চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

স্বাধীন সাংবাদিকতা


[এক]
আজ মে মাসের ৩ তারিখ। ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ বা বিশ্বব্যাপী স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চা দিবস। সংবাদপত্র যেন রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে ভয় না পায় কিম্বা মাফিয়ায়দের গোলাম না হয় সেটা মনে করিয়ে দেবার দিবস।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশ খালি পেছাচ্ছে তো পেছাতেই আছে। বাংলাদেশ ২০১৯ সাল থেকে এক ধাপ করে পিছিয়েছে। দুই হাজার উনিশে বাংলাদেশের অবস্থান সূচক ছিল ১৫১, দুই হাজার একুশ সালে ১৫২। পাকিস্তান উপরে,  ১৪৫; অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা উত্ত (আরো পড়ূন)

বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে?

অনেকে প্রায়ই প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে? কিন্তু প্রশ্ন হওয়া উচিত আমরা একে কোন দিকে নিতে চাই?

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে শ্রমিক ও কৃষকদের উপস্থিতি না থাকলেও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার পরিষদের অধিকাংশ সংগ্রামী তরুণেরা গরিব কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সন্তান। আন্দোলনে শ্রেণিগত ছাপ স্পষ্ট না হলেও এটা পরিষ্কার সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মরে কিম্বা পঙ্গু হয়ে দুঃসহ জীবন কাটায় তাদের অধিকাংশই 'মফিজ' -- অর্থাৎ তাদের পরিচয় বা নাম থাকে না। এছাড়া আছে মেহনতি ও নিম্নবিত্তের মানুষ -- যাদের খবর কেউ রাখে না। তাহলে আমাদের উচিত হচ্ছে যে কোন আন্দোলনে অন্তর্নিহিত শ্রেণি প্রশ্নটা ধরতে পারা এবং অন্যদে (আরো পড়ূন)

চলমান রাজনীতির ইতিবাচক উপাদান।

এক

এই লেখা যখন লিখছি তখন হেফাজতের হরতাল চলছে। হেফাজতে ইসলাম ২৮ মার্চ রোববার জানিয়েছে ইতোমধ্যে শহিদ হয়েছেন ১৭ জন এবং কমপক্ষে ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও ছাত্রলীগ, অর্থাৎ রাষ্ট্র ও দলের যৌথ সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভও তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি একটা নতুন কালপর্বে প্রবেশ করেছে এবং সামগ্রিক ভাবে বাংলাদেশের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক পরিসরের বেশ কিছু গুণগত রূপান্তর ঘটে গিয়েছে। সেই বিষয়ে এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি কি হতে পারে তা নিয়েই এই লেখা। আগামি দিনে পরিণতে কি দাঁড়াবে আমি জানি না। তবে সমাজ, ইতিহাস এবং রাজনীতির অ (আরো পড়ূন)

‘স্বাতন্ত্র্য’ ও ‘গঠন’: ধারণা ও রাজনৈতিক অস্পষ্টতা

[এক]

বাংলাদেশের আগামি রাজনীতির অভিমুখ সঠিক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দুটো ধারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি হচ্ছে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিশাবে নিজেদের ‘স্বাতন্ত্র্য’ সঠিক ভাবে নির্ণয়, উপলব্ধি এবং তা কার্যকর ভাবে প্রকাশ করবার সঠিক ভাষা ও রণধ্বণি আবিষ্কার। অর্থাৎ কেন জনগোষ্ঠি হিসাবে আমরা স্বতন্ত্র সেই উপলব্ধি এবং তা প্রকাশের উপযুক্ত ভাষা আমাদের থাকা চাই। একই ভাবে অন্য জনগোষ্ঠির সঙ্গে আমাদের পার্থক্যও বোঝা দরকার। যেমন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বাঙালি, কিন্তু তারপরও পশ্চিম বাংলার যে বাঙালি নিজেকে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিশাবে ‘ভারতীয়&rsq (আরো পড়ূন)

ক্লারা জেৎকিন ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস

জার্মানির কমিউনিস্ট নেত্রী ক্লারা জেৎকিনের  (৫ জুলাই ১৮৫৭ -- ২০ জুলাই ১৯৩৩) প্রস্তাবে মার্চের ৮ তারিখ 'আন্তর্জাতিক নারী দিবস' হিসেবে ১৯১১ সাল থেকে পালিত হয়ে আসছে। এটির শুরু আদিতে 'আন্তর্জাতিক নারী শ্রমিক দিবস' হিশাবে। এর পেছনে রয়েছে শতাব্দি জুড়ে শ্রমিক আন্দোলন এবং নারীপুরুষ নির্বিশেষে পুঁজির শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পাবার অদম্য তাগিদ। তিনি প্রধানত নারীবাদী হিশাবে এখন অধিক পরিচিত, কিন্তু ক্লারা জেৎকিন ইউরোপে কমিউনিস্ট আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন।  তিনি ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, রুশ বিপ্লবে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। লেনিনের সঙ্গে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের জন্য তিনি খ্ (আরো পড়ূন)

২. চিন ও আমরা

আমরা চিন নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু যেভাবে চিন নিয়ে কথা হয় তাতে আমাদের বিশেষ আগ্রহ নাই। যেমন, বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনরা কি ভারত ছেড়ে পিকিং-এর দিকে ঝুঁকছে? ভারতকে শায়েস্তা করতে হলে আমাদের কি চিনের পক্ষে থাকা উচিত? ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থাকে কি চিন সমর্থন দিচ্ছে? এইসব নিরর্থক কৌতুহল ও গালগল্পের আবর্জনার বাইরে ভাবতে পারার সামর্থ্য আমাদের এতদিনে হওয়া উচিত ছিলো। হয় নি। তা নিয়ে দুঃখ করার কিছু নাই। কারণ ফ্যাসিস্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদী (পড়ুন, হিন্দুত্ববাদী) মতাদর্শ এবং উপমহাদেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের বিরুদ্ধে লড়াই বাংলাদেশের জনগণের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কখনই না। সামনে দিনগুলোতে আরও কঠিন হবে। একাত (আরো পড়ূন)

‘এখনকার তরুণরা তাদের সময়ে বাস করে না’

‘আজকের পত্রিকা’র জন্য ফরহাদ মজহারের এই সাক্ষাতকারটি নিয়েছেন কবি সিফাত বিনতে ওয়াহিদ। তরুণ কবি সিফাত বিনতে ওয়াহিদের দুটো কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে:  'নিঃসঙ্গতায় আরো কিছু দেখা হোক' (২০১৯), এবং 'ঘরের ভেতরে ঘর নাই' (২০১৮)।

সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয় ২০১৯ সালের ঈদ সংখ্যায়। এখানে দুই একটি জায়গায় অর্থ স্পষ্ট করবার জন্য বাক্য ঠিক করা ছাড়া আজকের কাগজ ঈদ সংখ্যায় যেভাবে ছাপা হয়েছে সেভাবেই তুলে দেওয়া হোল। যারা নেটে সাক্ষাৎকারটি সহজলভ্য চাইছিলেন তারা এখন সহজে পড়তে পারবেন আশা করি। সাক্ষাৎকারটি ছাপার সময়, ফরহাদ মজহার সম্পর্কে ‘আজকের পত্রিকা’ লাইন কয়েকের পরিচিতিমূলক ভূমিকা পেশ করে। (আরো পড়ূন)

'আগামী একশো বছর নজরে রেখে কবিতা লিখি'

 ফরহাদ মজহারের এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন পশ্চিম বাংলার কবি অতনু সিংহ। অতনু সিংহের পরিচিতি 'ঘুমের চেয়ে প্রার্থনা শ্রেয়' কাব্যপুস্তিকার জন্য। দুজনেই মনে করেন সীমান্তের দুই পাশে বাংলাভাষীদের মধ্যে জানাশোনার সম্পর্ক আরও দ্রুত বাড়ানো দরকার, ঔপনিবেশিক আমলের বিভাজন, বিভেদ ও ক্ষতস্থানগুলো নিরাময়ের ক্ষেত্রে কবিতা ভূমিকা রাখে, বলাবাহুল্য কবিরাও। ফরহাদ মজহারের সঙ্গে অতনু সিংহ প্রায় দুই বছর আগে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা বলেছিলেন। সেই কথাগুলোরই প্রধান অংশ সাক্ষাৎকার হিশাবে এখানে পেশ করা হোল।

'প্রথম বিপ্লবের খুন বেরুবে ভাষা থেকে' শিরোনামে এই সাক্ষাৎকার 'ত্রৈমাসিক দেশক (আরো পড়ূন)

১. চিন এবং আমরা

নিজের ঠিক নাই কিন্তু চিন ও ভারত নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার অবধি নাই। সম্প্রতি ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিবাদ বাংলাদেশে খুবই হাস্যকর কিছু তর্ক তৈরি করেছে। যেমন, আমরা কার পক্ষে থাকব? বালখিল্য জোকারে দেশ ভর্তি বলেই এই ধরণের প্রশ্ন তোলা হয়। কেন বললাম? কারন আপনি কার পক্ষে থাকবেন কি থাকবেন না সেটা কেউই বাংলাদেশকে জিজ্ঞাসা করে নি, করবেও না। ঘুড়ির সুতা অনেক আগেই ছিঁড়ে গিয়েছে। ভূ-রাজনীতির হিশাব নিকাশ এখন বাংলাদেশের নাগালের বাইরে।

দশক দেড়েক আগেও ভূ-রাজনৈতিক কারণে পরাশক্তিগুলো কিছুটা হলেও বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিত। সেসময় চিন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বঙ্গোপসাগরীয় দেশ বাংলাদেশকে পক্ষে রাখা না রাখার প্রতিযো (আরো পড়ূন)

২০. করোনাভাইরাস, জীবানু মারণাস্ত্র এবং বৈশ্বিক নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ

কোভিড-১৯ ভাইরাসকে বলা হচ্ছে ‘নোভেল’, মানে এই ভাইরাস আগে শনাক্ত হয় নি, কিম্বা আগে ছিল না। এর আগে কোভিড-১৯ মহামারী বিশ্বের মানুষ মোকাবিলা করে নি। এই ভাইরাস সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানও অপ্রতুল; বিশেষত সংক্রমণ বিস্তারের চরিত্র এবং সম্ভাব্য চিকিৎসার তথ্য। ফলে মহামারী মোকাবিলার পরিকল্পনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুমানের ওপর নির্ভর করে নির্ণয় করা হয়েছে। অল্প কিছু ধনি দেশ অর্থনীতি, সামরিক শক্তি এবং বিজ্ঞানের ওপর দখলদারির কারনে দরকারি গবেষণা করতে পারছে, তারা প্রতিদিন নিজের এবং অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা যাচাই বাছাই করতে সক্ষম। তারা নতুন তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে মহামারি মোকাবিলা পরিকল্পনায় অদল-বদল ঘটাচ্ছে, পদ (আরো পড়ূন)