চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

তরুণ মার্কসের হেগেল 'ক্রিটিক'

হেগেলের রাষ্ট্রতত্ত্ব নিয়ে তরুন বয়সের মার্কসের পর্যালোচনামূলক রচনা (Kritik des Hegelschen Staatsrechts (§§ 261-313)) নানান ভাবে পড়া সম্ভব এবং তার গুরুত্বকে নানান দিক থেকে পর্যালোচনা করা যায়। এই লেখাটির দুটো ইংরেজি অনুবাদ সহজ লভ্য। একটি রদনি লিভিংস্টোনের অনুবাদ (Marx 1975)। লুসিও কোলেত্তির সম্পাদিত Early Writings'-এ অন্তর্ভূক্ত: Critique of Hegel' Doctrine of the State ((§§ 261-313)) । আরেকটি হচ্ছে, এনেট জোলিন ও জোসেফ ও'মালের অনুবাদ Critique of Hegel's Philosophy of Rights'; এই অনুবাদ সম্পাদনা করেছেন জোসেফ ও'মালে এবং তিনি একটি ভূমিকাও লিখেছেন (Marx, Critique of Hegel's 'Philosophy of Right'; tr. Annette Jolin & Jose (আরো পড়ূন)

রাজনৈতিক রূহানিয়াত ও মিশেল ফুকো

‘রাজনৈতিক রূহানিয়াত’ (spiritualite politique) ধারণাটি ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো (১৯২৬-১৯৮৪) ব্যবহার করেছেন। মার্কসের ব্যবহারিক সম্বন্ধ চর্চার পরিপ্রেক্ষিতে ফুকোর 'রাজনৈতিক রূহানিয়াত' নিয়ে এখানে আলোচনা করব।

ইরানে গত শতাব্দির সত্তর দশকের শেষে বৈপ্লবিক উত্থান পতনের সময় ফুকো ১৯৭৮ সালে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে একবার এবং দ্বিতীয়বার নভেম্বরের শুরুতে ইরানে গিয়েছিলেন। ইটালির সংবাদপত্র ‘করিয়েলে দেরা সেরা’ (Corriere Derra Sera) আন্তর্জাতিক ঘটনা নিয়ে ফুকোকে লিখবার অনুরোধ করায় ফুকো লিখতে রাজি হন। সেই প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি ইরানে যান। ইটালির সংবাদপত্রের সম্পাদক অবশ্য খুবই উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু এর আগে ইরানের শাহের শাসনের বি (আরো পড়ূন)

ব্যবহারিক সম্বন্ধ ও রূহানিয়াত

এর আগের আলোচনায় আমরা দেখিয়েছি মানুষ ও জগতের সম্বন্ধ বিচারই মার্কসের দার্শনিক পর্যালোচনার প্রধান ভরকেন্দ্র। বিমূর্ত দর্শনের পরিমণ্ডল বাদ দিয়ে অর্থশাস্ত্রের পর্যালোচনা দার্শনিক জিজ্ঞাসারই অনিবার্য পরিণতি। অর্থশাস্ত্রীয় বিচার মানুষ ও জগতের সম্বন্ধ বিচার, সেকারণে মার্কসের অর্থশাস্ত্র দর্শনেরই বিষয়।

দুটো শব্দ সাধারণত অদল বদল করে প্রায় একই অর্থে অনেক সময় আমরা ব্যবহার করি: জগত এবং প্রকৃতি। যেন গোলমাল না হয় তার জন্য বলে রাখা দরকার মানুষের সঙ্গে জগতের সম্বন্ধ কথাটাকেই আমরা আরও সংকীর্ণ অর্থে সাধারনত বলি, মানুষ ও প্রকৃতির সম্বন্ধ বিচার। যা কিছুই মানুষের বাইরে মানুষের ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি, কল্পনা বা ইচ্ছা-অভিপ্রায়ের বিষয় হিসাবে মানুষ হাজির দেখতে পা (আরো পড়ূন)

অর্থশাস্ত্রের দার্শনিক চাবি: ‘ব্যবহারিক সম্বন্ধ’

মার্কস পাঠের ক্ষেত্রে এই সাধারণ ভুলটা মার্কস অনুসারী কিম্বা মার্কস বিরোধী প্রায় সকলেই করে থাকেন যে মার্কস দর্শন থেকে প্রস্থান করেছেন। বাংলাদেশে এর অতিশয় স্থূল মানেও আছে। সেটা অনেকটা এরকম যে মার্কস বলেছেন, চিন্তাভাবনা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ যা করবার সেটা এ যাবতকাল দার্শনিকরা করেছেন। দর্শনচর্চা বা তত্ত্ব গিরি করা বিপ্লবীর কাজ নয়। এখন কাজ হচ্ছে দর্শন বা চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে শুধু বিপ্লব করা। মার্কস সম্পর্কে এই ধারণা যে একদমই ভুল সেটাই আমরা এখানে আলোচনা করব।

এরপর মার্কসের অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণার সঙ্গে আমরা পরিচিত হব। সেটা হচ্ছে মানুষ ও জগতের ‘ইন্দ্রিয়পরায়ন মানবিক ব্যবহারিক চর্চা’ (practical, human sensuous ativity) বা সংক্ষ (আরো পড়ূন)

‘জর্মান ভাবাদর্শ’: পাঠ প্রস্তুতি

মার্কস আর এঙ্গেলস-এর তরুণ বয়সের যৌথ রচনার খসড়া ‘জর্মান ভাবাদর্শ’। তাঁদের জীবদ্দশায় এই খসড়া ছাপা হয় নি। কমিউনিজম সম্পর্কে কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি ভাষ্যের সঙ্গে এর মর্ম পুরাপুরি মেলানো কঠিন। ফলে ছাপা হবার পরে এর যে সারকথা ও ব্যাখ্যা সরকারি ভাবে হাজির করা হয়েছিলো তার সীমাবদ্ধতা ধরা পড়তে দেরি হয় নি। আমরা অধিকাংশই জানিনা যে ‘মার্কসবাদ’ নামে যা আমাদের কাছে পরিচিত তার নির্ধারক  ভাষা,পরিভাষা বা বর্গ-- যেমন, ‘ঐতিহাসিক বস্তুবাদ’, ‘দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ’, ‘ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যাখ্যা’, ইত্যাদি মার্কসের নয়, এঙ্গেলসের। মার্কসকে এঙ্গেলস যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং কমিউনিস্ট পার্টি যে ভাষ্য (আরো পড়ূন)

মার্কস-এঙ্গেলস বনাম মার্কস এবং এঙ্গেলস

আমরা মার্কস ও এঙ্গেলসের নাম এক নিঃশ্বাসে নিতে অভ্যস্ত। অনুমান করি তাঁদের চিন্তা অবিভাজ্য। কিন্তু ব্যক্তি হিসাবে তাঁরা আলাদা এবং তাঁদের চিন্তাও গড়ে উঠেছে ভিন্ন প্রক্রিয়ায়। এই ভিন্নতার কথা মনে রেখে উভয়কে তাঁদের নিজ নিজ চিন্তার জায়গা থেকে বোঝা দরকার। দুজনে নামের মাঝখানে হাইফেন দিয়ে যুক্ত করে এক না ভবে বরং তাঁদের স্বতন্ত্র সত্তাকে 'এবং' দিয়ে যুক্ত রাখাই যুক্তি সঙ্গত সেটাই এই লেখায় ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব।

আমাদের আগ্রহ বিশেষ ভাবে মার্কস সম্পর্কে। পাশ্চাত্য দর্শনের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা মার্কসের দার্শনিক প্রকল্প নতুন ভাবে পর্যালোচনা এবং একালে তার উপযোগিতা নির্ণয় আমাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। সেই লক্ষ্যে কিছু বদ্ধমূল অনুমানকে প্রশ্ন করা জরুরী হয়ে (আরো পড়ূন)