চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

মুরশিদ রংমহালে সদায় ঝলক দেয়

মুরশিদ রংমহালে সদায় ঝলক দেয়
  যার খুলেছে মনের কপাট সেই দেখিতে পায়।।

শতদলে আতসপুরী,আলিপুরে তার কাছারী,
  দেখিলে তার কারিগরী,হবে মহাশয়।।

সজল উদয় সেই দেশেতে,অনন্তফল ফলে তাতে,
  প্রেম পাতি জাল পাতলে তাতে,অধর ধরা যায়।।

রত্ন যে পায় আপন ঘরে,সে কি আর খোঁজে বাহিরে,
  না বুঝিয়ে লালন ভেড়ে দেশ-বিদেশে ধায়।।

 

(আরো পড়ূন)

তরিকাতে দাখেল না হলে

তরিকাতে দাখেল না হলে,
 শরিয়ত হবে সিদ্ধি পড়বি গোলেমালে।।

শরার নামাজের বীজ,আরকাম আহকাম তের চিজ,
 শরিয়তের আহকাম আকান,কয় চিজ বলে।।

ছালেকী মজ্জবী হয়,হকিকতে হয় পরিচয়,
  মারেফাতে সিদ্ধির মোকাম,দেখনারে খুলে।।

আত্মতত্ত্ব জানে যে,সব খবরে জবর সে,
  লালন ফকির ফাকে পল, নিগূঢ় না বুঝে।।

 

(আরো পড়ূন)

যে জন সাধকেরই মূল গোড়া

যে জন সাধকেরই মূল গোড়া,
  বে মুরিদ বে-তালিম সে-ত,ফিরছে সদায় বেদ ছাড়া।।

গুপ্তনূ রে হয় তার সৃজন,গুপ্তভাবে করছে ভ্রমণ,
  নূরেতে নূর নবী পয়দা,এই কথাটি জগৎ জোড়া।।

পীরের পীর সে দস্তগীয় হয়,তার মুরশিদকে মুরশিদ বলা যায়,
  চিনতে যদি পার কেহ,সেই পাবে পথের দাঁড়া।।

কেউ বলে সে মূলাধারের মূল,মুরশিদ বিনে কে জানে তার উল,
  লালন বলে ভেদ না জেনে,ঝাকমারী সাঁইর বেদ পড়া।

 

(আরো পড়ূন)

যে দিন ডিম্বভরে ভেসেছিলেন সাঁই

যে দিন ডিম্বভরে ভেসেছিলেন সাঁই
  কে হল তাহার সঙ্গী,কাহারে সুধাই।।

পয়ার রূপ ধরিয়ে সে,দেখা দিল ঢেউতে ভেসে,
  কি নাম তার না পাই দিশে।।

আগমে এশারায় বলে,কওহে তাই,
 সৃষ্টি না করিল যখন,কি ছিল তার আগে তখন।।

শুনতে অনম্ভব বচন,একের কুদরতে দুজনে তা’রাই।।
তারে না চিনিতে পারি,অধর কেমনে ধরি,
না বলে সেই যে নুরী,খোদার ছোট নবীর বড় কেহ কয়।

 

(আরো পড়ূন)

করিয়ে বিবির নিহার রাছুল আমার কৈ ভুলেছে রব্বানা

করিয়ে বিবির নিহার রাছুল আমার কৈ ভুলেছে রব্বানা
   জাত ছেফাতে দোস্তি করে, কেউ কারেও ভুলেতে পারেনা।।

খুঁজে তার মর্ম কথা পাবি কোথা,চৌদ্দ নেকা কৈ করেছে,
   চৌদ্দ ভুবনের পাত, চৌদ্দ বিবি,করেছে তার দেখ নমুনা।।

ছেফাতে এসে নবী,তিনটি বিবি সু-সন্তানের মা হয়েছে,
    আলেফ লাম মিমে দেখনা,

ও দীন কানা, তিনি নবী সাল্লো আলা।।
    আদার বেপারী হয়ে,জাহাজ লয়ে,সাত সমুদ্রের খবর লেনা,
লালন কয় কর করণ,দেখনা বনী ছৈয়েদেনা।।

 

(আরো পড়ূন)

খাকি আদমের ভেদ পশু কি বোঝে

খাকি আদমের ভেদ পশু কি বোঝে
  আদমের কালেবে কোদা,খোদে বিরাজে।।

আদম শরীরে আমার ভাসয় বলিছে অধর সাঁই নিজে,
  নৈলে কি আদমকে ছেজদা ফেরেস্তায় সাজে।।

শুনি আজজীল খাসতন,খাকে আদম তন গঠন,
  গঠেছে সেই আজাজীল,খবিছ হল,আদম তন না ভজে।।

আব আতষ খাক বাদে ঘর,গঠল জান মালেক মোক্তার,
  কোন চিজে;লালন বলে এ ভেদ,সব জানে যে সে?

 

(আরো পড়ূন)

ইবলিছের সেজদার ঠাঁই ছেড়ে চাই সেজদা করা

ইবলিছের সেজদার ঠাঁই ছেড়ে চাই সেজদা করা
  হুজুরী নামাজের আইন এমনি ধারা।।

রেসজদা করেছে সেত,স্বর্গ মর্ত্য পাতাল জোড়া,
  জায়গা সে বাদ পড়েছে,দেখনা তোরা।।

জায়গার মাহাত্ম্য বুঝে;সেজদা দিতে পারে,
  তার আগমে কয়,তাদের হয় নামাজ সারা।।

কিসে হয় আসল নামাজ,কর সে কাজ সকলে,
  লালন বলে আখের যাতে না যাই মারা।।

 

(আরো পড়ূন)

মুরশিদ জানায় যারে সেই জানিতে পায়

মুরশিদ জানায় যারে সেই জানিতে পায়
  জেনে শুনে রাখে মনে সে কি কারো কয়।।

নিরাকার হয়,অচিন দেশে আকার ছাড়া চলে না সে,
  ন-অন্ত-সবই অন্ত যার নাই,যাহা ভাবে তাই হয়।।

মুনশী লোকের মুনশীগিরি,আকার নাই যার বরজক করি,বলে সর্বদায়।।
নূরেতে কুলআলম পয়দা,আবার কয় পানির কথা,
নূর কি পানি,বস্তু জানি,লালন ভাবে তাই।

 

(আরো পড়ূন)

মুরশিদ জানায় যারে সেই জানিতে পায়

মুরশিদ জানায় যারে সেই জানিতে পায়।
জেনে শুনে রাখে মনে সে কি কারো কয়।।

নিরাকার হয়, অচিন দেশে আকার ছাড়া চলে না সে,
ন-অন্ত-সবই অন্ত যার নাই, যাহা ভাবে তাই হয়।।

মুনশী লোকের মুনশীগিরি, আকার নাই যার বরজক করি, বলে সর্বদায়।।
নূরেতে কুলআলম পয়দা, আবার কয় পানির কথা,
নূর কি পানি, বস্তু জানি, লালন ভাবে তাই।।

 

(আরো পড়ূন)

নূরের ভেদ বিচার জানা উচিত এবার

নূরের ভেদ বিচার জানা উচিত এবার।।
নবীজী আর নিরূপ খোদার নূর কি প্রকার।।

নবীর যেন আকার ছিল, তাতে নূর চোয়ায় বল,
কি প্রকারে নূর চোয়ায় খোদার।।

আকার বলিতে খোদা, সরাতে নিষেধ সদা,
আকার বিনা নূর চোয়ান, প্রমাণ কি তার।

জাত এলাহি ছিল সুতে, কি রূপে এল ছেফাতে;
লালন বলে নূর চিনিলে ঘোচে আঁধার।।

 

(আরো পড়ূন)

নবিজী মুরিদ কোন ঘরে

নবিজী মুরিদ কোন ঘরে।।
কোন কোন চার এয়ারে এসে চাঁদোয়া ধরে।।

যার কালেমায় দিল দুনিয়া, সে মুরিদ হল কোন কলেমায়,
লেহাজ করে দেখ মনরায়, তত্ত্ব অঠাই গভীর।।

ওতারিল তারে কোন পিয়ালা, জানিতে উচিত হয় নিরালা,
অরুণ বরুন জ্যোতিষমালা, কোন যোগাশ্রয়ে সাধ্য কার।।

ময়ুরী লীলা, কোন যোগে প্রকাশ করিলে,
সিরাজ সাঁই ইসারায় বলে, লালন ঘুরে মলি বুদ্ধির ফেলে।।

 

(আরো পড়ূন)

যে জানে ফানার ফিকির সেই জানে ফকিরী

যে জানে ফানার ফিকির সেই জানে ফকিরী।।
ফকির হয় কি করলে নাম জিকির।।

আছে কত মত ফানার ধরন, জানতে হয় তার বিবরণ,
ফানা ফিল্লা ফানা ফিশ্বেখ, ফানা ফির-রাছুল আখির।।

আখের অকারণ হবি ফানা, প্রাপ্তি না হলে ফানা,
জেনে শুনে মুড়িয়ে মাথা, ফকিরি পদে কর সাকির।।

ফানা হয় মুরশিদ রূপ দেখে,
মাওলারে পায় অনাসে, সিরাজ সাঁই কয় লালন তোমার
ফকিরী নয় ফাঁদ ফিকির।।

 

(আরো পড়ূন)

করবে পিয়ালা কবুল শুদ্ধ এমানে

করবে পিয়ালা কবুল শুদ্ধ এমানে।।
মিশবি যদি জাত ছেফাতে এ দিন আখেরের দিনে।।

চেনরে নূরের পিয়ালা খুলে যাবে রাগের তালা,
অচিন মানুষের খেলা, দেখবিরে দুই নয়নে।।

ছত্তরী জব্বারী নূরী, চেনরে সেই নূর জহুরী,
এচার পিয়ালা ভারি, আছেরে মন অতি গোপনে।।

ফানা ফিশ্বেখ ফানা ফি-রাছুল, ফানা ফিল্লা ফানা বাকা স্থুল;
এ চারি মোকামে লালন ভজরে মুরর্শিদ নির্জনে।।

 

(আরো পড়ূন)

নজর একদিক দিলে আর একদিকে অন্ধকার হয়

নজর একদিক দিলে আর একদিকে অন্ধকার হয়।।
নূরে নীরে দুটি নিহার, কোনটিরে ঠিক রাখা যায়।।

নবী আইন করলেন জগৎ জোড়া, সেজদা হারাম খোদা ছাড়া,
মুরশিদ বরজখ সামনে খাড়া, সেজাদার সময় থুই কোথায়।।

শোগল রাবেতা বলে,বরজখ লিখে দলিলে,
কারে থুয়ে কারে নিলে, একমনে দুই কৈ দাঁড়ায়।।

যদি বিলায়েতে হতো বিচার, ঘুচে যেত মনের অন্ধকার,
লালন ভেড়ো এবার ওধার, দুই ধারেতে খাবি খায়।।

 

(আরো পড়ূন)

তরিকতে দাখিল হলে সকল জানা যায়

তরিকতে দাখিল হলে সকল জানা যায়।।
কেনরে মন কোলের ঘোরে ঘুরছে ডানে বায়।।

আওয়ালে বিসমিল্লা বর্তা,মূল জান তার তিনটি অর্থ,
আওলে বলেছে সত্য,ডুবে জানতে হয়।।

নবী আদম খোদ বুদ খোদা,এ তিন কভু নহে জুদা,
আদমে করিলে ছেজদা,আলেক জনা পায়।।

যথা আলেক মোকাম বাড়ী,সফিউল্লা তাহার সিঁড়ি,
লালন বলে মনের বেড়ি,লাগাও গুরুর পায়ঁ।।

 

(আরো পড়ূন)

নবীর আইন বোঝার সাধ্য নাই

নবীর আইন বোঝার সাধ্য নাই।।
যার যমন বুদ্ধিতে আসে বলে তাই।।

বেহেস্তের লায়েক আহাম্মুখ সবে, তাই শুনি হাদিছ কেতাবে,
এমত কথায় হিসেবে, বেহেস্তের গৌরব কিসে জানতে পাই।।

সকলে বলে আহাম্মুখ বোকা, আহাম্মুখ পায় বেহেস্তে জায়গা,
এত বড় পূর্ণ ধোকা কে ঘুচাবে ধোক, কোথা যাই।।

রোজা নামাজ বেহেস্তের ভজন, তাই করে কি পাবে সে ধন,
বিনয় করে বলছে লালন, থাকতে পারে ভেদ, মুরশিদের ঠাঁই।।

 

(আরো পড়ূন)

নবী একি আইন করলেন জারী

নবী একি আইন করলেন জারী।।
পাছে মারা যায় আইন, তাই ভেবে মরি।।

শরিয়ত আর মারফত আদায় নবীর হুকুম এই দুই সদায়,
শরা শরিয়ত, নবুয়ত মারফত, জানতে হয় গভীরি।।

নবুয়ত অদেখা ধিয়ান, বেলায়েত রূপের নিশান,
নজর একদিক যায়, আরো দিক আঁধার হয়,
দুই রূপে কোন রূপ ঠিক করি।।

সরাকে ছরপোষ লেখা যায়,বস্তু মারফত ঢাকা আছে তায়,
ছরপোষ থুই তুলে কি দেই ফেলে, লালন ভাবে বস্তু ভিখারী।।

 

(আরো পড়ূন)

নবী না চিনলে পরে, সে কি খোদার ভেদ পায়

নবী না চিনলে পরে, সে কি খোদার ভেদ পায়।।
চিনিতে বলেছে খোদে সেই দয়াময়।।

সে নবী পারের কান্ডার, জেন্দা সে চার যুগের উপর,
হায়াতোল মোরছালি, সেই জন্য কয়।।

কোন নবী বান্দার হায়াত, কোন নবী হল ওফাত,
লেহাজ করে দেখলে শষ্কা তার যায়।।

যে নবী সঙ্গে তোর, চিনে তার দাওন ধর,
লালন বলে পারের কারো সাধ যদি হয়।।

 

(আরো পড়ূন)

মন কি ইহাই ভাব আল্লা পাব নবী না চিনে

মন কি ইহাই ভাব আল্লা পাব নবী না চিনে।।
কারে বলিস নবী দিশা পালিনে।।

বীজ মানে সেই বৃক্ষ নবী, দেল ঢুড়িলে জানাতে পাবি,
কি বলব সেই বৃক্ষের খুশি,
এক ডালে দীন এক ডালে দ’নে।

যে নূরেতে আদম পয়দা, সেনবীর তরিক জুদা,
নূরের পিয়ালা খোদা, দিলেন খোদ অঙ্গ জেনে।।

চার কারের উপরে দেখ, আশ্রয় করে ছিল কে গো,
পূর্ব পরের খবর রাখ, তবে জানবি লালন নবীর ভেদ মনে।।

 

(আরো পড়ূন)

রাছুলকে তা চিনতে নারে

রাছুলকে তা চিনতে নারে।।
রাছুল পয়দা হলেন আল্লার নূরে।।

রাছুল মানুষ চিনলে পরেরে,আল্লা তারে দয়া করে,
দেল আরশে আল্লা নবী,দুজনাতে বিহারে করে।।

নয়নে না দেখলাম যারেরে,কি মতে ভজিব তারে,
নীচের বালু না গনিয়ে আকাশে ধরছ অন্ধকারে।।

রাছুল মানুষের সঙ্গ নিলেরে,যম যাতনা যেত দূরে,
লালন বলে রাছুলেরে না চিনে,পড়েছিল ফেরে।।

 

(আরো পড়ূন)

রাছুলকে চিনলে পরে খোদা চিনা যায়

রাছুলকে চিনলে পরে খোদা চিনা যায়।।
রুপ ভাড়ায়ে দেশ বেড়ায়ে,গেলেন সেই দয়াময়।।

রাসুলের পথে ঘাটে,মেঘে রয় যে ছায়া ধরে,
দেখ দেখি লেহাজ করে,জীবরে কি সেই দরজা হয়।।

জন্মে যার এই মানবে, ছায়া তার পড়ে নাই ভূমে,
দেখ দেখি তাই বর্তমানে কে এল এই মদিনায়।।

আহাম্মদ নাম লিখিতে, মিমি হরফ হয় নফি করতে,
সিরাজ সাঁই কয় লালন তোকে নজীর দেখায়।।

 

(আরো পড়ূন)

অপারের কাণ্ডার নবীজি আমার, ভজন সাধন বৃথা নবী না চিনে

অপারের কাণ্ডার নবীজি আমার,ভজন সাধন বৃথা নবী না চিনে।।
আউয়াল আখের, বাতুন জাহের,
কখন কোন রূপ ধারণ,করে কোন খারে।।

আসমান জমি, জলাদি পবন, যে নবীর নূরেতে সৃজন,
কোথায় ছিল সে নবীজির আসন,নবী পুরুষ কি প্রকৃতি আকার কথনে।।

আল্লা নবী দুটি অবতার,গাছ বীজ দেখিয়ে প্রচার,
সু-বুদ্ধিতে করহ বিার,গাছ বড় কি ফলটি বড় লও জেনে।।

আত্মাতত্ত্বে ফাজেল যে জনা,
সেই তা জানে নবীর নিগূঢ় কারখানা,রাসূলরূপে প্রকাশ রব্বানা,
লালন বলে দরবেশ সিরাজ সাঁইর গুণে।।

 

(আরো পড়ূন)

অশেক বিনা ভেদের কথা কে আর পোছে

অশেক বিনা ভেদের কথা কে আর পোছে।।
শুধালে খলিফা সবে রাসূল বলেছে।।

মাশুকে যে আশেকী, খুলে যায় তার দিব্য আঁখি,
নফল আল্লা নফছ নবী, দেখবে অনাসে।।

যিনি মুরশিদ রাসুল উল্লা, সাবুদ কোরান কালুল্লা,
আশেকে বলিলে আল্লা, তাও হয় সে।
মুরশিদের হুকুম মান, দায়েমী নামাজ জান,
রাসূলের ফরমান, লালন তাই বলে।।

 

(আরো পড়ূন)

রাসুলের সব খলিফা কয় বিদায়কালে

রাসুলের সব খলিফা কয় বিদায়কালে।।
গায়বী খবর আর কি পাব,আজ তুমি গেলে
কোরানের ভিতর সে-তো,মকতায়াত অক্ষর কত,

মানে কও তার ভাল মত, ফেল না গোলে।।
মহা পেচ আইন তোমার বুঝে ওঠে কি সাধ্য কার,

কি করিতে কি করি আর,ছহি না বুঝলে।।
আহাদ নামে কেন আপি,মিম,দিয়ে মিম কর নফি,
মানে কি তার কও নবিজী, লালন তাই বলে।।

 

(আরো পড়ূন)

দিবানিশি থেকো সবরে বা-হুসিয়ারী

দিবানিশি থেকো সবরে বা-হুসিয়ারী।।
রাসূল বলে এ দুনিয়া মিছে ঝাকমারি।।

পড়িও আউজুবিল্লা,দূরে যাবে লানত উল্লা,
মুরশিদরূপ করিলে হেলা,শষ্কা যায় তারই।।
জাহের বাতেন সব ছফিনায়,পুসিদার ভেদ দিলাম ছিনায়,

এমনি মত তোমরা সবায়,বল সবারই।।
অবোধ অভক্ত জনা,তারে গুপ্ত ভেদ বলো না,

বলিলে সে মানিবে না,করবে অহষ্কারী।।
তোমরা সব খলিফা রইলে,যে যাহা বোঝে দিও বলে,
লালন বলে রাসুলের এ নছিহত জারী।।

 

(আরো পড়ূন)

হাতের কাছে মামলা থুয়ে কেন ঘুরে বেরাও ভেয়ে

হাতের কাছে মামলা থুয়ে কেন ঘুরে বেরাও ভেয়ে।
ঢাকা শহর দিল্লি-লাহোর খুঁজলে মেলে এই দেহে।।

মনের ধোঁকায় যেথায় যাবি
ধাক্কা খেয়ে হেথায় ফিরবি
এমনি ভাবে ঘুরে মরবি
সন্ধান না পেয়ে।।

গয়া-কাশী মক্কা-মদিনা
বাইরে খুঁজলে ধান্দা যায় না
দেহরতি খুঁজলে পাবি
সকল তীর্থের ফল তাহে।।

দেখ দেখি মন রে আমার
অবিশ্বাসের ধন প্রাপ্তি হয় কার
যার বিশ্বাসের মন, নিকটে পায় ধন
লালন ফকির যায় কয়ে।।

 

(আরো পড়ূন)

যেতে সাধ হায়রে কাশী কর্ম ফাঁসি বাধল গলায়

যেতে সাধ হায়রে কাশী কর্ম ফাঁসি বাধল গলায়।।
আর কতদিন ঘুরব এমন নাগর দোলায় ।।

হলরে এ কি দশা সর্বনাশা মনের ঘোলায়
ডুবল ডিঙ্গি নিশ্চয় বুঝি জন্ম নালায়।।

বিধাতা হয় বিবাদী কি মন পাজী ফেরে ফেলায়
বাও না বুঝে বাই তরনী ত্রুমে তলায় ।।

কলুর বলদ যমন ঢেকে নয়ন পাকে চালায়
লালন প’ল তমনি পাকে হেলায় হেলায়।।

 

 

(আরো পড়ূন)

একদিন পারের ভাবনা ভাবলিনারে

একদিন পারের ভাবনা ভাবলিনারে
পার হবি হীরার সাঁকো কেমন করে।।

একদমের ভরসা নাই
কখন কি করবে সাঁই,
তখন কার দিবি দোহাই
     কারাগারে।।

বিনা কড়ির বেচা কেনা,
মুখে সাঁইয়ের নাম জপনা,
তাতে কি তোর অলসপানা,
     দেখি হা রে।।

ভাসাও অনুরাগ-তরী
মুরশিদ কাণ্ডারী,
লালন কয় যার পাড়ি
     যাও না সেরে।।

 

(আরো পড়ূন)

হতে চাও হুজরের দাসী

হতে চাও হুজরের দাসী
মনে গিল্লাত পোরা রাশি রাশি

না জানি সেবা সাধ্না
না জানো প্রেম উপসনা
সদাই দেখি ইতরপনা
      প্রভু রাজী হবে কিসি?

কেশপাশে বেশ করলে কি হয়
রসবোধ না যদি রয়
রসবতি কে তারে কয়
      কেবল মুখে কাষ্ঠ হাসি।।

কৃষ্ণপদে গোপী সুজন
করেছিল দাস্য সেবন
লালন বলে তাই কিরে মন
     পারবি ছেড়ে সুখবিলাসী।।

 

(আরো পড়ূন)

দীনের রাছুল এসে আরব শহরে দীনের বাতি জ্বেলেছে

দীনের রাছুল এসে আরব শহরে দীনের বাতি জ্বেলেছে॥
দীনের বাতি রাছুলের রূপ উজালা করেছে॥

মহম্মদ নাম নূরেতে হয়, নবুয়তে নবী নাম কয়,
রাছুল উল্লা ফানা ফিল্লাহ, আল্লাতে মিশেছে॥

মহম্ম হন সৃষ্টিকর্তা, নবী নামে ধর্ম দত্তা,
শরিয়তের ভেদ ওতে রেখে শরা বুঝায়েছে॥

জাহেরা ভেদ জাহেরাতে, আশেকের ভেদ পুসিদাতে,
মহর নবুয়ত আশকদারকে দেখায় দিয়েছে॥

রাছুল রূপ যার মনে আছে, মনের আধাঁর ঘুচে গেছে,
অধিন পাঞ্জু ভাব না জেনে ভ্রমেতে ভুলেছে॥

 

(আরো পড়ূন)

জিন্দা দেহে মরার বসন

কে তোমারে এ বেশ ভূষণ

পরাইলো বলো শুনি।

জিন্দা দেহে মরার বসন

খিলকা তাজ আর ডোর কোপিনী।।

 

জিন্দা মরার পোশাক পরা

আপন সুরত আপনি সারা।

ভবলোককে ধ্বংস করা

দেখি অসম্ভব করণী।।

 

যে মরণের আগে মরে

শমনে ছোঁবে না তারে।

শুনেছি সাধুর দ্বারে

তাই বুঝি করেছ ধনি।।

 

সেজেছ সাজ ভালইতরো

মরে যদি ডুবতে পারো।

লালন বলে যদি ফেরো

দুকূল হবে অপমানি।।

 

(আরো পড়ূন)

শূন্যেতে এক আজব বৃক্ষ দেখতে পাই

শূন্যেতে এক আজব বৃক্ষ দেখতে পাই

আড়ে দীঘে কত হবে

কল্পনা করবা সাধ্য নাই।।

 

সেই বৃক্ষের দুই অপূর্ব ডাল

তার এক ডালে প্রেম আর এক ডালে কাল

চার যুগেতে আছে সে ফুল

নাই টলাটল রতিময়।।

 

বলব কি সে বৃক্ষের কথা

ফুলে মধু ফলে সুধা

এমন বৃক্ষ মানে যেবা

তার বলিহারি যায়।।

 

বিনা বীজে সেই যে বৃক্ষ

ত্রিজগতের উপলক্ষ

শাস্ত্রেতে আছে ঐক্য

লালন ভেবে বলে তায়।।

 

(আরো পড়ূন)

একি আজগবি এক ফুল

একি আজগুবি এক ফুল

ও তার কোথায় বৃক্ষ

কোথায় আছে মূল।।

 

ফুটেছে ফুল মান সরোবর

স্বর্ণ গোফায় ভ্রমরা তার

কখন মিলন হয়রে দোহার

রসিক হলে জানা যায় রে স্থুল।।

 

শম্ভু বিম্বু নাই রে সে ফুলে

মধুকর কেমনে খেলে

পড় সহজ প্রেম ইস্কুলে

জ্ঞানের উদয় হলে যাবে ভুল।।

 

শনি মুকুল এরা দু,জন

সে ফুলে হইল সৃজন

সিরাজ সাঁই বলে রে লালন

ফুলের ভ্রমর কে তা করগে উল।।

 

(আরো পড়ূন)

যে জন বৃক্ষমূলে বসে আছে

যে জন বৃক্ষমূলে বসে আছে।

তার ফলের কি অভাব আছে।।

 

কল্পবৃক্ষে যে-জন বসে রয়

বাঞ্ছা করলে সে ফল হাতে পায়

ভুবনজোড়া গাছের গোড়া

মূল শিকড় তলাতে আছে।।

 

গাছের গোড়ায় যে জন বসে রয়

চৌদ্দ ভুবন সেই দেখতে পায়

এ-কুল ও-কুল দু’কুলই যায়

জনম হবে না পশুর মাঝে।।

 

ডাল নাই তার পাতা আছে

তিন ডালে জগৎ জুড়েছে

লালন বলে ভাবিস মিছে

ফুল ছাড়া এক ফল রয়েছে।।

 

(আরো পড়ূন)

নৈরাকারে ভাসছে রে এক ফুল

নৈরাকারে ভাসছে রে এক ফুল।

সে যে ব্রহ্মাবিষ্ণু হর, আদি পুরন্দর

তাদের সে-ফুল হয় মাতৃকুল।।

 

বলবো কি সেই ফুলের গুণবিচার

পঞ্চমুখে সীমা দিতে না রে নর

যারে বলি মূলাধার, সেহি তো অধর

ফুলের সঙ্গ ধরা তার সমতুল।।

 

নীলে অন্ত নাই স্থিতি সে ফুলে

সাধকের মূল বস্তু এই ভূমণ্ডলে

বেদের অগোচর, সে ফুলের নাগর

সাধুজনা ভেবে করেছে তার উল্‍।।

 

কোথা বৃক্ষ কোথা রে তার ডাল

তরঙ্গে পড়ে ফুল ভাসছে চিরকাল

কখন এসে অলি, মধু খায় ফুলি

লালন বলে চাইতে গেলে দেয় রে ভুল।।

 

(আরো পড়ূন)

এক ফুলে চার রঙ ধরেছে

এক ফুলে চার রঙ ধরেছে।

সে ফুলে ভাব নগরে

কি শোভা করেছে।।

কারণবারির মধ্যে সে ফুল

ভেসে বেড়ায় একুল ওকূল।

শ্বেতবরণ এক ভ্রমর ব্যাকুল

সে ফুলের মধুর আশে ঘুরতেছে।।

মূল ছাড়া সে ফুলের লতা

ডাল ছাড়া তার আছে পাতা।

এ বড় অকৈতব কথা

ফুলের ভাব কই কার কাছে।।

ডুবে দেখ মন দেল-দরিয়ায়

যে ফুলে নবির জন্ম হয়।

সে ফুল তো সামান্য ফুল নয়

লালন কয় যা নাই মূল দেশে

 

(পাঠান্তর - লালন কয় যার মূল নাই দেশে)

(আরো পড়ূন)

সূর্যের সুসঙ্গে কমল

সূর্যের সুসঙ্গে কমল কেমনে হয় প্রেমযুগল

জানিসনে মন হলি কেবল কামাবেশে মাতোয়ারা

নীচে পদ্মে চরকবানে

যুগল মিলন চাঁদ চকোরা॥

 

স্ত্রীলিঙ্গ পুংলিঙ্গ নাহি নাহি রে নপুংসক সেহি

যে লিঙ্গ ব্রহ্মাণ্ডের উপর কি দিব তুলনা তাহার

রসিক জানা জানছে এবার

অরসিকে চমৎকারা॥

 

সামর্থেরে পূর্ণ জেনে বসে আছো সেই গুমানে

যে রতিতে জন্মে মতি সে রতির কেমন আকৃতি

যারে বলে সুধার পতি

স্ত্রীলোকেরই সেই নিহারা॥

 

শোণিত শুক্র চম্পাকলি কোন স্বরূপ কাহারে বলি

ভৃঙ্গ রূপে করো নিরূপন চম্পাকলি অলি যে জন

ভাবানুসারে কহে লালন

কিসে তারে যাবে ধরা॥

 

(আরো পড়ূন)

ঘরে বাস করে সেই ঘরের খবর নাই

ঘরে বাস করে সে ঘরের খবর নাই

চার যুগে ঘর চাবি আঁটা

ছুরান পরের ঠাঁই।্

 

কলকাঠি যার পরের হাতে

তার ক্ষমতা ত্রি-জগতে

লেনাদেনা দিবা রাতে

পরে পরের ভাই।।

 

একি বেহাত আপন ঘরে

থাকতে রতন হয় দারিদ্রে

দেয় সে রতন হাতে ধরে

তারে কোথা পাই।।

 

ঘর ছেড়ে ঘর বাইরে খোঁজা

বয় সে যেমন চিনির বোঝা

পায়নারে সে চিনির মজা

বলদ যে যা ছাই।।

 

পর দিয়ে পর ধরা ধরি

সে পর কৈ চিনতে পারি

লালন বলে হায় কি করি

না দেখি উপায়।।

 

(আরো পড়ূন)

আছে ভাবের তালা যেই ঘরে

আছে ভাবের তালা যেই ঘরে

সেই ঘরে সাঁই বাস করে।।

 

ভাব দিয়ে খোল ভাবের তালা

দেখবি সে মানুষের খেলা।

ঘুচে যাবে মনের ঘোলা

থাকলে সে রূপ নিহারে।।

 

ভাবের ঘরে কি মূরতি

ভাবের লন্ঠন ভাবের বাতি।

ভাবের বিভাব হলে এক রতি

অমনি সে রূপ যায় সরে।।

 

ভাব নইলে ভক্তিতে কি হয়

ভেবে বুঝে দেখ মনুরায়।

যার যে ভাব সে জানতে পায়

লালন কয় বিনয় করে।।

 

(আরো পড়ূন)

কি এক অচিন পাখি পুষলাম খাঁচায়

কি এক অচিন পাখি পুষলাম খাঁচায়

হল না জনম ভরে তার পরিচয় ।।

 

আঁখির কোণে পাখির বাসা

দেখতে নারে কি তামাশা

আমার এ আঁধলা দশা

কে আর ঘুঁচায় ।।

 

পাখি রাম রহিম বুলি বলে

ধরে সে অনন্ত লীলে

বল তারে কে চিনিলে

বল গো নিশ্চয় ।।

 

যারে সাথে সাথে লয়ে ফিরি

তারে বা কই চিনতে পারি

লালন কয় অধর ধরি

কিরূপ ধ্বজায় ।।

 

(আরো পড়ূন)

জগত শক্তিতে ভোলালে সাঁই

জগত শক্তিতে ভোলালে সাঁই

ভক্তি দেও হে যাতে চরণ পাই॥

 

রাঙা চরণ দেখবো বলে

বাঞ্ছা সদাই হৃদ-কমলে

(তোমার) নামের মিঠায় মন মজেছে

আমি রূপ কেমন তাই দেখতে চাই॥

 

ভক্তি-পথ বঞ্চিত করে

শক্তি-পথ দিচ্ছে তারে

যাতে জীব ব্রহ্মান্ডে ঘোরে

কান্ড তোমার দেখি তাই॥

 

চরণের যোগ্য মন তো নয়

তথাপি মন ঐ চরণ চায়

অধীন লালন বলে, হে দয়াময়

তুমি দয়া করো আজ আমায়॥

 

(আরো পড়ূন)

সাঁই আমার কখন খেলে কোন খেলা

সাঁই আমার কখন খেলে কোন খেলা

জীবনের কি সাধ্য বলো

গুণে পড়ে তাই বলা॥

 

কখনো ধরে আকার

কখনো হয় নিরাকার

কেউ বলে সাকার সাকার

অপার ভেবে হই ঘোলা॥

 

ভাণ্ড ব্রহ্মাণ্ড মাঝে

সাঁই বিনে কি খেল আছে

লালন কয় নাম ধরে সে

কৃষ্ণ ও করিম কালা॥

 

(আরো পড়ূন)

সাঁইর লীলা বুঝবি খ্যাপা কেমন করে

সাঁইর লীলা বুঝবি খ্যাপা কেমন করে

লীলার যার নাইরে সীমা

কোন্‌ সময় কোন্‌ রূপ সে ধরে

কেমন করে ॥

 

আপনি ঘর আপনি ঘরি

আপনি করে রসের চুরি ঘরে ঘরে

আপনি করেন ম্যাজেষ্টারি

আপন পায়ে বেড়ি পরে

কেমন করে ॥

 

গঙ্গায় গেলে গঙ্গাজল হয়

গর্তে গেলে কূপজল কয় ভেদ বিচারে

তেমনি সাঁইজীর বিভিন্ন বিভিন্ন নাম

জানায় পাত্র অনুসারে

কেমন করে ॥

 

একে বহে অনন্ত ধারা

তুমি আমি নাম বেওয়ারা ভবের পরে

লালন বলে আমার আমি

জানলে বাধা যেত দূরে

কেমন করে ॥

 

(আরো পড়ূন)

কে কথা কয় রে দেখা দেয় না

কে কথা কয় রে দেখা দেয় না?

নড়ে চড়ে হাতের কাছে

খুঁজলে জনমভর মেলে না।।

 

খুঁজি তারে আসমান জমিন

আমারে চিনি না আমি

এ বিষম ভ্রমের ভ্রমি

আমি কোন্‌ জন, সে কোন্‌ জনা।।

 

হাতের কাছে হয় না খবর,

কি দেখতে যাও দিল্লির শহর!

সিরাজ সাঁই কয়, লালন রে তোর

সদাই মনের ঘোর গেল না।।

 

(আরো পড়ূন)

এক ফুলের মর্ম জানতে হয়

এক ফুলের মর্ম জানতে হয়

যে ফুলে অটল বিহারী

বলতে লাগে ভয়।।

 

ফুলে মধু প্রফুল্লতা,

ফলে তার অমৃত সুধা।

এমন ফুল দুনিয়ায় পয়দা

জানিলে দুর্গতি যায়।।

 

চিরদিন সেই যে ফুল,

দিন দুনিয়ার মকবুল।

যাতে পয়দা দিনের রাসুল,

সে ফুলতো সামান্য নয়।।

 

জন্মপথে ফুলের ধ্বজা

ফুল ছাড়া নয় গুরু পূজা।

সিরাজ সাঁই কয় এ ভেদ বোঝা

লালন ভেড়োর কার্য নয়।।

 

(আরো পড়ূন)

সেই অটল রূপের উপাসনা

সেই অটল রূপের উপাসনা।

ভবে কেউ জানে কেউ জানে না।।

 

বৈকুণ্ঠে গোলকের উপর

আছে রে সেই রূপের বিহার

কৃষ্ণের কেউ নয় সেই অধর

রাধার পতি সেই জনা।।

 

স্বরূপ রূপের এই যে ধারণ

দোহার ভাবে টলে দোহার মন

অটলকে টলাতে রে মন

পারে বল কোনজনা।।

 

নৈরাকারে জল হইতে জন্ম

শক্তির ধারা সেই অবিম্বে

লালন বলে তার অনুপ্রেমে

দিন থাকতে জেনে নে না।।

 

(আরো পড়ূন)

নিচে পদ্ম উদয় জগৎময়

নিচে পদ্ম উদয় জগৎময়।

আসমানে যার চাঁদ-চকোরা

কেমন করে যুগল হয়।।

 

নিচে পদ্ম দিবসে মুদিত

আসমানেতে চন্দ্র উদয় তখন বিকশিত

তারা দুয়েতে এক যুগল আত্মা

সে চাঁদ লক্ষ যোজন ছাড়া রয়।।

 

চন্দ্র পদ্ম কান্ত শান্ত যে

মালির সঙ্গে রসরঙ্গে যোগ করেছে সে

মালি যেমন সাজিয়ে ডালি

বসে আছে দরজায়।।

 

গুরু পদ্ম শিষ্য চন্দ্র হয়

শিষ্য পদ্মে গুরু বদ্ধ রয়

লালন বলে এরূপ হলে

তাদের যুগল আত্মা জানা যায়।।

 

(আরো পড়ূন)

ধররে অধর চাঁদেরে অধরে অধর দিয়ে

ধর রে অধর চাঁদেরে অধরে অধর দিয়ে।

ক্ষীরোদ মৈথুনের ধারা ধর রে রসিক নাগরা

যে রসেতে অধর ধরা

থেকরে সচেতন হয়ে।।

 

অরসিকের ভোলে ভুলে, ডুবিস নে কু-নদীর জলে

কারণবারির মধ্যস্থলে, ফুটেছে ফুল অচিন দলে

চাঁদ-চকোরা তাহে খেলে

প্রেমবাণে প্রকাশিয়ে।।

 

নিত্য ভেবে নিত্য থেক,

লীলার বাসে যেও না কো সেই দেশেতে মহাপ্রলয়,

মায়েতে পুত্র ধরে খায় ভেবে বুঝে দেখ মনুরায়

সে দেশে তোর কাজ কি যেয়ে।।

 

পঞ্চবাণের ছিলে কেটে, প্রেম যাচো স্বরূপের হাটে

সিরাজ সাঁই বলে রে লালন

বৈদিক বাণে করিস নে রণ

বাণ হারায়ে পড়বি যখন

রণ-খোলাতে হুবড়ি খেয়ে।।

 

(আরো পড়ূন)

আমার হয় নারে সেই মনের মতো মন

আমার হয় নারে সেই মনের মতো মন

কিসে জানবো সেই রাগের করণ।।

 

পড়ে রিপু ইন্দ্রিয়ের ভোলে

মন বেড়ায় রে ডালে আলে

দুই মনে এক মন হইলে এড়াই শমন।।

 

রসিক ভক্ত যারা

মনে মন মিশালো তারা

শাসন করে তিনটি ধারা পেল রতন।।

 

কবে হবে নাগিনী বশ

সাধবো কবে অমৃত-রস

দরবেশ সিরাজ সাঁই কয়, বিষে বিনাশ হলি লালন।।

(আরো পড়ূন)

আহাদে আহম্মদ এসে

আহাদে আহাম্মদ এসে

নবি নাম কে জানালে।

যে তনে করিলে সৃষ্টি

সে তন কোথায় রাখিলে।।

 

আহাদ নামে পরওয়ার

আহাম্মদ রূপে সে এবার।

জন্মমৃত্যু হয় যদি তার

শরার আইন কই চলে।।

 

নবি যারে মানিতে হয়

উচিৎ বটে তাই জেনে লয়।

নবি পুরুষ কি সে প্রকৃতি কায়

সৃষ্টির সৃজনকালে।।

 

আহাদ নামে কেন রে ভাই

মানবলীলা করিলেন সাঁই।

লালন বলে তবে কেন যাই

অদেখা ভাবুক দলে।।

 

(আরো পড়ূন)

আর কি হবে এমন জনম

আর কি হবে এমন জনম

বসব সাধুর মেল।

হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়

ঘিরে নিল কালে॥

 

মানবদলেরই আশায়

কত দেব দেবতা বাঞ্ছিত হয়

হেন জনম দীন-দয়াময়

দিয়েছে কোন ফলে ॥

 

কত কত লক্ষ যোনি

ভ্রমণ করেছ তুমি

মানব কুলে মন রে তুমি

এসে কী করিলে ॥

 

ভুলো না রে মন রসনা

সমঝে কর বেচাকেনা

লালন বলে কুল পাবা না

এবার ঠকে গেলে॥

 

(আরো পড়ূন)

কবে সাধুর চরণ ধুলি মোর লাগবে গায়

(কবে) সাধুর চরণ ধুলি (মোর) লাগবে গায়

(আমি) বসে আছি আশাসিন্ধু হয়ে সদাই ॥

 

চাতক যেমন মেঘের জল বিনে

অহর্নিশি চেয়ে থাকে মেঘ ধোয়ানে

(ও সে) তৃষ্ণায় মৃত্যুর গতি জীবনে (হোল)

সে দশা আমার ॥

 

ভজন সাধন আমাতে নাই

কেবল মহৎ নামেএ দেই গো দোহাই

(তোমার) নামের মহিমা জানাও গো সাঁই

পাপী হও সদয় ॥

 

শুনেছি সাধুর করুণা

সাধুর চরণ পরশিলে হয়গো সোনা

বুঝি আমার ভাগ্যে তাও হোলনা ফকির

লালন কেঁদে কয়॥

 

[ছেঁউড়িয়ায় প্রচলিত, ভোলাই শা-র খাতা, গান নং ৯৯]

 

(আরো পড়ূন)

হীরা মানিক জহুরা কোটিময়

হীরা মানিক জহুরা কোটিময়

সে চাঁদ লক্ষ যোজন ফাঁকে রয়

 

উনকোটি দেবতা সঙ্গে আছে গাঁথা

ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব নারায়ণ জয় জয় জয়

যে জন শুদ্ধ সাধক হয় , সে চাঁদ দেখিতে পায়

সে চাঁদ মৃণাল যোগে উজান ধায়

 

ষড়চক্র পরে আছে আদি বিধান তার

পূর্ণ করে ষোলকলা ভেদ করিয়ে সপ্ত তালা

তার ওপরে বসে কালা মহাপ্রভুর গান গায়

সেই চাঁদ পাতালে উদয় ভূমণ্ডলে

সেই চাঁদ মহেন্দ্র যোগে দেখা যায়।

 

নবলক্ষ ধেনু চরায় রাখালে

চাঁদের খবর ষে জানে চাঁদ রয়েছে বৃন্দাবনে

শ্রীরাধার শ্রী কমলে

লালনের ফকিরি করা নয় ফিকিরি

 

(আরো পড়ূন)

না বুঝে মজনা পিরিতে

না বুঝে মজনা পিরীতে

বুঝে সুঝে কর পিরীতি

শেষ ভাল দাঁড়ায় যাতে ।।

 

ভবের পিরীতি ভূতের কীর্তন

ক্ষণেক বিচ্ছেদ ক্ষণেক মিলন

অবশেষে বিপাকে মরণয়া

তেমাথা পথে।।

 

পিরীতে যদি হয় বাসনা

সাধুর কাছে জানগে বেনা

লোহা যেমন পরশে সোনা

হবে সেই মতে।।

 

এক পিরীতের বিভাগ চলন

কেউ স্বর্গে কেউ নরকে গমন

দেখে শুনে বলছে লালনয়ে

এই জগতে।।

 

(আরো পড়ূন)

আল্লাহ্ কে বোঝে তোমার অপার লীলে

আল্লাহ্ কে বোঝে তোমার অপার লীলে

তুমি আপনি আল্লাহ ডাকো 'আল্লাহ্' বলে।

নূরের 'কারে তুমি নূরী

ছিলে ডিম্ব অবতারী

সাকারে সৃজন করলে ত্রিভুবন

নিরাকারে চমৎকার ভাব দেখালে।

নিরাকার নিগম্ভু ধ্বনি

তাইতো সত্য সবাই মানি

তুমি আগমের ফুল নিগমে রসূল

আদমের ক্বালেবে জান হইলে।

আত্মতত্ত্ব জানে যা'রা

নিগূঢ় লীলা দেখছে তা'রা

নীরে নিরঞ্জন অকহতব্য ধন

লালন খুঁজে ফিরে বন-জঙ্গলে।

 

(আরো পড়ূন)

শুদ্ধ প্রেম সাধলো যারা

শুদ্ধ প্রেম সাধলো যারা

কামরতি রাখলো কোথা।

বলো রসিক রসের মালিক

ঘুচাও আমার মনের ব্যাথা।।

 

আগে উদয় কামের রতি

রস আগমন তারই গতি।

সেই রসে করে স্থিতি

খেলছে রসের প্রেমদাতা।।

 

মন জানিত রসের করণ

নয়রে সে প্রেমের ধরন।

জল সেঁচে তার হয়রে মরণ

কথায় কেবল বাজি জেতা।।

 

মনের বাধ্য যে জন

আপনার আপনি ভোলে সে জন।

ভেবে কয় ফকির লালন

ডাকলে সে তো কয় না কথা।।

 

(আরো পড়ূন)

কে বোঝে কৃষ্ণের অপার নিলে

কে বোঝে কৃষ্ণের অপার নিলে

শুনি তিলার্ধ নাই ব্রজ ছাড়া

কে তবে মথুরায় রাজা হলে॥

 

শুনি রাধা ছাড়া তিলার্ধ নয়

ভারত পুরাণে তাই কয়

তবে ধনী দুর্জয় বিচ্ছেদ জগতে জানালে॥

 

সবে বলে অটল হরি

সে কেন হয় দ-ধারী

কিসেরি অভাব তারি ঐ ভাবনা ভেবে ঠিক না মেলে॥

 

নিগূঢ় খবর জানা গেলে

পুরুষ হৈতে নারী হোল

তবে কেন এমন হোল আগে রাধা পাচ্ছে কৃষ্ণ বলে॥

 

কৃষ্ণের লীলার লীলে অথই

থই দিবে কেউ সেসাধ্য নাই

কি ভাবিয়ে কি করে যাই লালন বলে প’লাম

বিষম ভোলে॥

 

ভোলাই শা-র খাতা গান-নং৮৪/৪৯

 

(আরো পড়ূন)

গোল করনা গোল করনা ওগো নাগরী

গোল করনা ও নাগরী গোল কোর না গো

দেখি দেখি ঠাওরে দেখি কেমন গৌরাঙ্গ।।

 

সাধু কি ও যাদু করি

এসেছে এই নদেপুরি

খাটবে হেথায় জারিজুরি

তাই কি ভেবেছ?

 

 

বেদে যা নাই তাই যদি হয়

পুথি পড়ে কেন মরতে যায়

লালন বলে ভজব সদাই

ঐ গৌরেরই পদ।।

 

(আরো পড়ূন)

এ গোকুলে শ্যামের প্রেমে

এ গোকুলে শ্যামের প্রেমে

কেবা না মজেছে সখী।

কারো কথা কেউ বলে না

আমি একা হই কলঙ্কী।।

 

অনেকে তো প্রেম করে

এমন দশা ঘটে কারে।

গঞ্জনা দেয় ঘরে পরে

শ্যামের পদে দিয়ে আঁখি।।

 

তলে তলে তলগোজা খায়

লোকের কাছে সতী কওলায়।

এমন সৎ অনেক পাওয়া যায়

সদর যে হয় সেই পাতকী।।

 

অনুরাগী রসিক হলে

সে কি ডরায় কুল নাশিলে।

লালন বেড়ায় ফুচকি খেলে

ঘোমটা দিয়ে চায় আড়চোখি।।

 

(আরো পড়ূন)

জান গে সেই রাগের করণ

জান গে সেই রাগের করণ

যাতে কৃষ্ণবরণ হলো গৌরবরণ।।

শতকোটি গোপী সঙ্গে

 

কৃষ্ণপ্রেম রসরঙ্গে।

সে যে টলের কার্য নয় অটল না বলয়

সে আর কেমন।।

 

রাধাতে যে ভাব কৃষ্ণের

জানে না তা গোপীগণে।

সে ভাব না জেনে

সে সঙ্গ কেমনে পাবে কোনজন।।

 

শম্ভুরসের উপাসনা

না জানিলে রসিক হয়না।

লালন বলে সে যে নিগূঢ় করণ ব্রজে

অকৈতব ধন।।

 

(আরো পড়ূন)

যাও হে শ্যাম রাইকুঞ্জে আর এসনা

যাও হে শ্যাম রাইকুঞ্জে আর এসনা

এলে ভাল হবে না॥

 

গাছ কেটে জল ঢাল পাতায়

এ চাতুরী শিখলে কোথায়

উচিৎ ফল পাবে হেথায়

নইলে টের পাবেনা॥

 

করতে চাও শ্যাম নাগরালী

যাও যথা সে চন্দ্রাবলী

এ পথে পড়েছে কালী

এ কালি আর যাবেনা॥

 

কেলে সোনা জানা গেল

উপরে কালা ভিতরে কালো

লালন বলে উভয় ভালো

করি উভয়ের বন্দনা॥

 

(আরো পড়ূন)

রাইসাগরে ডুবল শ্যামরায়

রাইসাগরে ডুবল শ্যামরায়

তোরা ধরগো হরি ধরগো হরি

হরি নাগর ভেসে যায় ॥

 

রাইসগারে তরঙ্গ ভারি

ঠাই দিতে কি পারবেন শ্রীহরি

ছেড়ে রাজস্য প্রেমে ঔদাস্য

কৃষ্ণের চিন্তার ক্যাঁথা উড়ে গায় ॥

 

চার যুগে ঔ কেলে সোনা

শ্রীরাধার দাস হতে পারল না

যদি হত দাস, যেত অভিলাষ

আসতো কি আর নদীয়ায় ॥

 

তিনটি বাঞ্ছা অভিলাষ করে

প্রভু জন্ম নিল শচীর উদরে

সিরাজ সাঁইর বচন, মিথ্যা নয় লালন

সে ভাব জানলে পরে রসিক হয় ॥

 

(আরো পড়ূন)

এনেছে এক নবীন গোরা

এনেছে এক নবীন গোরা

নতুন আইন নদিয়াতে।

বেদ পুরাণ সব দিচ্ছে দুষে

সে আইনের বিচার মতে ॥

 

সাতবার খেয়ে একবার স্নান

নাই পূজা তার পাপ পূণ্যি জ্ঞান

অসাধ্যের সাধ্য বিধান

শিখাচ্ছে সব ঘাটে পথে ॥

 

করে না সে জাতের বিচার

কেবল শুদ্ধ প্রেমের আচার

সত্য মিথ্যা জানব এবার

সাঙ্গ পাঙ্গ জাত অজাতে ॥

 

পেয়ে ঈশ্বরের রচনা

তাই বলে সে বেদ মানে না

লালন কয় ভেদ-উপাসনা

কর দেখি মন দোষ কি তাতে ॥

 

(আরো পড়ূন)

বলরে নিমাই বল আমারে

বলরে নিমাই বল আমারে

রাধা বলে আজভাবি আজ

কাঁদলি কেন ঘুমের ঘোরে ॥

 

সেই যে রাধার কি মহিমা

কেউ দিতে না পারে সীমা বেদে

ধ্যানে যারে পায় না ব্রক্ষা

কী রূপে জানলি সে রাধরে ॥

 

রাধে তোমার কি হয় নিমাই

সত্য করে বল আমায়

এমন বালক সময়

এ বোলকে শিখাল তোরে ॥

তুমি শিশু ছেলে আমার

মা হয়ে ভেদ পাইনে তোমার

লালন কয় শচীর কুমার

জগৎ ফেলল চমৎকারে ॥

 

(আরো পড়ূন)

আয় দেখে যা নতুন ভাব এনে গোরা

(তোরা) আয় দেখে যা নতুন ভাব এনেছে গোরা

মুড়িয়ে মাথা গলে কাঁথা কটিতে কৌপিন পরা॥

 

গোরা শাল ছেড়ে কৌপিন পরেছে

আপনি মেতে জগৎ মাতিয়েছে

হায় কী লীলা কলিকালে

বেদ বিধি চমৎকারা॥

 

গোরা- হাঁসে কাঁদে ভাবের অন্ত নাই

সদা দীনদরদী বুলি ছাড়ে হায়

ওসে জিজ্ঞাসিলে কয় না কথা

হয়েছে কি ধনহারা॥

 

সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলি হয়

গোরা তার মাঝে এক দিব্যযুগ দেখায়

লালন বলে সে ভাব জানে

সেই ভাবের ভাবুক যারা॥

 

(আরো পড়ূন)

তোমার করে বাঁশী মাথায় চূড়া নাই

তোমার করে বাঁশী মাথায় চূড়া নাই

কার ভাবে এ ভাব হারে জীবন কানাই।।

 

ক্ষীর, সর ও ননী খেতে

বাঁশিটি সদাই বাজাতে

কী অসুখ পেলি তাতে

ফকির হলি ভাই

কার ভাবে এ ভাব হারে জীবন কানাই।।

 

অগুরু চন্দন আদি

মাখিতে নিরবধি

সেই অঙ্গ ধূলায় অদ্ভূতি ।।

এখন দেখতে পাই।।

 

বৃন্দাবন যথার্থ বন

তু’ বিনে হোল রে এখন

মানুষ লীলে করবে কোন জন

লালন ভাবে তাই।।

 

(আরো পড়ূন)

ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে

ধন্য মায়ের নিমাই ছেলে

এমন বয়সে নিমাই

ঘর ছেড়ে ফকিরী নিলে॥

 

ধন্য যে ভারতী যিনি

সোনার অঙ্গে দেয় কৌপিনী

শিখাইল হরি ধ্বনি

করেতে করঙ্গ দিলে॥

 

ধন্য পিতা বলি তারে

ঠাকুর জগন্নাথ মিশ্রে

যার ঘরে গৌরাঙ্গ হারে

মানুষ রুপে জন্মইলে॥

 

ধন্য রে নদীয়া বাসী

হেরিল গৌরাঙ্গ শশী

যে বলে জীব সেই সন্ন্যাসী

লালন কয় সে প’ল ফেরে॥

 

(আরো পড়ূন)

বাগেন্দ্রিয় না সম্ভবে

কোন নামে ডাকিলে তারে হৃদাকাশে উদয় হবে

আপনায় আপনি ফানা হলে তারে জানা যাবে।।

 

আরবি ভাষায় বলে আল্লা

ফারসিতে কয় খোদা তা’লা

‘গড’ বলেছে যিশুর চেলা

ভিন্ন ভাষায় ভিন্ন ভাবে।।

 

আল্লা হরি ভজন পূজন

সকলি মানুষের সৃজন

অনামক অচিনায় বচন

বাগেন্দ্রিয় না সম্ভবে।।

 

মনের ভাব প্রকাশিতে

ভাষার উদয় এ জগতে

মনাতীত অধরে চিনতে

ভাষা-বাক্য নাহি পাবে।।

 

আপনাতে আপনি ফানা

হলে সে ভেদ যাবে জানা

সিরাজ সাঁই কয় লালন কানা

স্বরূপে রূপ দেখ সংক্ষেপে।।

 

(আরো পড়ূন)

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি

মানুষ ছেড়ে খ্যাপারে তুই মূল হারাবি॥

 

দ্বিদলের মৃণালে

সোনার মানুষ উজ্জ্বলে

মানুষ গুরুর কৃপা হলে

জানতে পাবি॥

 

এই মানুষে মানুষে গাঁথা

দেখনা যেমন আলেক লতা

জেনে শুনে মুড়াও মাথা

জাতে তরবি॥

 

মানুষ ছাড়া মন রে আমার

পড়বি রে ঐ শূন্যকার

মানুষ বলে মানুষ আকার

ভজলে তরবি॥

 

ভোলাই শার খাতা, গান নং-১৩২

 

(আরো পড়ূন)

আপন সুরতে আদম গঠলেন দয়াময়

আপন সুরতে আদম গঠলেন দয়াময়

তা নইলে কি ফেরেস্তারে

সেজদা দিতে কয়॥

 

আল্লা আদম না হইলে

পাপ হইলে সেজদা দিলে

শেরেকি পাপ যারে বলে

এই দীন দুনিয়ার॥

 

দুষে সেই আদম ছবি

আজাজীল হল পাপী

মন তোমার লাফালাফি

সেরূপ দেখা যায়॥

 

আদমি হলে চেনে আদম

পশু কি তার জানে মরন

লালন কয় আদ্য ধরম

আদম চিনলে হয়॥

 

(আরো পড়ূন)

জানতে হয় আদম শফির আদ্য কথা

জানতে হয় আদম শফির

জানতে হয় আদম শফি আদ্য কথা

না দেখে আজাজীল সেরূপ

কিরূপ আদম গঠলেন সেথা॥

 

আনিয়ে জেদ্দার মাটি

গঠলেন বোরখা পরিপাটি

মিথ্যা নয় সে কথা খাঁটি

কোন চিজে তার গঠলেন আত্মা॥

 

সেহি আদমের ধড়ে

অনন্ত কুঠুরী গড়ে

মাঝখানে হাতনে কাল জুড়ে

কীর্তিকর্মা বসলেন সেথা॥

 

আদমি হইলে আমদ চেনে

ঠিক নামায় সে দেল কোরানে

লালন কয় সিরাজ সাঁইর গুণে

আদম অধর ধারায় সুতা॥

 

(আরো পড়ূন)

আপনারে আপনি চিনি নে

আপনারে আপনি চিনি নে

দি দোনের পর যার নাম অধর

তারে চিনব কেমনে॥

 

আপনারে চিনতাম যদি

মিলত অটল চরণ নিধি

মানুষের করণ হত সিদ্ধি

শুনি আগাম পুরাণে॥

 

কর্তা রূপের নাই অšে¦ষণ

আত্মারে কি হয় নিরূপন

আপ্ততত্ত্বে পায় শতধন

সহজ সাধক জানে॥

 

দিব্যজ্ঞানী যেজন হোল

নিজ তত্ত্বে নিরঞ্জন পেলো

সিরাজ সাঁই কই লালন র’ল

জন্ম অন্ধ নিজ গুণে॥

 

ছেঁউড়িয়ায় প্রচলিত। লালন-গীতিকা, গান নং১।

 

(আরো পড়ূন)

দীনের ভাব যেদিন উদয় হবে

সেদিন মন তোর ঘোর অন্ধার ঘুচে যাবে-

মণিহারা ফণী যমন, এমতি ভাব রাগের লক্ষণ

অরুণ বসন ধারণ বিভূতি ভূষণ লবে॥

 

ভাবশূন্য হৃদয় মাঝার, মুখে পড় কালাম আল্লার

তাইতে কি মন হবে তারণ ভেবেছে এবার।

অঙ্গে ধারণা বেহাল, হৃদে জ্বালো প্রেমের মশাল

দুই নয়ন হইবে উজ্জল মুর্শিদ বস্তু দেখতে পাবে॥

 

হাদিসে লিখেছে প্রমাণ, আপনারে আপনিকে জান

কীরূপে সে কোথা থেকে কহিছে জবান

না করলি মন সে সব দিশে, তরিকার মঞ্জিলে বসে

তিনেতে তিন আছে মিশে, মুর্শিদ ধরলে জান্তে পাবে॥

 

একের যুতে তিনের লক্ষণ, তিনের ঘরে আ সে ধন

তিনের মর্ম সাধিলে পায় স্বরূপ দর্শন

সাঁই সিরাজের মক্কের বচন, ভেবে কহে ফকির লালন

কথায় কি তার হয়অšে¦ষণ, রাজী হও মন দীনের ভাবে॥

 

লালন সাঁইর গান, দ্বিতীয় খ- , পৃ-১৭৯, গান-=৪৭৯

 

(আরো পড়ূন)

কে তাহারে চিনতে পারে

কে তাহারে চিনতে পারে

এস মদীনায় তরীক জানায়

এ সংসারে॥

 

সবাই বলে নবী নবী

নবী কি নিরঞ্জন ভাবি

দেল ধুঁড়িলে জানতে পাবি

আহাম্মদ নাম বলে কারে॥

 

যার মর্ম সে যদি না কয়

সাধ্য কার কে জানিতে পায়

তাইতে আমার দীন দয়াময়

মানুষ হয়ে ঘোরে ফেরে॥

 

নফী এজবাদ যে জানে না

মিছেরে তার পড়াশুনা

লালন কয় ভেদ উপাসনা

না জেনে চটকে মারে॥

 

লালন সাঁইজীর গা, প্রথম খ-, পৃ-৯- গান-৯

 

(আরো পড়ূন)

স্বরূপে রূপ আছে গিল্টি করা

স্বরূপে রূপ আছে গিল্টি করা

রূপ সাধন করল স্বরূপ- নিষ্ঠ যারা॥

 

শতদল সহস্রদলে

রূপ-স্বরূপে ভাটা গেলে

ক্ষণেক রূপ রয় নিরালে

(ক্ষণে) নিরাকারা॥

 

রূপ বললে যদি হয় রূপ সাধনা

তবে কি আর ভয় ছিল মন

সে মহারাগের কারণ

(রূপে) স্বরূপ ধারা॥

 

ধরবি বলে স্বরূপমণি

থাকগা বসে ঘাটে ত্রিবেণী

লালন বলে সামাল ধনী

(বলি) সেই কিনারা॥

 

(ভাব-সঙ্গীত, দ্বিতীয় খ-য, পৃ,-১০৫, গান-৪০৫)

 

(আরো পড়ূন)

মনের কথা বলব কারে

মনের কথা বলব কারে

মন জানে আর জানে মরম

মজেছি মন দিয়ে যারে॥

 

মনের তিনটি বাসনা

নদীয়ায় করব সাধনা

নইলে মনের বিয়োগ যায় না

তাইতে ছিদাম বলি তোরে॥

 

কটিতে কৌপিন পরিব

করেতে করঙ্গ নিব

মনের মানুষ মনে রাখ

কর যোগার মনুষ্যিরে॥

 

যে দায়ের দায়িক আমার মন

রসিক বিনে জানে কোনজন

গৌর হয়ে নন্দের নন্দন

লালন কয় তাই বিনয় করে॥

 

[প্রথম খ-, পৃ- ২৮৯, গান-২৯৮]

 

(আরো পড়ূন)

বিষম রাগের করণ করা

বিষম রাগের করণ করা

চন্দ্রকান্ত যোগ মাসান্তে

জানে কেবল রসিক যারা ॥

 

ফনির মুখে হস্ত দিয়ে

বসে আছে রসিক নির্ভয় হয়ে

হুতাশন শীতল করিয়ে

অনলেতে দিচ্ছি পারা ॥

 

যোগমায়া রুপ যোগের স্থিতি

দ্বিদলে হয় তার বসতি

জান যদি কোন ব্যক্তি

হও তবে জ্যান্তে মরা ॥

 

সিরাজ সাঁই দরবেশে বলে

লালন থাক গা ডুবে সিন্দুজলে

তাতে অঙ্গ শীতল হলে

(হবি) চন্দ্রভেদি রসিক তোরা ॥

 

[ভাব-সঙ্গীত,পৃ-১৫২, গান নং ৪১৫]

 

(আরো পড়ূন)

বড় নিগুমেতে আছেন গো সাঁই

বড় নিগুমেতে আছেন গো সাঁই

যেখানেতে আছে মানুষ

সেথা চন্দ্র সূর্যের বারাম নাই ॥

 

চন্দ্র সূর্য যে গড়েছে

ডিম্ব রূপে সেই ভেসেছে

একদিনে হিল্লোল এসে

নিরঞ্জনের জন্ম হয় ॥

 

হাওয়াদ্বারী দিল-কুঠুরী

মানুষ আছে শূন্যপুরী

শূন্যকারে শূন্য বাড়ি

মানুষ রয় মানুষের ঠাই ॥

 

আপ্ততত্ত্ব পরম তত্ত্ব

বৃন্দাবনে নিগূঢ় অর্থ

লালন বলে নিগূঢ় পদার্থ

সেই ধামেতে মানুষ নাই ॥

 

(আরো পড়ূন)

ওরে মানুষ মানুষ সবাই বলে

ওরে মানুষ মানুষ সবাই বলে

কোন মানুষের বস কোন দলে ॥

 

অযোনি সহজ সংস্কার

তারা কী সন্ধানে সাধক এতোবার

বড় গহীন মানুষ লীলে ওরে মানুষ লীলে ॥

 

ভজন সাধন নাহি জানি

কোথায় পাই সহজ কোথায় অযোনী

বেড়াই গোলে হরি বোলে

ওরে হরি বোল বোলে ॥

 

তিন মানুষের করণ বিচক্ষণ

তারে জানলে হবে এক নিরুপন

লালন প’লো গোলেমালে

ওরে মহা গোলমালে ॥

 

(আরো পড়ূন)

ভজরে মন জেনেশুনে

ভজরে মন জেনে শুনে

নবী কলামা কালেন্দা আলী হালদাতা

ফতেমা দাতা কি ধন দানে

নিলে ফতেমার শরণ, ফতে’ হয় করণ

আছে ফরমান সাঁইর জবানে ॥

 

সৃষ্টিকর্তা সৃষ্টি করলেন সবারি

যুগে যুগে মাতা হন যোগেশ্বরী

সুযোগ না বুঝে, কুযোগে মজে

মারা গেল জীব ঘোর তুফানে ॥

 

শুনেছি মা তুমি অবিম্বধারী

বেদান্তের উপর গম্ভূ তাহারি

তারে চেনা হল ভার ওরে মন আমার

পড়ে রইলি ভবের ভাব-ভূষণে ॥

 

সাড়ে সাত পান্তি পথের দাঁড়া

আদ্য পান্তি তার আদ্য মূল গোড়া

সিরাজ সাঁইর চরণ ভুলের লালন

আঘাটে মারা যাচ্ছে কেনে ॥

 

(আরো পড়ূন)

কী আইন আনিলেন নবি সকলের শেষে

কী আইন আনিলেন নবি সকলের শেষে।

রেজাবন্দি সালাত যাকাত

পূর্বেও তো জাহের আছে।।

 

ঈসা মুসা দাউদ নবি

বেনামাজি নহে কভি।

শেরেক বেদাত সকল ছিল

নবি কি জানালেন এসে।।

 

ইঞ্জিল তৌরাত জব্বুর কিতাব

বাতিল হলো কিসের অভাব?

তবে নবি পয়গম্বর কি খাস?

ভেবে আমি না পাই দিশে।।

 

ফোরকানের দারজা ভারি

কীসে হলো বুঝতে নারি।

তাই না বুঝে অবোধ লালন

বিচারে গোল বাঁধিয়েছে।।

 

(আরো পড়ূন)

করিয়ে বিবির নেহার

করিয়ে বিবির নেহার রাসুল আমার

কই বলেছেন সাঁই রাব্বানা

জাত-শেফাত দোস্তি করে

কেউ কারো ভুলতে পারে না

 

খুঁজে তার মর্মকথা পাবি কোথা

কবি চৌদ্দ নিকাহ্ কই করেছে

চৌদ্দ ভুবনের প্রতি চৌদ্দ বিবি

করেছে তার দেখ নমুনা।।

 

শেফাতে এসে নবীর তিনজন বিবি

সুসন্তানের মা হয়েছে

আলেফ লাম মীম দেখ না অধীন কানা

তিনে নবী সৈয়দেনা

আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজ লয়ে

সাত সমুদ্রের খবর নে ।।

 

পেয়ে তার আদি অন্ত হয়ে শান্ত

বসে আছে কতজনা

লালন কয় বুঝবাবই ভুল করে কবুল

দেখনা নবী সাল্লেওয়ালা

আগমনিগমে যিনি গুণমান

তার সাথে আর কার তুলনা।।

 

(আরো পড়ূন)

আয় গো যাই নবীর দীনে

আয় গো যাই নবীর দীনে

দীনের ডঙ্কা বাজে

শহর মক্কা মদীনে ॥

 

তরিক দিচ্ছেন নবী জাহের বাতেনে

যথাযোগ্য লায়েক জেনে

রোজা আর নামাজ, ব্যক্ত এহি কাজ

গুপ্ত পথ মেলে ভক্তির সন্ধানে ॥

 

অমূল্য দোকান খুলেছেন নবী

যে ধন চাবি সে ধন পাবি

বিনে কড়ির ধন, সেধে দেয় এখন

না লইলে আখের পস্তাবি মনে ॥

 

নবীর সঙ্গে ছিল ইয়ার চারিজন

নূর নবী চারকে দিলেন চার যাজন

(ও সে) নবী বিনে পথে, গোল হবে চার মতে

লালন বলে যেন গোলে পড়িস নে ॥

 

(আরো পড়ূন)

নবীজীর অর্থ বিনা

নবীজীর অর্থ বিনা ও দিন কানা কর্ম জোটে না

আল্লা নবী হয় এক প্রেমেতে উপাসনা ॥

 

চেতন হলে জানতে পাবি

আল্লা নবী কত দূরে

কে বা নবী কে বা বিবি

ও তুই করগে ঠিকানা ॥

 

যে খোদেজা সেই তো খোদা

আকৃতি নাম রাখলেন জুদা

এক কারেতে মোহরানা

নবীর হয় দেনা ॥

 

চৌদ্দ ভূবন চৌদ্দ ভাগে

তিন বিবি কলেমার আগে

এগারোজন দাস্য ভাবে

লালন কয় করে উপাসনা ॥

 

(আরো পড়ূন)

আমি আর কতদিন জানি

আমি আর কতদিন জানি এই অবলার পরাণই

এ জ্বলনে জ্বলবে ওহে দয়েশ্বর।

চিরদিন দুঃখের অনলে প্রান জ্বলছে আমার।।

 

দাসী ম’লে ক্ষতি নাই, যাই হে মরে যাই

দয়াল নামের দোষ রবে হে গোঁসাই।

আমায় দাও হে দুঃখ যদি, তবু তোমায় সাধি

তোমা ভিন্ন দোহাই আর দিব কার।।

 

ও মেঘ হইয়ে উদয় লুকালো কোথায়

পিপাসীর প্রাণ যায় পিপাসায়।

আমার কি দোষের ফলে এ দশা ঘটালে

চাও হে নাথ ফিরে চাও হে একবার।।

 

আমি উড়ি হাওয়ার সাথ ডুরি তোমার হাত

তুমি না তরালে কে তরাবে হে নাথ।

আমায় ক্ষম অপরাধ দাও হে শীতল পদ

লালন বলে প্রাণে সহে না তো আর।।

 

(আরো পড়ূন)

বিনা পাগালে গড়িয়ে কাঁচি

বিনা পাগালে গড়িয়ে কাঁচি

করছো নাচানাচি।

ভেবেছো কামার বেটারে

ফাঁকিতে ফেলেছি।।

 

জানা যাবে এসব নাচন

কাঁচিতে কাটবে না যখন

কারে করবি দোষী।

বোঁচা অস্ত্র টেনে কেবল

মরছো মিছামিছি।।

 

পাগলের গোবধ আনন্দ

মন তোমার আজ সেহি ছন্দ

দেখে ধন্দে আছি।

নিজ মরণ পাগলে বোদে

তাও তোমার নাই বুঝি।।

 

কেন রে মন এমন হলি

আপন ফাঁকে আপনি প’লি

তাও তো মহাখুশি।

সিরাজ সাঁই কয় লালন রে তোর

জ্ঞান হলো নৈরাশী।

 

(আরো পড়ূন)