চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

জানিতে হয় ভাবাবেশে

অমাবস্যায় পূর্ণিমা সে
পূর্ণিমাতে অমাবস্যে
সে কথা কি ক’বার কথা
     জানিতে হয় ভাবাবেশে।।

অমাবস্যায় পূর্ণিমার যোগ
অসম্ভব সম্ভব সম্ভোগ
জানতে খণ্ডে এই ভবরোগে
     গতি হয় অখণ্ড দেশে।।

রবি শশী রয় সে মুখা
মাসান্তে হয় একদিন দেখা
সেই যোগের যোগ লেখাজোখা
     সাধনে সিদ্ধি হয় অনাসে ।।

দিবাকর নিশাকর সদাই
উভয় অঙ্গে উভয় লুকায়
ইশারাতে কয় সিরাজ সাঁই
     লালন তোর হইল না দিশে ।।

 

(আরো পড়ূন)

ভাব বিনে কি ভাবের মানুষ

ভাব বিনে কি ভাবের মানুষ
ধরতে পারা যায়
অচেনা এক ভাবের পাখি
     হৃদাকাশে উড়ছে সদাই।।

প্রেমময়ের প্রেম মুখ
দেখবার আশে কতই দুঃখ
স্থূল জগত হইল সূক্ষ্ম
     (তাই সে) চেনা বিষম দায়।।

ভাবেতে ব্রহ্মাণ্ড ঘুরে
বিশ্বব্যাপী একটি তারে
তারের খবর ধারা ধারে
     কানের কাছে কয়ে যায়

কাননে ঐ কুসুম কলি
ঝরে ফুটে আসে কলি
রক্তজবা জুঁই চামেলী
     আপনার রঙ আপনি চায়।।

গিরিগুহায় বর্তমান
আছে কত ভাবের পাষাণ
এক জনেরি অনুসন্ধান
     করতেছে লতায় পাতায়।।

কেন জন্ম মৃত্যু হয়
কয়জনে তার খবর লয়
গ্রহতারা তারা গগনময়
     মিটি মিটি কেন চায়।।

ভাবের সাগর গভীর বারি
সকলের ঘটে না পাড়ি
প্রেমিকের ভাঙা তরী
     বিনা বাতাসে উজানে ধায়।।

ভাবনদীতে জীবন ধারা
চলচে ভাটি রয়না খাড়া
তেমন করে যায় যে মারা
     বাহ্য লীলা ভুল কোথায়

জালাল কয় মোর ভাবের গোলা
গুরু বিনে যায় না খোলা
দুই চক্ষে পড়েছে ধূলা
মন মজেনা চরণ সেবায়।।

(আরো পড়ূন)

কোন সাধনে তারে পাই

কোন সাধনে তারে পাই
জীবনের জীবন সাঁই।।

শক্তি শৈব বৈরাগ্য ভাব
তা’তে যদি হয় চরন লাভ
তবে ভক্তি দয়াময়   সদা সর্বদায়
   বিধি ভক্তি বলে দোষিলেন তায়।।

সাধিলে সিদ্ধির ঘরে
আবার শুনি পায়না তারে সাজুগ্য মুক্তি
পেলেও সে ব্যক্তি আবার শুনি
   ঠকে যাবে-রে ভাই।।

গেলনা মোর মনে ভ্রান্ত
পেলাম না তাঁর ভাবের অন্ত
বলে মূঢ় লালন ভবে এসে মন
   কি করিতে যেন কি করে যাই।।

(আরো পড়ূন)

মন রে দ্বীনের ভাব যেই ধারা

মন রে দ্বীনের ভাব যেই ধারা।
শুনলে রে জীবন অমনি হয় সারা
ও সে মরার সঙ্গ মরে ভাবসাগরে
   ডুবতে যদি পারে স্বাভাবিক তারা।।

অগ্নি ঢাকা জৈছে ভস্মের ভিতরে
সুধা তেমনি আছে গরলে হল করে
ও কেই সুধার লোভে যেয়ে মরে গরল খেয়ে
   মস্থনে সু-তাক না জানে যারা।।

দুধে ননীতে মিলন সর্বদা
মন্থন দণ্ডে করে আলাদা আলাদা
মন রে তেমনি ভাবের ভাবে, সুধানিধি পাবে
   মুখের কথা নয় রে সে ভাব করা।।

যে স্তনেতে দুগ্ধ খায় রে শিশু ছেলে
মন্থন জোঁকের মুখে সে তা রক্ত এসে মেলে
অধীন লালন ভেবে বলে বিচার করিলে
   কুরসে সুরস মেলে সেই ধারা।।

 

(আরো পড়ূন)

সামান্যে কি তার মর্ম জানা যায়

সামান্যে কি তার মর্ম জানা যায়।।
হৃদকমলে ভাব দাঁড়ালে
     অজান খবর তারই হয়।।

দুগ্ধে বারি মিশাইলে
বেছে খায় রাজহংস হলে,
মন যদি হয় সাধন বলে
     হও গে হংসরাজের ন্যায়।।

এই মানুষের মানুষ বিহার
মানুষ ধরা নিষ্ঠা হয় যার
সে কি বেড়ায় দেশ দেশান্তর
     পিঁড়ায় পেড়োর খবর পায়।।

পাথরেতে অগ্নি থাকে
বার করে লয় ঠুকনি ঠুকে
সিরাজ সাঁই দেয় তেমনি শিক্ষে
     বোকা লালন সং নাচায়।।

 

(আরো পড়ূন)