চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

মানুষ ধরো নিহারে রে

মানুষ ধরো নিহারে রে
ওরে মন নাও গে যোগাযোগ করে।।

নিহারায় চেহারা বন্দী করো রে করো একান্তি
সাড়ে চব্বিশ জেলায় খাটাও পাত্তি
পালাবে সে কোন শহরে রে
ত্বরায় মন দারোগা হয়ে
      করো রাজবন্দী স্বরূপ সঙ্গীরে।।

স্বরূপে আসন যাহার পবন হেলালে নেহার
লক্ষণ করে দেখো এবার
দিব্যচক্ষু প্রকাশ করে
দু পক্ষে খেলছে যে না
      নরনারী রূপ ধরে।।

অমাবস্যা পূর্ণমাসী তাহে নহর যোগ প্রকাশি
ইন্দ্রিয়ফাঁদ বাইশজন আদি [১]
সে যোগের বাঞ্ছায় আছে রে
সিরাজ সাঁই বলে রে লালন
মানুষ সাধো প্রমাণ রে।।

[১] এই বাক্যটি খাতায় কিছুটা অস্পষ্ট

(শাহ, ২০০৯, পৃষ্ঠা ৪৮)

শুদ্ধ পাঠ নির্ণয়: ৪ এপ্রিল ২০১৮]

(আরো পড়ূন)

জানগা নূরের খবর,যাতে নিরঞ্জন ঘেরা

জানগা নূরের খবর
     যাতে নিরঞ্জন ঘেরা
  নূর সাধিলে নিরঞ্জনকে
     যাবে রে ধরা।।

নূরে নবীর জন্ম হয়
সে নূর গঠলেন অটলময়, কাঙ্গুরা
নূরের হিল্লোলে বর্ত 
   নূর-জোহরা।।

নূরের শ্রেষ্ঠ নূর
জানে স-চতুর জীব যারা,
নূর গঠিছে নূর মহম্মদ
   খাকের পিঞ্জরা।।

যে দিন নিবিবে নূরের বাতি
ঘিরবে এসে কাল দূতি, চৌমহলা,
লালন বলে রবে
    খাকের পিঞ্জরা।।

 

(আরো পড়ূন)

দেখবি যদি সে চাঁদেরে

।। দেখবি যদি সে চাঁদেরে ।।

দেখবি যদি সে চাঁদেরে
  যা যা কারণ-সমুদ্রের পারে।।

কারুণ্য তারুণ্য আড়ি
যে জন দিতে পারে পাড়ি
সে বটে সাধক
   এড়ায় ভবরোগ
       বসত হবে তাহার অমর নগরে।।

এক নদীর তিন বইছে ধারা
নাইকো নদীর কুল কিনারা
   বেগে তুফান ধায়
      দেখে লাগে ভয়
পার হবে যদি সাজাও প্রেমের তরী রে।।

যাসনা রে সামান্য নৌকায়
সে নদী বিষম তড়পায় [১]
  গেলে প্রাণে হবি নাশ, থাকবে অপযশ,ভবের পরে।।

মায়ার গেরুফি কাঠ
ত্বরায় প্রেম তরিতে চড়
সামনে কারণ-সমুদ্দুর
   পার হয় হুজুর
        যা-রে লালন শুধু গুরুবাক্য ধরে।। [২]

... ... ... ...

কথান্তর

বিভিন্ন সংকলনে এ গানের কথান্তর আছে

যেমন

[১] সে নদীর বিষয় তর্কায়...

 

[২] দেখবি যদি সে চাঁদেরে
যা, যা কারণ সমুদ্দুরের পারে।।
তারুণ্য কারুণ্য আড়ি
যেজন দিতে পারে পাড়ি
সেই বটে সাধক
এড়ায় ভবরোগ
বসত হবে তার অমর-নগরে।।

যাস রে সামান্য নৌকায়
সে নদীর বিষম গুড়খায়
গেলে প্রাণ হবি নাশ
থাকবি অপযশ
যদি সাজাও প্রেমের তরী রে।।

কারণ সমুদ্দুর পারে
গেলে পায় অধর চাঁদেরে
কারণ সমুদ্দুর
পার হয়ে গুরুর
যারে লালন সৎগুরুর বাক্‌ ধরে।।

–লালন গীতিকা, পৃ. ৬০-৬১

 

(আরো পড়ূন)

ডুবে দেখ দেখি মন কিরূপ লীলাময়

ডুবে দেখ দেখি মন কিরূপ লীলাময়,
যাঁরে আকাশ পাতালে খুঁজি
     এই দেহে সে রয়।।

শুনতে পাই চার কারের আগে,আশ্রয় করে ছিল রাগে,
এ বেশে অটলরূপ ঝেঁপে
     মানব লীলা জগতে দেখায়।।

লামে আলিফ লুকায় যেমন
মানুষে সাঁই আছে তেমন,
তা নইলে কি সব নূরীতন
     আদমকে সেজদা জানায়।।

আহাদে আহম্মদ হল
আদমে যে জন্ম নিল,
লালন মহা ঘোরে প'ল
     লীলার অন্ত না পাওয়ায়।।

 

(আরো পড়ূন)