‘গো ব্যাক, ইন্ডিয়া’

ফরহাদ মজহার || Friday 19 August 16

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার আসার খবর পেয়ে তরুণ ছাত্র ছাত্রীরা তৎক্ষণাৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। সেটা হোল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন। সেই তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভের একটি ভিডিও তাঁরা ইন্টারনেটে প্রচার করেন। বলাবাহুল্য, এই ভিডিওটি বিপুল ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলছে এই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ একদিকে তারই অংশ, কিন্তু অন্যদিকে তার নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত এই বিক্ষোভ সুনির্দিষ্ট ভাবে দিল্লীর আগ্রাসী ও ঔপনিবেশিক নীতির বিরুদ্ধে। বিক্ষোভের ভিডিওটি জনপ্রিয় হবার প্রধান কারন হচ্ছে দুটো স্বতঃস্ফূর্ত শ্লোগান: ‘গো ব্যাক, ইন্ডিয়া’ এবং ‘গো ব্যাক, এনটিপিসি’। রামপাল চুক্তি বিরোধিতার এটাই হচ্ছে সারকথা। একই সঙ্গে তারা ‘স্টপ বর্ডার কিলিং’ শ্লোগান দিয়েছিলেন। যথার্থ। সীমান্তে দিল্লী আর কতো বাংলাদেশী হত্যা করবে?

গত ১৬ আগষ্ট ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে এবং চারুকলা অনুষদের সহযোগিতায় আয়োজিত একটি চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন উপলক্ষে দুপুর ২টার পর থেকে চারুকলায় শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বেড়ে যায়। নিরাপত্তার নামে চারুকলায় ঢুকবার মূল প্রবেশপথ ও দেয়ালের উপরের অংশ কালো কাপড় দিয়ে মুড়ে দেয়া হয়! ছবি আঁকার প্রতিযোগিতার নাম ছিল India@Bangladesh। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় India@Bangladesh কথাটি খুবই উসকানিমূলক। কালো কাপড় দিয়ে চারুকলা ঢেকে রাখার অভ্যন্তরে চলছে ‘বাংলাদেশে ভারত’প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। আয়োজকদের ভাষায় “ইন্ডিয়া এট বাংলাদেশ” নামের ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা! ‘বাংলাদেশের মধ্যে ভারত’ -- দারুন বটে!

এনটিপিসি লিমিটেড ১৯৭৫ সালে গঠিত ভারতের একটি রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানি। ভারতীয় ভাষায় পিএসইউ (Public Sector Undertakings)। আগে এর নাম ছিল National Thermal Power Corporation Limited । তবে এখন সংক্ষেপে এনটিপিসি নামেই পরিচিত। এনটিপিসির ঘোষিত নীতি হচ্ছেঃ "To be the world's largest and best power producer, powering India's growth"। অর্থাৎ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি হয়ে ওঠা। কিভাবে সেটা তারা হতে চায় তার বড় একটি নজির হচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প।

সুন্দরবন ধ্বংস করা রামপাল প্রকল্পের বাইরে দিক, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পানির এই বিধ্বংসী খাসিলত সাধারণ মানুষ মোটামুটি বুঝতে পারে। এ নিয়ে যথেষ্ট লেখালিখি হয়েছে। প্রকল্পের বাকি সত্তর শতাংশ ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ব এক্সিম ব্যাংক চড়া সুদে ধার দেবে। যার অর্থায়নের পেছনে রয়েছে ভারত হেভি ইলেকট্রিক কম্পানি। এটি একটি অসম চুক্তি। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনদের যোগসাজশে দিল্লীর নির্লজ্জ বিনিয়োগ ও অন্যায় ভাবে মুনাফা কামানোর ফিকির মাত্র। অন্যদিকে এর পঞ্চাশ ভাগ মালিকানা দিল্লীর। এই প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার নামে দিল্লী কার্যত পুরা সুন্দরবনের ওপর এক প্রকার অলিখিত নজরদারি ও দখলদারি কায়েম করতে চাইছে। নদি পথ ও সমুদ্রপথে কয়লা পরিবহনের ফলে পরিবেশের বিপর্যয় নিয়ে যথেষ্ট লেখালিখি হয়েছে। কিন্তু যে বিষয়টি চরম ভাবে এখনও উপেক্ষিত সেটা হোল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মথ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। নদি পথে ও সমুদ্র পথে শুধু কয়লা আনা নেওয়া হবে সেটা বঙ্গোপসাগরের ভূরাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বাস করা কঠিন। বিশেষত এই প্রকল্পের আদ্ধেক মালিকানা কাগজে কলমে দিল্লীর। দিল্লী তার সম্পত্তি রক্ষার জন্য এই প্রকল্প কেন্দ্র করে যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। দুর্বল দেশ হিসাবে বাংলাদেশের কিছুই করার থাকবে না।

এ কারণে ‘গো ব্যাক ইন্ডিয়া’ শ্লোগান বা রণধ্বণি সারা বাংলাদেশেই ধ্বনিত হয়েছে। দিল্লী সমর্থিত শাহবাগী রাজনীতির পরে এটাই প্রথম শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণদের রাজনীতির তাৎপর্যপূর্ণ রূপান্তরের ইঙ্গিত। দিল্লী সমর্থিত শাহবাগের আন্দোলন আর রা্মপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বা ভারতীয় আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে এখানেই গুরুতর পার্থক্য। এই আন্দোলন সম্পর্কে শেষ কথা বলার সময় আসে নি। কিন্তু বেশ কয়েকটি কারণে আমি এই বিক্ষোভকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। সে সম্পর্কে দুই একটি কথা বলে রাখতে চাইছি।

ইতিহাস বেইলী রোডের মঞ্চে অভিনয় করবার জন্য আগেই লিখে রাখা নাটকের স্ক্রিপ্ট নয়

যারা রামপালে দিল্লির কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন তারা নিজেরা এই ধরনের বিক্ষোভের তাৎপর্য নিয়ে আগেই ভেবেচিন্তে আন্দোলন শুরু করেছেন সেটা আমার দাবি নয়। বিক্ষোভটি ঘটে যেতে পেরেছে বলে আমরা তার তাৎপর্য নিয়ে এখন আলোচনা করতে পারছি।

ইতিহাস বেইলী রোডের মঞ্চে অভিনয় করবার জন্য আগেই লিখে রাখা নাটকের স্ক্রিপ্ট নয়। সমাজের দ্বন্দ্ব, সংঘাত, স্ববিরোধিতা ও নানাবিধ টানাপড়েনের মধ্য দিয়েই ইতিহাস তার চেহারা দেখায়। তত্ত্ব বা মতাদর্শের গুরুত্ব আছে, কিন্তু তত্ত্ববাগীশ বা মত প্রচারক হওয়ার মধ্যে একালে বিশেষ গৌরব নাই। আগাম তৈয়ারি কোন তত্ত্বের খাপের মধ্যে ফেলে বর্তমানের বিচার কিম্বা কোন মতাদর্শের মানদণ্ড দিয়ে চলমান আন্দোলন সংগ্রামকে স্বীকৃতি বা নাকচ করা একালে মূর্খতার চর্চা মাত্র। বরং বর্তমানকে আমলে নিয়ে নিজের অনুমান ও সিদ্ধান্তকে ক্রমাগত প্রশ্ন ও পর্যালোচনা করাই একালে জরুরি কাজ। আমি বারবার বলেছি সুন্দরবন কেন্দ্র করে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন আমি তাকে নিঃশর্ত সমর্থন করি। কার্ল মার্কসের কাছ থেকে বর্তমানকে বিচার করবার পদ্ধতি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা আমি আমল করি। সেটা হোল, তত্ত্ববাগীশতার চেয়ে সঠিক কর্মসূচিগত পদক্ষেপ অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। সেটাই ইতিহাস তৈয়ার করে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন সে কারনে এই সময়ের রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই আন্দোলন সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন অতিক্রম করে এখন ‘গো ব্যাক ইন্ডিয়া’র রূপ নিচ্ছে। এটা ছিল এই আন্দোলনের স্বাভাবিক ও অনিবার্য পরিণতি। এই মূহূর্তে এটাই বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের মনের কথা। তা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে তরুণদের মুখ থেকে উচ্চারিত হচ্ছে, এটাই বাংলাদেশের রাজনীতির দিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বাংলাদেশের মানুষের মনে গো ব্যাক ইন্ডিয়া বিপুল আশার সঞ্চার করবে।

প্রথমত এটা কোন পরিকল্পিত বিক্ষোভ নয়, আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা আন্দোলন ‘ভারত বিরোধী’ হোক সেটা কোনমতেই চান না। তাদের ধারণা তথাকথিত ‘মৌলবাদী’ শক্তি এর সুযোগ নেবে। দিল্লীর ঔপনিবেশিক আচরণ বহু আগেই সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প দিল্লীর চরিত্র সাধারণ মানুষের কাছে এতোই স্পষ্ট করে তুলেছে যে এটাই এখন গণমানুষের প্রধান ইস্যু। কৌশলি হবার সুযোগ এখন নাই বললেই চলে। আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঢুকে যাওয়া দিল্লীর স্বার্থ সমর্থক গোষ্ঠি প্রাণপণ চাইছে যেন ভারত বিরোধী শ্লোগান আন্দোলনের ভেতর থেকে না ওঠে। কিন্তু বিক্ষোভ মিছিলে ভারত বিরোধী শ্লোগান দেওয়া চেপে রাখা যায় নি। এখন ভারতীয় হাই কমিশনার এর আগমনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মনের কথাই ‘গো ব্যাক ইন্ডিয়া’ শ্লোগানের মধ্য দিয়ে ধ্বনিত হয়েছে। এটা ভারতীয় হাই কমিশনারকে শোনানো জরুরী কাজ ছিল।


 

ভারতীয় হাই কমিশনারের গাড়ির বহরের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের 'গো ব্যাক, ইন্ডিয়া' বিক্ষোভ

 


 

দ্বিতীয়ত হাই কমিশনার যে কর্মসূচিতে এসেছিলেন সেখানে যেতে কেউ তাকে কোন বাধা দেয় নি। তিনি শুধু দিল্লীর কর্মচারী নন, একই সঙ্গে ভারতীয় জনগণের প্রতিনিধি, এই আন্দোলন ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে নয়। বরং ভারতের জনগণকে বুঝতে দেওয়া কিভাবে দিল্লীর আগ্রাসী নীতি পুরা দক্ষিণ এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে দিচ্ছে। বাংলাদেশকে কাশ্মির বানানোই দিল্লীর পরিকল্পনা। এটা রুখে দেওয়াই বাংলাদেশের এখনকার প্রধান ও একমাত্র রাজনীতি।

তৃতীয়ত পুলিশী হামলা হলে হতে পারত, কিন্তু এই বিক্ষোভে কোন ধস্তাধস্তি নাই। তাহলে পুলিশকেও বুঝতে হবে যে তারাই আসলে বাংলাদেশের আইন শৃংখলা বহাল রাখার ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা। তাদের সহিংস ভূমিকাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি তৈরি করে। হয়তো বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত জানাজানি না হওয়ার কারণে বিক্ষোভকারীদের পুলিশী সহিংসতার মুখোমুখি হতে হয় নি। কিন্তু তারা প্লাকার্ড নিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে তাদের শ্লোগান দিয়ে গিয়েছেন। এটা গুরুত্বপূর্ণ। হাসানুল হক ইনুর জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল এক সময় ভারতীয় হাই কমিশনারকে অপহরণ করার মতো ‘জঙ্গী’ তৎপরতায় নিয়োজিত হয়েছিলো। তার উপসংহার হয়েছে মৃত্যু, রক্তপাত, জেল ও জুলুমে। হাসানুল হক ইনু এখন দিল্লী সমর্থিত শেখ হাসিনার মন্ত্রী সভার একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। পুরানা ইতিহাসগুলো মনে রাখতে হবে, নইলে এখন আমি এই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে কেন তাৎপর্যপূর্ণ বলছি সেটা বোঝা যাবে না।

চতুর্থ দিক হচ্ছে, সুন্দরবন রক্ষা – কিম্বা সাধারণ ভাবে প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষার রাজনীতি আর রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতার মধ্যে পার্থক্যের দিকটা পরিষ্কার ভাবে বোঝা, উভয়ের মধ্যে বিরাট পার্থক্য আছে। বিক্ষোভকারীরা সুন্দরবন ধ্বংস করে বিদ্যুতকেন্দ্র চান না – সেই শ্লোগান দিয়েছেন। তাহলে তাঁরা কি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চান? শুধু শর্ত হচ্ছে সেটা সুন্দরবন ধ্বংস করে কিম্বা ক্ষতি করে নয়। তাহলে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে প্রাণ ও প্রকৃতির ক্ষতি হলেও তাঁরা কি তা মেনে নেবেন? সেই কথাই জ্ঞানে কিম্বা অজ্ঞানে তারা তাদের শ্লোগানের মধ্য দিয়ে বলছেন। তার মানে সুন্দরবন ছাড়া বাংলাদেশের অন্য কোন অঞ্চলের প্রকৃতি বা পরিবেশের প্রাণ ও প্রাণের বৈচিত্র ধ্বংস করা যাবে, কিন্তু সুন্দরবন ‘মহাপ্রাণ’, সুন্দরবন ধ্বংস করা যাবে না। তাই কি? এই তথাকথিত ‘মহাপ্রাণ’ ধ্বংস করার বিরুদ্ধেই তাদের আপত্তি। ‘সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল চাই না’ – এই শ্লোগানের উহ্য কথাটা হচ্ছে রামপাল অন্য কোথাও হোক, আপত্তি নাই, তবে সুন্দরবনের ধারে কাছে নয়। কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন অন্য কোন অঞ্চলের প্রাণ ও প্রকৃতি ধ্বংস করে হোক। আমরা বিদ্যুৎ চাই, কিন্তু কিন্তু সুন্দরবন রক্ষা করে করা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হোক। অন্যত্র। কয়লা ভিত্তিক হলেও আমরা বিদ্যুৎ চাই। কিম্বা অন্যত্র পরিবেশ ধ্বংস করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের আপত্তি নাই -- ‘সুন্দরবন ধ্বংস করে রামপাল চাই না’ শ্লোগানের এটাই মর্মার্থ।

সকলে প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষার রাজনীতি করবেন, এটা আমার দাবি কিম্বা আবদার নয়। এটাই বলতে চাইছি যে সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটা এখনও প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয় নি। এই গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনের সারকথা হচ্ছে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প দিল্লীর আগ্রাসী ও ঔপনিবেশিক নীতির নির্লজ্জ অভিপ্রকাশ। এই আগ্রাসনের বিরোধিতাই এই আন্দোলনের মৌলিক তাৎপর্য। সে কারণে ভারতীয় হাই কমিশনারকে ‘গো ব্যাক ইন্ডিয়া’ প্লাকার্ড দেখানো, কিম্বা সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনে যারা দিল্লী বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছেন তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও সজ্ঞান অবস্থানটাই এই আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। একে প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষার রাজনীতি বলে বাহবা দিলে ক্ষতি নাই, যদি আসলে সেই রাজনীতিটা কী এবং কিভাবে তার বিকাশ ঘটানো সম্ভব তা নিয়ে আমরা ভাবনাচিন্তা শুরু করি। আন্দোলন সেই ভাবনাচিন্তার সুযোগ করে দিচ্ছে। চিন্তাশীল তরুণরা নতুন করে ভাবতে পারছে।

সুন্দরবনের প্রতি দরদ প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণির রোমান্টিক আকুতি মাত্র। এতেও আমি কোন অন্যায় দেখি না। প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষার রাজনীতির আরম্ভ এভাবে অবশ্য হতেই পারে। এভাবেই হয়। ফলে একে নিন্দা করার কিছু নাই। কিন্তু রোমান্টিক ‘মহাপ্রাণ” ধারণার সীমাবদ্ধতা এবং প্রাণের স্তরবিভাগ তৈরি – অর্থাৎ প্রাণ ও মহাপ্রাণের মধ্যে হায়ারার্কি বানানোর বিপদ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরী। শুরু থেকেই সে সম্পর্কে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষত যারা প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষার রাজনীতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য টের পেয়ে গিয়েছেন এবং সেই রাজনীতি বিকশিত করতে বদ্ধ পরিকর, তাদের এই ক্ষেত্রে সজ্ঞানতা ও সতর্কতা ওর্জন খুবই দরকার।

সুন্দরবন মৃত মিউজিয়ম নয় যে তাকে সাজিয়ে রাখতে হবে। সুন্দরবন সম্পর্কে রোমান্টিক মৃত মিউজিয়ম মার্কা চিন্তা প্রাণ ও প্রকৃতির রাজনীতির সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। প্রাণ ও প্রকৃতি বিধ্বংসী বিদ্যুৎ প্রকল্প চাই, কিন্তু সুন্দরবনে বা সুন্দরবনের কাছে হোক সেটা চাই না – তাই কি? তাহলে কি সেটা আমাদের বাড়ির কাছে নেবো আমরা? আমাদের নিজ গ্রামে বাস্তবায়ন করবো? এটা আগামির বিপ্লবী তারুণ্যের রাজনীতি হতে পারে না। বরং জীবাশ্ম ভিত্তিক সভ্যতা – অর্থাৎ প্রাণ ও পরিবেশ বিধ্বংসী বিশ্বব্যবস্থা সম্পর্কে আগে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে আমাদের। জানতে হবে পরিবেশ বিধ্বংসী জীবাশ্ম জ্বালানি (fossil fuel) ভিত্তিক ইন্ড্রাসট্রিয়াল সিভিলাইজেশান নিরন্তর প্রাণ ও প্রকৃতির খোদ ভিত্তির বিনাশ ঘটিয়ে চলেছে। সেই সভ্যিতার ধ্যান্ধারণাই আমরা মাথায় বয়ে বেড়াই। আমরা আজকাল জলবায়ুর বিপর্যয়ের কথা শুনছি, কিন্তু আমামদের হুঁশ হচ্ছে না। প্রতিদিন কোন না কোন প্রাণের প্রজাতি বা পরিবার বিলুপ্ত হচ্ছে, প্রজাতি হিসাবে খোদ মানুষ শেষাবধি টিকে থাকবে কিনা সেটাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে। প্রশ্ন হচ্ছে জীবাশ্ম ভিত্তিক সভ্যতার রূপান্তর ঘটানো কি সম্ভব? কিভাবে কোথায় সেই রূপান্তরের কাজ আমরা শুরু করব? সেটা কি এখনই শুরু করতে পারি? নিজেদের জীবনযাপন বদলানোর কাজ তো এখন থেকেই শুরু করতে হবে। শুধু রাস্তার আন্দোলন যথেষ্ট নয়। কিভাবে থাকি, কী খাই, কিভাবে চলি – এই সবকিছুই – আমাদের নিত্য জীবন যাপনের প্রতিটি মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিরোধের চরিত্র থাকতে হবে।

এটাও মনে রাখা দরকার সুন্দরবনের বিনাশ এই প্রকল্প শুরুর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে না। সেই বিনাশ শুরু হয়েছে বহু আগে থেকেই। সুন্দরবনে বসতি নির্মান ও আধুনিক জীবন যাপনের ফল হিসাবে চকরিয়া সুন্দরবন ধ্বংস হয়েছে অনেক আগে। সেখানে কোন ভারতীয় কোম্পানি ছিল না। বিশ্বব্যংক, আইএমএফের রপ্তানিমুখী উন্নয়ন নীতির কারণে আমরা চিংড়ি চাষের প্রকল্প নিয়েছি। চকরিয়া সুন্দরবন সেই উন্নয়নের তোড়ে দশ বছরের মধ্যেই বিরান হয়ে গিয়েছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এলাকা চিংড়ির ঘেরের কারণে নোনা পানি ঢুকেছে সুন্দরবনে। সুন্দরবন ধ্বংসের দিকেই যাচ্ছে। যদি আমরা তা দ্রুত প্রতিহত করতে না পারি, সুন্দরবন আর সুন্দরবন থাকবে না। রপ্তানিমুখি উন্নয়ন নীতি এবং এখনকার নয়াবাজারবাদী কাছাখোলা অর্থনীতিই তার কারণ। এখন যারা সুন্দরবনের প্রতি রোমান্টিক মমতায় কাতর তারা সুন্দরবন রক্ষার জন্য চিংড়িঘেরের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের লড়াই সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে আদৌ কিছু জানে কিনা আমার সন্দেহ আছে। শুধু আন্দোলন নয়, স্থানীয় জনগণ নতুন করে সুন্দরবনের গাছ ও প্রজাতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে স্থানীয় জনগণের লড়াই সংগ্রামের সঙ্গে শহরের মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংগ্রামকে যুক্ত করবার নীতি ও কৌশল নিয়ে ভাবা দরকার। বন ধ্বংস হয়ে গেলে তাকে আগের অবস্থায় পাওয়া যায় না, ঠিক, কিন্তু তাকে নতুন করে গড়া যায়। সেই বিজ্ঞান ও কর্মদক্ষতা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে শেখার দরকার আছে। অতএব আন্দোলন শহরে নয়, জনপদে নিতে হবে। নিয়ে যেতে হবে বঙ্গোপসাগরের কাছে।

ভ্রমণ  বিলাসী  রোমান্টিকতা বনাম প্রাণ ও পরিবেশ রক্ষার রাজনীতি

মধ্যবিত্ত শ্রেণী সবে প্রাণ ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠছে। সুন্দরবন সম্পর্কে তাদের বই পড়ার জ্ঞান বা ভ্রমণ বিলাসী রোমান্টিক ধারণা থাকতেই পারে। থাকুক। এটা খারাপ কিছু নয়। কিন্তু প্রাণ ও প্রকৃতির রাজনীতি জীবাশ্মভিত্তিক ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সিভিলাইজেশানের পর্যালোচনা ও তার সম্ভাব্য বিকল্প ও রূপান্তর নিয়ে ভাবনা। আমাদের সেই দিকে কয়েক কদম এগিয়ে যেতে হবে। ছেঁড়া সুতাগুলো জোড়া দেওয়াও এখন বড় কাজ। আন্দোলনকারীদের কাছে এখনও সেটা স্পষ্ট কিনা জানি না। তবে সেই দিকগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।

দিল্লী নির্লজ্জ ভাবে বাংলাদেশকে উপনিবেশে পরিণত করেছে। সেটা বাংলাদেশ ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া, নিত্য সীমান্তে আইন বহির্ভূত ভাবে বাংলাদেশীদের হত্যা, কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে রাস্তা বা করিডোর বানানো, বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ের বাংলাদেশে চাকুরি পাওয়া ও অর্থ পাচারের ব্যবস্থা করা, বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যে অসম বিনিয়োগ ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত করা, আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভাগে ঘাটতি বাড়াতে থাকা, ইত্যাদি। তাই গো ব্যাক ইন্ডিয়া স্রেফ ঢাকা শহরের স্লোগান থাকে নি। সারা বাংলাদেশেই ধ্বনিত হয়েছে। সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনের সাফল্য এখানেই।

তবে আন্দোলনের শ্রেণির প্রশ্ন মনে রাখলে আন্দোলনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আমরা হুঁশিয়ার থাকতে পারি এবং তা অতিক্রম করে যাবার নীতি ও কৌশল নিয়ে ভাবতে পারি। সাধারণত মধ্যবিত্ত শ্রেণি যখন পরিবেশ ও প্রকৃতির কথা বলে তখন সে নদি, জমি, পাহাড়, সুন্দরবন, বাঘ, ভাল্লুক, পাখি ইত্যাদি নিয়ে খুব কাতর হয়ে যায়। ব্যাপারগুলো খুবই রোমান্টিক ও রাবিন্দ্রীক ব্যাপার ধারণ করে। তারা 'প্রাণবৈচিত্র' বলে না, বলে 'জীববৈচিত্র' -- অথচ প্রাণবৈচিত্র মানে শুধু জীবজন্তুর বৈচিত্র না -- বরং বিভিন্ন জনগোষ্ঠির সংস্কৃতি, জীবন ব্যবস্থা, খাদ্য ব্যবস্থা, প্রকৃতির সঙ্গে তাদের দৈনন্দিনের সম্পর্ক ইত্যাদি সুরক্ষার ব্যাপারও বটে।

খেয়াল করা দরকার মধ্যবিত্ত শ্রেণির কাছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে গিয়েছে বাঘ – রয়েল বেঙ্গল টাইগার। অথচ গরান বনের (mangrove Forest) প্রাণ বৈচিত্র রক্ষা খুবই জটিল ব্যাপার। দুই এক প্রজাতির পশু বা পাখি রক্ষা করা না। এই খবরটুকুও অনেকের কানে আসেনি যে ধরিত্রী সম্মেলনে (Earth Summit ১৯৯২) বায়োডাইভার্সিটি সংজ্ঞায়িত করতে গিয়ে ইন্ডিজেনাস এন্ড লোকাল কমিউনিটির কথা বারবার জোর দিয়ে বলতে হয়েছে। মানুষের প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে ‘জীববৈচিত্র’ সংক্রান্ত ধারণা পাতি বুর্জোয়া ও কর্পোরেট ধারণা। ‘জীববৈচিত্র’ আর ‘প্রাণবৈচিত্র’ ইংরাজি বায়োডাইভার্সিটিত শব্দটি অনুবাদের সমস্যা নয় – পরিবেশ আন্দোলন – বিশেষত প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষার রাজনৈতিক মর্ম বুঝবার অভাব ও পার্থক্য। যে কারণে বাঘ রক্ষার আন্দোলন যতো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সেই তুলনায় মধ্যবিত্ত শ্রেণি কৃষকের বীজ রক্ষার আন্দোলনকে অতো গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। বীজ ও খাদ্য ব্যবস্থা চোখের সামনে দুই এক দশকের মধ্যেই বহুজাতিক বীজ কোম্পানির অধীনে চলে যাওয়ার পরেও তাদের হুঁশ নাই। রাজনীতিতে চিন্তার এই অভাব বা খামতিগুলো বোঝার দরকার আছে।

শেখ হাসিনা যখন ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতে গিয়েছিলেন তখন দিল্লির সঙ্গে যে যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেছেন রামপাল প্রকল্প তারই অন্তর্গত। এটা নিছকই বিদ্যুত উৎপাদন বা উন্নয়ন প্রকল্প নয়, দিল্লির আগ্রাসী রাজনৈতিক প্রকল্পেরই অংশ। যারা এখন রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন তাদের মধ্যে অনেকে আছেন, যারা ক্ষমতাসীন সরকারের নীতির সমর্থক কিম্বা ক্ষমতাসীনদের ইসলাম বিদ্বেষী রাজনৈতিক বলয়ের অন্তর্গত, বাইরের কেউ নয়। তারা দিল্লীবান্ধব রাজনীতি করেন। তাই না? ফলে তাদের পক্ষপাতদুষ্ট অস্বচ্ছ রাজনৈতিক অবস্থান এই আন্দোলনের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মর্ম বিকাশের ক্ষেত্রে বড় একটা প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। দিল্লির প্রশ্নে তাদের কণ্ঠ নীচু খাদে নেমে গিয়ে প্রায় নিঃশব্দ হয়ে যায়। আর প্রায় সকলেই ক্ষমতাসীন সরকারের বিরোধী যে গণ-রাজনীতি তারও বিরোধী। এটাই বাস্তবতা। ঠিক কিনা? রাজনীতির কথা বললে শ্রেণির প্রশ্ন ছাড়াও এই সব বিবেচনাও মাথায় রাখতে হয়। জাতীয় সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে এতো বছর ধরে গড়ে তোলা অতি গুরুত্বপুর্ণ এই আন্দোলনের পেছনে এ কারণেই পুরা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা যায় নি। কারণ শেষ তক মধ্যবিত্ত শ্রেণি একে একটি বিশেষ ধারার রাজনীতি বহন করবার কাজেই খাটাচ্ছে – গণমানুষের সামষ্টিক স্বার্থ এতে গৌণ হয়ে যাবার বিপদ থেকে যায়। এই দিকগুলো মনে রাখলে কেন আমি গো ব্যাক ইন্ডিয়া, গো ব্যাক এনটিপিসি, স্টপ বর্ডার কিলিং -- এই শ্লোগানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি সেটা বোঝা যাবে।

আমাদের সীমাবদ্ধতা আরও আছে। এটা আমাদের ট্রাজেডি যে সেকুলার ও ধর্মপন্থার বাইনারি অতিক্রম করে আমরা গণমানুষের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত রামপাল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না। ইসলামপন্থিরা পরকালের বেহেশতের স্বপ্নে বিভোর, ফলে আল্লার দুনিয়ায় আল্লা নিজে মানুষের জন্য যে সকল অপূর্ব সৃষ্টির নজির রেখেছেন তাকে রক্ষার কোন ঈমানী দায়িত্ব তাঁরা বোধ করেন না। সুন্দরবন রক্ষা – কিম্বা প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাদের ঈমানী পরীক্ষার ক্ষেত্র হতে পারত, কিন্তু এই কঠিন পরীক্ষা তারা দিতে নারাজ। অন্যদিকে বঙ্গীয় সেকুলারদের ইসলাম বিদ্বেষ এবং গণমানুষের আধ্যাত্মিক জীবন এবং অমীমাংসিত নানাবিধ প্রশ্নের প্রতি উপেক্ষা আন্দোলনকে শেখ হাসিনার ঘরের লড়াইয়ে পরিণত করে রেখেছে। এই সীমাবদ্ধতা যতো তাড়াতাড়ি তরুণরা ভাঙ্গতে পারবে ততোই আগামিতে জাতীয় নেতৃত্বের ফাঁকা জায়গাগুলো তাদের নিজের হাতে তুলে নিতে সক্ষম হবে।

বিএনপিও ক্ষমতায় যাবার জন্যে ভারত তোষণ নীতি গ্রহণ করেছে এবং রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কিছু বলছে না – এটা তাদেরকে জনগণের কাছ থেকে শুধু দূরে সরিয়ে দিচ্ছে না, রাজনৈতিক ভাবে অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে। বাংলাদেশের জনগণকে যারা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে তৈরি হয়ে উঠছে তারা কোন দলের প্রতি মুখাপেক্ষি থাকবে না। এটা আমরা আশা করতে পারি।

আন্দোলনে ক্ষমতাসীনদের সাময়িক সুবিধা হতে পারে। তারা দিল্লীকে দেখাতে পারছে এতো বিরোধিতার পরেও রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধ পরিকর। বাংলাদেশের সেকুলার ও কমিউনিস্টরা বিএনপির নেতৃত্বে বিশ দলীয় জোটকে দমন করার জন্যে শেখ হাসিনাকে চায়, আবার ক্ষমতাসীনরা রামপাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে তাকেও মেনে নিতে পারছে না। খুবই ট্রাজিক অবস্থা।– এই দ্বৈত নীতি নিয়ে রামপালের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এই আন্দোলন সফল হবে না, এটা ঠিক। কিন্তু এই সীমাগুলোই তো তরুণরা ভাংছে।

অতএব গো ব্যাক ইন্ডিয়া, গো ব্যাক এনটিপিসি। স্টপ বর্ডার কিলিং। যথেষ্ট হয়েছ, আর নয়।

১৯ অগাস্ট ২০১৬। ৫ ভাদ্র ১৪২৩। শ্যামলী।