপ্লব করা কিম্বা যে কোন উপায়ে ক্ষমতা দখল যদি সফল হয়ে যায় তাহলে সেই সফলতার শক্তির জোরেই বিপ্লব বা ক্ষমতা দখল আইনের চোখে ন্যায্য হয়ে যায়; সংবিধানে কি আছে নাই তাতে কিছুই আসে যায় না। যারা ক্ষমতায় আসেন তারা পুরানা সংবিধান রাখেন নাকি ফেলে দেন তার ওপর আগামিতে তাদের আইনি বা সাংবিধানিক ভাগ্য নির্ভর করতে পারে। কিন্তু না রাখলে নাই। অতীতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যা হয়েছে। কেলসেনের তত্ত্ব পাকিস্তানের চিফ জাস্টিস মুনির রাষ্ট্র বনাম দসো মামলায় (PLD 1958 (SC) 533) প্রয়োগ করেছেন। ফলে এটা শুধু তত্ত্ব নয়, এর বৈচারিক প্রয়োগ আছে। বিচারপতিরা এ ধরনের মামলা ও তার আইনি তাৎপর্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। জাস্টিস মুনির বলছেন:

“Where a constitution and the national legal order under it is disrupted by an abrupt political change not within the contemplation of the Constitution, then such a change is a revolution and its legal effect is not only the destruction of the Constitution but also the validity of the national legal order irrespective of how or by whom such a change is brought about”

কোন আকস্মিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারনে যদি জাতীয় আইনী ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে যে যা সংবিধানের ভাবনার বাইরে বা সংবিধান যে বিষয় নিয়ে ভাবে নি, তাহলে তাকে বিপ্লন বা বৈপ্লবিক রূপান্তরই বলতে হবে। এর আইনী পরিণতি শুধু সংবিধানের বিনাশই নয়, একই সঙ্গে জাতীয় আইনী ব্যবস্থার বৈধতাও বটে। কিভাবে কিম্বা কে এই রাজনীতির পট পরিবর্তন ঘটিয়েছে সেটা প্রাসঙ্গিক নয়।

দ্বিতীয় ধারণাকে বলা হয় রাষ্ট্রের অন্তর্গত তাগিদ বা প্রয়োজনীয়তা (doctrine of state necessity)। জাতীয় নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব যদি এমন বিপদের মধ্যে পড়ে যাতে সমাজ বা রাষ্ট্রের বিলয় ঘটবার বিপদ উপস্থিত হয় তখন রাষ্ট্র ও সমাজ রক্ষাই প্রধান কর্ত্তব্য হয়ে ওঠে। সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ও সমাজকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য যে কোন অসাংবিধানিক পন্থাই রাষ্ট্রের জন্য জরুরী ও প্রয়োজনীয়। এই পরিস্থিতিতে অসাংবিধানিক ভাবে ক্ষমতা পরিবর্তন রাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ও ন্যায্য বলেই গণ্য হতে পারে।

হান্স কেলসেনের তত্ত্ব ও তার প্রয়োগ এবং ডক্ট্রিন অব স্টেইট নেসেসিটির প্রশ্ন তুলছি শুধু এটা বোঝাবার জন্য সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় আসা বা না আসা সমাজের রাজনৈতিক বাস্তবতার – অর্থাৎ বিভিন্ন শ্রেণি ও শক্তির সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে। সংবিধানে কি লেখা আছে কিম্বা কি লেখা নাই তার ওপর নির্ভর করে না। অসাংবিধানিক ভাবে কেউ ক্ষমতায় আসলে সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা লিখে রাখা মোটেও জরুরী নয়। রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অবৈধ ভাবে ক্ষমতা দখলকারীর চেষ্টা ব্যর্থ হলে যে কাউকেই সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া সম্ভব। কিন্তু আফসোস ক্ষমতা দখল যদি সফল হয়, কিছুই করা যায় না। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে বিপুল রয়েছে।

উত্তরপাড়া বা সেনাবাহিনী সম্পর্কে অতএব সকলকেই সংবেদনশীল ও দায়িত্ববান হওয়া দরকার। সর্বোপরি সংবিধানে কি আছে সেই ভয় না দেখিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের রাজনৈতিক সমাধানই সকলের কাম্য।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ১১ ফাল্গুন ১৪২১। শ্যামলী।

[১] এই লেখাটি প্রকাশের পর একটি অডিয়ো রেকর্ড প্রকাশ হওয়ার জের ধরে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন।

... ... ...

(‘রাজনৈতিক পরিসরে রাজনৈতিক সমাধানই কাম্য’ শিরোনামে এই লেখার কিছু অংশ আগে ছাপা হয়েছিল। লেখাটি বড় হওয়ায় বিষয় অনুযায়ী দুই ভাগ করেছি। কিছু কথা নতুন লিখেছি। -ফম)

৫ জুলাই ২০১৫। শ্যামলী।