চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

কবি ফররুখ আহমদের কি অপরাধ?

এই লেখাটি ফররুখ আহমদকে নিয়ে আহমদ ছফা লিখেছিলেন ১৯৭৩ সালে। সেই সময়ের 'গণকন্ঠ' পত্রিকায় সম্ভবত  ১৬ জুন তারিখে এটি  ছাপা হয়েছিল। এই লেখার মধ্যে আহমদ ছফার মানবিক দিকটি স্পষ্টতই ধরা পড়ে। ফররুখের কাব্য প্রতিভার শক্তি নিয়ে ছফার কোন দ্বিধা ছিল না। তবে ছফা বাংলাদেশে আরও অনেক ভাল মানুষের মতো ফররুখ আহমদকে 'ইসলামি রেঁনেসা'র কবির অধিক ভাবতে পারেন নি। উচ্চবর্ণের হিন্দুর হাতে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাঙালির যে নবজাগরণ ঘটেছিল শিল্প-সংস্কৃতির আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার মানদণ্ড তার দ্বারাই নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বলাবাহুল্য ১৯৭৩ সালে সেই সাম্প্রদায়িক অচলায়তন আহমদ ছফার পক্ষেও ভাঙা সহজ ছিল না। তারপরও ফররুখ আহমদ সম্পর্কে ছফার এই সাহসী, স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন অ (আরো পড়ূন)

সাম্রাজ্যবাদী পানীয় কোক-পেপসি

কোকাকোলা কোম্পানি নিয়ে এই লেখাটি পাক্ষিক চিন্তা পত্রিকার 'সাম্রাজ্যবাদঃ যুদ্ধ ও বাণিজ্য' সংখ্যায় (বছর ১৪, সংখ্যা ২; কার্তিক ১৪১৩/নভেম্বর) প্রকাশিত হয়েছিল। এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে চিন্তা অনলাইনে ২৬ মে ২০১০ সালে আমরা আরেকবার ছেপেছিলাম। সম্প্রতি ভাষার মাসে কোকাকোলার 'নিখোঁজ' বাংলা শব্দ প্রকল্প আমাদের আবার হুঁশে এনেছে। কর্পোরেট বাণিজ্যের সাংস্কৃতিক রাজনীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করবার জন্য লেখাটি আবার পেশ করছি।

এই প্রসঙ্গে বলা জরুরি যে বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রে বহুজাতিক কর্পোরেট বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো গভীর ভাবে জড়িত। আমরা আগেও অনেকবার বলেছি, পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার কোন সংস্কৃতি নাই, পুঁজির আছে শুধু এডভারটাইজ (আরো পড়ূন)

নদিয়ার ভাব ও লালন শাহ

এক

ফকির লালন শাহ তিরোধান করেছিলেন পহেলা কার্তিকে। বাংলা বছর ১২৯৭ আর ইংরেজি ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর। এই বছর পহেলা কার্তিক ১৪২২ (১৬ অক্টোবর ২০১৫), ফকির লালন শাহের ১২৫তম তিরোধান দিবস। 

তিরোধান দিবস হবার কারনে দিনটি শোকের দিন হিশাবে তাঁর অনুরাগী ও অনুসারীরা পালন করে থাকেন। তাদের জন্য এটা কান্নাকাটির দিন। কিন্তু এখন এই দিনটিকে একধরণের উৎসবে পরিণত করা হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি পহেলা কার্তিকে ছেঁউড়িয়াকে একটা মেলায় পরিণত করা হয়। এর কারন হচ্ছে লালন ফকিরের ধাম যাদের 'টাঁকশাল' তাঁরা  সেই ধামের রক্ষা বা ব্যবস্থাপনায় নাই। যাঁরা আছেন তাঁরা এই ধারার কেউ নন। দ্বিতীয়ত এর দায়ি (আরো পড়ূন)

কামরাঙ্গীর চরে মাদ্রাসায় শিক্ষা বিপ্লবের সূচনা

আহমদ ছফার একটি পুরানা লেখা। সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের আবির্ভাবের কারনে কওমি মাদ্রাসা নানান দিক থেকে আলোচিত। সেই ক্ষেত্রে আহমদ ছফার এই পুরানা লেখাটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে ভেবে আমরা এখানে তুলছি। বাংলাদেশের আলেম ওলামাদের প্রতি আহমদ ছফা সদয় ছিলেন, সন্দেহ নাই। তাঁদের কাছাকাছি যাবার চেষ্টা করেছেন একসময় এবং তাঁদের মনমানসিকতায় পরিবর্তন আনবার জন্য যথেষ্ট কোশেশ করেছেন। তাঁর লেখার সেই স্বীকারোক্তি আছে। কিন্তু তিনি সফল হতে পারেন নি। এর নানা কারন থাকতে পারে। যেমন, ‘রেঁনেসা’, ‘আধুনিকতা’, ‘আধুনিক শিক্ষা’ ইত্যাদির প্রতি তাঁর নির্বিচার পক্ষপাত তাঁকে আলেম-ওলামাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল হয়ত। তিনি নিজেও সে ব্যাপারে সচেতন (আরো পড়ূন)

অহিংসা ও বিপ্লব

[ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী উপমহাদেশে অহিংসার বাণী শুনিয়েছিলেন, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী তাতে মোহিত হন নি, তিনি তাকে ‘আফিম খাওয়ানো’ মনে করতেন। মওলানার দাবি, “অহিংসার বাণী এবং অহিংস কৌশল মানুষের বিপ্লবী চেতনাকে ভোঁতা” করে দেয়। কিন্তু এটা নিছকই চেতনাগত সমস্যা নয়। এটা হচ্ছে “চোয়ালেই লাগাম আঁটিয়া দেওয়া”। চিন্তার যে গভীরতা থেকে ভাসানী কথাগুলো বলেছেন তা বুঝতে হলে তাঁর 'অহিংসা ও বিপ্লব' লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে।

প্রথমত অহিংসাবাদ জালিম ব্যবস্থা উৎখাত করবার জন্য ব্যবস্থার রক্ষকদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অনিবার্যতা ও প্রয়োজনীয়তাকে (আরো পড়ূন)

শেখ মুজিবুর রহমান

[ দুই বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতি সমাজ ভাবনাকে এক মলাটের মধ্যে তুলে ধরার বাসনায় কবি গৌতম চৌধুরী গত শতকের ৯০ দশকে কলকাতা থেকে ‘যুক্তাক্ষর’ নামে একটি কাগজ বের করেছিলেন। প্রথম সংখ্যা বেরোয় আগস্ট ১৯৯৪ সালে। উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলার বাংলাভাষীদের লেখা একই মলাটে পেশ করা। ওর মধ্য দিয়ে পরস্পরকে চেনা ও জানা ছিল প্রাথমিক একটি উদ্দেশ্য। কিন্তু আরও বড় আশা ছিল সীমান্তের দুই দিকেই উপমহাদেশের ইতিহাস ও তার ফলাফলকে নির্মোহ দৃষ্টি দিয়ে বিচার করবার চর্চা প্রশস্ত করা এবং তার ইতিবাচক ফল হিশাবে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি সমাজ ইতিহাস ভাবনা ইত্যাদির মধ্যে তা আত্মস্থ করা। অল্প কয়েকটি সংখ্যা বেরিয়েছিল, তবুও স্ব (আরো পড়ূন)