চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

কী আইন আনিলেন নবি সকলের শেষে

কী আইন আনিলেন নবি সকলের শেষে

রেজাবন্দি সালাত যাকাত পূর্বেও তো জাহের আছে।।

ঈসা মুসা দাউদ নবি

বেনামাজি নহে কভি

শেরেক বেদাত সকল ছিল

নবি কি জানালেন এসে।।

তৌরাত জব্বুর আরো ইঞ্জিল

কিতাব তিনটি কীসে হয় বাতিল

তবে কি নবি পয়গম্বর না খাস

ভেবে না পাই দিশে।।

ফোরকানের দরজা ভারি

বুঝেও না বুঝতে পারি।

তাই না বুঝে অবোধ লালন

বিচারে গোল বাঁধিয়েছে।।

 

এই গানের আরেকটি ভাষ্য আছে:

... ... ... ... ... ... ... ... ... ......

কী আইন আনিলেন নবি সকলের শেষে

রেজাবন্দি সালাত যাকাত

পূর্বেও তো জাহের আছে।।

ঈসা মুসা দাউদ নবি

বেনামাজি নহে কভি

শেরেক বেদাত সকল ছিল

নবি কি জানালেন এসে।।

 

ইঞ্জিল তৌরাত জব্বুর কিতাব

বাতিল হলো কিসের অভাব।

তবে নবি পয়গম্বর কী খাস

ভেবে আমি না পাই দিশে।।

ফোরকানের দরজা ভারি

কিসে হলো বুঝতে নারি।

তাই না বুঝে অবোধ লালন

বিচারে গোল বাঁধিয়েছে।।

 

(আরো পড়ূন)

পড়রে দায়েমী নামাজ

পড়রে দায়েমী নামাজ, এ দিন হল আখেরী।

মাসুক রূপ হৃদ কমলে, দেখ আশেক বাতি জ্বেলে,
কিবা সকাল কিবা বৈকালে
      দায়েমীর নাম অবধারি।

সালেকের বেহায়াপনা
মজ্জুবি আশেক দেওয়ানা
আশেক দিল হয়ে ফানা
মাশুক বই অন্যে জানে না,
আশার ঝুলি লয়ে সে না
     মাশুকের চরণভিখারী।।

কেফায়া আইনি যিন্নি
এই ফরজ জাত নিশানী
দায়েমি ফরজ আদায়, মিশেছে সে জাতে নূরি।

আইনির অদেখা তরিক
দায়েমি বরজখ নিরিখ
সিরাজ সাইজির হক্কের বচন
ভেবে কহে আবুঝ লালন
দায়েমি নামাজি যে জন
     শমন তাহার আজ্ঞাকারী।

(আরো পড়ূন)

দেখ দেখ মনরায় হয়েছে উদয়

দেখ দেখ মনরায় হয়েছে উদয়
কী আনন্দময় সাধুর সাধবাজারে।
পাপীর ভাগ্যে এমন দিন কি আর হবে রে
     পাপীর ভাগ্যে

যথা রে সেই সাধুর বাজার
তথা সাঁইর বারাম নিরন্তর
এনে সাধ-সভায়, তবে মন আমায়।।
আবার যেন ফেরে ফেলিস নারে।।

সাধু-গুরুর কি মহিমা,
বেদে দিতে নারে সীমা
হেন পদে যার,
নিষ্ঠা না হয় তার।।
না জানি কপালে
কি আছেরে।

সাধুর বাতাসেরে মন,
বনের কাষ্ঠ হয়রে চন্দন।।
লালন বলে মন, খোঁজ কি আর ধন?
সাধুর সঙ্গে রঙ্গে দেশ কররে।।

 

(আরো পড়ূন)

আমার চরকা ভাঙা টেকো আড়ানে

আমার চরকা ভাঙা টেকো আড়ানে
আমি টিপে সোজা করব কত
আর তো প্রাণে বাঁচিনে ।।

একটি আঁটি আরকটি খসে
বেতো চরকা লয়ে যাব কোন দেশে
আর কতকাল জ্বলবো এ হালে
এ বেতো চরকার গুণে ।।

কিবা ছুতোর ব্যাটার গুণ পরিপাটি
ষোল কলে ঘুরায় টেকোটি
তার একটি কলে বিকল হলে
সারতে পারে কোনজনে ।।

সামান্য কাঠ পাটের চরকা নয়
যে খসলে খুঁটো খেটে আঁটা যায়
মনবদেহ চরকা সেহ
লালন কি তার ভেদ জানে ।।

(ভোলাই শার খাতা, গান নং ১২৩৯; পৃষ্ঠা ৬৭)

 

 

(আরো পড়ূন)

সোনার মানুষ ভাসছে রসে

সোনার মানুষ ভাসছে রসে
যে জেনেছে রসপান্তি সেই দেখিতে পায় অনাসে।।

তিনশো ষাট রসের নদী
বেগে ধায় ব্রহ্মাণ্ড ভেদি
তার মাঝে রূপ নিরবধি
      ঝলক দিচ্ছে এই মানুষে।।

মাতাপিতার নাই ঠিকানা
অচিন দেশে বসতখানা
আজগুবি তার আওনা-যাওনা
      কারণবারির যোগ বিশেষে।।

অমাবস্যায় চন্দ্র উদয়
দেখিতে যার বাসনা হৃদয়
লালন বলে থাকো সদাই
ত্রিপিনেতে থাকো [১] বসে।।

[১] পাণ্ডুলিপিতে 'থাকো' আছে, তবে 'ঘাটে' গাওয়া হয়।

(শুদ্ধ পাঠ নির্ণয়: ১৭ এপ্রিল ২০১৮)

(শাহ, ২০০৯, পৃষ্ঠা ৫৪)

 

(আরো পড়ূন)