চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

গণবিরোধী ও গণপন্থী রাজনৈতিক ধারা

পলাশি ও বক্সারে সুবে বাংলার সামন্ত নওয়াবেরা ব্রিটিশ বেনিয়াদের হাতে পরাজিত হওয়ার পরে এই অঞ্চলের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চলে যায় মুনাফাকে খোদার আসনে বসানো ব্রিটিশ বেনিয়া ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে। তারা সমৃদ্ধ বাংলার পাট, চিনি, চা, মশলা ইত্যাদি লুটপাট শুরু করে আর ব্যবসায় প্রতিযোগিতা ঠেকাতে ধ্বংস করে এই অঞ্চলের লাভজনক কৃষি (চাপিয়ে দেয় নীল চাষ) ও জগদ্বিখ্যাত মসলিনের মতো শিল্পসমূহ। এসব লুটপাট চালু রাখতে ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী পালতে তারা জবরদস্তি অতি উচ্চহারে খাজনা আদায় করে এই দেশের কৃষকের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে দুর্ভিক্ষকে নিয়মিত ঘটনায় পরিণ (আরো পড়ূন)

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সনদের সীমাবদ্ধতা ও গণপরিষদের দাবী

বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ইতিহাসের এক যুগান্তকারী অধ্যায়। কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়াই রাস্তায় নেমেছিল ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, বেকার যুবক এবং প্রান্তিক মানুষ। তাদের উপস্থিতি রাষ্ট্রক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। দাবি ছিল স্পষ্ট—দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র, সমতা, এবং জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা। এই ঢেউ শুধু ক্ষমতার চাকা পাল্টায়নি, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদ, ফ্যাসিস্ট শক্তি ও ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা থেকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগঠনের বাসনাই ছিলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্দেশ্য।

অভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তীকালীন সরকার দ্রুত সংস্কার কমিশন গঠন (আরো পড়ূন)

নির্বাচন, গণতন্ত্র ও আততায়ী রাজনীতি

১. আগুন নেভেনি, গণমানুষের হৃদয়ের পাশে দাঁড়ান
গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে আগুন গণমানসে রোপিত হয়েছে তা মোটেও নিভে যায়নি। শহিদ শরিফ ওসমান হাদির জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণ মিলল আগুন জ্বলছে এবং তা অগ্ন্যুৎপাত ঘটাতে সক্ষম। বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা এবং বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থা বাতিল করে নতুন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের অভিপ্রায় এখনও জ্বলন্ত। মানুষ ইনসাফ চায়, কিন্তু হাসিনাহীন হাসিনাব্যবস্থা ইনসাফ দূরে থাকুক এখনও খুনিকে ধরতে ও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারেনি। এই অক্ষমতা পুরানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্ (আরো পড়ূন)

এনায়েতুল্লাহ আব্বাসির বক্তব্য: শরিয়তের অপব্যাখ্যা, হত্যার প্ররোচনা এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি

বাংলাদেশে তাকফিরি প্রবণতার একটা পর্যালোচনা দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মতাত্ত্বিক কাজ হিসাবে হাজির রয়েছে। বর্তমানে মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসির জনসম্মুখে দেওয়া কিছু বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ‘তাওহিদি ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি ইসলামের নামে ‘শাতিমে রসুল’ (নবী (সা.) অবমাননাকারী) ও মুরতাদদের (ধর্মদ্রোহী) শাস্তিস্বরূপ ‘কল্লা কেটে দেওয়ার’ এবং ‘নিজ হাতে’ ফাঁসি কার্যকর (আরো পড়ূন)

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশে গণরাজনৈতিক ধারার সূচনা

বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস খুব‌ই পুরাতন। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯-এ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও ৯০-এর এরশাদবিরোধী আন্দোলন– সবগুলো পর্বই ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসাবে অভিহিত করা হয়। কোনো দাবি বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্মিলিত আন্দোলন এবং আন্দলোনের প্রক্রিয়ায় সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে জনগণের যে সামষ্টিক উত্থান ঘটে তাকেই গণঅভ্যুত্থান বলে। জনগণের এই সামষ্টিক রাজনৈতিক সত্তার জীবন্ত ও মূর্ত রূপই গণতন্ত্র। জনগণই সার্বভৌম – গণঅভ্যুত্থান গণতন্ত্রের এই মৌলিক সত্য প্রতিষ্ঠা করে এবং জনগণের গাঠনিক শক্তি (Constituent Power)  হিসাবে হাজির হয়। এ (আরো পড়ূন)

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব

দুই হাজার চব্বিশ সালে  ঘটে যাওয়া অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে এসেছি আমরা। পুরানা গণবিরোধী সংবিধান ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করবার জন্য জনগণ অকাতরে শহিদ হয়েছে, অনেকে সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং নানাভাবে জুলুমের শিকার হয়েছেন। দুই হাজার পঁচিশে এসে উপদেষ্টা সরকার জুলাই ঘোষণাপত্র পেশ করেছে। ড. ইউনূস গণঅভ্যুত্থানের নায়ক নন, তিনি তার ফল বা ফলভোগী মাত্র। ছেলে যেমন বাপের নাম দিতে পারে না, তেমনি ড. ইউনূসেরও জুলাই ঘোষণাপত্র পেশ করবার কোন‌ও এখতিয়ার নাই। শুধু তাই নয় ড. ইউনূস পুরানা সংবিধান ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা (আরো পড়ূন)

ডাকসু ২০২৫ : ছাত্ররাজনীতির নয়া সমীকরণ

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার, আবাসন, পাঠ্যক্রম, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি সংগঠিত ছাত্র সংসদের প্রয়োজন দেখা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা, নিজেদের নৈতিক বিকাশ, সমাজসেবা ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে ১৯২৩ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (Dhaka University Student Union) গঠিত হয়। তখনকার শিক্ষার্থীরা সান্ধ্য বিদ্যালয়, সাহিত্য-সংস্কৃতি-শরীর চর্চা, খেলাধুলা, বস্তির গরিব শিশুদের পাঠদানসহ নানান সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে উপনিবেশবিরোধী চেতনা ও আন্দোলনে ডাকসুর ছাত্রনেতাদের অংশগ্রহণ ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির (আরো পড়ূন)

শাহবাগের সুরতহাল

এই লেখাটির প্রথম অংশে ওয়ার অন টেররের বয়ান বিশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু প্রাথমিক যুক্তিকাঠামো (logical framework) দাঁড় করানো হয়েছে। এরপর শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ববর্তী যুক্তিকাঠামোর সাযুজ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিশেষে আছে উদাহরণ আকারে একটি লেখার (ফেসবুক পোস্ট) পর্যালোচনা। 

মার্কিন ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ’ (War on Terror) একটি ইচ্ছাকৃত নির্বুদ্ধিতা বা উৎকল্পনার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা কিনা ‘সন্ত্রাস’ এবং ‘যুদ্ধ’-কে পরস্পরবিরোধী ধারণা আকারে দেখাতে সক্ষম। যেখানে ‘জঙ্গ’ জিনিসটা কেবল এক বিশেষ পক্ষের জন্যেই চিরন্তন ন্যায্য, মানে সন্ত্রাসীদের যু (আরো পড়ূন)

গণঅভ্যুত্থান এখনও শেষ হয়নি

১৫ই আগস্ট সমকাল ২০২৪

সমকাল: নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর আপ (আরো পড়ূন)

ছাত্র-জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ‘সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব’ প্রতিহত করতে হবে

বাংলা ভাষার অন্যতম কবি, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার। সম্প্রতি বাংলাদেশ একটি বিশেষ কালপর্ব অতিক্রম করছে। শত শত ছাত্র-জনতার রক্তপাতের মধ্য দিয়ে হাসিনা সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। এই বিশেষ মুহূর্ত নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বুদ্ধিজীবী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী। 

দেশ রূপান্তর: শুভ জন্মদিন ফরহাদ ভাই। দেশের একটা বিশেষ মুহূর্তে (৯ আগস্ট) আমরা আপনার ৭৮তম জন্মদিন পালন করলাম। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আসা দেশের এই সন্ধিক্ষণকে আপনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?

< (আরো পড়ূন)