চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

‘বাচ্চাবাজি’, শরিয়া এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী আফগান জনগণের বিজয়

এক

এখানে আফগানিস্তান নিয়ে আমরা একটু ভিন্ন ভাবে আলোচনা করব, যেন বাঁধিগৎ তর্কাতর্কি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারি।

বাঁধিগৎ তর্কাতর্কি নানান ধরনের হতে পারে। যেমন, তালেবানরা হানাদার ও দখলদার মার্কিন বাহিনীর চোখে সন্ত্রাসী বা ‘টেররিস্ট’। তাদের ইসলাম , বিশেষত ‘শরিয়া আইন’ পাশ্চাত্যের লিবারেল বা উদারবাদী চিন্তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে আফগানিস্তানের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কোন আলোচনা আসলে আফগানিস্তানে কি ঘটছে বা কি ঘটল সেই দিকে নিবিষ্ট না থেকে সেটা ইসলাম ও ‘শরিয়া’ আইন নিয়ে তর্কে পর (আরো পড়ূন)

ফরহাদ মজহারের কুরবানি বিষয়ক প্রস্তাবনা: মুফাসসিরিনের সিদ্ধান্তের আলোকে

 প্রথম কিস্তি

সম্প্রতি শ্রদ্ধেয় ফরহাদ মজহার কুরবানি নিয়া একটি সিরিজ লেখা শুরু করছেন। কুরবানি নিয়া ফরহাদ মজহারের লেখাগুলা ধারাবাহিক; এখন পর্যন্ত দুইটা কিস্তি উনি লিখছেন। সেই দুই কিস্তিতে যা যা আসে নাই, তা সামনের কিস্তিগুলায় আনবেন— বলছেন সেকেন্ড কিস্তির শেষে। তাই কুরবানি নিয়া ফরহাদ মজহার যা যা বলতে চান, তা এখনো সম্পন্ন ও সম্পূর্ণ না। ফলে, মন্তব্য করা মুশকিল।

তবু, ওনার লেখা নিয়া নানা ধরনের বিতর্ক তৈয়ার হইছে। এই ধরনের বিতর্করে আমি ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখি। যদিও, (আরো পড়ূন)

৪. ইসলামে কোরবানি: ‘মনের পশু তত্ত্ব’ ও খ্রিস্ট ধর্ম

সোরেন আবায়া কিয়ের্কেগার্ড (Søren Aabye Kierkegaard) বা সংক্ষেপে সোরেন কিয়ের্কেগার্ড (১৮১৩-১৮৫৫) আধুনিক কালের সামনের সারির দার্শনিক। পাশ্চাত্য যখন এনলাইটমেন্টের শিখরে – অর্থাৎ জীবন ও জগতের প্রচলিত অনুমান, সংস্কার, ধারণা, প্রত্যয় প্রতিজ্ঞা সবকিছুই যখন বুদ্ধির প্রবল পরাক্রমে বিধ্বস্ত, সবকিছুই যখন সার্বভৌম বুদ্ধির সঙ্গে লড়ে পরাজিত এবং বুদ্ধির অধীনস্থ, শুধু বুদ্ধি যখন মানুষের সকল বৃত্তির সর্দার হিশাবে ঘোষিত ও প্রতিষ্ঠিত -- সেই ডামাডোলের মধ্যে তাঁর আবির্ভাব। তাঁকে পাঠের সময় একটা অদ্ভুত শিহরণ জাগে। মনে হয় একজন বিশ্বাসী তাঁর বিশ্বাসকে এক প্রবল ঝড় ও তুফানের মধ্যে বুকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইছেন। যুক (আরো পড়ূন)

আফগানিস্তান: পাশ্চত্যের 'ক্রুসেড' ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠির সংগ্রাম

আফগানদের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ‘ক্রুসেড’ চলছে। সেকুলার ভাষায় এই ক্রুসেডের নাম ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’। আফগানদের লড়াই দখলদার মার্কিন ও ন্যাটো সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই, দখলদারদের বিরুদ্ধে নিপীড়িত আফগানদের লড়াই। এই লড়াই ন্যায় সঙ্গত ও ন্যায্য। গণতান্ত্রিক ধ্যানধারনার দিক থেকে আফগানদের লড়াই জাতীয় মুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ের লড়াই। এই লড়াই করতে গিয়ে যে মতাদর্শকে সঠিক ও বাস্তবোচিত মনে হয়েছে আফগানরা তাই গ্রহণ করেছে। কিন্তু আফগানদের জাতীয় মুক্তির লড়াইয়ে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের 'তালেবান' বলা হয়। 'তালেবান' বলা উদ্দেশ্যপূর্ণ।

জর্জ বুশের ক্রুসে (আরো পড়ূন)

৩. ইসলামের কোরবানি: 'মনের পশু' তত্ত্ব ও খ্রিস্ট ধর্ম

 এক

সুরা আস-সাফফাত ও কোরবানি নিয়ে আমাদের আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য কোরান ঠিক যেমন আছে তেমন পাঠের মধ্য দিয়ে এ সময়ের ধর্মতত্ত্ব, দর্শন ও রাজনীতির পরিমণ্ডলে প্রবেশ করা। তাফসীর, হাদিস কিম্বা ইসলামের নিজের আভ্যন্তরীণ তর্ক বিতর্ক (discursive tradition) খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু ইসলামের চোখে কোরানুল করিম আল্লার ‘ওহি’। ‘ওহি’ সবার উর্ধে। কোরানুল করিমকে ‘ওহি’ হিশাবে সবার আগে আলাদা গণ্য করতে ন (আরো পড়ূন)

কোরবানি: বাইবেলে ও কোরানে

কোরআনের হিকমত ও প্রজ্ঞা অন্বেষণ সাধারণ কাজ না। তার জন্য সবার আগে দরকার আল্লার ওহি হিসাবে কোর‌আন ঠিক যেভাবে নাজিল হয়েছে ঠিক সেভাবেই তাকে পাঠ করা। কোরআন নিয়ে অতীতে অনেক তাফসির ও অনেক ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হয়েছে। কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার ইহুদি- খ্রিস্টিয় ধর্মতত্ত্ব এবং গ্রিকচিন্তার মিশ্রণে যে ধর্মতাত্ত্বিক, জ্ঞানগত, আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডল গড়ে উঠেছে তার আধিপত্য থেকে আমরা মুক্ত হতে পারছি না। তাহলে প্রথম কাজ ইহুদি–খ্রিস্টিয় চিন্তার আধিপত্য থেকে আমাদের মুক্ত হওয়া।

(আরো পড়ূন)

২. ইসলামের কোরবানি: 'মনের পশু' তত্ত্ব ও খ্রিস্ট ধর্ম 

কারো কারো অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে, তবে আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষই মনে করেন আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম (আঃ)-কে তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করবার জন্য নিজের সন্তান কোরবানি করবার ‘নির্দেশ’ দিয়েছেন। এটা আসলে বাইবেলের আদি পুস্তক বা তৌরাত শরিফের গল্প। কিন্তু এই গল্পকেই তাঁরা কোরানুল করিমের বয়ান মনে করেন। এটা ঠিক না। কোরানুল করিমে আল্লার 'আদেশ' পালন করবার জন্য সন্তানকে হত্যা ও কাঠের চিতায় বলীদানের গল্প নাই। ইসলামে আল্লাহ 'দয়ার দয়া', 'দয়াল'। তিনি 'রাহমানুর রাহিম'। তিনি আনুগত্য প্রমানের জন্য পিতাকে নিজের প্রিয় সন্তান বলি দানের কথা বলতে পারেন কি? আধুনিক পাশ্চাত্য দর্শনে বাইবেলের গল্প (আরো পড়ূন)

স্বাধীন সাংবাদিকতা


[এক]
আজ মে মাসের ৩ তারিখ। ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ বা বিশ্বব্যাপী স্বাধীন সাংবাদিকতা চর্চা দিবস। সংবাদপত্র যেন রাষ্ট্রের রক্তচক্ষুকে ভয় না পায় কিম্বা মাফিয়ায়দের গোলাম না হয় সেটা মনে করিয়ে দেবার দিবস।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম সূচকে বাংলাদেশ খালি পেছাচ্ছে তো পেছাতেই আছে। বাংলাদেশ ২০১৯ সাল থেকে এক ধাপ করে পিছিয়েছে। দুই হাজার উনিশে বাংলাদেশের অবস্থান সূচক ছিল ১৫১, দুই হাজার একুশ সালে ১৫২। পাকিস্তান উপরে,  ১৪৫; অর্থাৎ বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা উত্ত (আরো পড়ূন)

বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে?

অনেকে প্রায়ই প্রশ্ন করেন বাংলাদেশের রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে? কিন্তু প্রশ্ন হওয়া উচিত আমরা একে কোন দিকে নিতে চাই?

বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে শ্রমিক ও কৃষকদের উপস্থিতি না থাকলেও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও ছাত্র অধিকার পরিষদের অধিকাংশ সংগ্রামী তরুণেরা গরিব কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সন্তান। আন্দোলনে শ্রেণিগত ছাপ স্পষ্ট না হলেও এটা পরিষ্কার সড়ক দুর্ঘটনায় যারা মরে কিম্বা পঙ্গু হয়ে দুঃসহ জীবন কাটায় তাদের অধিকাংশই 'মফিজ' -- অর্থাৎ তাদের পরিচয় বা নাম থাকে না। এছাড়া আছে মেহনতি ও নিম্নবিত্তের মানুষ -- যাদের খবর কেউ রাখে না। তাহলে আমাদের উচিত হচ্ছে যে কোন আন্দোলনে অন্তর্নিহিত শ্রেণি প্রশ্নটা ধরতে পারা এবং অন্যদে (আরো পড়ূন)

চলমান রাজনীতির ইতিবাচক উপাদান।

এক

এই লেখা যখন লিখছি তখন হেফাজতের হরতাল চলছে। হেফাজতে ইসলাম ২৮ মার্চ রোববার জানিয়েছে ইতোমধ্যে শহিদ হয়েছেন ১৭ জন এবং কমপক্ষে ৫০০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও ছাত্রলীগ, অর্থাৎ রাষ্ট্র ও দলের যৌথ সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভও তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতি একটা নতুন কালপর্বে প্রবেশ করেছে এবং সামগ্রিক ভাবে বাংলাদেশের ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক পরিসরের বেশ কিছু গুণগত রূপান্তর ঘটে গিয়েছে। সেই বিষয়ে এবং এর সম্ভাব্য পরিণতি কি হতে পারে তা নিয়েই এই লেখা। আগামি দিনে পরিণতে কি দাঁড়াবে আমি জানি না। তবে সমাজ, ইতিহাস এবং রাজনীতির অ (আরো পড়ূন)