চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

কলা আর ছাগল, ধর্ম নয়: গ্রামে জীবিকার দ্বন্দ্ব

পদ্মার চর সংলগ্ন কল্যাণপুর গ্রামে গরিব নারীদের প্রধান আয়ের উৎস ছাগল পালন। এই গ্রামে ২৫ থেকে ৩০ টি পরিবার ছাগল পালন করেই সংসার চালান। এদের জায়গা জমি নেই। এই সব পরিবারের পুরুষরা ইটের ভাটায় অথবা ভ্যান চালানোর কাজ করে। গ্রামটি কুষ্টিয়া জেলায় কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নে অবস্থিত। ইতিমধ্যে গ্রামটি মিডিয়াতে পরিচিত হয়ে গেছে ‘ফসলের ক্ষেতে নারীদের যাওয়া নিষেধ’ এই শিরোনামে। এদিকে এই গ্রামের কৃষকের প্রধান ফসল কলার আবাদ। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কৃষকেরা কলার আবাদ করে। বাণিজ্যিক চাষে কৃষকদের কলা চাষে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করতে হয়। কাজেই কলার বাগানে কোন প্রকার সমস্যা হলে তাদের বড় লোকসান গুনতে হয়।

ছাগল পালনের জন্য আলাদা কোন তৈরী খাদ্যের জন্য (আরো পড়ূন)

বায়ার কিনছে মনসান্তো: কৃষি  ও খাদ্য ব্যবস্থার হুমকি

বাংলাদেশে মনসান্তো অপরিচিত নয়। বিশেষত বিকৃত বীজ ও ফসলের জন্য এই কোম্পানি সারা দুনিয়াতেই পরিচিত। বিকৃত বীজকে ইংরেজিতে সংক্ষেপে জিএমও (জেনেটিকালি মডিফাইড অরগানিজম) বলা হয়। ‘মডিফাইড’ শুনলে মনে হয় বুঝি বীজের স্বভাবে বিকৃতি না ঘটিয়ে কেবল আরও উন্নত করা হয়েছে। বীজের স্বাভাবিক গঠন অক্ষূণ্ণ রেখে তাকে আরও উন্নত করা, বীজের কাছ থেকে আরও ভালো ফসল আদায় করে নেওয়া খারাপ কিছু নয়। কৃষক সব সময়ই এই কাজটি ভাল বীজ পাবার জন্য জমি থেকে ভালো বীজ নির্বাচন কিম্বা বীজের বিশেষ গুণ আদায় করে নেবার জন্য উন্নত জাতের সঙ্গে সংকরায়ন করে। ফলে জেনেটিক মডিফিকেশান কিম্বা গঠনসংকেতে ( Gene) বীজের স্বাভাবিক প্রকৃতি অক্ষূণ্ণ রেখে সংস্কার মোটেও মন্দ কিছু নয়।

(আরো পড়ূন)

গ্রামে সম্পর্ক ক্ষয়ের একটি নজির

ভাবছিলাম কোন ঘটনা কিম্বা ছোটখাট লক্ষণ দেখে সমাজে চিন্তাভাবনার গতি প্রকৃতি সম্পর্কে কমবেশী নিশ্চিত কোন ধারণা করা সম্ভব কিনা। যার ভিত্তিতে সমাজের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে আগাম কিছু বলে দেওয়া হয়তো সম্ভব।

এভাবে কল্পনা করুন। চৈত্রের দাবদাহ, খাঁ খাঁ রোদ। আপনি গ্রামে। দেখছেন গ্রামের একজন অসহায় অভাবী মহিলা একটি পুকুরের প্রশস্ত পাড়ের পাশে এসে অঝোরে কাঁদছে। এটা ছোটখাট পুকুর নয়। গ্রামের মোটামুটি ধনির পুকুর। মহিলার হাতে তার ছাগলের দড়ি্র একটি প্রান্ত। হয়তো এই পশুটিই তার জীবনের একমাত্র সম্বল। একটি পুকুরের পাড়ে ছাগলকে ঘাস খাওয়াবার জন্য চরাতে এসেছিল। কিন্তু এসে দেখছে পুকুরের মালিক আগাছানাশক দিয়ে সবগুলো ঘাস মেরে ফেলেছে। ঘাসগুলো যেন কেউ আগুনে পুড়ে দ (আরো পড়ূন)

পানির ‘হক’ আদায়, পরিবেশ কিংবা এক জলদেবতার গল্প

বন্ধু আহমদ ছফা প্রচণ্ড খরা, উত্তরবঙ্গের মরুকরণ এবং ভয়াবহ পানি সঙ্কটের কথা উঠলেই কমপক্ষে পাক্কা আধাঘণ্টা ধরে দুটো বিষয়ে কথা বলে যায়। এক নম্বর হলো, মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিল। দুই নম্বর, শেখ মুজিবুর রহমানের ভারতনীতি। আমি জানি আমার মতো আরো অনেকে এই দুই বিষয় নিয়ে কথা বহুবার শুনেছে কিংবা শুনতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, ছফা যখন কোনো বিষয়ে তার মতামত নির্ধারণ করে ফেলে তখন তার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে সেই সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এমন কোনো কাজ নাই যা সে করে না। এক কথা হাজার বার বলার ‘কৌশল’ টা এই নিষ্ঠার অংশ। তবুও তার কথা বার বার শুনতে কেউ বিরক্ত হয়েছে সেই খবর কখনো কানে আসে নাই। কারণ হলো, বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সংস্কৃতির অত্যন্ত মৌলিক প্রশ্ন (আরো পড়ূন)

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, বিটিবেগুন চাই না

[এক]

াননীয় কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরির কাছে আমি একটি দরখাস্ত পেশ করব। কিন্তু তার আগে নিজের সম্পর্কে দুই একটি কথা না বলে পারছি না।

আমি কৃষকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেতখামারে কাজ করছি। এটা গ্রাম বা কৃষিব্যবস্থার প্রতি কোন রোমান্টিক ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়। তবে অনেকের মতোই শহরের চেয়ে গ্রাম আমার ভাল লাগে। নিজেকে অনেক সময় প্রশ্ন করি, ভাল লাগার ব্যারামটা শহরের ‘গেঞ্জাম’ থেকে দূরে থাকার বাসনা কিনা। কিন্তু সবসময়ই নেতিবাচক উত্তর পাই। কারন শহরও আমার ভাল লাগে, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। দিনানুদিনের লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে শহরে সাধারণ মান (আরো পড়ূন)

পূর্ব বঙ্গের কৃষক আন্দোলনঃ সাম্প্রদায়িকতা না শ্রেণীসংগ্রাম?

আবুল মনসুর আহমদরে অনেকেই কেবল ব্যঙ্গ লেখক হিশাবে চিনতে চান। কিন্তু তাকে কেবল ব্যঙ্গ লেখক মনে করা তাঁকে ব্যঙ্গের শামিল। এতে তাঁর আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান আড়াল হইয়া যায়। ১৯৪৭ সালের আগের ও পরের ইতিহাস, বিশেষ কইরা আমাদের এই অঞ্চলের কৃষি প্রশ্ন ও তার রূপান্তর জানতে বুঝতে চাইলে আবুল মনসুর আহমদরে বাদ দিয়া সেইটা এক প্রকার অসম্ভব। তিনি ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ নামে একটা আত্মজীবনী লেইখা গেছেন। যেইটা নিছক আবুল মনসুরের আত্নজীবনী না, আমাদের এই ভু-খন্ডের আত্মজীবনীও বটে।

বইটা বিশাল, পুরা বইয়ের আলোচনা এইখানে সম্ভব না। আমরা শুধু কৃষক-প্রজা পার্টির ইতিহাসে নজর ফিরাব। আমাদের ইতিহাস আলোচনায় কৃষক-প্রজা পার্টি নিয়া আলোচনা করতে দেখা যায় না। (আরো পড়ূন)

কৃষি ও খাদ্যে সার্বভৌমত্ব

উবিনীগ ও নয়াকৃষি আন্দোলনের ধান মেলা ও কৃষক সমাবেশ

ডিসেম্বর মাসের দুই থেকে চার তারিখ উবিনীগ ও নয়াকৃষি আন্দোলনের ধানমেলা ও কৃষক সমাবেশ হয়েছিল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার রিদয়পুর বিদ্যাঘরে। নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উবিনীগ’ এর একটি উদ্যোগ হচ্ছে নয়াকৃষি আন্দোলন। দেশীয় বীজের সংরক্ষণ, পুনরুৎপাদন, খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা এবং রাসায়নিক সার ও কীট নাশক মুক্ত চাষাবাদ বিস্তারে মেলাটির আয়োজন করা হয়। উনিশটি জেলা থেকে দুই হাজার কৃষক মেলায় যোগ দিয়েছিলেন। মেলায় ছিলেন চিন্তার নিজস্ব প্রতিবেদক আতাউর রহমান রাইহান

‘আঁরা কত সোন্দর আছিলাম!’

নিজের নাম ঠিকানা জানি (আরো পড়ূন)

টাঙ্গাইলে  নয়াকৃষির ধান মেলা

ধানের বৈচিত্র রক্ষা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম

উবিনীগ ও নয়াকৃষি আন্দোলনের আয়োজনে দুই থেকে চার ডিসেম্বর টাঙ্গাইলের রিদয়পুর বিদ্যাঘরে ধান মেলা ও কৃষক সমাবেশ চলছে। মেলায় বিভিন্ন এলাকার নয়াকৃষির কৃষকদের সংগৃহীত ধানের বীজের প্রদর্শনী চলবে। প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। এসবের পাশাপাশি ডিসেম্বরের তিন তারিখে বিশ্ব কীটনাশক বন্ধ দিবস উপলক্ষে সকাল নয়টায় মিছিল হবে। চার ডিসেম্বর হবে কৃষকদের শপথ অনুষ্ঠান। এছাড়া প্রতিদিন সকাল দশটা থেকে একটা পর্যন্ত ও বিকাল তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত দুটি অধিবেশ (আরো পড়ূন)