চিন্তা


চিন্তা ও তৎপরতার পত্রিকা

লেনিনের স্বাস্থ্য ভাবনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের ফিল্ড হাসপাতাল

ঈশ্বর বাস করেন বহু উঁচুতে স্বর্গে
জার থাকেন বহুদূরে মস্কোতে’
-- বিপ্লব-পূর্ব রাশিয়ার কৃষকদের লোকগীতি

পূর্বকথা

বহু মনীষী পৃথিবীকে স্বর্গে পরিণত করার স্বপ্ন দেখেছেন যুগে যুগে। লেনিন নামে খ্যাত ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ (Vladimir Ilyich Ulyanov: ১৮৭০ – ১৯২৪) তাদের অন্যতম।

পুঁজিবাদী বিশ্বে ১৮৯৫ একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। এই বছর বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও কবি সাহিত্যিকদের সম্মানিত করার জন্য আলফ্রেড নোবেল পুরষ্কার তহবিল সৃষ্টি করেছিলেন । এই একই বছর রাশিয়ান ফার্মেসী সোসাইটি স্থাপিত হয়।

১৮৯৫ সন পৃথিবীর পরিবর্তনের সূচনার বছর। সেন্ট পিটার্সবার্গে শ (আরো পড়ূন)

'দুর্ঘটনা' নয়, নিয়মিত মৃত্যু

দুর্ঘটনা এখন ‘নিয়মিত’ ঘটনা

পাহাড় ধসের কারনে মানুষ মরছে। এটা এখন আর দুর্ঘটনা নয়, নিয়মিত ঘটনা। বর্ষা এলেই কোন কোন উপজেলায় পাহাড় ধসে মানুষ জ্যান্ত কবর হয়ে যাচ্ছে। এবার একটু আগাম ও টানা বর্ষণ নামতে না নামতেই চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১৫০ জনের বেশী মানুষ মরেছে বলে কিছু পত্রিকা দাবি করেছে। দৈনিক যুগান্তরের ১৪ জুনের সংবাদ বলছে, ‘পাহাড় ধসে নিহত বেড়ে ১৪১’; একই তারিখে দৈনিক প্রথম আলোর হিসাব ১২৬ (‘পাহাড় ধসে নিহত ১২৬’)। এর আগে ২০০৭ সালে ১২৭ জন মারা যায়। এবার মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লো। গত ১০ বছরে (২০০৭-১৬) ২০১ জন নিহত হয় প্রথম আলো ১৪.০৬. ১৭) (আরো পড়ূন)

‘বিপ্লব’

‘বিপ্লব’, ‘বৈপ্লবিক’, ‘বৈপ্লবিকতা’ ইত্যাদি শব্দ হামেশা ব্যবহারের ফলে এই শব্দগুলো ক্লিশে হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ ব্যবহারে ব্যবহারে জীর্ণ, অনেকটা ছেঁড়া টাকার মতো। অথচ জাতীয় টাঁকশাল থেকে ছাপা টাকা সবসময়ই বৈধ। ছেঁড়া টাকা এখনও বিনিময়ের বৈধ মাধ্যম, কিন্তু বাজারে সেই টাকা চলে না, কেনাবেচা কঠিন হয়ে পড়ে। ছেঁড়া টাকা সহজে কেউ নিতে চায় না। তেমনি পরস্পরের মধ্যে চিন্তার বিনিময়ের জন্য কিছু উপযুক্ত ভাষা-পরিভাষার দরকার আছে, চিন্তার টাঁকশাল থেকেই তাদের উৎপত্তি। কিন্তু অতি ব্যবহারে সেটাও যখন জীর্ণ হয়, তখন তা ভাবের বিনিময় ও চিন্তার বিকাশে বাধা হয়ে পড়ে। যার সঙ্গে ভাবের বিনিময় ঘটাতে চাই তিনি শব্দটির অন্তর্গত মর্ম বিশেষ কবুল করতে র (আরো পড়ূন)

‘বুর্জোয়া’

আমরা ‘বুর্জোয়া’ বুঝি কি?

বামপন্থায়, তবে বিশেষ ভাবে কমিউনিস্ট আন্দোলনে, একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা হচ্ছে ‘বুর্জোয়া’। শ্রেণি রাজনীতি যারা করেন তাদের কাছে এই শব্দটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। আমরা তরুণ বয়সে যখন কমিউনিস্ট রাজনীতিতে দীক্ষা নেই তখন শব্দটার প্রতি আমাদের আকর্ষণ ছিল প্রবল। শব্দটি মনের মধ্যে প্রচণ্ড শত্রু শত্রু ভাব জাগাতো কারন এর বিরুদ্ধেই শ্রমিক শ্রেণি বা কমিউনিস্ট ভাষায় ‘প্রলিতারিয়েত’কে লড়ে বিপ্লব করতে হবে। শব্দটার প্রতি প্রবল আকর্ষণ থাকলেও রহস্যে টইটুম্বুর এই বিদেশি শব্দের আসল মানে আমরা সেকালে ততো জানতাম না। ‘বুর্জোয়া’ বলতে আমর (আরো পড়ূন)

‘নো ট্যাক্স উইথাউট রিপ্রেজেন্টেশান’

ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়বেন না
বাজেটের পরিসংখ্যান নিয়ে তর্কাতর্কি পরে করুন। গণিত পরে। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেবেন না। সহজ করে ভাবুন, যাতে সহজ ভাবে ট্যাক্স ব্যাপারটা কী এবং অর্থমন্ত্রী আবুল আল আব্দুল মোহিত চাইলেই জনগণ রাষ্ট্রকে দিতে বাধ্য কিনা বুঝতে পারেন। রাষ্ট্র আপনার কাছ থেকে নানান ধরনের খাজনা নিচ্ছে। কেন নিচ্ছে? কারন রাষ্ট্রের খর্চাখরচ আছে। যেমন, পুলিশ-র‍্যাব-সেনাবাহিনী-আমলাদের বেতন, জাতীয় সংসদের সদস্যদের বেতন, রাস্তাঘাট তৈরিতে খরচ, বড় বড় প্রকল্পের জন্য খরচ, ইত্যাদি । তো ঠিক আছে। এটা তো মোগল আমলে রাজরাজড়াও নিতো, তাই না? ইংরেজ আমলে নিতো ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি। তারপর নিতেন বিলাতের (আরো পড়ূন)

কমরেড ও প্রগতিশীল ভাইবোনেরা, দৌড়ান!!

এক জায়গা থেকে সরিয়ে শাড়ি পরা দেবি থেমিসকে আবারও আদালত প্রাঙ্গনে পুনর্স্থাপন করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ‘গ্রিক দেবী থেমিসের এই প্রতীককে চিরতরে পরিত্যাগ করতে হবে”। কারন হিসাবে বলেছেন, শাড়ী পরা দেবি থেমিসকে ‘জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ স্থাপন করা হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গনে শাড়ি পরা থেমিসের মূর্তি কোন প্রত্নতাত্ত্বিক বা ঐতিহাসিক ভাস্কর্য নয় যে একে রক্ষা করবার কোন প্রত্নতাত্ত্বিক কিম্বা ঐতিহাসিক যুক্তি আছে। আদালত প্রাঙ্গনে এই প্রকার কোন দেবিমূর্তি বসাবার কোন ইচ্ছা বাংলাদেশের জনগণ ব্যক্ত করে নি। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের বিরোধী এই দেবিকে বাংলাদেশের কোথাও স্থান দেয়া যাবে না। ‘গণমানুষের সকল (আরো পড়ূন)

প্রথম আলোর রাজনীতির একটি ব্যবচ্ছেদ

'গণতন্ত্রমনস্ক অনুভূতিসম্পন্ন' উপলব্ধি মাপার ডাক্তার!

প্রথম আলোর মিজানুর রহমান খান বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া “গণতন্ত্রমনস্ক অনুভূতিপ্রসূত” ব্যক্তি কিনা সেই সন্দেহ রেখেছেন। ‘গণতন্ত্রমনস্ক অনুভূতিপ্রসূত’! কী দুর্দান্ত ভাষা! আর সেই বিশেষ ‘অনুভুতি’ মাপার ডাক্তার হয়েছেন মিজান। বাহ! বাহ! এটা কি রাজনীতি পর্যালোচনার ভাষা নাকি যাকে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা জাতীয় মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ? অথবা ‘ব্যাটলিং বেগামস’ এবং ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার ভিত্তিতে প্রথম-আলো-ডেইলি স্টার গ্রুপের এক এগারোর রাজনীতির নতুন ড্রিল? গত ১১ মে ২০১৭ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো মিজানুর রহমান খানের (আরো পড়ূন)

ঐতিহাসিক ‘সন্ধি’!

কওমি মাদ্রাসা সনদের স্বীকৃতি কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে শেখ হাসিনার ‘সন্ধি’ বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক হিসাব নিকাশ নিমেষে বদলে দিয়েছে। সমাজে বিভিন্ন শক্তির ভারসাম্যের ক্ষেত্রে এই ‘সন্ধি’ গুণগত রূপান্তরের ইঙ্গিত। চরম ইসলাম বিদ্বেষী ‘নাস্তিক’, সেকুলার বা ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীরা আওয়ামি লীগের ঘাড়ে বন্দুক রেখে এই দেশে যেভাবে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা চর্চা করছিল  তাদের উত্তাপ কতোটা কমবে এটা আগাম আন্দাজ করা মুশকিল। কারন এদের শক্তির ভিত্তি বাংলাদেশের জনগণ নয়, বরং দিল্লী ও সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তি। এই 'সন্ধি'তে শেখ হাসিনার হাতে গড়ে ওঠা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোন পরিবর্তন হবে না। দিল্লির কাছ থেকে তিস্তার পানি (আরো পড়ূন)

কঠিন সত্য হোল চুক্তির বাস্তবতা নেই

‘সাবমেরিন কেনা’ ব্যাপারটা আমাদের মিডিয়ায় আস্তে আস্তে যত পেছনে চলে যাচ্ছে, ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’ ব্যাপারটা ততই ভাসুরের নাম নেয়ার মতো আকার-ইঙ্গিত হয়ে থাকছে না, ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

এই বিচারে পয়লা এপ্রিল ছিল ‘ডিফেন্স প্যাক্ট’-এর পক্ষে বড় ও প্রকাশ্য উচ্চারণের দিন। সংবাদ সংস্থা বাসস জানাচ্ছে, সেদিন ‘ইনস্টিটিউট অব কনফ্লিক্ট ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (আইক্ল্যাডস) আয়োজনে রাজধানীতে গোলটেবিল বৈঠক হয়েছে। সেখানে আলোচনার শুরুতে ধারণাপত্র হাজির করেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনার (আরো পড়ূন)

মিডিয়াদস্যুতা

গত ২ মার্চ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোটামুটি বড় একটা গণ্ডগোল হয়ে গেল। প্রথমে ঘটনা তুচ্ছই ছিল। গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয় (১ মার্চ দিবাগত রাতে) ওই এলাকার এক নিরাপত্তারক্ষী ও এক ছাত্রের মধ্যে। এর জের ধরে ছাত্রটিকে পিটিয়ে আহত করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। বিভিন্ন পত্রিকার খবর অনুযায়ী, নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্র শাহরিয়ার হাসনাত তপুকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্রদের এবং স্থানীয় অনেকের অভিযোগ হচ্ছে, ওখানকার নিরাপত্তরক্ষীরা প্রায়ই বাড়াবাড়ি করে থাকেন। কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। এ নিয়ে ওই এলাকায় বাস করা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মধ্যে একটা ক্ষোভ ছিল । আগের ক্ষোভের সাথে সহপাঠিকে পিটিয়ে আহত কর (আরো পড়ূন)

সীমান্ত হত্যাঃ রাষ্ট্রের দায়

প্রেক্ষাপট

ভারত এবং মিয়ানমার বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আঞ্চলিক বৃহৎ শক্তি ভারতের সঙ্গেই বাংলাদশের প্রধান সীমান্ত যার দৈর্ঘ ৪০০০ কিলোমিটারের অধিক। এর মধ্যে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় এবং পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের যথাক্রমে ২৬২, ৮৫৬, ১৮০, ৪৪৩ এবং ২২১৭ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যবর্তী সীমান্তের দৈর্ঘ বিশ্বে পঞ্চম দীর্ঘতম। অপরদিকে মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের ২৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। দুই দেশের মধ্যকার স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ ২০৮ কিলোমিটার। অবশিষ্ট ৬৪ কিলোমিটার সীমান্ত নাফ নদী বরাবর দুই দেশকে পৃথক করেছে।

সীমান্তে পাহারা দেয়ার (আরো পড়ূন)

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বহুজাতিক কর্পোরেশান

মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থার নিয়মেই ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে বিজয় লাভ করেছেন। তিনি কোন কারচুপি করেন নি। গণতান্ত্রিক ভাবেই, এমনকি বিরূপ গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছেন। বলা হচ্ছে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে যোগ্য ব্যক্তি নন। এমনকি তাকে পাগল প্রমাণ করবারও চেষ্টা চলছে। কয়েকজন সাইকোলজিস্টের বরাতে বলা হয়েছে তাঁর আচরণের মধ্য দিয়ে নাকি প্রমাণিত হচ্ছে তিনি মানসিক ভাবে অসুস্থ। এগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির আভ্যন্তরীণ খেয়োখেয়ির গল্প। দিল্লি কা লাড্ডু। আপনি খেলে পস্তাবেন, না খেলে মজা লস করবেন।

আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নই, এবং আমরা মার্কিন নাগরিকও নই। মার্কিন দেশের রাজনীতির আভ্যন্তরীণ খেয়োখেয়ির প্রতি নজর রাখ (আরো পড়ূন)

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বনাম ব্যক্তির প্রতিরোধ

কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাবার পর মাহমুদুর রহমান কথা বললেন।

মঙ্গলবার ( ৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে মাহমুদুর রহমান প্রথম সংবাদ সম্মেলন করলেন। দীর্ঘকাল ক্ষমতাসীনদের অন্যায় নির্যাতনের শিকার দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের কথা শুনতে সাংবাদিকরা আগ্রহী ছিলেন। তাঁর কথা কতোটা সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করবে বা করলেও অবিকৃত ভাবে করবে কিনা সে সম্পর্কে মাহমুদুর রহমান নিজেও সন্দিহান ছিলেন। তবে তিনি কী বলতে চান সাংবাদিকদের তা জানার আগ্রহ ছিলো। গণমাধ্যমের বর্তমান ভূমিকার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর কথা বিশেষ প্রচারিত না হওয়াই স্বাভাবিক। তবে উপস্থিত পেশাদার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে তরুণ সাংবাদিকদের বড় একটি অংশ মনে (আরো পড়ূন)

সার্চ কমিটি ও ‘সুশীল’ এর সংজ্ঞা

বলা হচ্ছে, ২০১৯ সালে জাতীয় নির্বাচন হবে। নিয়ম অনুযায়ী তেমনটাই হওয়ার কথা। সে উপলক্ষে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের দাবি আছে সর্ব মহলে। নির্বাচনকে ঘিরে, অর্থাৎ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আরো নানা দাবি আছে বিভিন্ন পক্ষের। নিরপেক্ষ কমিশন গঠন তার অন্যতম। এ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ডিসেম্বর মাসজুড়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ করেছেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ মোট ৩১টি দল তাতে অংশ নেয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নানা দল নিজেদের মতো করে নানা দাবি তার কাছেতুলে ধরে ।

এরপর গত ২৫ জানুয়ারি কমিশন গঠনের জন্য রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি করে দেন। অতীতেও ইসি গঠনে এমন সার্চ কমিটি হয়েছে। যেমনটি হয়েছিল ২০১২ সালেও। বিচারপতি সৈয়দ মাহ (আরো পড়ূন)

বাঙালিত্ব ও হিন্দুত্ববাদ: ইতিহাসের ক্ষত ও তার মীমাংসা

[গত ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কবি রওশন আরা মুক্তা এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন। ‘সাম্প্রতিক দেশকাল’-এর জন্য। 'বাঙালি জাতিবোধ ও চেতনার মধ্যে এখনো উচ্চবর্ণের হিন্দুর ধ্যানধারণাই রয়ে গিয়েছে' -- এই শিরোনামে সংক্ষেপে ছাপাও হয়েছিল। এখন পুরাটা অল্পকিছু সংশোধন ও পরিমার্জন করে সাক্ষাৎকারটি আবার এখানে পেশ করা হোল।]

কেমন আছেন? বছর ঘুরে আবার শুরু হলো অমর একুশে বইমেলা, জাতীয় জীবনে এই মেলার তাৎপর্য কী বলে মনে হয় আপনার?

জাতি হিসেবে আমরা কোনো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী নই, ফলে অমর একুশে বইম (আরো পড়ূন)

রামপাল বন্ধ হোক, কিন্তু রূপপুর? অথবা শেখ হাসিনা আল গোর বিতর্ক

ধরুন, আপনি জানেন আপনি মন্দ কাজ করছেন। তখন কি আপনি ধর্মের কাহিনী শুনবেন? ভাল কাজে স্বর্গবাস, মন্দ কাজে দোজখ – এই সকল কেচ্ছা শুনে আপনার কি লাভ? আপনি রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করবেন তো করবেনই, তো এতে বাঘ মরল কি গণ্ডার পুড়ল – আপনি কি শুনবেন? না, শুনবেন না।

দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামে ক্লাইমেট চেইঞ্জের ‘পাদ্রি’ আল গোর শেখ হাসিনাকে ধর্মকথা শোনাতে চেয়েছিলেন। শেখ হাসিনা শুনলেন না। মুখের ওপর বলে দিলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না কয়লা বিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে কেন মানুষ কথা বলে ... আমার মনে হয় যারা রামপালে বিরোধিতা করছেন তাদের মানুষের প্রতি দরদ নাই, বরং তারা সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার নিয়েই বেশী উদ্বিগ্ন’। ম (আরো পড়ূন)

পাঠ্যবই বিতর্কঃ সকলের কথা শুনতে হবে

শিক্ষা আইন, শিক্ষা নীতি ও পাঠ্যবই নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত ভাবে। পুরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে মাথায় রেখে সেটা হচ্ছে না। সেটা আশাও করি না। কিন্তু এখন দেখছি জাতিবাদি ও ধর্ম নিরপেক্ষ ওয়ালারা চরম গোস্বা করেছে। কেন? কারন সরকার নাকি হেফাজতের দাবি মেনে নিয়েছে। শিক্ষা কোন ব্যাপার না, পাঠ্যবই সম্পর্কে হেফাজতের আপত্তি সরকার মানলো কেন এই হোল তর্ক। টুপিপরা কোর্তাপরা এইসব বর্বর অশিক্ষিত পশ্চাতপদ মানুষ বুঝি মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছে, তারা এই দেশের কেউ না। এদের ছেলেমেয়ে বালবাচ্চা নাই, শিক্ষা নিয়ে এদের কোন মাথাব্যথা নাই। তো এই টুপিওয়ালাদের আপত্তি শেখ হাসিনা শেষমেষ মেনে নিল? হায় হায়। জাতিবাদী ও সেকুলার হাহাকারে চতুর্দিক দীর্ণবিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে!

(আরো পড়ূন)

নিজের বেলায় দইয়ের হাঁড়ি, পরের বেলায় মাথায় বাড়ি!

তর্কটা ফেইসবুকের, কিন্তু তর্কটা গুরুত্বপূর্ণ। যেভাবে ফেইসবুকে তর্কটা চলছে সেখান থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি না। তবে তর্কের মর্মটা পেশ করছি।

ধরুন আপনি দাবি করছেন আপনি মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। ফাইন। তার মানে সেটা শুধু আপনার মতের স্বাধীনতা না, সকলের মত প্রকাশের স্বাধীনতা। আপনি যে মতের সমর্থক শুধু সেই মতের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করলে তো হবে না, আপনাকে ভিন্ন বা বিরোধী মতের স্বাধীনতাতেও বিশ্বাস করতে হবে। যে মতের আপনি বিরোধী সেই মতের ধারকরাও তাদের মত প্রকাশ ও প্রচার করতে পারুক সেটাও আপনাকে চাইতে হবে এবং তাদের মত প্রকাশ ও প্রচারের অধিকার আপনাকে মানতে হবে। আফটার অল, সকলের মত প্রকাশ ও প্রচারের স্বাধীনতাতে আপনি বিশ্বাস করেন। তাই না (আরো পড়ূন)

ঈসায়ী নববর্ষ ও বাংলাদেশ

আওয়ার ইয়ার অব দ্য লর্ড। প্রভুর বছর। ANNO DOMINI (AD) | AD বা আফটার ডেথ : যিশুর মৃত্যুর পরের বছর; BC বা Before Christ, বা যিশুখ্রিষ্টের জন্মের আগে ইত্যাদি। প্রভু যিশুর জন্মকে কেন্দ্র করে বছরের হিসাব রাখা এবং খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী বছর গণনার নিয়মে আরেকটি খ্রিষ্টীয় বছর শেষ হতে চলেছে। সবাইকে -- বিশেষত আমার খ্রিস্টান বন্ধুদের নববর্ষের শুভেচ্ছা।

নতুন খ্রিষ্টীয় বছরে নববর্ষ উদযাপনের ঐতিহ্য রোমানদের কাছ থেকে পাওয়া। রোমান ঈশ্বর জানুসকে (Janus) নিবেদন করা খাওয়া-দাওয়ার উৎসব থেকে এই চলের শুরু। জানুসকে রোমানরা কল্পনা করেছে দুই দিকে তাকিয়ে থাকা মুখ হিসেবে। এক মুখ তাকিয়ে আছে অতীতে, আরেক মুখ ভবিষ্যতের দিকে।

ধর্ম, ঐতিহ্য কিম্বা (আরো পড়ূন)

৩. গণতন্ত্র ও শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক

নাগরিক অধিকার ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা

শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ গণতান্ত্রিক আদর্শ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংক্রান্ত ধারণার বিরোধী। এ দিকটি বাংলাদেশে খুবই অস্পষ্ট। যার কারণে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কেন চিন্তা, বিবেক ও মত প্রকাশের বিরোধী, অতএব গণবিরোধী ও ফ্যাসিস্ট, সেটা আমরা সহজে বুঝতে পারি না।  অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ব্যবস্থা নানা ভাবে শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করে বা করবার চেষ্টা করে: যেমন ‘একই পদ্ধতি’র শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন, শিক্ষার কারিকুলাম, কিম্বা শিক্ষার্থীরা কি পড়বে বা না পড়বে তা নিয়ন্ত্রণ, পাঠ্য বিষয় নির্ধারণ, ইত (আরো পড়ূন)

২. গণতন্ত্র ও শিক্ষাব্যবস্থার সম্পর্ক

কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা: প্রপাগান্ডা, অনুমান ও ধারণা

সিস্টার্স অব দ্য হোলি নেইমস অব জেসাস এন্ড মেরি। কেন নামটি মনে পড়ল তার আগে আরও কিছু কথা বলা দরকার।

শিক্ষা আইন ও শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে কওমি মাদ্রাসার আলেম-ওলেমাদের লড়াই-সংগ্রাম গুরুত্ব না পাবার পেছনে কিছু অনুমান কাজ করে থাকতে পারে। যেমন, ১. মওলানা-মৌলবিরা ‘অনাধুনিক’ ও চিন্তাচেতনায় ‘পশ্চাতপদ’, অতএব তাদের কথাবার্তা তৎপরতাকে গুরুত্ব দেবার কিছু নাই, কওমি আলেম-ওলেমাদের খবর প্রচার না করাই ঠিক কাজ; ২. মাদ্রাসা জঙ্গী তৈরির কারখানা, কওমি মাদ্রাসার খবরাখবরের গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ জঙ্গীদের সম (আরো পড়ূন)

১.গণতন্ত্র ও শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক

ধর্ম, ধর্ম চর্চা ও ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতা

সিস্টার্স অব দ্য হোলি নেইমস অফ জেসাস এন্ড মেরি। শিক্ষা ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে লিখতে গিয়ে নামটি মনে পড়ল।

ক্ষমতাসীন সরকারের শিক্ষা আইন ও শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে কওমি মাদ্রাসার আলেমওলেমারা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করছেন। এই সংগ্রাম কওমি মাদ্রাসার ঐতিহাসিক সত্তা ও মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিনষ্ট করবার আইন ও নীতির বিরুদ্ধে লড়াই। এ লড়াই খুবই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই – বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক বিকাশ ও নিজেদের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িত। ফলে একে আমি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক (আরো পড়ূন)

কর্পোরেট মিডিয়া ও বহুজাতিক কর্পোরেশান

মাইক্রোবিডকে বাংলায় বলা হয় ‘প্লাস্টিক কণা’ বা ‘প্লাস্টিক দানা’। প্রসাধন দ্রব্যে এটির ব্যবহার হয়ে থাকে। যদিও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণে পশ্চিমা দেশগুলোতে এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বছরের জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে প্লাস্টিক কণার ব্যবহার নিষিদ্ধের বিলে স্বাক্ষর করেন। ফেব্রুয়ারিতে কানাডা এটিকে ‘বিষাক্ত দ্রব্য’ (টক্সিক সাবস্টেন্স) হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর গত সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিটেন সরকারও ঘোষণা দেয় ২০১৭ সাল থেকে দেশটিতে প্লাস্টিক কণার ব্যবহার সম্পুর্ণ বন্ধ করে দেয়া হবে। অন্যান্য দেশও একই পথ অনুসরণ করছে।

মানব শরীর এবং পরিবেশ উভয়ের জন্য প্লাস্টিক কণার মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছ (আরো পড়ূন)

বায়ার কিনছে মনসান্তো: কৃষি  ও খাদ্য ব্যবস্থার হুমকি

বাংলাদেশে মনসান্তো অপরিচিত নয়। বিশেষত বিকৃত বীজ ও ফসলের জন্য এই কোম্পানি সারা দুনিয়াতেই পরিচিত। বিকৃত বীজকে ইংরেজিতে সংক্ষেপে জিএমও (জেনেটিকালি মডিফাইড অরগানিজম) বলা হয়। ‘মডিফাইড’ শুনলে মনে হয় বুঝি বীজের স্বভাবে বিকৃতি না ঘটিয়ে কেবল আরও উন্নত করা হয়েছে। বীজের স্বাভাবিক গঠন অক্ষূণ্ণ রেখে তাকে আরও উন্নত করা, বীজের কাছ থেকে আরও ভালো ফসল আদায় করে নেওয়া খারাপ কিছু নয়। কৃষক সব সময়ই এই কাজটি ভাল বীজ পাবার জন্য জমি থেকে ভালো বীজ নির্বাচন কিম্বা বীজের বিশেষ গুণ আদায় করে নেবার জন্য উন্নত জাতের সঙ্গে সংকরায়ন করে। ফলে জেনেটিক মডিফিকেশান কিম্বা গঠনসংকেতে ( Gene) বীজের স্বাভাবিক প্রকৃতি অক্ষূণ্ণ রেখে সংস্কার মোটেও মন্দ কিছু নয়।

(আরো পড়ূন)

ইসলামের কোরবানি, 'মনের পশু' তত্ত্ব ও খ্রিস্ট ধর্ম

‘আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

যাঁরা ঈদ এলে প্রায়ই নিজেকে মহান পশু দরদী প্রমাণ করবার জন্য পশু কোরবানি না দিয়ে ‘মনের পশু’ কোরবানির তত্ত্ব দিয়ে থাকেন,তাদের কিছু বিষয় বিবেচনার জন্য পেশ করছি। আশা করি তাঁরা ভেবে দেখবেন।

১. প্রায় সব ধর্মেই নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী পরমের সন্তুষ্টি বিধানের জন্য ‘কোরবানি’র বিধান আছে। বলাবাহুল্য তাকে ‘কোরবানি’ বলা হয় না। বলা হয় ‘বলী’,‘ঈশ্বরের জন্য রক্তোৎসর্গ’ ইত্যাদি। আরবিতে ‘উদিয়া’ শব্দের অর্থ &l (আরো পড়ূন)

‘গো ব্যাক, ইন্ডিয়া’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার আসার খবর পেয়ে তরুণ ছাত্র ছাত্রীরা তৎক্ষণাৎ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়। সেটা হোল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন। সেই তাৎক্ষণিক ও স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভের একটি ভিডিও তাঁরা ইন্টারনেটে প্রচার করেন। বলাবাহুল্য, এই ভিডিওটি বিপুল ভাবে ছড়িয়ে পড়ে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলছে এই স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ একদিকে তারই অংশ, কিন্তু অন্যদিকে তার নিজস্ব তাৎপর্য রয়েছে। প্রথমত এই বিক্ষোভ সুনির্দিষ্ট ভাবে দিল্লীর আগ্রাসী ও ঔপনিবেশিক নীতির বিরুদ্ধে। বিক্ষোভের ভিডিওটি জনপ্রিয় হবার প্রধান কারন হচ্ছে দুটো স্বতঃস্ফূর্ত শ্লোগান: ‘গো ব্যাক, ইন্ডিয়া’ এবং ‘গো ব্যাক, এনটিপিসি&rsq (আরো পড়ূন)

'শাহাদাত বার্ষিকী'তে 'সাধুসঙ্গ'!

অগাস্ট মাসে শেখ মুজিবর রহমানের সপরিবার নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ‘মৃত্যুবার্ষিকী’ হিসাবেই পালন করা হোত। আজকাল ‘শাহাদাৎ বার্ষিকী’ হিসাবে উদযাপন করা হচ্ছে। এটা নতুন। এবারের নতুন আরেকটি দিক হোল ‘শাহাদাৎ বার্ষিকী’ উদযাপনের জন্য সারাদেশ থেকে বেশ কিছু বাউলদের নিয়ে এসে শিল্পকলা একাডেমি ‘সাধুসঙ্গ’ আয়োজন করেছে। খবরে তাই দেখেছি। ‘সাধুসঙ্গ’ ব্যাপারটা আসলে কি এটা অনেকেই জানেন না। বাউল গান নিয়ে শিল্পকলা একাডেমি অনুষ্ঠান করতেই পারে। তবে শেখ মুজিবর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপনের জন্য ‘সাধুসঙ্গ’ আয়োজন করবার দাবি বেশ কৌতুহলের জন্ম দেয়।

এতোকাল আওয়ামি লীগ অগাস্ট মাসকে শোকের মাস হিসাবেই (আরো পড়ূন)

আত্মপরিচয়ের রাজনীতির বিপদ

সংঘাতের চরিত্র যাই হোক, দ্বন্দ্ব-সংঘাত প্রতিটি সমাজেই থাকে। দ্বন্দ্ব-সংঘাতের চরিত্র বোঝা এবং সমাজ কিভাবে তা সমাধান করছে, কিম্বা করতে ব্যর্থ হচ্ছে তার দ্বারা একটি সমাজের টিকে থাকা না থাকা সম্পর্কে আগাম অনেক কিছু অনুমান করা যায়। সংঘাত আর্থ-সামাজিক সম্পর্কের দ্বন্দ্ব বা বিরোধ থেকে হতে পারে; কিম্বা বোঝাবুঝি, চিন্তাচেতনার ফারাক অথবা সাংস্কৃতিক-আদর্শিক বিরোধ থেকেও হতে পারে। দ্বন্দ্ব-সংঘাত হতে পারে মীমাংসার অতীত, আবার নাও হতে পারে -- এই ধরনের তর্ক বাম মহলের প্রাচীন একটি তর্ক। যেমন বিরোধ কি এন্টাগনিস্টিক নাকি নন-এন্টাগনিস্টিক, ইত্যাদি।

তবে আর্থ-সামাজিক বিরোধের রাজনৈতিক প্রকাশ কিভাবে ঘটে সেটা নির্ণয়ের পদ্ধতি এবং তার সম্ভাব্য পরিণতি আগাম বলা (আরো পড়ূন)

হাতিকে সুঁইয়ের পেছনে ঢুকাবেন না

হোলি আর্টিসান ও তার পরে শোলাকিয়ার ঘটনা বাংলাদেশকে গোড়াসুদ্ধ কাঁপিয়ে দিয়েছে। গুলশানে হামলার ধরণ ও নৃশংসতা সবাইকে আতংকিত করেছে; নিরাপত্তাহীনতা আরও ভারি হয়েছে।

মাত্র পাঁচ জনকে মোকাবিলা করতে গিয়ে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, সোয়াত টিম, গোয়েন্দা বাহিনীর বিভিন্ন দল এবং বিশেষ কমান্ডোদের ব্যবহার করতে হয়েছে। অর্থাৎ বিমান বাহিনী ছাড়া রাষ্ট্রের আইন শৃংখলা ও জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে নিয়োজিত হতে হয়েছে। কমান্ডোর জন্য সকাল অবধি অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই ধরণের পরিস্থিতি বিচক্ষণতা, ক্ষিপ্রতা ও দ্রুততম সময়ে মোকাবিলা করবার যে দক্ষতা আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে জনগণ প্রত্যাশা করে সেখানে একটা আস্থার (আরো পড়ূন)

ক্ল্যাপারের প্রতিবেদন ও হোলি আর্টিসান

মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের ডিরেক্টর জেমস ক্ল্যাপার এ বছর ফেব্রুয়ারির নয় তারিখে ইউএস আর্মড সার্ভিসেস কমিটি ও সিনেট সিলেক্ট কমিটির কাছে একটি লিখিত প্রতিবেদন পেশ করেছিলেন। এ ধরনের প্রতিবেদনকে বলা হয় ‘Statement for the Record’। অনেকটা ভবিষ্যতে রেফারেন্সের জন্য নথি করে রাখার মতো ব্যাপার। হোলি আর্টিসানের রক্তপাতের পরে এখন তা রেফারেন্স হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে তাঁর লিখিত মন্তব্য ছিল ছোট এবং খুবই সংক্ষিপ্ত। পুরাটাই এখানে তুলে দিচ্ছি:

“Prime Minister Sheikh Hasina’s continuing efforts to undermine the political opposition in Bangladesh will probably provide openin (আরো পড়ূন)

ব্রেক্সিট ২: কার বিরুদ্ধে অসন্তোষ কার পাতে!

ব্রেক্সিট গণভোটের ফলাফল শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করে যাওয়ার পক্ষে হয়েছে। ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোটের ফলাফলে ত্যাগের পক্ষ জয়ী হয়েছে শতকরা ৫২-৪৮ অনুপাতে। এতে গণভোট-উত্তর পরিস্থিতি যা হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছিল তা একের পর এক ঘটা শুরু হয়েছে। সারা বিশ্বে ফলাফলের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সর্বব্যাপী। এটা বোঝা কঠিন ন যে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও এর প্রভাব পড়বে। গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সংসদকে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশের “পোশাক খাত চ্যালেঞ্জের মুখে” পড়েছে। ওদিকে ইতোমধ্যে প্রতি বৃটিশ পাউন্ড গণভোটের আগের তুলনায় দশ টাকা করে মূল্য হারিয়েছে। পরিস্থিতি আরো কতটা খারাপের দিকে যাবে তা নিয়ে অনুমান চলছে।

এ নিয়ে গভীরে (আরো পড়ূন)

ব্রেক্সিট ১ : ভাঙাগড়ার শুরু

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্র বৃটেন এক গণভোটে ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এখনও আভ্যন্তরীণ। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ কে এখনও এই সিদ্ধান্ত জানানো হয় নি। ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর উল্টাপাল্টা প্রভাব পড়া শুরু করেছে। বৃটেনের গণভোটের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বের প্রভাবশালী শেয়ার বাজারগুলোর অবস্থা টালমাটাল হতে শুরু করেছে।

ব্রেক্সিট, নতুন পরিস্থিতির মধ্যে জন্ম নেওয়া একটা নতুন শব্দ -- ব্রিটেন আর এক্সিট, এ দুইয়ের সংমিশ্রণে তৈরী। পুরনো শব্দ দু’টি মিলিয়ে পয়দা করা হয়ে হয়েছে নতুন শব্দ ব্রেক্সিট। কেন? বিগত ১৯৭৩ সাল থেকে ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য। ব্রিটেন ইইউ ছেড়ে যাবে কি না তা জানতে গণভোট (আরো পড়ূন)

বদরুদ্দিন উমর ও বাংলাদেশের ‘হিন্দু’ প্রশ্ন

কেন হিন্দু প্রশ্ন?

বদরুদ্দিন উমর সম্প্রতি বেশ কয়েকটি লেখায় বাংলাদেশে হিন্দু প্রশ্ন ও সাম্প্রদায়িকতার প্রসঙ্গ তুলেছেন। তাঁর সাম্প্রতিক দুটো লেখা গুরুত্বপূর্ণ। ‘এটা কি সাম্প্রদায়িকতা?', লিখেছেন ২৫ মে ২০১৪ সালে, যুগান্তরে; দ্বিতীয় লেখাটি হচ্ছে, ‘বাংলাদেশে প্রকৃত সংখ্যালঘু কারা?’। এটিও ছাপা হয়েছে যুগান্তরে; সম্প্রতি, ৫ জুন ২০১৬ তারিখে। দেখলাম তাঁর এই লেখাগুলো বাম বলে পরিচিত অনেকে পছন্দ করে নি। যাদের মধ্যে তাঁর পুরানা অনুসারী এমনকি এখনকার অনুরাগীরাও রয়েছে। [১]

অথচ যে দুটো প্রশ্ন বদরুদ্দিন উমর তুলেছেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাকে আমরা সাম্প্রদায়িকতা বলব? কিভা (আরো পড়ূন)

সংকট কি আদৌ ফৌজদারি? আদৌ কি পুলিশী সমস্যা?

ছয়দফায় করা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মানুষ মরেছে। কতজন? সংখ্যা এখন খুব ধর্তব্য নয়। শুধু সংখ্যা রাজনৈতিক বাস্তবতার ইঙ্গিত হতে পারে কিন্তু সংকটের পরিসর ও গভীরতার নির্দেশক না। তাছাড়া কয়জন মরেছে, কতজন পঙ্গু হয়েছে, কতজন নিখোঁজ আর কতজন পুলিশের ভয়ে গ্রাম ছাড়া সেইসব সুনির্দিষ্ট করে নির্ণয়ের উপায় নাই। দ্বিতীয়ত ব্যাপক প্রাণহানির যে ধারা তৈরি হোল তা গ্রামাঞ্চলকে মূলত আরও রক্তপাতের দিকেই ঠেলে দিল। দ্বন্দ্ব ও বিভাজন জাতীয় পর্যায়ে কমবেশী সীমাবদ্ধ ছিল; প্রবল দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে এখন তাকে গ্রামীন সামাজিক ও পারিবারিক সংঘাতে পরিণত করা হোল। বপন করা হোল দীর্ঘস্থায়ী সন্ত্রাসের বিষ । হিংসা ও হানাহানির এটা নতুন গুণগত পর্ব।

অল্পদিনের ব্যবধানে পুলিশ সুপার (আরো পড়ূন)

সত্যবাদীদের সমাজ ও রাজনীতি

ঠাট্টা করে নয়, বাংলাদেশের সমাজকে আপনি সিরিয়াসলি ‘সত্যবাদীদের সমাজ’ বলতে পারেন। এখানে সমাজের বিবাদমান সকল পক্ষই সত্যবাদী। রাজনীতিও এখানে সত্য কায়েমের রাজনীতি। অর্থাৎ প্রতিটি পক্ষই মনে করে সত্যে শুধু তাদেরই একচেটিয়া। একমাত্র তারাই সত্যবাদী, আর মিথ্যা শুধু অন্য পক্ষে। সত্যবাদী সমাজে বিবাদমান পক্ষ অপর পক্ষের কোন সত্যকথা থাকতে পারে মনে করে না। প্রতিপক্ষ মানেই সত্যের দুষমন। এই ধরনের সমাজে নির্মূল আর কতলের রাজনীতি ছাড়া অন্য কোন রাজনীতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। সব পক্ষই যখন সত্যবাদী, আর মিথ্যা যখন শুধু অন্য পক্ষে – তখন তো হানাহানি হিংসা রক্তপাত ঘটবেই।

বাংলাদেশে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা আছে। সেটা বিকট বটে। সেটা রা (আরো পড়ূন)

নূরজাহান বেগম নাই, ‘বেগম’ থাকবে তো?

আজ ২৩ মে সকালে রাজধানীর একটি হাসপাতালে সবার শ্রদ্ধেয় ‘নূরজাহান আপা’ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

সকল বয়সের নারীদের কাছেই তিনি ছিলেন নূরজাহান আপা। বাইরে তাঁর পরিচয় উপমহাদেশে প্রথম নারীদের পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে। পত্রিকার নাম ‘বেগম’। এই পত্রিকাটিকে বলা যায়, প্রথম ও একমাত্র সচিত্র নারী সাপ্তাহিক। তাঁর বাবা মোহাম্মদ নাসিরুদ্দীন সওগাত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, মেয়েকে দিয়ে শুরু করেছিলেন নারীদের সাহিত্য ক্ষেত্রে এগিয়ে নেয়ার জন্যে পত্রিকাটি। বেগম পত্রিকাটি ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় বেগম। ১৯৫০ সাল থেকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়ে আসছে। বলা যায়,এখন নারীদের অনেক পত্রিকা প্রকাশিত হলেও শুধু নারীদের জন্য এবং ন (আরো পড়ূন)

মরণবাঁধ ফারাক্কা ও ভাসানীর রবুবিয়াত

খুব নিঃশব্দেই ষোল মে চলে গেল। তারপরও ফারাক্কা লং মার্চ উদযাপন কমিটিকে অশেষ ধন্যবাদ জানাতে হয়। তাঁরা দিনটি বিস্মৃত হতে দেন নি। ষোলই মে তারিখে তারা রাজশাহীতে এক বিশাল গণ জমায়েতের আয়োজন করেছেন। আমার সৌভাগ্য হয়েছে সেখানে আরও অনেকের সঙ্গে অংশ গ্রহণ করার। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী তাঁর অসুস্থ শরীরে ছুটে এসেছিলেন। এসেছিলেন ড. এস আই খান, প্রকৌশলী এম ইনামুল হক, সৈয়দ ইরফানুল বারী, হাসনাত কাইয়ুম, সাংবাদিক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার ও আরো অনেকে। রাজশাহীর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সঙ্গ পাওয়া সৌভাগ্য বটে। ধন্যবাদ মাহবুব সিদ্দিকী ও এডভোকেট মো. এনামুল হক কে অনেক ধন্যবাদ। তাঁরা বারবার তাগাদা দিয়ে আমার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন।

অবাক লাগে। যেখানে (আরো পড়ূন)

আসুন, নতুন করে ভাবি

বাস্তবকে জানুন, জেগে উঠুন

সরলীকরণের দোষ স্বীকার করেও সহজে পাঠকদের বোঝাবার জন্য উপমা দিয়ে বলিঃ ধরুন আপনি জানেন আপনি যে গাড়িতে উঠতে চাইছেন তা ভাঙা গাড়ি। চলে না। তদুপরি মোটেও নিরাপদ না, ভেঙে পড়তে পারে। আপনাকে নিরাপদে পৌঁছানোর পরিবর্তে আপনাকে এমন এক জায়গায় এসে এই গাড়ি নামিয়ে দিতে পারে যা বিপদ সংকুল। দেখলেন, আপনি হাজির হয়েছেন একটি ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে। ধরুন সিরিয়ায় কিম্বা ইরাকে? ফিরে যাবার আর উপায় নাই? আপনি কী করবেন?

আপনাকে নতুন বাহনের কথা ভাবতে হবে। ভাবতেই হবে। আপনার পুরানা বাহন সংস্কারের সুযোগ বা সুবিধাও নাই। একদমই। পুরানা ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যা দিয়েও কাজ হচ্ছে না। আসলে নতুন বাহ (আরো পড়ূন)

২. তবু কমিউনিজমের কথাই বলতে হবে

নাস্তিকতা আল্লাহ আছে এই সত্য অস্বীকার করে, যে অস্বীকৃতির মধ্য দিয়ে মানুষই শুধু আছে সেই সত্য জাহির করা হয়। কিন্তু কমিউনিজমের জন্য এ ধরনের ঘোরাপথের দরকার পড়ে না।’ (কার্ল মার্কস)

‘যে নৈরাজ্যবাদী খেয়ে না খেয়ে আল্লাহখোদার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ওয়াজ করে বেড়ায় সে আসলে মোল্লা-মৌলবি-পুরোহিত আর বুর্জোয়াদের স্বার্থই রক্ষা করে।’ (ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন)

(আরো পড়ূন)

১. তবু কমিউনিজমের কথাই বলতে হবে...

কেন?

কারণ বিশ্ব ইতিহাসে অবদান রাখবার হিম্মত ও সম্ভাবনা কমিউনিজমের এখনও ফুরিয়ে যায় নি। আছে।

মানুষ সামাজিক এবং নিজেকে সে কোন না কোন সমাজ বা কমিউনিটির মধ্যেই আবিষ্কার করে। ফলে সামাজিকতার বা সামাজিক বন্ধনের যে কোন অভাবই তাকে পীড়া দিতে বাধ্য। পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যখন পরিবার ও সমাজের বন্ধনগুলি ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যায় তখন 'উম্মাহ' বা সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একই মানব্জাতির অন্তর্ভূক্তিকরণ ও পুনর্গঠনের তাগিদ বাড়ে বৈ কমে না। কমিউনিজম কোন আজগবি বা আসমানি ধারণা নয় এবং এই ধারণার উৎপত্তি, ইতিহাস ও বিকাশের ওপর কমিউনিস্টদের কোন একচেটিয়া নাই।  নিজেকে অপরাপর মানুষের সঙ্গে স্রেফ মানুষ হিসাবে সম্পর্কিত হবার ও সম্বন্ধ রচনার ধারণা গুরুত (আরো পড়ূন)

তৃণমূল না বামফ্রন্ট: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন

আবার এক ঝলকে ভারতের কিছু রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভারতের প্রাদেশিক সরকারের নির্বাচনকে রাজ্যের (রাজ্যসভা নয়) নির্বাচন বা বিধানসভা নির্বাচন বলা হয়। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এভাবে মোট পাঁচ বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নসীম জইদি জানিয়েছেন, আসামে ২ দফা এবং কেরালা, তামিলনাডু ও পণ্ডিচেরিতে এক দফা করে ভোট নেয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা নেয়া হবে ৬ দফায়। এমনকি দিনের হিসাবে সাত দফায় ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গে। ফলে প্রায় এক মাস ধরে চলবে এই ভোট পর্ব। পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনে মোট ৭৭ হাজার ২৪৭টি ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ভোট নেয়া হ (আরো পড়ূন)

গ্রামে সম্পর্ক ক্ষয়ের একটি নজির

ভাবছিলাম কোন ঘটনা কিম্বা ছোটখাট লক্ষণ দেখে সমাজে চিন্তাভাবনার গতি প্রকৃতি সম্পর্কে কমবেশী নিশ্চিত কোন ধারণা করা সম্ভব কিনা। যার ভিত্তিতে সমাজের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে আগাম কিছু বলে দেওয়া হয়তো সম্ভব।

এভাবে কল্পনা করুন। চৈত্রের দাবদাহ, খাঁ খাঁ রোদ। আপনি গ্রামে। দেখছেন গ্রামের একজন অসহায় অভাবী মহিলা একটি পুকুরের প্রশস্ত পাড়ের পাশে এসে অঝোরে কাঁদছে। এটা ছোটখাট পুকুর নয়। গ্রামের মোটামুটি ধনির পুকুর। মহিলার হাতে তার ছাগলের দড়ি্র একটি প্রান্ত। হয়তো এই পশুটিই তার জীবনের একমাত্র সম্বল। একটি পুকুরের পাড়ে ছাগলকে ঘাস খাওয়াবার জন্য চরাতে এসেছিল। কিন্তু এসে দেখছে পুকুরের মালিক আগাছানাশক দিয়ে সবগুলো ঘাস মেরে ফেলেছে। ঘাসগুলো যেন কেউ আগুনে পুড়ে দ (আরো পড়ূন)

আসুন গোড়ার সংকট নিয়ে ভাবি

জাতীয় ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় বড় ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কেলেংকারি, নিরাপত্তা বিশ্লেষকের গুম হয়ে যাওয়া, ব্যাংকের ভেতর থেকেই টাকা পাচারের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি এবং গভর্নরের পদত্যাগ; ধর্ষণ, নির্যাতন ও মেয়েদের খুন করে ফেলার ভীতিকর প্রবণতা বৃদ্ধি ও তনু ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা, যার প্রতিবাদ সারা দেশে হচ্ছে। কিন্তু একই সাথে লক্ষণীয় সামগ্রিক ভাবে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদের চেয়েও যা ঘটেছে তা হোল বিষয়টিকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রচারণার বিষয়ে পরিণত করার চেষ্টা এবং শেষমেষ তার কোন কুল কিনারা না পাওয়া। ইতোমধ্যে তনুর এক বন্ধুও নিখোঁজ। চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদ ও তাদের গুলি করে হত্যা; (আরো পড়ূন)

মাহফুজ আনামের উপলব্ধি, অতঃপর...

এক এগারোর সময় পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে নিজের ভূমিকার ভুলের কথা মাহফুজ আনাম একটি টেলিভিশান টক শোতে স্বীকার করেছেন। তাঁর এই উপলব্ধিকে আন্তরিক মনে না করার কোন যুক্তি নাই। সরকারপক্ষের টেলিভিশান চ্যানেলটি তাঁকে কথার ফাঁদে ফেলবার জন্যই তাদের অনুষ্ঠানে নিয়েছিল কিনা সেটাও আমরা ভাবতে পারি। কিন্তু যে উপলব্ধির জায়গা থেকে মাহফুজ আনাম সম্প্রতি ভুল স্বীকার করেছেন তাকে স্বাগত জানাবার জন্যই এই লেখাটি ফেব্রুয়ারির বারো তারিখে লিখেছিলাম। কিন্তু যে পত্রিকায় দিয়েছি তাঁরা তা ছাপান নি। কেন তাঁরা তা ছাপান নি তার কোন ব্যাখ্যাও আমাকে দেন নি। একই লেখা কিছুটা এদিক ওদিক করে এখন পেশ করছি।

মাহফুজ আনামের উপলব্ধি ও স্বীকারোক্তি হচ্ছে এজেন্সির চাপের কাছে একটি পত্রিক (আরো পড়ূন)

আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ও মানবাধিকার

আধুনিক জমানায় বাণিজ্য চুক্তি করার রেওয়াজ উঠেছিল আশির দশকের শুরু থেকে। অর্থাৎ যাদের গরিব দেশ কিম্বা ছোট অর্থনীতির রাষ্ট্র বলা হয়, তাদের সাথেও বাণিজ্য চুক্তি করার দরকার বোধ করবার শুরু এখান থেকে। বাণিজ্য চুক্তি বলে এটিকে বাড়িয়ে বলার অর্থ হয় না। সার কথা বললে আমেরিকা তার নিজের বাজারে তার নিজের নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার অধীনে গরিব দেশগুলোকে পণ্য রফতানি করতে দেয়া শুরু করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক পর মূলত ইউরোপের বাজার বিনিয়োগ পুঁজিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেলে উন্নত অর্থনীতির রাষ্ট্রগুলোকে পুঁজি বুনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে ভাবতে হয়েছে। তারা এতদিন গরিব দেশে পণ্য রফতানিকারক হিসাবে ভূমিকা রাখছিলো। তারা তখন ভাবতে শুরু করল  গরিব দেশে কেবল  নিজ পণ্য র (আরো পড়ূন)

প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ও বিতর্ক

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দুর্দশা নতুন কোন খবর নয়, তবে সম্প্রতি বিচারকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব যেভাবে প্রকাশ হয়েছে তাতে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আরও তীব্র হতে পারে। কিছুদিন আগে অবসর নেওয়া সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম সামসুদ্দিন চৌধুরী যেভাবে প্রধান বিচারপতিকে ঘায়েল করবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন পৃথিবীর আর কোথাও এই প্রকার আচরণের কোন নজির আছে কিনা আমার জানা নাই। সাবেক এই বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক নামে পরিচিত। ব্যক্তিগত ও সংকীর্ণ পেশাগত দ্বন্দ্বকে তিনি প্রকাশ্য করে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাকে যেখানে নামিয়ে এনেছেন তাকে অবিশ্বাস্যই বলতে হবে। বিষয়টি স্রেফ বিস্ময়ের বিষয় হলে অসুবিধা ছিল না। কিন্তু সাবেক এই বিচারপতির আচরণ, উচ্চারণ (আরো পড়ূন)

জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ

ঘটনা হচ্ছে ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের বিরোধ। এটা ঘটনার বাইরের দিক। হয়তো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, যা নিত্যদিনের একটি ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন সংঘাত হিসেবেই শেষ হয়ে যেতে পারত। কিন্তু সেটা যখন আরও বড় সংঘর্ষের রূপ নিল, দেখা গেল তার মধ্যে শ্রেণীর প্রশ্ন আপনাতেই সামাজিক বাস্তবতার কারণেই এসে পড়েছে। বের হয়ে পড়ছে আগের বিরোধ ও সমাজের সুপ্ত আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। বিশেষত ঘটনার কয়েকদিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ধানতলা গ্রামের শাহজালাল (রহঃ) মসজিদ কমপ্লেক্স ও হযরত আবুবকর সিদ্দিকী (রাঃ) কওমী মাদ্রাসা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রশাসন মাদ্রাসার বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, এই অভিযোগ রয়েছে।

একদিকে ব্যবসায়ী আর তাদের সমর্থক ছাত্রলীগ কর্মী; অন্য (আরো পড়ূন)

সহিংসতার পর্যালোচনাঃ প্রসঙ্গ ব্রাহ্মণবাড়িয়া

গত সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছাত্র হত্যার ঘটনার জের ধরে পরদিন ঐ শহরের বেশ কিছু জায়গায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের ধরণকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন যাবত দেশজুড়ে কথাবার্তা চলছে। পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কথাবার্তার উপর নজর দিলে দেখা যাবে বেশ কয়েকটা বিশেষ বয়ান থেকে কথাবার্তা চলছে। এক ঘরানার দাবী হচ্ছে তারা মাদ্রাসার ছাত্র বলেই এমন সহিংসতা । অর্থাৎ এটা জঙ্গি কার্যক্রমেরই সমার্থক। আর এরূপ জঙ্গি কার্যক্রম মাদ্রাসা থেকেই উৎপন্ন হয়। আরেকপক্ষ মনে করছেন মাদ্রাসার ছাত্ররা এটা এ জন্যই করতে পেরেছে যে তারা সংস্কৃতমনা নন। ফলে আবার একটি পক্ষ এই ঘটনাকে ছাত্র হত্যার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিশেবেই দেখছেন।

লেখাটার শুরুতেই পত্রপত্রিকায় এখন পর্যন্ত এই ঘটনা (আরো পড়ূন)

নতুন বছর, নতুন চিন্তার আহ্বান

নতুন ঈসায়ী নববর্ষে সবাইকে ভালবাসা

আজ ২০১৫ সালের শেষ দিন। আর একটি ঈসায়ী সাল চলে যাচ্ছে। আরেকটি ঈসায়ী সাল সামনে। ইসলামের নবী-রসুলদের মধ্যে যিনি ঘৃণা ও হিংসার বিপরীতে প্রেমের অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করে অমর হয়ে আছেন তিনি হজরত ঈসা (আ:)। তিনি রুহুল্লা। প্রেমের প্রতীক। ইসলামে তাঁর মর্যাদা অসামান্য। তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে বলে ইসলাম মনে করে না। তিনি আবার প্রত্যাবর্তন করবেন কি করবেন না তা নিয়ে নানান তর্ক ও ব্যাখ্যা থাকলেও হজরত ঈসার (আ:) প্রতীকী তাৎপর্য হচ্ছে প্রেম বা আশেকানিকে ক্রুশবিদ্ধ করা অসম্ভব। একই সঙ্গে হজরত ঈসার (আ:) প্রত্যাবর্তনের প্রতিশ্রুতির মধ্যে এই সত্যের ওপরই জোর দেওয়া হয় যে যুদ্ধ, হানাহানি, হত্যা ও রক্তপাতে (আরো পড়ূন)

নতুন রাজনৈতিক দিশা চিহ্নিত করবার বছর

সবাইকে ঈসায়ী নববর্ষের শুভেচ্ছা। নতুন বছরের শুরুতে অল্প কিছু কথা বলব। বরং সবাইকে বলব, ভাবুন, আমরা কোন্‌দিকে যাচ্ছি।

চরম দুর্নীতি, লুটপাট, নাগরিক ও মানবিক অধিকার লংঘন এবং ভোটের তামাশা সত্ত্বেও আমি মনে করি না বাংলাদেশের জনগণ ভুল পথে যাচ্ছে। গত বছরের (২০১৫) শেষে পৌর সভার নির্বাচন গিয়েছে। নির্বাচনের কারচুপি ঘটেছে, একে কোন অর্থেই নির্বাচন বলা যায় না। ইসির ভূমিকা নিন্দনীয়। বিএনপি যথারীতি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

পৌর নির্বাচনের ফলাফল দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির চরিত্রে বদল ঘটল কিনা অনেকে সেই প্রশ্ন তুলছেন। আদৌ কোন বদল হয়েছে কিনা বুঝতে পারব কি? আমার ধারণা, বুঝব। কিন্তু সবার আগে বুঝতে হবে শেখ হাসিনার অধীনে বিরোধী রাজনৈতিক জোটের নির্ (আরো পড়ূন)

রওনক জাহানের গণতান্ত্রিক উত্তরণ (!)

সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ২২ তারিখের ‘দৈনিক প্রথম আলো’য় চোখ বুলাচ্ছিলাম। উপসম্পাদকীয়র পাতায় রওনক জাহানের একটা লেখা চোখে পড়ল। লেখার শিরোনাম 'গণতান্ত্রিক উত্তরণের ২৫ বছর’। রওনক জাহান আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিত। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওপর তাঁর ভাল কাজ আছে বলে শুনেছি। তিনি ‘সেন্টা (আরো পড়ূন)

ক্ষমতার নিষ্ঠুর বৈশিষ্ট্য ও রাজনীতি

নীতিবাগীশতা ও ক্ষমতার বিচার

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সমাজের ক্ষমতাসীনদের জন্য আরামের কিনা বলা মুশকিল তবে তারা তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মতাদর্শিক স্বার্থ উসুল করে নিতে পারছে, এটাই বাস্তবতা। স্বার্থ উসুল করা কথাটা বোঝা আশা করি কঠিন কিছু নয়। তারা ক্ষমতার সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুট করছে ও বিদেশে টাকা পাচার করতে পারছে। বড় কোন প্রকল্পের জন্য এখন টেন্ডার দিতে হয় না, এর বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আইন করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সরকার টেণ্ডার ছাড়া যে কাউকেই তাদের ইচ্ছা মতো মতো দরদামে কাজ বা ঠিকাদারী দিতে পারে এবং দিচ্ছেও। ক্ষমতাসীন থাকার কারনে অপরাধ করেও ক্ষমতাসীনদ (আরো পড়ূন)

টেকনলজির বাহাদুরি বনাম শহিদ হবার সামর্থ্য

জিহ্বা কাটা পড়বেই...

ফেইসবুকে মাঝে মধ্যে চলমান বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করবার সুযোগ নিতাম। কিন্তু ফেইসবুক গণতন্ত্রের মানসকন্যা বন্ধ করে দিয়েছেন। ইন্টারনেটে যেতে পারি, কিন্তু ফেইসবুক খুলতে পারি না। এতে আমার বিশেষ ক্ষোভ আছে বলব না। তথাকথিত ‘গণতন্ত্র’ নামক ব্যবস্থায় চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া, কিম্বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার গীত গাওয়া যে আসলে উলুবনে হনুমানের চিৎকার সেটা এখন থিওরি কপচিয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে না। তাই কি?

তথাকথিত আধুনিক বা উদার গণতন্ত্রে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ইত্যাদি বিস্তর হাবিজাবি কথা বলা হয় কিন্তু এই প্রকার কথা ডু (আরো পড়ূন)

জলবায়ু সম্মেলন কপ ২১: আর কতো!

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুরু হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু কপ-২১ (বা কনফারেন্স অব দ্য পার্টি) সম্মেলন। টানা ১২ দিন চলবে দেনদরবারের নাটক; গাওয়া হবে নানান গীত ও কেচ্ছা। বিশ্বধরিত্রী সম্মেলন হয়েছে ২০১৩ সালে। এর পর ১৯৯৭ সালে এলো কিয়োটো প্রটোকল বা সমঝোতা। প্রটকলকে বাংলায় অনেক সময় চুক্তি বললেও সেখানে ফাঁক আছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত কনভেনশান হয়েছিল ১৯৯২ সালে। সেই কনভেনশানে  জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাবার জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাবার কথা উঠেছিল কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানোর জন্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে Common but Differentiated Responsibilities অর্থাৎ একই লক্ষ্যে ভিন্ন দায়িত্ব চুক্তি করার চেষ্ট (আরো পড়ূন)

তুরস্ক ও রাশিয়ার বিবাদ

আজকের দুনিয়ার আইএস বা ইসলামী স্টেট ইস্যুটি দিনকে দিন বিশ্বরাজনীতিকে জটিল থেকে জটিলতর করে তুলছে। ব্যাপারটি অনেকটা ‘কুইনাইন সারাবে কে’ অবস্থার মতো। ম্যালেরিয়া তাড়ানোর জন্য রোগীকে কুইনাইন খাওয়ানো হয়েছিল। এতে কুইনাইন ম্যালেরিয়া তাড়ানো গিয়েছিল কিনা, সেকথা চাপা পড়ে গিয়ে এর চেয়েও বড় ঘটনা হয়ে গিয়েছিল নতুন রোগ সৃষ্টি। কুইনাইন এ নতুন রোগ ডেকে এনেছে। তা থেকে আবার আরও অনেক নতুন নতুন রোগের বিস্তার ঘটেছে।

একই ভাবে সর্বশেষ জটিল ঘটনাটি হলো, তুরস্কের বোমারু বিমান এক রাশিয়ান বোমারু বিমানকে গোলা মেরে ভূপাতিত করেছে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলেও কমিউনিস্ট প্রগতিশীলদের চোখে রাশিয়া এখন নতুন সহানুভূতির রাষ্ট্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। সিরিয়াতে রাশ (আরো পড়ূন)

প্রক্সি যুদ্ধের টানাপড়েন

তুর্কিরা মার্কিনীদের দেয়া এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান দিয়ে সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে তুরস্কের আকাশ সীমায় মাত্র সতেরো সেকেন্ডের জন্য ঢুকে পড়া একটি ‘সুখয় এস ইউ ২৪’ রুশ যুদ্ধ বিমান ২৪ নভেম্বর গুলি করে ফেলে দিয়েছে। পাইলটরা যখন প্যারাসুট দিয়ে আকাশ থেকে নামছিলেন তখন সিরিয়া সীমান্তের ওপারে তুরস্ক সমর্থিত তুর্কমেন যোদ্ধারা তাদের গুলি করে। আকাশে গুলি করেই একজনকে হত্যা করা হয়, অন্য জন রাশিয়ায় ফিরতে পেরেছে।

রুশরা এতে ভয়ানক ক্ষিপ্ত হয়েছে। ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন: “সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা আমাদের পিঠে ছুরি মেরে দিল, এছাড়া একে আর অন্য কোন ভাবেই ব্যাখ্যা করে বোঝানো যায় না”। খুবই কড়া কথা। পুতিন আরো বলেছেন, রাশিয়া আগেই প্রমাণ করে দেখিয়েছে কি (আরো পড়ূন)

‘কয়টা লাশ পড়ল আমরা গুনে দেখি না’

‘We don’t do body counting’ - Gen. Tommy R. Franks, US Army

চিন্তার আলস্য এমন এক স্বোপার্জিত অসুখ যা সারিয়ে তোলা মুশকিল। ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হচ্ছে তেমনি স্বেচ্ছায় চিন্তা করতে অক্ষম হবার সাধনা: যখন কোন ঘটনা বা বিষয় নিয়ে আমরা আর চিন্তা করতে চাই না। অলস হয়ে যাই। তখন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে আমরা আমাদের চিন্তার অক্ষমতা ঢাকতে চেষ্টা করি।

যেমন, আইসিস। আইসিস নিয়ে বাংলাদেশে যা কিছু পড়েছি তার সারকথা দুটা:

এক. আইসিস হচ্ছে সিআইএ আর মোসাদের ষড়যন্ত্র বা মার্কিন ও ইসরায়েলি কাণ্ড, তাদেরই সৃষ্টি। বাকি ব্যাখা সহজ। সিআইএ ও মোসাদ কোথায় কিভাবে ষড়যন্ত্র করেছে তার প্রমাণ দাখিল (আরো পড়ূন)

ইঁচা ও পুঁটি মাছে্র সমাজ

আসলেই, ‘সমাজ বদল’ কথাটার অর্থ কী?

বাংলা ভাষায় ‘সমাজ’ নামে একটি শব্দ আছে। কিন্তু শব্দটি এখন কী বোঝায় সে সম্পর্কে আমরা আর একদমই অবহিত নই। আগেও খুব সজ্ঞান ছিলাম বলা যাবে না। যদি থাকতাম তাহলে সমাজ বদল, পরিবর্তন বা রূপান্তর ইত্যাদি ধারণার একটা মানে আমরা দাঁড় করাতে পারতাম এবং আমাদের বর্তমান অবস্থা বিচার করবার মানদণ্ড হিসাবে তা ব্যবহারও করা যেতো। সেই সুবিধাটুকু পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও প্রাচীন অভ্যাস বশত সমাজ বদলাবার কিম্বা সমাজ পরিবর্তনের কথা আমরা শুনে এসেছি। শুনতাম। আজকাল তাও শুনি না। কিম্বা শুনলেও সেটা কোন বিশেষ অর্থ জ্ঞাপন করে না। সমাজ যদি বর্ণনাত্মক অর্থে কি (আরো পড়ূন)

ঐক্য চাই, তবে কেমন ঐক্য?

যখন বুঝতে পারি দেশের মানুষ ভয়ংকর বিপদের দিকে ধেয়ে চলেছে তখন লিখতে গিয়ে সবকিছু গুছিয়ে লিখতে পারছি কিনা বারবার সেই দিকে সতর্ক থাকতে হয়। এই কাণ্ডজ্ঞানটুকু বজায় রাখা জরুরী যে যদি সমাজের রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভক্তি আমাদের বিপদ ও বিপর্যয়ের গোড়া হয় তাহলে সেই বিভক্তির গোড়ায় পানি ঢালা এখনকার কাজ নয়। এটা খুশির কথা যে অনেকেই ঐক্যবদ্ধ হবার কথা বলছেন। আমি কাতর ভাবে বুঝতে চাইছি তাঁরা কাদের মধ্যে ঐক্যের কথা বলছেন? সেই ঐক্যের উদ্দেশ্য কি? কার বিরুদ্ধে কার ঐক্য?

ঐক্যের ডাক  সফল হতে হলে স্বঘোষিত মুক্তিবুদ্ধিওয়ালাদের ঐক্য হলে হবে না। স্বঘোষিত ইসলামের রক্ষাকর্তাদের ঐক্যেও চলবে না। কারো সংলাপের আহ্বানেও কাজ হবে না। এটা হতে হবে জনগণের ঐক্য। এই মুহূর (আরো পড়ূন)

৩. জাতীয়তাবাদী বিকারঃ ‘রাজনৈতিক পরিসর’ নির্মানের গুরুত্ব

‘রাজনৈতিক পরিসর’ কথাটা বেশ কিছুকাল ধরে আমি ব্যবহার করছি। সুবিধা হচ্ছে আধুনিক রাষ্ট্র বিজ্ঞানে গ্রিক ‘পলিস’ (polis) থেকে ‘পলিটিক্‌স’-এর যে ধারণা গড়ে উঠেছে তার সঙ্গে ‘রাজনৈতিক পরিসর’ কথাটার যোগসূত্র আছে। ফলে যারা গ্রিক-খ্রিস্টিয় চিন্তা বা পাশ্চাত্যের ইতিহাসকে নির্বিচারে গ্রহণ করে নিজেদের ‘আধুনিক’ ও ‘প্রগতিশীল’ মনে করেন তাদের সঙ্গে আমার কথা বলতে সুবিধা হতে পারে।

গ্রিক ‘পলিস’ কথাটার আক্ষরিক মানে হচ্ছে ‘নগর’। এর আরেক আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে নাগরিকতা কিম্বা নাগরিক সমাজ। যারা ‘পলিস’ বা ‘নগর’-এর অন্তর্গত তারা নাগরিক। আধুনি (আরো পড়ূন)

২. জাতীয়তাবাদী বিকার: খুনের রাজনীতিকরণ

ছেলে হত্যার বিচার চাননা কেন এই প্রশ্নের উত্তরে একটি দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেছেন, আমরা ‘শূন্যের মধ্যে ভালো জিনিস খুঁজছি’। শূন্যতা বোঝাতে তিনি রাজনৈতিক সমাধানের অনুপস্থিতি বুঝিয়েছেন। বলেছেন, ‘এদেশে রাজনৈতিক সমাধান যতক্ষণ না হচ্ছে ততক্ষণ আইনগত কোনো সমাধান সম্ভব না’। এর নিহিতার্থ হচ্ছে সংবিধান, আইন, বিচার ব্যবস্থা ইত্যাদি কোন কিছুই শূন্যতার মধ্যে কাজ করে না রাজনীতি বা রাজনৈতিক পরিসরের মধ্যেই তারা কাজ করে। কিন্তু সমাধানের জন্য যদি কোন ‘পরিসর’ না থাকে তাহলে তার সমাধান কিভাবে সম্ভব? সেই পরিসর নাই বা শূন্য। আমি প্রাথমিক ভাবে এটাই বুঝেছি।  আবুল কাশেম ফজলুল হক ভবিষ্যতে আরও ব (আরো পড়ূন)

১. জাতীয়তাবাদী বিকারের বিপদ

স্বীকার করতে বাধা নাই, তরুণ বয়স  থেকে কবিতা লিখবার দোষ থাকবার কারণে ফকির লালন শাহের প্রতি আমার আগ্রহের কারণ ছিল তাঁর গান। তার জন্য আবদুল আলিমকে আমি আজ অবধি ‘দোষী’ করি। এই এক অনুযোগ যার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতি অগাধ ভালবাসাটুকু আমি বাঁচিয়ে রাখি। তাঁর গান শিক্ষিত মধ্যবিত্তের পরিসরে বড় হওয়া আমাকে বিচলিত করতো, আমার চিন্তার খাঁচাটাকে ঝাঁকি দিত। ‘আধুনিক’ গান ও আধুনিকদের গানের  বাইরে ‘পল্লী’ নামক একটা ভিন্ন জগত আছে, সেখানে মানুষ বাস করে এবং বিস্ময় যে তারাও গভীর বিষয় নিয়ে ভাবতে সক্ষম -- এই বোধটুকু আবদুল আলীমের বেশ কিছু তথাকথিত ‘পল্লীগীতি’ শুনে কিশোর ও যৌবন কালের সন্ধিক্ষণে আমার মনে দৃঢ় ভাবে গেঁ (আরো পড়ূন)

আইএস এসেছে (!), আইএস আসে নাই (?)

সাধারণত আমি লেখা শেষ করার পর লেখার শিরোনাম দিয়ে থাকি। কিন্তু আজ ব্যতিক্রম করেছি। আগে শিরোনাম লিখলাম। উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে একবার বিস্ময় চিহ্ন আর আরেকবার প্রশ্নচিহ্ন দেয়ায় পাঠকের একটু মিস্টেরিয়াস মনে হতে পারে। আসলে রহস্যের কিছু নাই। ব্যখ্যা করে বলি।

শেখ হাসিনার সরকার এতদিন আমাদের বুঝিয়েছিল,বাংলাদেশ ইসলামী সন্ত্রাসীতে ভরে গিয়েছে। তিনি দাবী করতেন, তার সরকারের আমলে কোনো বিরোধী দল নাই। যারা তার সরকারের বিরোধী, তারা ইসলামী সন্ত্রাসী। আর তাই বলতেন তিনি বিরোধী দল দমন করছেন না, ইসলামী সন্ত্রাসীদের দমন করছেন। কারণ, বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর ছত্রছায়ায় বাংলাদেশে ইসলামী সন্ত্রাস চর্চা হয়েছে। দল বা জোট হিসেবে তারা যেমন সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্ত ছিল, (আরো পড়ূন)

দ্বিখণ্ডিত দেশ, ব্যর্থ রাজনীতি

শেখ হাসিনা সফল ভাবে বিরোধী দলকে নাস্তানাবুদ করে দিতে পেরেছেন। খালেদা জিয়া বিদেশে গিয়েছেন চিকিৎসার জন্য। তাঁর ফিরে আসার কথা থাকলেও এখন শোনা যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য দেরি হবে। তাঁর প্রত্যাবর্তনের তারিখ এখনও অনিশ্চিত। এতে ক্ষমতাসীনদের পুলকিত থাকবার যথেষ্ট কারন রয়েছে। কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের জন্য আনন্দিত হবার কিছু নাই। অন্যদিকে আমরা বারবারই আমাদের লেখায় বলেছি, বিরোধী দলের বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার একটাই পথ: তাদের রাজনীতি স্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও পরিচ্ছন্ন করা। তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক ভাবে কি অবদান রাখতে চান সেটা সাধারণ মানুষকে স্পষ্ট করে কিছুই বলেন নি। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি চাইবার অর্থ বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যেতে চায়, কিন্তু জনগণ ভোট দিয়ে তাঁদের আবার ক্ষম (আরো পড়ূন)

১. নতুন রাজনৈতিকতার বিনির্মানে ‘শরিয়াহ’

[ বর্তমান পৃথিবীতে যেসব প্রশ্ন আমাদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে এবং নতুন রাজনীতি নির্মাণে প্রধান প্রশ্ন আকারে সামনে এসেছে এর মধ্যে ‘শরিয়াহ’ অন্যতম। কিন্তু শরিয়া নিয়ে আলোচনা সহজ নয়। এর বাস্তব প্রয়োগ যেমন বিতর্ক তৈরি করে তেমনি ইসলামকে দানবীয় বর্বর ধর্ম হিসাবে হাজির করবার জন্য পাশ্চাত্য শরিয়ার বিরুদ্ধে  ব্যাপক প্রপাগাণ্ডা চালায়। ঐতিহাসিক ভাবে শরিয়ার উৎপত্তি ও বিবর্তন বোঝা এবং শরিয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামে আইন, রাষ্ট্র, শাসন ব্যবস্থা, ক্ষমতা ইত্যাদি ধারণার উৎপত্তি ও বিবর্তন কিভাবে ঘটেছে সে সম্পর্কে বুদ্ধিবৃত্তিক নিষ্ঠার সঙ্গে শরিয়া পাঠ ও বিশ্লেষন ছাড়া গত্যন্তর নাই। সেই পাঠ একই সঙ্গে আধুনিক রাষত্রের পর্যালোচনাতেও সহায়ক হতে পারে।  (আরো পড়ূন)

সুন্দরবন রক্ষা না হলে ভাবমূর্তিও রক্ষা পাবে না

দেশে যখন দুই বিদেশি নাগরিক হত্যাকে কেন্দ্র করে নানা রঙের (তার মধ্যে লাল অন্যতম) অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা জারি হচ্ছে, তখন সরকার নিজেই জনগণের একটি ন্যায্য দাবিতে পুলিশ দিয়ে লাঠিচার্জ ও হামলা করে নিজেদের ভাবমূর্তি নিজেরাই ক্ষুণ্ণ করছে। পরপর দুই বিদেশি হত্যার ঘটনা (একটি ঢাকায় এবং অন্যটি রংপুরে) বিদেশিদের মধ্যে একটা আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, এতে কোনো সন্দেহ নাই। পাশাপাশি কিছু হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষ নিয়েও ঘটেছে সে ব্যাপারে কোনো অ্যালার্ট জারি হয়নি বটে, কিন্তু সবার মধ্যে কেমন একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কী হচ্ছে দেশে? কেউ বলতে পারছে না। দেশের মধ্যেও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। মানুষ নিরাপত্তা চায়। তাই সরকার এখন রাজন হত্যাকারী কামরুল, সৌরভকে গুলি মা (আরো পড়ূন)

নদিয়ার ভাব ও লালন শাহ

এক

ফকির লালন শাহ তিরোধান করেছিলেন পহেলা কার্তিকে। বাংলা বছর ১২৯৭ আর ইংরেজি ১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর। এই বছর পহেলা কার্তিক ১৪২২ (১৬ অক্টোবর ২০১৫), ফকির লালন শাহের ১২৫তম তিরোধান দিবস। 

তিরোধান দিবস হবার কারনে দিনটি শোকের দিন হিশাবে তাঁর অনুরাগী ও অনুসারীরা পালন করে থাকেন। তাদের জন্য এটা কান্নাকাটির দিন। কিন্তু এখন এই দিনটিকে একধরণের উৎসবে পরিণত করা হয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে দেখছি পহেলা কার্তিকে ছেঁউড়িয়াকে একটা মেলায় পরিণত করা হয়। এর কারন হচ্ছে লালন ফকিরের ধাম যাদের 'টাঁকশাল' তাঁরা  সেই ধামের রক্ষা বা ব্যবস্থাপনায় নাই। যাঁরা আছেন তাঁরা এই ধারার কেউ নন। দ্বিতীয়ত এর দায়ি (আরো পড়ূন)

নেপালের নতুন গঠ্নতন্ত্র, নারী অধিকার ও ভারতের কাণ্ড

নেপাল আমাদের একটি অতি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। প্রাকৃতিকভাবেও আমাদের সম্পর্ক অনেক গভীরে - হিমালয় থেকে বরফ গলে পানি আমাদের নদ নদী পার হয়ে গড়িয়ে বঙ্গোপসাগরে যাচ্ছে। কাজেই এখানকার যে কোন পরিস্থিতি আমাদের ভাবায়, আমাদের আন্দোলিত করে। নেপালে যখন ভুমিকম্প হয়েছিল তখন বাংলাদেশও কেঁপে উঠেছিল কয়েকবার। অন্যদিকে আমাদের আর একটি প্রতিবেশী দেশ হচ্ছে ভারত; যা আমাদের তিনপাশ ঘিরে আছে। সম্পর্ক ভাল কি মন্দ যাই হোক, সীমান্তে কাঁটা তার আছে আর যখন তখন নানা অজুহাতে সীমান্ত রক্ষীবাহিনী আমাদের মানুষ মারছে। এখানেও পানির সম্পর্ক আছে, ৫৪টি নদীর সাথে আমাদের সম্পর্ক। পানি নিয়ে টানাপোড়েন চলছেই। কাজেই আমাদের জনগণ ভারতের ব্যাপারে সবসময় নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন না, যদিও এপারে (আরো পড়ূন)

২. নেপালি মাওবাদ ও গণরাজনৈতিক পরিসর নির্মানের চ্যালেঞ্জ

নেপালে রাজতন্ত্রের পতন ও উৎখাতের ঘটনা ২০০৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু। প্রথম চোটে রাষ্ট্রের  সেনাবাহিনী ও পুলিশকে রাজার অধীনস্থতা ও নির্দেশে পরিচালিত হবার আইন বাতিল করে তাদেরকে জাতীয় সংসদ, অর্থাৎ জনগণের অধীনে আনা হয়। এটা ছিল এর আগে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলা ইউনাইটেড কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (UCPN) বা যারা পপুলারলি মাওবাদী (Maoist) বলে পরিচিত তাদের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল।

নেপালের মাওবাদীরা  ১৯৯৬ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে নেপালের তৎকালীন সরকারের কাছে ৪০ দফা দাবীনামা পেশ করে। সরকারকে তারা জানিয়েছিল, যদি এই দাবি মেনে না নেওয়া হয়, অর্থাৎ  আগামি দুসপ্তাহের মধ্যে  দাবি না মেনে নেবার  ইঙ্গিত দেখলে  সেক্ষেত্র (আরো পড়ূন)

১. ল্যাণ্ড-লকড নেপালঃ অতীত ও বর্তমানের ঔপনিবেশিক ধারাবাহিকতা

নেপালি জনগণের নতুন গঠতন্ত্র প্রণয়ন এবং গঠনতান্ত্রিক সভায় তা অনুমোদন ও গ্রহণ নেপালের প্রতি বাংলাদেশে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নেপালের জনগণ সম্পর্কে জানা এবং বোঝা বাংলাদেশের জন্য জরুরী। লেখা কোথা থেকে শুরু করতে হবে সে এক জটিল বিষয়। নেপাল প্রসঙ্গের ডাইমেনশন অনেক। অনেক দিক থেকে প্রসঙ্গ তুলে কথা বলতে হবে। আবার সব মিলিয়ে এক সামগ্রিক অর্থপুর্ণ চিত্র সাজিয়ে তোলা দরকার। কোন বিষয়ের পরে কোন বিষয় কতোটুকু আসবে সেটাও গুরুত্বপুর্ণ। সেসব নিয়ে তথ্য জোগাড় করা, চিন্তাভাবনা ও সিদ্ধান্তে আসা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। সর্বোপরি কিভাবে আনলে তা সহজে বাংলাদেশের পাঠকের বোধগম্যতায় আনা যাবে সেই বিষয়েও ভাবনার দরকার আছে। নেপাল নিয়ে বিভিন্ন বিষয় ধরে ধরে আলোচনা এখানে আলাদা আলাদা (আরো পড়ূন)

অভিনন্দন নেপাল

কিছুদিন আগে সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে নেপালের প্রেসিডেন্ট রাম বরণ যাদব একটি ঘোষণা দিয়েছিলেন যার তাৎপর্য অসামান্য। তিনি জানিয়েছেন গণপরিষদে নেপালের দুই কোটি ৮০ লাখ মানুষের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নেপালে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করেছেন এবং রাষ্ট্র গঠন পরিষদ (Constituting Assembly) বা গণপরিষদ ৫৯৮ গঠনতন্ত্র প্রণেতার মধ্যে ৫০৭ জনের সম্মতির মধ্য দিয়ে নতুন নেপালি গঠনতন্ত্র গ্রহণ করেছেন।

এই গঠনতন্ত্র প্রণয়ন একদিনে হয় নি। বাংলাদেশের মতো নেপালি জনগণ কোন উকিল মোক্তার দিয়ে তাদের সংবিধান মুসাবিদা করেন নি, কোন একটি রাজনৈতিক দল তাদের দলের দলীয় কর্মসূচি পুরা জনগোষ্ঠির ওপর চাপিয়ে দেয় নি। রাষ্ট্র গঠনের নৈতিক বা আদর্শগত ভিত্তি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে তীব্র (আরো পড়ূন)

ইতালিয়ান নাগরিক হত্যা ও তিনটি অর্থপূর্ণ ইঙ্গিত

মনে হচ্ছে পাশ্চাত্য দেশগুলো ইতালির নাগরিক সিজার তাভেল্লার হত্যাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসাবে মানতে নারাজ। ঘটনা হোল, সিজার গত সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর সড়কের গভর্নর হাউসের দক্ষিণ পাশের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষা ফুটপাতে খুন হন। দুই অস্ত্রধারি রিভলবার দিয়ে পর পর তিনটি গুলি করে আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা একজনের মোটরসাইকেলে চড়ে ৮৩ নম্বর সড়ক ধরে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে সিজারের মৃত্যু হয়। তিনি নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আইসিসিও কো-অপারেশন নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী। প্রুফ নামে ওলন্দাজ সরকারের উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অর্থ সহায়তায় পরিচালিত একটি বড়সড় প্রকল্পে সিজার কাজ করতেন। ইকো করপরেশানের (আরো পড়ূন)

বেগম রোকেয়া, ‘জেণ্ডার মেইনস্ট্রিমিং' ও নারী পুলিশ

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি সমর্থন করি

প্রথমেই বলে রাখি মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের দাবি আমি সমর্থন করি। এমন দাবীর সাথে দেশের মেডিকেল শিক্ষার পুরো ভবিষ্যত জড়িত। একটা পরীক্ষার ফলাফল ঘোষনা করা হয়ে গেছে বলে আবার পরীক্ষা নেয়া যাবে না এমন কথা যারা বলছেন আমি তাদে্র সাথে একমত নই। শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীরা ঢুকলে পরবর্তী সময়ে পুরো পেশার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে’’। কথাটি অযৌক্তিক নয়, কাজেই এখন এই ভর্তি পরীক্ষা বাতিল না করলে এই  অ-নিয়ম বন্ধ হবে না কোন দিনই।

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বড় অংশ হচ্ছে নারী শিক্ষার্থী। এই (আরো পড়ূন)

শিক্ষায় ভ্যাট আরোপ ভুলঃ অবকাঠামো নির্মান ধারণার বিরোধী

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন সফলতা পাবার পাশাপাশি বাংলাদেশের জনপরিসরে ভাবনার জায়গায় কিছু প্রশ্ন উঠেছে। যাদের হাতে আন্দোলনের সফলতা আসলো তারা দেশের জনপরিসরে একদমই নতুন ভাগীদার। এই দিক থেকে ভবিষ্যতে জনপরিসরে এদের অবস্থান কি হবে তা দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে আন্দোলনে জনগনের সমর্থন, শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, আন্দোলনের নতুন ভাষা ও ব্যাপ্তি সব মিলিয়ে একটা ভিন্ন আমেজ তৈরি করেছে। বিগত কয়েকদিন যাবত চায়ের আড্ডা, বাসে, পত্রিকার পাতা, টেলিভিশনের স্ক্রিন জুড়ে ছিল এই আন্দোলন। যদিও, এসব আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সরকার কর্তৃক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেতনের উপর আরোপিত ভ্যাটের বিরোধ (আরো পড়ূন)

দুই হাতেই তালি বাজুক

পশ্চিম বাংলার সাহিত্যিকদের প্রধান বাজার বাংলাদেশ। সেই দিক থেকে বাংলাদেশের বাজার রক্ষার খাতিরে বাংলাদেশের তোষামোদ করা তাদের জন্য জরুরী। এটা কোন খারাপ অর্থে বলছি না, ভাল অর্থেই বলতে চাইছি। বাজার ব্যবস্থার চরিত্রের কারণেই তোষামোদি দরকার হয়ে পড়ে। বাজার ব্যবস্থার ‘অদৃশ্য হাত’ তার প্রণোদনা। বাংলাদেশের পাঠক বা বই ভোক্তাদের নিজের প্রতি আগ্রহী করে রাখার ওপর পশ্চিম বাংলার লেখকদের বইয়ের বেচাবিক্রি অনেকাংশেই নির্ভর করে। তোষামোদির দরকার সেই কারণেই। বাংলাদেশে পশ্চিম বাংলার লেখকদের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে নিজের বইয়ের বাজার সুরক্ষার প্রশ্ন জড়িত। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়সহ অনেকেই বাংলাদেশের প্রতি সে কারণে অনেক সদয় মন্তব্য করেছেন। বাজার ব্যবস্থায় তোষামোদি (আরো পড়ূন)

‘গুলি কর, নো ভ্যাট’

আজ ১১ সেপ্টেম্বর বড় বড় দৈনিক পত্রিকার খবর হচ্ছে ঢাকা চট্টগ্রাম সিলেটে যানজট। কারা দায়ী? প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কেন? তারা শিক্ষার ওপর ভ্যাট আরোপের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো আটকে দিয়েছে। ফলে অসহ্য যানজট। গতকাল অধিকাংশ টেলিভিশানে এই ছিল খবর। আজ অধিকাংশ পত্রিকার কমবেশী একই হাল।

কোন কোন পত্রিকার খবর পড়ে বোঝার উপায় নাই তারা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিক্ষোভের খবর দিচ্ছে, নাকি যানজট বা সাধারন মানুষের দুর্ভোগের সংবাদ জানাতে চায়। যানজট হয়েছে সত্য, সাধারণ মানুষের ভোগান্তিরও শেষ নাই। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর বাতাসের আর্দ্রতার কারণে শেষ ভাদ্রের ভ্যাপসা গরম। সাধারণ মানুষের প্রচণ্ড কষ্ট হয়েছে। খবর হিসাব (আরো পড়ূন)

জরিপের রাজনীতি

ইন্টারনেশনাল রিপাবলিকান ইন্সটিটিউট ( বা আই আর আই) বাংলাদেশে অফিস খুলেছে ২০০৩ সালে। কী চায় তারা বাংলাদেশে? তাদেরই দাবি, তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে চায়। কিভাবে তারা সেটা করবে? আমরা অসভ্য, গণতন্ত্র বুঝি না, গণতান্ত্রিক আচার আচরণ করি না, অতএব তারা আমাদের গণতন্ত্রের ট্রেনিং দেবে। তার জন্য আমাদের প্রশিক্ষণ দেবে তারা।

সকলকে দেবে কি? যেমন ধরুন আওয়ামি লীগ, বিএনপি কিম্বা অন্য কোন রাজনৈতিক দলকে? ধরুন তারা খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা কিম্বা এই স্তরের নেতা নেত্রীদের গণতন্ত্রের ট্রনিং দিল। তাতে খারাপ কি? না এটা তাদের উদ্দেশ্য নয়। দিলে খারাপ কি ভালো হোত জানি না, পাঠকগণ নিজেরা নিজেদের বুদ্ধি মোতাবেক ভেবে নেবেন। কিন্তু ইন্টারনেশনাল রিপাবলিক (আরো পড়ূন)

স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং উপনিবেশবাদ

অনুবাদকের ভূমিকা: ফ্রাঁনৎস ফাঁনোর জন্ম মার্তিনিক (Martinique)-এর রাজধানী ফোর্ট দে ফ্রান্স (Fort-de-France) শহরে, ১৯২৫ সালের ২০ জুলাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফাঁনো ফরাসি মুক্তিবাহিনীর কালোসেনাদের ইউনিটে যোগ দেন। যুদ্ধের পর লিয়ন (Lyon)-এ ডাক্তারি পড়তে যান ফাঁনো। সেখানেই মনোবিজ্ঞান ও মানসিক রোগ বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেন তিনি। লিয়নেই প্রথম তার সাথে স্ত্রী জোসি (Marie-Josephe Duble´Josie)-এর সাথে পরিচয় হয়। সেখানেই তারা বিয়ে করেন। ১৯৫৩ সালে মনোরোগবিদ্যা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভের পর ফাঁনো আলজেরিয়াতে যান। সেখানে থাকেন তিন বছর। এরপর তিউনিস, ঘানা হয়ে চিকিৎসার জন্য সোভিয়েত রাশিয়ায় যান ১৯৬১ সাল (আরো পড়ূন)

ক্ষমতাসীনদের অভ্যন্তরে চার দ্বন্দ্ব

ক্ষমতাসীনদের প্রতিপক্ষ যেখানে নির্জীব এবং দমন পীড়নে পর্যুদস্ত তখন হঠাৎ রাজনীতি আবার অস্থির হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে দেখেএকে ক্ষমতাসীনদের নিজেদের ভেতরকার বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব বলে পত্রিকায় কেউ কেউ বলেছেন -- এরফকমই সন্তবত দেখেছি। এই মূল্যায়ন অবশ্য সস্তা, কারণ একথা ক্লাস সেভেনে পড়া ছেলেটিও বলতে পারে। বিরোধী দলের সাড়াশব্দ নাই, এই ফাঁকে নিজেদের মধ্যে গণ্ডগোল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে -- এই সস্তা ব্যাখ্যায় আমাদের বিশেষ আগ্রহ নাই। কীসে আগ্রহ সেই প্রশ্নে যাবার আগে ক্ষমতাসীনদের অন্তর্দ্বন্দ্ব কিভাবে প্রকাশিত হচ্ছে আমরা তার একটা তালিকা করবার চেষ্টা করি।

প্রথমে হাজারীবাগের ছাত্রলীগ নেতা আরজু ও মাগুরায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিবরের ‘ক (আরো পড়ূন)

আসুন গোড়ার কথা বলি

এক

দৈনিক যুগান্তরে গত সপ্তাহে ‘আয়নায় মুখ দেখা’ লেখাটি ছাপা হবার পর একজন পাঠক আমাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন (এই লিঙ্কেও লেখাটি পড়তে পারেন)। তাঁকে ধন্যবাদ। চিঠিতে তিনি নাম উল্লেখ না করে ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর প্রকাশিত একটি লেখার অংশ উদ্ধৃত করে আমাকে প্রশ্ন করেছেন, আমি এই লেখকক (আরো পড়ূন)

আয়নায় মুখ দেখা

‘নির্বাচনই গণতন্ত্র’ – এই ধরণের একটি ধারণার প্রকট প্রাবল্য বাংলাদেশে দীর্ঘকাল ধরে আমরা দেখেছি। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদে নির্বাচন নিয়ে যে তামাশা জনগণ দেখেছে সে কারণে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে কিছু কিছু ভাবনা শুরু হয়েছে বটে, কিন্তু আমার অনুমান সেটা খুবই ক্ষীণ। রাষ্ট্র নামক ব্যাপারটা আসলে কী, তা নিয়ে আমাদের সমাজে আলোচনা নাই বললেই চলে। একটি সর্বগ্রাসী প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে যাওয়া এবং তা একজন ব্যাক্তির কুক্ষিগত হওয়া  বিপজ্জনক। একদিকে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার প্রতিষ্ঠান আর অপরদিকে ক্ষমতাহীন সাধারণ মানুষ -- তাদের জীবন ও জীবিকার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামাজিক সুযোগগুলোও নষ্ট ও নস্যাৎ করে দেওয় (আরো পড়ূন)

রাষ্ট্রের নজরদারির বিরুদ্ধে সাহস: ডেভিড ডরমিনোর ভাস্কর্য

বাংলাদেশে আমরা খালি খারাপ রাজনৈতিক দশার ফেরে পড়ি নি, মন্দ শিল্প ভাবনার রাহু গ্রাসেও পড়েছি, ফলে শিল্পকলা কিভাবে ক্ষমতা ও রাজনীতির কেন্দ্রীয় প্রশ্নকে নিজের বিষয়ে পরিণত করে সে সম্পর্কে এখন আর খোঁজ খবরও বিশেষ রাখি না। এমন কিছু ঘটলে তার অর্থ বুঝে ওঠাও কঠিন হয়।

সম্পতি বার্লিনে ইতালীয় ভাস্কর ডেভিড ডরমিনোর একটি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যের উন্মোচন হোল। সিম্পল কিন্তু দারুন। তিনজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে চেয়ারের ওপর, চার নম্বর চেয়ারটি ফাঁকা। ওর ওপর দাঁড়িয়ে আপনার কিছু বলার থাকলে বলবেন। দাঁড়ি (আরো পড়ূন)

রাজন আমাদের কাউকে ক্ষমা করবে না

আর ক’দিন পরেই ঈদ। পুরো এক মাস সিয়াম সাধনার পর সব মানুষের জন্য ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঈদ খুশি বয়ে আনে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই ঢাকা শহরে ঈদের বাজারের জন্য রাস্তায় বের হওয়া যায় না, ট্রাফিক জ্যামে বসে থাকা লাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, টেলিভিশনে ইফতারের আয়োজনে নানা সু-স্বাদু খাবারের ছড়াছড়ি দেখানো হয়, ঈদের বাজারের দামি দামি কাপড় কেনাবেচার প্রতিবেদন দেখানো হয়। তখন বোঝা যায়, রমজান মাস চলছে। সামনে ঈদ। এদেশে আনন্দের সীমা নেই। তার ওপর বিশ্বব্যাংক বলে দিয়েছে, বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে গেছে, শিগগিরই মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে যাবে। সবাই সুখে আছে! সুখে থাকবে। ক্রিকেট খেলার জয়ে উল্লসিত বাংলাদেশের তরুণরা, মিরপুর স্টেডিয়ামে তাদের ভিড় লক্ষণীয়। আমরা তো তাই চা (আরো পড়ূন)

আদালতের মর্যাদা রক্ষা করুন

কর্তৃত্ব থাকলেই ব্যবহার ঠিক না

‘আদালত অবমাননা সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ ও আদালতের রায়ে ‘আদালতের কর্তৃত্ব’ (authority) নিয়ে একটা কথা উঠেছে। এর অর্থ কী আসলে? এই প্রসঙ্গে ‘আদালতের কর্তৃত্ব ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে একটি লেখা লিখেছিলাম। চিন্তা ওয়েবে তা খানিক সংস্কার করে তোলা আছে।

সেখানে দেখিয়েছিলাম জনগণকে বাদ দিয়ে কিম্বা জনগণের উর্ধে ‘আদালতের কর্তৃত্ব’ নামক বিমূর্ত বা ঐশ্বরিক কোন ক্ষমতা নাই। আদালত জনগণের অভিপ্রায়ের অধীন আর সেই অভি (আরো পড়ূন)

আদালতের কর্তৃত্ব ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা

'আপনারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন' --- আদালতকে ডা. জাফরুল্লাহ্‌  চৌধুরী

বাংলাদেশের সংবিধান ঘোষণা করে যে 'চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল' [গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুচ্ছেদ ৩৯ (১)]। প্রশ্ন হচ্ছে, আদালত কি নাগরিকদের এই সাংবিধানিক অধিকার হরণ করতে পারে? উত্তর হচ্ছে, না। যদি তা করে তাহলে নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করবার কারণে আদালত নিজেই নিজের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ণ করে ফেলে।

আদালত পুলিশও নয়, মিলিটারিও নয়, কিম্বা নির্বাহী প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলও নয় – তাহলে ‘আদালতের কর্তৃত্ব’ (আরো পড়ূন)

রাজনীতি, সংবিধান ও সেনাবাহিনী

বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কৌশলের ব্যর্থতা ও দুর্দশা নিয়ে প্রায়ই অনেককে কথা বলতে শুনি। নানান জনে নানান কারনের কথা বলেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেইসকল মন্তব্য অকাজের। অর্থাৎ বিশ্লেষণ বলি কিম্বা ভবিষ্যতে বিরোধী দলের কি করা উচিত সেই ঔচিত্যের ক্ষেত্র থেকে বলি – লক্ষ্যহীন বাগাড়ম্বর কোন কাজে আসে না।

তাহলে এক কথায় বিরোধী রাজনীতির কৌশলগত ব্যর্থতার সারমর্ম কিভাবে করা যায়! এর উত্তর মিলবে যদি প্রশ্ন করি বিরোধী দল আসলে কি চেয়েছিল? তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চেয়েছিল। ভাল কথা। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেবার কোন ইচ্ছা তার নাই। অতএব তার কোন সম্ভাবনাও নাই। বি (আরো পড়ূন)

মোদির বাংলাদেশ নীতি: প্রণববাবুর আলখাল্লা গায়ে সফর

মোদির সফর শেষ হয়েছে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে। মোদি নিজে আগাম অনুমান করে বলেছিলেন তাঁর ফেরত যাবার পরে এই সফর নিয়ে চর্চা শুরু হবে। তা তো অবশ্যই হবে, হচ্ছেও। এগুলোর সার কথা হচ্ছ্‌ দেনা পাওনার দিক থেকে। “হিসাব কিতাবে মোদির দিকেই পাল্লাই ভারি”-- এই সফর শেষে এটাই আমরা শুনছি। এটা না হবার কোন কারণ নাই। সাত তারিখ দিন শেষে রাত বারোটায় (আইনত আট তারিখের শুরুতে )সংবাদ পর্যালোচনায় চ্যানেল আই টিভিতে এসেছিলেন ভারতের দৈনিক টেলিগ্রাফ পত্রিকার এক বাঙলি সাংবাদিক, দেবদ্বীপ পুরোহিত। তিনিও বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছিলেন বাংলাদেশ সবকিছুই দিচ্ছে, এটা একপক্ষীয় লেগেছে তাঁর কাছেও। তিনি বলছিলেন বাণিজ্যিক স্বার্থের দিক থেকে কিছু দেয়া আর বিনিময়ে কিছু পাও (আরো পড়ূন)

গোরস্থানে মৃতদের দেশে আছি !

এই লেখাটি যেদিন ছাপা হবে সেইদিন ২৬ তারিখ। আমার মনে হয় না এই দিনটির কোন গুরুত্ব আমাদের কাছে আছে। মনে হয় কবরস্থানে আছি। নিজের নিঃশ্বাসকেও নিঃসাড় মনে হয়। অথচ বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই দিনটির গুরুত্ব অসামান্য। ব্যবহারিক রাজনীতি ও নৈতিক অবস্থান দুই দিক থেকেই।

২৬ জুন নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস। বিভিন্ন দেশে যাঁরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাঁদের প্রতি সংহতি জানাবার জন্য প্রতিবছর সারা বিশ্বে এটা পালন করা হয়। শুধু মানবাধিকার সগঠন এই দিনটি পালন করে তা নয়, আদর্শ ও কর্মসূচির কারনে যে সকল রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও নির্যাতনের শিকার হয় তারাও সেটা পালন করে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলগুলোও তাদের ভাবমূর্তি অক্ষূণ্ণ রাখবা (আরো পড়ূন)

ভবে মানুষগুরু নিষ্ঠা যার সর্বসাধন সিদ্ধ হয় তার

ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার
সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার
  –  ফকির লালন শাহ

মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞানমনস্কতা, বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে বাংলাদেশে যে ‘বিজ্ঞানবাদিতা’ জারি রয়েছে তার সমালোচনা করে দৈনিক যুগান্তরে ‘বিজ্ঞান চাই, বিজ্ঞানবাদিতা চাই না’ শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। এরপর এ ধরনের লেখা লিখবার জন্য অপরিসীম সাড়া পাই। বিশেষত তাদের কাছ থেকে যারা বয়সে কম অথচ চিন্তা করতে ভালবাসে। কোন ‘মত’-কেই যারা বিচার ছাড়া মেনে নিতে রাজি না। স্রেফ মত প্রকাশের অধিকার কিম্বা স্বাধীনতার তর্কের জায়গা থেকে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনত কিম্বা অন্যের কথা বল (আরো পড়ূন)

মোদি বাংলাদেশে আসছেন, তাতে কী!

এক এগারো ও দিল্লী

বাংলাদেশ ভারতের কাছে কী? মুঠোয় থাকা খেলনা? বিড়াল যেমন ইঁদুর নিয়ে খেলে সেই রকম কোন তুলতুলে খেলনা ইদুর? মানে ঠিক প্রাণহীন প্লাস্টিকের খেলনা নয়। বিড়ালের সামনে ইঁদুরের প্রাণে নিয়ে দাঁড়ানো খেলা? তাই কী?

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বিজেপির নরেন্দ্র দামোদর মোদি বাংলাদেশ সফরে আসছেন আগামি ৬-৭ জুন ২০১৫; তারিখটা এখন সরকারিভাবেও নিশ্চিত করা হয়েছে। কোন পরিপ্রেক্ষিত থেকে এই সফরকে আমরা দেখব সেই তালিকা অনেক লম্বা হবে। কোন একদিক থেকে শুরু করা যাক।

এক এগারোর এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের মাইনাস টু ফর্মুলার কথা সকলে শুনেছি। দুই দলের দুই নেত্রীকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা (আরো পড়ূন)

গুম, সালাহ উদ্দিন ও  দিল্লির দায়

গত পাঁচদিন ধরে বিএনপির মুখপাত্র সালাহ উদ্দিন আহমেদকে কেন্দ্র করে  তিনটা শব্দ মিডিয়া ছেয়ে রেখেছে – মেঘালয়, সালাহউদ্দিন আর খোঁজ। যারা সালাহ উদ্দিনকে গুম বা ‘নিখোঁজ’ করে রেখেছিলেন বলা বাহুল্য তারাই এ’বিষয়টায় সবচেয়ে ভাল জানেন ও বলতে পারবেন। ফলে তারাই তো সবার উপরে সালাহ উদ্দিনের খোঁজ প্রসঙ্গে নির্ভরযোগ্য সোর্স। কিন্তু বুঝা যাচ্ছে তাঁরা সেটা চাচ্ছেন না। বলাই বাহুল্য তাদের পক্ষে সোর্স হবার মত পরিস্থিতি নাই, হওয়াটা নতুন বিপদেরও। অথচ সালাহ উদ্দিনের যে “খোঁজ পাওয়া গেছে” এটা তারা রাষ্ট্র করতে চান, করা দরকার বোধ করছেন। তাই আমরা লক্ষ্য করলাম ‘‘খোঁজ’ পাবার পর’ প্রথম দুদিন সালাহ উদ্দিন সম্প (আরো পড়ূন)

নববর্ষ ও নারী নির্যাতন: রাষ্ট্র ও সরকারের দায়

একজন নয়, দুইজন নয় অনেক নারী একত্রে বিবস্ত্র ও শ্লীলতাহানীর শিকার হয়ে এবারে নতুন বছর শুরু হয়েছে। তাও হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে, টিএসসি এলাকায়, রাজু ভাস্কর্যের কাছাকাছি। এখানে পয়লা বৈশাখ উদযাপনের অনেক আয়োজন ছিল, তাই জনগণের ভিড় ছিল। ঢাকাবাসীরা নিরাপত্তা দেয়া আছে জেনে পরিবার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে নারীদের ওপর যে বর্বর হামলা হয়েছে তার জন্য ঘৃণা প্রকাশের ভাষাও আমরা হারিয়ে ফেলেছি। পুলিশের বেস্টনীর মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটেছে, নির্জন কোন জায়গায় নয় শত শত মানুষের ভিড়ে । এই ধরণের কুৎসিৎ ও নির্লজ্জ ঘটনা ঘটার পরও নীরব দর্শক হয়ে থেকেছেন অনেকেই, যারা বাঁচাতে এসেছেন তাদের ওপরও হামলা হয়েছে। হা (আরো পড়ূন)

নির্বাচন কমিশনের পুরুষতান্ত্রিক প্রতীক বরাদ্দ ও নারী প্রার্থীর অবমাননা  

অনেকদিন পর ঢাকা শহরে নির্বাচন হচ্ছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এতে শুধু মেয়র নয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনও করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে এখন যে পোস্টার, ব্যানার দেখছি তা শুধু মেয়রদের জন্য নয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যেও বেশ সাড়া জাগিয়েছে। নারী প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর হওয়ার বিধান আছে, যদিও সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে কোনো নারীর প্রার্থী হবার ক্ষেত্রে আইনগতভাবে কোনো বাধা নেই। নারীদের মধ্যে অনেক যোগ্য প্রার্থী আছেন, যারা নাগরিক সেবা দেয়ার জন্য কাজ করতে চান। কিন্তু নারী প্রার্থীদের এবার প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে পশ্চাৎপদ, পুরুষতান্ত্রিক ও নারীর প্রতি অবমাননাকর আচরণের পরিচয় দিয়েছেন তার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো (আরো পড়ূন)

চিনের বিশ্বব্যাংক: বিশ্ব অর্থনীতির চৈনিক মোড়

দ্বিতীয় কিস্তি

চলতি শতকের প্রথম দশক (২০০১-১০)থেকেই দুনিয়া জুড়ে নানান ঘটনায় বারবার আলামত ফুটে উঠছিল যে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে এক মহা-ওলটপালট আসন্ন। দুনিয়া জুড়ে পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের বিস্তৃতি ও পুঁজির পুঞ্জিভবন ভবন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যে বিশ্বযজ্ঞ চলেছে তাকে এক কথায় আন্তর্জাতিক পুঁজির তৎপরতার বলা হয়। সেই তৎপরতা পুঁজির নিজস্ব স্বভাবের অধীন। তার কার্যকারণ নৈর্ব্যক্তিক -- মানুষের ইচ্ছাধীন নয় – একথা অনেক রথী মহারথী বলে গিয়েছেন। এদের মধ্যে কার্ল মার্কস অন্যতম। তাঁর লেখালিখির মধ্য দিয়ে মানুষের ইচ্ছার বাইরের পুঁজির এই বিশ্ব ব্যাপী চলন ও বিচলনের কার্যকারণকে ‘পুঁ (আরো পড়ূন)

চিনের বিশ্ব ব্যাংক: বিশ্ব অর্থনীতির চৈনিক মোড়

প্র থ ম  কি স্তি

দুনিয়ার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সাধারণত ‘গ্লোবাল ইকনমিক অর্ডার’ নামে আলোচনা করা হয়, সেই ব্যবস্থার মধ্যে রূপান্তরের চিহ্নগুলো বহুদিন ধরেই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছিল। গত সাত বছর ধরে সেই ব্যবস্থার মধ্যে একটা ‘মোচড়’-এর কথা বলে আসছিলাম আমরা। এই মোচড়ানি বিদ্যমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ঠিক ভেঙ্গে পড়ার অভিমুখি নয় বরং কাঁধ বদল অথবা আরেক কাঁধে মাথা রেখে পুরা ব্যবস্থার পাশ ফিরে শোয়া বলা যায়। এই পাশ ফিরে শোয়ার পরিণতিও নানান দিক থেকে  বিরাট বদল ঘটাতে পারে। এই প্রসঙ্গে এ বিষয়ে প্রথম কিস্তি পেশ করা হোল।

(আরো পড়ূন)

আধুনিকতা, প্রগতি ও সহিংসতা

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, মানুষের গুম হয়ে যাওয়া, কারো কারো লাশ হয়ে প্রত্যাবর্তন আর অনেকের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া, পুলিশি হেফাজতে অহরহ হত্যা ইত্যাদি বাংলাদেশে দৈনন্দিনের চিত্র হয়ে উঠেছে। এই ধরণের পরিস্থিতিতে কিছু লেখালিখি করা বিপজ্জনক। একটি অবস্থান হচ্ছে মানবাধিকার রক্ষার দাবি। এই অবস্থানের অনুমান হচ্ছে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও নিরাপত্তার ছায়ায় দাঁড়িয়ে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা। মানবাধিকার ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমত রয়েছে। মানবাধিকার রক্ষার জন্য বিবিধ আন্তর্জাতিক ঘোষণা, সনদ ও অঙ্গীকারও কম নাই; ফলে মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্ন কমবেশী আন্তর্জাতিক বিধিবিধান হিসাবে স্বীকৃত। মানবাধিকার কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক (আরো পড়ূন)

বিজ্ঞান চাই, বিজ্ঞানবাদিতা চাই না

আমরা নিত্যদিন পৃথিবীকে সূর্যের চারদিকে ঘুরে আসতে দেখি; সূর্য পূব আকাশে ওঠে, আর বিকালে পশ্চিমে ডুবে যায়। হ্যাঁ, ‘ডুবে’ যায়। বিকালে সুর্যের কি ঘটে তার অভিজ্ঞতাটা কোন কিছু পানিতে ডুবে যাবার মত। লাল হয়ে আছে সন্ধ্যার আকাশ, আর দিগন্ত রেখার নীচে ডুবে যাচ্ছে সূর্য ! ডুবে যাওয়া কথাটা সূর্য সম্পর্কে খাটে কিনা তর্ক হতে পারে। কিন্তু অভিজ্ঞতার জগতে ‘ডোবা’ বা ‘ডুবে যাওয়া’ নামক একটা ব্যাপার আছে যাকে বিকালে পশ্চিমাকাশে সূর্যের নিষ্ক্রান্ত হবার ঘটনাকে উপলব্ধি ও ব্যক্ত করতে ব্যবহার হয়; আমরা ব্যবহার করি।

বিজ্ঞান বলে, এটা ঠিক না। সূর্য ডোবে না। আমরা পশ্চিমের কোন দেশে গেলে দেখব সূর্য ডোবে নি। আরও দূরে গেলে দেখব সূর্য (আরো পড়ূন)

সংকট পেরুবো কিভাবে?

বিভাজন, বিভক্তি ও নির্মূলের রাজনীতির বিপদ

অন্ধ হয়ে রাজনৈতিক বিভাজন ও বিভক্তি রেখা যেভাবে আমরা পরস্পরের বিরুদ্ধে টেনে দিচ্ছি এবং ভিন্ন চিন্তাকে দুষমণ গণ্য করে তাকে নির্মূল ও কতল করবার জন্য পরস্পরের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ছি তার পরিণতি সহিংস ও আত্মঘাতী হতে বাধ্য। বাংলাদেশের জন্য সেটা ইতোমধ্যেই মারাত্মক হয়ে উঠেছে। শুনতে অনেকের ভাল নাও লাগতে পারে -- এই বিভাজন ও বিভক্তি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে বিলয়ের দিকে নিয়ে যাতে পারে। অবশ্য বিশ্বে আমরা এখন টিকে আছি শুধু সস্তা দাসের দেশ হিসাবে। সেটা একদিকে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনের বিনিময়ে -- তাদের পুড়িয়ে কিম্বা জ্যান্ (আরো পড়ূন)

রাজনৈতিক পরিসরে রাজনৈতিক সমাধানই কাম্য

শেখ হাসিনা ধমক দিয়েছেন!

শেখ হাসিনা ধমক দিয়েছেন। শুনতে মন্দ লাগতে পারে, কিন্তু সংবিধানকে ব্যবহার করবার ইচ্ছা নিয়ে তিনি যেভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী করেছেন তাতে এই ধরনের ধমক অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থেকে লাভ নেই’। বলছেন, খালেদা জিয়াকে। তাঁর ধারনা উত্তরপাড়া থেকে কেউ এসে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবেন। এরপর বলেছেন, “ তিনি যাদের নিয়ে ভাবেন, তারাও জানে এভাবে ক্ষমতায় এলে পরিণতি কী হয়। অতীতে যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদেরও খারাপ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে। অনেককে দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষ (আরো পড়ূন)

জয়শঙ্করের সফর

দুটো ইস্যু

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট কোনদিকে সে অভিমুখের পরের স্তর শুরু হতে যাচ্ছে আগামি দুই মার্চ। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুব্রাহ্মনিয়াম জয়শঙ্কর আগামি দুই মার্চ একদিনের বাংলাদেশ সফরে আসছেন। কুটনৈতিক পাড়ার জোর অনুমানের ওপর তৈরি খবর হল জয়শঙ্কর যা বয়ে আনছেন তা কেবল ভারতের কথা নয় বরং তা একই সাথে আমেরিকা ও ইউরোপের সাথে ভারতের অবস্থান মিলিয়ে সমন্বিত অবস্থান। সে অবস্থানেরই বাহক তিনি। এর মানে হল, জয়শঙ্করের সফরটা ভারত-বাংলাদেশের রুটিন সফর বা অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে কোন আলোচনা নয়। বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে আসার ছলে সাইড টক হিসাবে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সম্পর্কে পশ্চি (আরো পড়ূন)

মহামান্য আদালত, বাংলা বলুন, বাংলায় রায় লিখুন

আদালতে বাংলা ভাষা পুরাপুরি প্রবর্তন না হবার অর্থ সাধারন ভাবে আদালত, তবে বিশেষ ভাবে উচ্চ আদালত সংবিধান মানেন না এবং নিজেদের সংবিধান ও প্রজাতন্ত্রের অধীন গণ্য করেন না। উচ্চ আদালতের বিরুদ্ধে এই আভিযোগ গুরুতর, হাল্কা ভাবে নেবার কোন উপায় নাই।  সংবিধানের তৃতীয় অনুচ্ছেদে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ লিখিত থাকবার পরেও সংবিধান আদালতের জন্য কোন বাধা হয়ে দাঁড়ায় নি। উচ্চ আদালতে বাংলার প্রচলন হয় নি। আদালত সংবিধান উপেক্ষা, অস্বীকার বা ভঙ্গ করতে পারে এই দৃষ্টান্ত বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্য বিপজ্জনক। এর জন্য উচ্চ আদালতকে কারো কাছে জবাবদিহি করতে হয় নি বা হয় না। এই বাস্তবতা আমরা কী ধরণের রাষ্ট্র তৈরি করেছি তার একটি ভাল লক্ষণ। (আরো পড়ূন)

মমতা ভাসল পানিতে ইলিশে, বাঙালির বেগুন নাই

পশ্চিম বঙ্গের মূখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বাংলাদেশে এসে ঘুরে গেছেন। তাঁর ৪০ জনের বেশি সফর সঙ্গীর মধ্যে ছিলেন কবি সুবোধ সরকার,চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষ ও ব্রাত্য বসু,অভিনেত্রী মুনমুন সেন,অভিনেতা প্রসেনজিৎ,দীপক অধিকারী (দেব)ও অরিন্দম শীল,কণ্ঠশিল্পী নচিকেতা ঘোষ ও ইন্দ্রনীল সেন,কবি কাজী নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী। এ ছাড়া ছিলেন শিল্পপতি হর্ষ নেওটিয়া ও সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এবং একদল সাংবাদিক। ভারতীয় সাংবাদিকরা এই সফর নিয়ে কি লিখছেন আমি সে প্রসঙ্গে যাব না। বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় যা উঠেছে এবং টিভি চ্যানেল যেভাবে কভার করার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তাতে মনে হয়েছে এবার সরকারের একুশে ফেব্রুয়ারির কর্মসূচিটাই মমতা-কেন্দ্রিক হয়ে গেছে। সারাদিন মমতা (আরো পড়ূন)

মমতার বাংলাদেশ সফর ও প্রত্যাশা

পশ্চিম বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ঢাকা সফরে এসেছেন। এমন সময়ে তার আসা যখন আমরা বিরাট রাজনৈতিক সংকট, অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। এই সংকটে ভারতের অবস্থান সম্পর্কে জানতে আমরা আগ্রহী, বিশেষত দিল্লি আর কলকাতার অবস্থানের ঐক্য ও পার্থক্য আমরা বুঝতে চাই। বলা বাহুল্য, এখানে ভুল করার বিশেষ কোন অবকাশ নাই যে মমতা একটা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোন প্রতিনিধি নন, প্রতিনিধিত্ব তিনি করছেনও না, করার সুযোগও নাই। তাহলে মমতার এই সফরের প্রয়োজন দেখা দিল কেন?

এর দুটো দিক আছে। এক, হাসিনা সরকার কেন মমতার সফরে আগ্রহ দেখালেন? আর দুই, মমতা এই সফর কেন প্রয়োজন মনে করলেন? এই দুটো বিষয় নিয়ে আমরা এখানে কথা তুলব।

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন (আরো পড়ূন)

সংবিধান নয়, জনগণের অভিপ্রায়ই শেষ কথা

পাঁচই জানুয়ারির নির্বাচন আদর্শ নির্বাচন ছিল না; এ বিষয়ে সমাজে কোনো বিতর্ক নাই। ক্ষমতাসীনরা শুরুতে বলতেন নির্বাচন ছিল সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, তবে বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করায় একে আদর্শ নির্বাচন বলা যায় না। তারা অচিরেই আরেকটি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটা তারা আর মানেন নি। প্রতিশ্রুতি পালন করার কোন নৈতিক কিম্বা রাজনৈতিক দায়ও বোধ করেন নি। বরং আরও পাঁচ কি দশ বছর পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন বলে অহংকারী হয়েছিলেন। ভাষা, কথা বলার ধরন ও শরীরের ভঙ্গি দিয়ে ক্ষমতাসীনরা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা বুঝি চিরকালের জন্যই ক্ষমতায় এসেছেন। সমাজে এর প্রতিক্রিয়া হয়েছে মারাত্মক নেতিবাচক। এই বছরের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনযাত্রার অচ (আরো পড়ূন)

বাংলাদেশে গণতন্ত্রঃ দিল্লি-ওয়াশিংটনের নতুন সম্পর্কের আলোকে

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র পরিচালক ফিল রেইনার (Phil Reiner) গত ৩ জানুয়ারি এক প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করেছিলেন। বিষয় ছিল সদ্য সমাপ্ত ওবামার ভারত সফর সম্পর্কে প্রেসকে অবহিত করা। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস ২৬ জানুয়ারি। এ বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে ওবামা ২৫-২৭ জানুয়ারি ভারত সফরে এসেছিলেন। ফিল রেইনার ওবামার ভারত সফরে সঙ্গী ছিলেন। স্বভাবতই ঐ প্রেস কনফারেন্স ছিল মূলত ভারত সফরে ওবামার তাৎপর্য বিশেষত অর্জনগুলো তুলে ধরা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেইটের ওয়েবসাইটে রেইনারের প্রেস কনফারেন্সটিকে সেই ভাবেই পেশ করা হয় (আরো পড়ূন)

অধঃপতন নাকি উল্লম্ফন?

দুই হাজার পনেরো সালের জানুয়ারির ৫ তারিখ বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ কারন এই দিনে দীর্ঘকাল ধরে জমে থাকা সমাজের নানান স্তরের দ্বন্দ্ব-সংঘাত মীমাংসার অতীত রাজনৈতিক বিরোধের রূপ নিয়ে ক্রমে ক্রমে মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশের অতীতের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের তুলনায় এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন। এর মীমাংসা সহজ নয়।

একদিক থেকে একে বাংলাদেশের গভীর গহ্বরে পতন হিসাবে বিবেচনা করা যায়, অন্যদিক থেকে, গর্ত যতো গভীরই হোক উল্লম্ফনের পথটিও ঐতিহাসিক দূরদৃষ্টির প্রতিভা আমাদের দেখিয়ে দিতে পারে যদি ঐতিহাসিক পর্যালোচনার অভিজ্ঞতা দিয়ে এই গর্ত কিভাবে আমরা একাত্তরের পর থেকে নিজেরাই খনন করে চলেছি বুঝতে পারি (আরো পড়ূন)

বেঁচে থাকো বাংলাদেশ, বেঁচে থাকো, প্লিজ

গতকাল ৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে সংসদে আওয়ামি লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার কথা শুনছিলাম। ‘যারপরনাই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন’-এর মধ্য দিয়ে তিনি ‘প্রধান মন্ত্রী’, তাঁর ক্ষমতার বৈধতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। অথচ তিনি তাকে আমলে নিচ্ছেন না। যার কুফল বাংলাদেশকে ভোগ করতে হচ্ছে।

‘যারপরনাই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন (extremely flawed election) আমার ভাষ্য নয়। বিদেশিদের মূল্যায়ন। যুক্তিসঙ্গত কারনেই আন্তর্জাতিক মহলে ‘যারপর নাই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন’-এর মধ্য দিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদও  আদৌ বৈধ সংসদ কিনা সে বিষয়ে ঘোর সন্দেহ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে অবৈধ সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, এক শ্রেণির গণমাধ্যমের নির্বিচার (আরো পড়ূন)

‘জাতীয় ঐকমত্যের সরকার’ বিতর্ক

সম্প্রতি দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদ সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়াশান মিলনায়তনে ২৮ জানুয়ারি তারিখে ‘চলমান জাতীয় সংকট: উত্তরণের পথ’ শীর্ষক একটি সভায় 'জাতীয় ঐকমত্যের সরকার' গঠন এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব করেছেন। সেই সভায় বিচারপতি আব্দুর রউফ, খোন্দকার মাহবুব হোসেন, লে: কঃ (অঃ) মোহাম্মদ সেলিম, রুহুল আলম গাজী সহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে আমাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তার জন্য তাঁকে ও সভার উদ্যাক্তাদের আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দৈনিক পত্রিকায় এ (আরো পড়ূন)

গণআন্দোলন ও নতুন সরকার

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিত নিয়ে কমবেশী সবাই চিন্তিত, চলমান সংকটের অনিশ্চয়তা থেকে থেকে বেরুবার পথ স্পষ্ট নয়। স্পষ্ট নয় এই অর্থে যে, একেবারে প্রাথমিক উপায় হিসাবে সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নাই, কিম্বা দেখা যাচ্ছেনা। রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব যে আকার ধারণ করেছে, তাতে করে একটি নির্বাচন মোটেও কোনো অর্থপূর্ণ পরিবর্তন ঘটাবেনা। যদি ধরেও নেয়া হয়, অন্তত জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে এবং অর্থনীতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে আশু সমাধান নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা। তাও একমাত্র পূরণ হতে পারে বর্তমান ক্ষমতাসীনরা বাধ্য হলে কিম্বা বিদায় নিলে।

কিন্তু কখন একটা (আরো পড়ূন)

শিষ্টাচারের নসিহত: বাচ্চালোগ তালিয়া বাজাও

বাংলাদেশ বিস্ময়কর দেশ। এই এক দেশ যেখানে পশ্চিমা মিডিয়ার বর্ণবাদী ও পুরুষতান্ত্রিক চিন্তার প্রাবল্যের জন্য পড়াশোনা জানা শিক্ষিত ভদ্রলোকরা বিশ্বাস করে বাংলাদেশের সকল নষ্টের গোড়া দুই বেগম। তাদের ভাষায় ‘ব্যাটলিং বেগামস’। সমাজে যারা শিক্ষিত, অভিজাত ও বুদ্ধিমান বলে পরিচিত তাদের এই বিশ্বাস কি করে এতো বদ্ধমূল হোল সেটা সমাজতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয়। অর্থনীতি, সমাজ, সংস্কৃতির ইতিহাস এই সংকটের জন্য কতোটা দায়ী, কতোটা বাহাত্তরে রাষ্ট্র গঠনের ত্রুটি -- সেই দিকে তাদের কোন ভ্রূক্ষেপ নাই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের একমাত্র কারণ দুইজন মহিলা। ফলে কখন কিভাবে রাষ্ট্র যারপরনাই সন্ত্রাসী হয়ে নাগরিকদের সকল অধিকার হরণ করতে শুরু করেছে তার কোন হদিস নেওয়া ত (আরো পড়ূন)

পরিস্থিতির দায় ক্ষমতাসীনদের

দমন পীড়ন হত্যা, গুম খুন ও যৌথ বাহিনীর নির্মম ও নিষ্ঠুর অপারেশানের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলের কর্মসূচি নস্যাৎ করবার যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তা ক্ষমতাসীনদের আরও দুর্বল করবে। বিদেশ থেকে পরিচালিত একটি পোর্টালে পুরা পরিকল্পনার সমেত সংবাদ প্রচার হওয়ায় তেইশ তারিখ দুপুর থেকেই শুনছিলাম সরকার নিজেই একটি বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করেছে। যাতে তার পুরা দায় বিরোধী দলের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায়। রাত্রে নয়টার দিকে ডেমরায় পেট্রল বোমা ও ককটেলে ৩৫ জন আরোহীকে অগ্নিদগ্ধ করা হয়েছে। বার্ন ইউনিটকে ক্ষমতাসীনদের প্রচার-প্রপাগাণ্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করায় আসলে কারা এই ধরণের নির্মম ও অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা জানা যাবে না। যারাই করুক তারা ক্ষমার অযোগ্য। দোষ, বলাবা (আরো পড়ূন)

মোদীর ভারত এবং বিশ্বে শক্তির ভারসাম্যে বদল (২)

পরাশক্তি হওয়ার নির্ণায়ক

কোন রাষ্ট্রের পরাশক্তি (সুপার পাওয়ার অথবা গ্লোবাল পাওয়ার) খেতাব পাবার নির্ণায়ক কি? অনেকের মনে হতে পারে পারমাণবিক বোমা বানানোর ক্ষমতা ও সে বোমা সংগ্রহে থাকলেই তাকে বোধহয় পরাশক্তি বলা যায়। এই ধারণার ভিত্তি নাই। তবু কারও কারও এমন ধারণা তৈরি হবার পিছনে কারণটা হল, কেবল পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতা, যা নিঃসন্দেহে সামরিক সক্ষমতার একটা মাত্রা ও সেই মাত্রার প্রকাশ মাত্র, তাকে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা বলে ভুল করা। মনে রাখতে হবে ভুলটা আদতে কেবল পারমাণবিক অস্ত্রের সক্ষমতাকে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা বলে বুঝা। আবার পরাশক্তি ধারণা কেবল সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতার প্রশ্ন নয়, সেই (আরো পড়ূন)

দেখলেই গুলি?

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় আমি একটি কবিতা লিখেছিলাম, ‘এরশাদ তোমাকে দেখা মাত্রই গুলি করবে’। সে রকম একটা নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেই সময়। তখনই বুঝেছিলাম এটা মরণকামড়ের মতো। শেষ মূহূর্ত হাজির। সামরিক শাসকের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া স্রেফ অল্পকিছু সময়ের ব্যপার মাত্র। তাই ঘটেছে। গতকাল দেখছি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ‘একজন ব্যক্তি যদি বোমা ফাটায়, তাহলে পাঁচজন লোক নিহত হতে পারে। এ দৃশ্য কোনো বিজিবি সদস্যের নজরে এলে ওই বোমা বহনকারীকে ক্যাজুয়ালটি (হতাহত) করা তার দায়িত্ব।’ 

না, এটা তাঁর দায়িত্ব না। তাঁর দায়িত্ব সীমান্ত রক্ষা করা। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে বাং (আরো পড়ূন)

'আমরাও শার্লি'? হায় ইউরোপ !

ফ্রান্সে বেড়ে ওঠা ফরাসি নাগরিক দুই ভাই শরিফ কুয়াচি (Cherif Kouachi) ও সায়িদ কুয়াচি (Said Kouachi) অতর্কিতে শার্লি হেবদো পত্রিকায় হামলা চালিয়ে চারজন নামকরা কার্টুনিস্টসহ প্রায় বারোজন মানুষকে হত্যা করেছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে বিচার করলে এটা, বলাবাহুল্য একটি হত্যাকাণ্ড। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে পাশ্চাত্যের পত্রিকাগুলোর খবর হচ্ছে হামলাকারীদের মুখে ‘আল্লাহু আকবর’ শ্লোগান শোনা গিয়েছে এবং এটাও শোনা গিয়েছে যে তারা বলেছে ‘নবীর অপমানের প্রতিশোধ নিয়েছি’। হত্যাকারীদের ধরবার জন্য ফ্রান্সে রীতিমতো যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনদিন ব্যাপী পরিচালিত এই অসম ও অস্বাভাবিক পুলিশি অপারেশানে শরিফ কুয়াচি ও সৈয়দ কুয়াচিকে প্রায় আশি হাজার ফরাসি পুলি (আরো পড়ূন)

৫ জানুয়ারির অবরোধঃ নগদ লাভ

৫ জানুয়ারি ২০১৫। নৈতিক ও সাংবিধানিক দিক থেকে অবৈধ সরকারের একবছর শেষ হোল। বিরোধী দলের কাছে দিনটি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’, আর ক্ষমতাসীনদের কাছে ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেউ কেউ ‘বিতর্কিত’ বলে কৌশলে ক্ষমতাসীনদের পক্ষালম্বন করে থাকেন। অথচ ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার যেমন কোন নৈতিক ভিত্তি নাই, তেমনি ‘প্রত্যক্ষ নির্বাচন’ ছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনশ সদস্যের মধ্যে ১৫৩ জন অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠন অসাংবিধানিক। ক্ষমতাসীনদের নির্লজ্জ দালাল ছাড়া কোন সংবিধান বিশেষষজ্ঞই বলবেন না, শেখ হাসিনা সাংবিধানিক ভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। রফিকুল হক দেরিতে হলেও বলছেন, (আরো পড়ূন)

জিহাদ ও বাংলাদেশ: চাই জীবন্ত উদ্ধার

মাত্র সাড়ে তিন বছরের শিশু জিহাদ সারা দেশে কান্নার রোল তুলতে পেরেছে। সে কান্না এখনো থামে নি। শেষ পর্যন্ত জিহাদকে তোলা হোল, কিন্তু পাওয়া গেছে মৃত অবস্থায়। ছোট্ট ভেজা শরীরটা বিশেষ খাঁচার কারিগরি খাটিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্যোগে ওঠানো হয়েছে। ততক্ষণে ঘোষণা দিয়ে ফায়ার ব্রিগেড তার কাজ স্থগিত ঘোষণা করেছে। একজন মন্ত্রী বলেছেন, কেউ ওয়াসার পাইপের মধ্যে নাই, এটা গুজব। জিহাদকে রেখেই ফায়ারব্রিগেড পাততাড়ি গুটিয়ে চলে যায়। সাধারন মানুষ তা বিশ্বাস করে নি, নিজেদের উদ্যোগে তারা জিহাদকে উদ্ধারে তৎপর হয়। ঠিকই  তাকে পাওয়া গেলো। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পর জানা গেল জিহাদ আর বেঁচে নেই।

সঠিক হোক কি বেঠিক, মানুষের মনে ধারণা জন্মেছে যে জিহাদকে উদ্ধারের নামে ২৩ (আরো পড়ূন)

বৈচিত্র ও পার্থক্য নিয়েও ঐক্য সম্ভব

আরেকটি ঈসায়ী বছর শেষ হচ্ছে। নতুন বছরের জন্য সবাইকে শুভেচ্ছা।

নতুন বছরে আমরা সবাই ভবিষ্যতের কথা ভাবি। গতবছরগুলো যতো মন্দই হোক, সামনের বছরগুলো অতীতের চেয়ে ভালোভাবে কাটবে আশা করি। সেই আশাটা নতুন বছরে প্রকাশ করাই রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও প্রায়ই ভাবি, যে-বছর চলে যাচ্ছে সেটা যদি পিছিয়ে পড়া ব্যর্থতার বছর হয় তারপরও তো নতুন বছরের উৎসব করি আমরা। সেটা তো দোষের না। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। সম্ভবত এই সংস্কৃতি আমরা রপ্ত করতে চাইছি যে নতুন বছরে মন্দ কথা বলা ঠিক না। আমিও আজ এখানে ব্যর্থতার কথা বলব না।

দাবি উঠতে পারে আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুমখুন, ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়ন, নির্যাতনসহ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের মধ্যে আমি আবার ভাল কি আবিষ্কার ক (আরো পড়ূন)

মোদির ভারত এবং বিশ্বে শক্তির ভারসাম্যে বদল (১)

পুঁজির গোলকায়ন দুনিয়ার অর্থব্যবস্থায় মৌলিক রূপান্তর ঘটিয়েছে ও ঘটাচ্ছে এ কথা সবসময়ই বলা হচ্ছে। কথাটা সত্যও বটে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের দিক থেকে এর তাৎপর্য উপলব্ধির জায়গাগুলো বুঝব কী করে? এই প্রশ্ন মনে রেখে নরেন্দ্র মোদির ভারত নিয়ে এই লেখা। দুনিয়াব্যাপী বিস্তৃত পুঁজিতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় ভারকেন্দ্র এশিয়া – বারাক ওবামার ভাষায় এশিয়ার থিয়েটার বা নবোদ্ভূত এশিয়ার রঙ্গমঞ্চ। এই থিয়েটারে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে যারা জয়ী হবে তারাই বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হবে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তি হিসাবে ভারতের পরিবর্তনের অভিমুখগুলো ঠিক ঠিক বুঝতে হবে বাংলাদেশের কথা ভেবে। একই সঙ্গে নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের  চিন, ভারত ও আমেরিকা নীতি কি হতে (আরো পড়ূন)

যুদ্ধের বিবিধ অপচয়

পেশোয়ারে একটি মিলিটারি স্কুলে পাকিস্তানী তালেবানদের হামলা আমাকে স্তম্ভিত ও শোকার্ত করেছে। সেই বিষয়েই কয়েকটি কথা বলব।

দুই হাজার ১০ সালের ১৮ অক্টোবর মার্কিন ড্রোন হামলায় প্রাণঘাতী লোহার টুকরা দশ বছরের বালক নাসিমুল্লার বুক ও শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। শান্তিতে ঘুমিয়ে থাকা মৃত নাসিমুল্লার ছবিটি ইন্টারনেটে দেখেছিলাম। সেটা এখনও আমার মনে গেঁথে আছে। উত্তর ওয়াজিরিস্তানের ফাতিমা। তার বয়সও আট থেকে দশের বেশি হবে না। একুশে মে ২০১০ সালে ড্রোন হামলায় নিহত তার ছবিও মনে আছে। মনে আছে অনেকের ছবি। (আরো পড়ূন)

রোকেয়া পাঠের স্থান কাল পাত্র

[রোকেয়াকে নিয়ে এই লেখাটি ২১ বছর আগে ১৯৯৩ সালে সাপ্তাহিক ‘রোববার’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। লেখাটি নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা থেকে প্রকাশিত ‘রোকেয়া পাঠের স্থান, কাল পাত্র ও বোরকা’ পুস্তিকাটিতেও অন্তর্ভূক্ত। ডিসেম্বরের নয় তারিখে রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুদিবস পেরিয়ে এসেছি আমরা আবার; সেই  উপলক্ষে লেখাটি এখানে আবার দুই একটি জায়গায় খানিক পরিমার্জনা করে তুলে দেওয়া হোল। - সম্পাদনা বিভাগ]

[এক]

“উন্নতি কি পর্দার বাহিরে থাকে?”

পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সঙ্গে যুক্ত রফিকুল (আরো পড়ূন)

আসুন শহীদ মিনারকে একটি মসজিদ অথবা মন্দিরে পরিণত করি !

[ এ লেখাটি দুই হাজার দশ সালে লেখা। চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে এসেছি। ছাপা হয়েছিল অনলাইনে বিডিনিউজ২৪ ডট কমে অগাস্ট মাসের ৮ তারিখে। পিয়াস করিমকে শেষ বিদায় জানাবার আগে নাগরিক শ্রদ্ধা জানাবার জন্য  শহিদ মিনারে নেবার সিদ্ধান্ত নিয়ে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও তর্ক চলছে এই লেখা সে কারণে এখন আবার প্রাসঙ্গিক হতে পারে ভেবে এখানে তুলে দেওয়া হোল – চিন্তা]

শহীদ মিনার গড়ে উঠেছিল রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রতীক ও হাতিয়ার হিসাবে। প্রতীক, কারণ রাষ্ট্রীয় সহিংসতা নিপীড়ন অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের লড়াই ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটা বিশেষ ঐত (আরো পড়ূন)

মিসোজিনি: অস্ট্রেলিয়ার জুলিয়া ও বাংলাদেশের দুই নেত্রী

রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে পৃথিবীর অনেক দেশে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে নারী বিরোধিতা বা বিদ্বেষ কমে গেছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ সব পথ পরিস্কার করে দিয়েছে তাই নারী সহজে উচ্চ পদে বসতে পারছেন এমন কোন কারণ নাই। ধনী ও উন্নত দেশ যেখানে নারী স্বাধীনতা অনেক এগিয়ে আছে বলে মনে করা হয় সেখানে এখনো প্রধান মন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি পদে নারীদের পাওয়া খুব কঠিন ব্যাপার। অথচ দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোতে ধনীদেশের আগেই তা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে (২০১৪ সালে) ২২টি দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি রয়েছেন। তার মানে জাতিসংঘ সদস্য ১৯৩ টি দেশের মাত্র ১১.৩% দেশে নারী রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আছেন। বাইশটি দেশের মধ্ (আরো পড়ূন)

রাজনৈতিক অসুখের ‘চিহ্ন’ ও তাৎপর্য

 বাংলাভাষায় ‘লক্ষণ’ কথাটা আমরা ইংরেজি ‘সিম্পটম’ অনুবাদ করতে গিয়ে ব্যবহার করি। গ্রিক symptomat বা symptoma থেকে ল্যাটিন হয়ে  ইংরেজিতে সিম্পটম। এর অর্থ কোন দুর্ঘটনা, দুরবস্থা বা দুর্দশায় পতিত হওয়া – যার ঘটেছে তিনি সেটা উপলব্ধি করেন। এটা সাবজেক্টিভ – অর্থাৎ ব্যাক্তির বোধ, উপলব্ধি অনুভব ইত্যাদির সঙ্গে জড়িত। ডাক্তারি শাস্ত্রে এটি যখন ব্যবহার শুরু হোল তখন এই সাবজেক্টিভ বা ব্যাক্তির উপলব্ধির দিকটার ওপর জোর রইল। রোগের লক্ষণ মানে রোগটা কি সেটা না জানা থাকলেও রোগী নিজে যা উপলব্ধি করেন সেটাই ‘লক্ষণ’। যদি সিম্পটম অনুবাদের ক্ষেত্রে ‘লক্ষণ’ ব্যবহার করতে না চাই, তাহলে (আরো পড়ূন)

আমাদের এখনকার সংকট

বাংলাদেশ কোন দিকে যাচ্ছে এই প্রশ্ন প্রায় সকলের। রাজনীতি নিয়ে যে সকল আলোচনা দেখি তার অধিকাংশই হচ্ছে যার যার মনের বাসনার প্রতিফলন। সেটা হাজির হয় কোন দিকে যাচ্ছে তাকে নৈর্ব্যক্তিক বা ইচ্ছা অনিচ্ছার বাইরের একটি বাস্তব প্রক্রিয়া হিসাবে দেখবার চেষ্টা না করে ঔচিত্যবোধের জায়গা থেকে দেখবার বাসনা থেকে। অর্থাৎ কোন দিকে যাচ্ছে সেই আলোচনা না করে আমরা কোনদিকে যাওয়া উচিত সেই দিক নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে তুমুল তর্ক করতে শুরু করি। এর ওপর রয়েছে সঠিক তথ্যের প্রচণ্ড অভাব। কৃষি, খাদ্য ব্যবস্থা, শিল্পকারখানা, শ্রমিকের হাল হকিকত, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, জাতীয় আয় ব্যয়ের সঠিক হিসাব ইত্যাদির তথ্য-পরিসংখ্যানের সঠিকতা নিয়ে সন্দেহ। এই এক অদ্ভূত দেশ যেখানে শাসক শ্রেণী সারাক্ষণই (আরো পড়ূন)

‘সেইম টু সেইম। আমরা আমরাই তো!’

সরকারের সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে বিস্তর তর্ক বিতর্ক হয়েছে এবং হচ্ছে। পত্রিকায় দেখছি সম্পাদক পরিষদও বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁরা আশংকা প্রকাশ করেছেন, সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন। প্রশ্ন হচ্ছে গণমাধ্যম তো পুরোটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণে, আর কি নিয়ন্ত্রণ করবে ক্ষমতাসীনরা? সংশয় ও সমালোচনা সত্ত্বেও সম্পাদক পরিষদের এই বিবৃতি আমি সমর্থন করি। সেটা বলার জন্যই এই লেখা।

যাঁরা বিবৃতি দিয়েছেন তাদের মধ্যে এমন সম্পাদকও আছেন যারা অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে এর আগে অস্বীকার করেছেন। তারা সরকারের দলীয় সমর্থক। নির্বিচারে তারা সরকারের পক্ষাবলম্বন করেছেন। বিরোধী চিন্তা ও মতের বিরুদ্ধে হেন কোন অপপ্রচার বা কুৎসা নাই যা তারা করেন নি বা করেন না। নিজের মত প্রক (আরো পড়ূন)

একালে এগিয়ে যাবার পথ

আমি ‘আধুনিক’ নই। এর মানে এই নয় যে আমি অনাধুনিক। কিম্বা আমি অনাধুনিকতাকে মহিমান্বিত করতে চাই। আধুনিক যুগের আবির্ভাবের আগে প্রাক-আধুনিক যুগ নামক যদি কিছু থাকে সেখানে প্রত্যাবর্তন করার ইচ্ছা বা সংকল্প কোনটিই আমার রাজনীতি না। আমি কোথাও প্রত্যাবর্তন করছি না, ফিরছি না; বরং আধুনিকতা/অনাধুনিকতার বিভাজন অতিক্রমের চেষ্টা করছি। যে কারনে আমি আধুনিকতা বনাম অনাধুনিকতা এই দুইয়ের একটিকে মহিমান্বিত করে অপরটির বিরুদ্ধে দাঁড়াই না। বরং চিন্তা ও চর্চার যে অভ্যাস এই ধরণের বিভাজন তৈরি করে, সেই অভ্যাস থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে চাই। চিন্তা যেন সপ্রাণ ও সজীব থাকার চেষ্টায় বিরতি দিয়ে কোন একটা ‘মত’ বা বদ্ধমূল সিদ্ধান্তে পর্যবসিত না হয় বিভাজনের ফ (আরো পড়ূন)

নারী শ্রমিক ও নারী আন্দোলন

তোবার আন্দোলনকারী ও অনশনরত শ্রমিকদের নির্মম নির্যাতন করে যেভাবে পুলিশ তোবা গার্মেন্ট ফ্যাক্টরী ‘মুক্ত’ করলো তার বিস্তারিত বর্ণনা গণমাধ্যমে এসেছে। নারী আন্দোলনের কর্মীদের তা প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ করেছে, তা বলাই বাহুল্য। নির্যাতনের বর্ণনা বিভিন্ন পত্রিকায় দেয়া আছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাবার সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের নেত্রী মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ জলিলের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের ভবন থেকে বের করে দিয়েছে। ভবন থেকে বের না হলে অনশনরত নারী শ্রমিকদের ধর্ষণ করার হুমকি দিয়েছেন।”

একই সাথে তোবার আর একজন শ্রমিক হাফসা সাংবাদিকদের বলেন, (আরো পড়ূন)

শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমিক শ্রেণির রাজনীতি (২)

তোবা গার্মেন্টের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে সাধারণ ভাবে বাংলাদেশের বামপন্থিদের নীতি ও কৌশল সম্পর্কে এখানে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। বিশেষত শ্রমিক শ্রেণির অর্থনৈতিক স্বার্থ আর শ্রমিক শ্রেণির রাজনীতির পার্থক্য সম্পর্কে। একটি হোল শ্রমিকদের অর্থনৈতিক দাবি দাওয়া আদায়ের লড়াই আর অন্যটি পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে সমাজ ও ইতিহাসের রূপান্তর ঘটানোর রাজনৈতিক-দার্শনিক প্রকল্প ও তৎপরতা। শেষেরটি কমিউনিস্ট রাজনীতি হিসাবেও পরিচিত। দুইয়ের ক্ষেত্রে ‘শ্রমিক’ কথাটা থাকলেও, দুটো ভিন্ন বিষয়। অর্থনৈতিক শ্রেণি হিসাবে ‘শ্রমিক’ এবং পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক ও ব্যবস্থা বদলে দিয়ে নতুন ধরণের সম্পর্ক চর্চার বিদ্যা (আরো পড়ূন)

শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমিক শ্রেণির রাজনীতি (১)

তোবা গার্মেন্ট কেন্দ্র করে শ্রমিকদের আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি পূর্ণ সমর্থন করে সম্প্রতি দৈনিক যুগান্তরে একটি লেখা লিখেছিলাম 'দেখুন অভিযুক্ত গার্মেন্ট মালিকের জামিন বনাম শ্রমিক আন্দোলন, ১০ অগাস্ট ২০১৪)।  তোবা গার্মেন্টের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও বোনাসের অর্থনৈতিক দাবি আদায় করে নেবার জন্য যারা তোবা বিল্ডিং-এ অনশনের কর্মসূচি সফল করেছিলেন, তাদের কৌশল সঠিক কি বেঠিক তা নিয়ে একটি তর্ক উঠেছে। এই ক্ষেত্রে বামপন্থিদলগুলোর মধ্যে ঐক্য বেড়েছে, নাকি অনৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়েও কিছু কথা উঠেছে। আমি মনে করি সুনির্দিষ্ট ভাবে তোবা গার্মেন্টের শ্রমিক (আরো পড়ূন)

কেন হামাস রকেট ছোঁড়ে

আরবদের হত্যা করাই ইসরায়েলি নীতি -- সচেতন ইসরায়য়েলি বুদ্ধিজীবিরাই ইসরায়েলি পত্রিকায় এ কথা  লিখছেন, ইতিহাস ও তথ্য ধরে প্রমাণ করছেন। তারপরও জায়নবাদী রাষ্ট্রের সন্ত্রাস বেমালুম চেপে রেখে শুধু মজলুমের প্রতিরোধকে আগবাড়িয়ে সন্ত্রাস বলার মতো সন্ত্রাসীর অভাব নাই বাংলাদেশে। ফিলিস্তিনীরা ধুঁকে ধুঁকে মরতে চায় না, লড়ে শহিদ হওয়া ছাড়া আর কি বিকল্প আছে তাদের?

ইসরাইল গাজায় স্থল অভিযান ‘অপারেশান প্রটেকটিভ এজ’ শুরু করেছে জুলাই আট তারিখে। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ইসরাইল গাজার ওপর বোমা হামলা চালিয়েছিল। আট দিন (আরো পড়ূন)

সাব্বাশ হামাস !! সাব্বাশ ফিলিস্তিন!!

ধর্মগ্রন্থের কাহিনী অনুযায়ী ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য রাষ্ট্রের পক্ষে যারা দাঁড়ান, তারা মূলত জায়নবাদেরই সমর্থক। জায়নবাদের যুক্তি মেনে নিলে হিন্দুর জন্য একটি হিন্দু রাষ্ট্র, মুসলমানদের জন্য মুসলমান বা ইসলামি রাষ্ট্র, খ্রিস্টানদের জন্য খ্রিস্টান রাষ্ট্র, বৌদ্ধদের জন্য বৌদ্ধ রাষ্ট্র – -- মায় নাস্তিকদের জন্যও একটি নাস্তিক রাষ্ট্রের পক্ষে একই সঙ্গে দাঁড়ানো হয়। মুখে বলি আর না বলি, ধর্মগ্রন্থে থাকুক বা না থাকুক, জায়নবাদ অন্য সকল ধর্মীয় বা সেকুলার জায়নবাদী দাবিকেই ন্যায্য করে তোলে। একই সঙ্গে একটি ভূখণ্ডের সঙ্গে একটি জাতির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের জাতীয়তাবাদী বয়ানও হয়ে ওঠে আধুনিক ধর্মীয় আখ্যান। (আরো পড়ূন)

জায়নবাদ ও বর্বর পুরুষতন্ত্র: টার্গেট ফিলিস্তিনী শিশু ও নারী

জায়নবাদী বর্বরতার টার্গেট নারী।  হামাস সদস্যদের মা বোনদের ধর্ষণ করার পরামর্শ দিয়েছে ইসরাইলের এক অধ্যাপক মোরদেচাই কেদার। তার দাবি সন্ত্রাসী হামলা নিরুৎসাহিত করার এটাই একমাত্র উপায়। ইসরায়েলি সংসদ সদস্য আয়লেট সাকেদ ঘোষণা দিয়েছে জন্ম দেবার আগেই ফিলিস্তিনীদের ভ্রূণে হত্যা করতে হবে তাদের  মায়েদের মেরে, কারন ফিলিস্তিনী মায়েরা সাপের জন্ম দেয়। হামাসের রকেট নয়, ফিলিস্তিনের নারীই ইসরায়েলের বড় শত্রু। ফিলিস্তিনের ছোট শিশুটি ওদের কাছে ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসী।

কিভাবে জায়নবাদ ও পুরুষতন্ত্র হাত ধরাধরি করে চলে বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের সেটা বোঝা জরুরী হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশে ঈদ হয়ে (আরো পড়ূন)

জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের ‘সেলফ ডিফেন্স’

অন্যের ভূখণ্ড দখল এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠিকে উৎখাত ও বিতাড়িত করে সাম্রাজ্যবাদী যুগে যে 'সেটলার কলোনিয়াল' রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েল সেই ধরণের একটি রাষ্ট্র। রুজভেল্ট ও চার্চিলের আটলান্টিক চার্টার অনুযায়ী এই ধরণের রাষ্ট্রের 'সেলফ ডিফেন্স' দূরের কথা অস্তিত্বের বৈধতা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী থাকবার কথা নয়। অথচ জায়নবাদের পক্ষে গণমাধ্যম সেলফ ডিফেন্সের শঠতাসর্বস্ব যুক্তি ফেরি করে বেড়াচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে গাজার মানুষ।

সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের সম্পর্ক যে 'সোনার পিতলা কলস' জাতীয় ব্যাপার সেটাই এই নিবন্ধে আলোচিত হয়েছে। ফিলিস্তিনীদের ভূখণ্ড দখল করে, তাদের বাড়ীঘ (আরো পড়ূন)

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরাশক্তি: ভারত, চিন, রাশিয়া ও আমেরিকা (১)

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানান বিদেশি ফ্যাক্টর কাজ করে, এটা আমরা জানি। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব, সহাবস্থান ও আঁতাতের বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে এই ফ্যাক্টরগুলো কি রূপ নিতে পারে সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা খুব একটা চোখে পড়ে নি। এখানে চার কিস্তিতে প্রাথমিক কিছু আলোচনা আমরা হাজির করছি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশের ভিতরের ফ্যাক্টরগুলোর ছাড়াও বাইরে বিদেশিদের ভুমিকাও কেন বিরাট ভুমিকা নেবার সুযোগ পাবে এযুগে এনিয়ে প্রশ্ন তোলা যতোটুকু না রাজনৈতিক তার চেয়ে অধিক নৈতিক। অর্থাৎ আমরা নৈতিক জায়গা থেকেই তর্ক করি যে কোন বিদেশী শক্তি আ (আরো পড়ূন)

সাব্বাশ! আমাদের আর ভয় কি?

এক

প্রথম আলো বলছে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে সাংবাদিকরা ‘অব্যাহতি’ পেয়েছেন (১৩ মার্চ ২০১৪)। অব্যাহতি পেয়েছেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ও প্রকাশক এ কে আজাদ, নয়া দিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন ও প্রকাশক শামসুল হুদা, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, বরিশাল বিভাগীয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এম এম জসিম ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কাজী মোবারক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক এম সুজাউল ইসলাম।

এ বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পা (আরো পড়ূন)

কোথা থেকে কোথায় এসে পড়েছি!

এক

লেখাটি এ বছর চৌদ্দই ফেব্রুয়ারির জন্য তৈরি করেছিলাম, যদি সেদিনই বেরুতো ভাল লাগতো। কিন্তু পাঠাতে পারি নি। আজ পনেরো তারিখে পাঠাচ্ছি। অতএব কাল ষোল ফেব্রুয়ারিতে বেরুবে।

তবে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইছি, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে ১৪ ফেব্রুয়ারি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন। স্বাধীনতার পরে তরুণদের সবচেয়ে গৌরবের তারিখ। কিন্তু এই দিনটি নানান কারনে ম্লান হয়ে গিয়েছে। সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে তরুণদের গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের এই কালপর্বটার ইতিহাস ধরে রাখার ও তার তাৎপর্য বিচারের সময় এসেছে । এর ব্যর্থতা ও সাফল্যের একটা খতিয়ান টানা দরকার। এই দিকট (আরো পড়ূন)

জেনসের সন্ত্রাস তালিকা: বাংলাদেশে ভয় দেখানোর রাজনীতি

বাংলাদেশ ইসলামি সন্ত্রাসীতে ভরে গিয়েছে যেভাবেই হোক আন্তর্জাতিক ভাবে এটা প্রমাণের ওপর নির্ভর করছে ক্ষমতাসীনদের রাজত্বের মেয়াদ। অতএব সঙ্গত কারণেই সাধারণ্যে প্রায়ই অপরিচিত জেনস সেন্টার (IHS Jane’s Terrorism and Insurgency Centre ) বলে একটা সংগঠন বাংলাদেশে হঠাৎ পরিচিত হয়ে উঠছে। তাদের তালিকা নিয়ে এই লেখা।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারী তারিখে জামাতের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশের ইসলামি ছাত্র শিবিরকে দুনিয়ার এই মুহূর্তে শীর্ষ দশ অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গ্রুপের তালিকার (Top 10 most active non-state armed groups in 2013) মধ্যে তিন নম্বরে রেখে এই সংগঠনটি একটি তালিকাটি প্রকাশ করেছে। এটা নাকি কেবল গত বছরে (আরো পড়ূন)

আল জাওয়াহিরি: বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও ভৌমিকের ‘গাড়ী বোমা’ প্রস্তুতি

 এক

আলজাওয়াহিরি কথিত ভিডিও বার্তা নিয়ে প্রপাগান্ডা চলছে। কিন্তু দেশি বা বিদেশি কেউই নিশ্চিত করে এখনও বলতে পারছে না, এই ভিডিও বার্তা আসলে কার। যারা খবরটি ছেপেছে তারা সবাই খবরের সোর্স পরীক্ষা না করে এবং খবরটা কোন ক্রসচেক না করেই ছেপে দিয়েছে। খবরের কোন সত্যতা নাই জেনেশুনেই খবরটি ছেপে নিজ নিজ পক্ষে প্রপাগান্ডা চালিয়ে গিয়েছে। মুল গলদটা এখানেই। বলা বাহুল্য, এই সময় মিথ্যা হোক বা সত্য, এই ধরণের প্রপাগান্ডার মুল্য আছে; মিডিয়ার পছন্দ ও অনুসরণ করা রাজনীতির লাইনের জন্য ফায়দা তোলারও এটা ভাল রাস্তা -এই বিবেচনাও কাজ করেছে। । ফায়দা তোলার বিবেচনা এতই প্রবলভাবে অনেককে তাড়া করেছেচ যে এ ধরন (আরো পড়ূন)

ইউরোপের পার্লামেন্ট ও বাংলাদেশের রাজনীতি

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জামায়াত ও হেফাজত সংক্রান্ত প্রস্তাব ছাড়া বাকি সবগুলোই ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে।  প্রত্যেকেই এই নির্বাচনকে ' ভূয়া'  বা কূটনৈতিক ভাষায় 'অগ্রহণযোগ্য' বলেছে। আবার দ্রুত নির্বাচন চাইছে তারা।

এক

তথাকথিত ‘নির্বাচন’ নামক তামাশার পরে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বেশ কিছু প্রস্তাব নেয়। বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যম সেই পার্লামেন্টে গৃহীত অনেকগুলো প্রস্তাবের মধ্যে সব বা (আরো পড়ূন)

ভড়কে গিয়ে ভুল করা যাবে না

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রস্তাবের সার কথা বিকৃত করে বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনরা আঠারো দলীয় জোটে ভাঙন ধরাবার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের দাবি ইউরোপ চায় বিএনপি জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামের সঙ্গ ত্যাগ করুক। বিএনপির অভ্যন্তরেও এই মতের সমর্থক রয়েছে। এর সঙ্গে তারা ক্ষমতাসীনদের আরেকটি প্রপাগাণ্ডা যোগ করে; সেটা হোল, খালেদ জিয়া দিল্লীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখেন নি বলে ক্ষমতায় যেতে পারলেন না। 

একঃ ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রস্তাব

গত ১৬ জানুয়ারি তারিখে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। প্রথম (আরো পড়ূন)

হেফাজতের ১৩ দফা এবং মধ্যযুগ বিতর্ক

এক

হেফাজতে ইসলাম এপ্রিলের ৬ তারিখে ঢাকা শহরে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে প্রশাসনের সঙ্গে ওয়াদা অনুযায়ী ঠিক ঠিক পাঁচটার সময় শেষ করে ফিরে গেছেন। ঢাকা শহরের মানুষ শাপলা চত্বরে এতো আলেম ওলামাদের একসাথে কখনো দেখে নি, তারা বিস্মিত। কত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন তা নিয়ে সঠিকভাবে কোন পরিসংখ্যান না পাওয়া গেলেও সংখ্যাটা তাক লাগিয়ে দেয়ার মতোই ছিল। হেফাজতের এই লং মার্চ যেন না হতে পারে তার জন্য সরকার নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল; ঢাকাগামী সকল প্রকার যানবাহন বন্ধ করার পরও এতো মানুষ কি করে ঢাকায় এলো তা বিস্ময়ের ব্যাপার বটে।

হেফাজতের এই কর্মসুচী শেষ হয়েছে, তাঁরা নিজ নি (আরো পড়ূন)

বৃহত্তর ঐক্য জরুরী

দুই হাজার চৌদ্দ সালের ৫ জানুয়ারী রোববার; বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কালো দিন। দিল্লীর সাধের নির্বাচনের দিন। রঙতামাশার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে পুনর্বার ক্ষমতায় বসিয়ে দেওয়া হবে। এ লেখা যখন লিখছি তখন শেখ হাসিনার রক্তপাতে সিক্ত নির্বাচনে ১৮ জন মানুষ শহিদ হয়েছেন। সংবাদ নিয়ে জেনেছি ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোট দিতে কম ভোটারই হাজির হয়েছেন। মিথ্যুক ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সহযোগী মিডিয়াগুলোর পক্ষেও ভোটকেন্দ্রগুলোতে মানুষ যাচ্ছে প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। সরকারী চাপে থাকা মিডিয়াগুলো তাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে যে খবর দিচ্ছে তাতে পরিষ্কার, সরকারী দলের অন্ধ সমর্থকদের ক্ষুদ্র একটি অংশ ছাড়া ভোট দিতে যায়নি কেউই। আওয়ামি লীগের সমর্থক, কিন্তু নিজ (আরো পড়ূন)

অবৈধ ব্যবস্থায় অবৈধ নির্বাচন

প্রথম আলোয় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের লেখা ‘প্লিজ নির্বাচন করবেন না’ (৩ জানুয়ারি ২০১৩) আমার জন্য ছিল সবচেয়ে বিব্রতকর ও লজ্জাজনক পাঠ। তিনি চান না ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন হোক। নির্বাচন না হলে, তাঁর আশা, সংবিধানের মধ্যে একটা সমাধানের পথ বের করা যাবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা সমঝোতাও নাকি করা সম্ভব। যদিও সংবিধানের মধ্যে সমাধানের যে-পরামর্শের ইঙ্গিত তিনি দিচ্ছেন তা একদমই অনিশ্চিত প্রস্তাব; তাঁর দাবি নির্বাচন স্থগিত রেখে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করবার ‘আইনগত ভিত্তি’ নাকি ‘খুঁজে পাওয়া যেতে পারে’। আদৌ কোন আইনগত ভিত্তি আছে কিনা সে সম্পর্কে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন, থাকলে নিজেই তিনি সুনির্দিষ্ট ভাবে বলতেন।

(আরো পড়ূন)

পোড়ালে পোড়ে গুলিতে মরে...

দুই হাজার তেরো ঈসায়ী সাল শেষ হচ্ছে আজ। বছরকে বিদায় জানাবার রীতি পাশ্চাত্যের; বরণ করবার সংস্কৃতিও। সময়কে সরল রেখা গণ্য করার চিন্তাও ‘আধুনিক’। তাই সরল রেখার যে বিন্দুতে আমরা দাঁড়াই তাকে বলি ‘বর্তমান’, পেছনকে ‘অতীত’ আর সামনে ‘ভবিষ্যৎ’। সময় আসলে সরলরেখার মতো একদিক থেকে অন্যদিকে আদৌ ছুটে চলেছে, নাকি বৃত্তের মতো ফিরে ফিরে আসছে, এই তর্ক দীর্ঘ দিনের। সময় যদি সরল রেখা হয় তাহলে যা চলে গিয়েছে তা আর ফিরে আসে না। তাই কি? ইতিহাস তো অতীতকে বর্তমানে বহন করেই ইতিহাস হয়, নইলে ভবিষ্যৎ নির্মাণ অসম্ভব হয়ে ওঠে। যদি সময়কে বৃত্ত গণ্য করি তো প্রতিটি বিন্দুই তো একই সঙ্গে বৃত্তের শেষ ও আরম্ভ।

না। আমরা কে কিভাবে (আরো পড়ূন)

লিবারেলিজম বা উদারবাদ

এক

সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় কয়েকটি লেখায় আমি বেশ কয়েকবার জোর দিয়ে বলেছিলাম পুঁজির প্রান্তের দেশগুলোতে ‘লিবারেল’ বা উদার রাজনীতির ভূমিকা রয়েছে। এই দাবির পক্ষে দুই একটি কথা বললেও কোন্‌ অর্থে কথাগুলো বলেছি তা যথেষ্ট ব্যখ্যা করতে পারি নি। এখানে লিবারেলিজম নিয়ে কিছু প্রাথমিক তত্ত্বকথা বলব। আশা, এতে কিছু কথা পরিষ্কার হবে। লিবারেলিজমের ভালো বাংলা নাই বলে খোদ ইংরাজি শব্দটি জায়গায় জায়গায় ব্যবহার করব, তবে বাংলায় ‘উদারবাদ’, ‘উদার রাজনীতি’ কিম্বা ‘ উদার রাজনৈতিক মতাদর্শ’ ইত্যাদি ধারণাও সুযোগ বুঝে খাটিয়ে নেবো।

বাংলাদেশে (আরো পড়ূন)

‘এক এগারোর কুশীলবরা আবার সক্রিয়’ - শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা দারুন! তাঁর দলের সন্ত্রাসীরা পুলিশের সহায়তায় যখন লাঠি হাতে প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও কিম্বা সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে পুলিশের প্রশ্রয়ে গেইট ভেঙে ঢুকে আইনজীবীদের নির্দয় ভাবে লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে, আর পেটাচ্ছে নারী আইনজীবীদের -- শেখ হাসিনা তখন বলছেন, “এক এগারোর কুশীলবরা আবার সক্রিয়। এক শ্রেণির বুদ্ধিজীবী অসাংবিধানিক সরকারকে ক্ষমতায় আনতে চান”। তখন তাঁকে বেশ গুরুগম্ভীর বুদ্ধিজীবীর মতোই মনে হচ্ছিল।

দারুন যে খালেদা জিয়াকে কোন কর্মসূচীই পালন করতে হয় নি। তিনি ‘সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র’ রক্ষার জন্য অভিযাত্রার ডাক দিয়ে যে রাজনৈতিক ফল পাবার আশা করেছিলেন তারচেয়ে দশগুন বেশী ফল পেয়ে গিয়েছেন ক্ষমতাসীনদের কারনে। (আরো পড়ূন)

জানুয়ারির ৫ তারিখঃ ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়ার কালো দিবস !

আমি একজন নাগরিক এবং ভোটার। নাগরিক হিশেবে এই লেখাটি লিখছি। নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, সরাসরি নাগরিকদেরও বিষয়। ভোটার হিসাবে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নাগরিকরা রায় দিয়ে থাকেন। এই কথা সবাই জানেন। গণতান্ত্রিক সরকার – অর্থাৎ শাসিতের সম্মতি ছাড়া শাসন করবার অধিকার অর্জন করবার এই প্রক্রিয়া পালন না করলে কোন সরকারই নিজেকে বৈধ বলে দাবি করতে পারে না। আমি নিজে বুঝতে পারছি আমার ভোট দেয়ার অধিকার থাকছে না। একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচন হলেও সব ভোটাররা উৎসাহিত হয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থিকে ভোট দিয়ে নির্বাচন করতে চান। জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন সে কারণে আরও বেশি গুরুত্বপুর্ণ; কারণ এর মাধ্যমে ভাল হোক মন্দ হোক জনগণ বলতে পারে আমাদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠ (আরো পড়ূন)

সুশীলদের তামাশা

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সমঝোতা হলে দশম সংসদ ভেঙে তিনি একাদশ সংসদের নির্বাচন দেবেন। এই প্রস্তাবের পেছনে পরাজয়ের সুর আছে। কিন্তু এটা কি পিছু হটা? মোটেও নয়। তাঁর এই প্রস্তাব কি তথাকথিত সমঝোতার ইঙ্গিত? তাও নয়। তিনি যা বলছেন আসলেই কি তা করবেন? না, করবেন না। এটা অসম্ভব। এর কারন, সিদ্ধান্ত তিনি নিজে নেবেন না, সিদ্ধান্ত নেবে দিল্লী। যদি তার নিজের সিদ্ধান্ত নেবার জায়গাগুলো অবশিষ্ট থাকতো তাহলে তাঁর এই ঘোষণাকে ভিন্ন ভাবে বিচার করবার সুযোগ থাকতো। তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নেবার যে জায়গাগুলো ছিল তিনি তা অপচয় করেছেন। নির্বাচনের নামে যে কাণ্ড করলেন তাতে শুধু তাঁর নিজের নয়, বিশ্বে বাংলাদেশের মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে। এখন তিনি সমঝোতার কথা বলছেন না। বরং তাঁর লজ (আরো পড়ূন)

রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চ আদালত নিয়ে রাজনীতি

এক

ডক্টর কামাল হোসেন, শুধু গণতন্ত্রে আর সন্তুষ্ট নন, তিনি ‘কার্যকর গণতন্ত্র’ চান (দেখুন,‘Quest for a working democracy: Consensus on neutral election period government’ , দৈনিক ডেইলি স্টার ৬ ডিসেম্বর ২০১৩; একই নিবন্ধের অনুবাদ দেখুন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার ঐক্যমত্যের সন্ধানে’, দৈনিক প্রথম আলো, ৬ ডিসেম্বর ২০১৩)। তিনি আইনজীবী। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার চূড়ান্ত দলীয়করণ ঘটেছে, তারপরও তিনি বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে তোলার জন্য আইনের মধ্যে থেকে একটা সমঝোতা চান। সেই পথ হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা। এর জন্য সুপ্রিম কোর্টের শরণাপ (আরো পড়ূন)

আর যাবার জায়গা নাই

এক

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং ঝড়ের মতোই এসেছিলেন, ঝড়ের মতোই গেলেন। পাঁচ তারিখ খুব সকালে যখন তিনি দিল্লী ফিরে যাচ্ছেন তখন থেকেই ভাবছি তাঁর এই আসার আদৌ নতুন কোন তাৎপর্য আছে কিনা। দিল্লী ঢাকাকে যেটা জানাতে চেয়েছে সেটা ভারতীয় পত্রপত্রিকা ও তাদের থিংক ট্যাংকগুলোর সুবাদে আমরা জানি। সেটা হোল, শেখ হাসিনার একতরফা নির্বাচনের নীতি সমর্থন করছে দিল্লী। নিজের হাতে একনায়কী ক্ষমতা রেখে অসম রাজনৈতিক পরিবিশ বহাল রেখেই নির্বাচন করতে চাইছেন হাসিনা, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহিংসতা ও রক্তপাত ঘটছে এর জন্যই। কিন্তু দিল্লী তাতে বিচলিত নয়। দিল্লী চায় যেভাবেই হোক শেখ হাসিনাই আবার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন (আরো পড়ূন)

সুজাতা সিং পুরানা চিন্তাই ফেরি করলেন

এক

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং বাংলাদেশে এসে শেখ হাসিনার এক তরফা নির্বাচনের পথকেই সম্মতি জানিয়ে গেলেন; দিল্লী ঢাকাকে যেটা জানাতে চেয়েছে সেটা ভারতীয় পত্রপত্রিকা ও তাদের থিংক ট্যাংকগুলোর সুবাদে আমরা জানি। সুজাতা সিং নেপালের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, সেখানেও একটি দল নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু শেষাবধি সেখানে নির্বাচন হয়েছে। অতএব নির্বাচন বর্জনের পরোয়া না করে শেখ হাসিনাকে ‘গণতন্ত্রের স্বার্থেই’ নির্বাচন করতে হবে, এটাই উচিত কাজ। (দেখুন প্রথম আলো, ‘গণতন্ত্রের স্বার্থেই নির্বাচন হওয়া উচিত’, ৬ ডিসেম্বর ২০১৩)। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিল্লী সবার অংশ গ্রহণে নির্বাচন (আরো পড়ূন)

পিল্লাই সতর্ক করলেন...

এক

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাইকমিশনারের অফিসের (Office of the United Nations High Commissioner for Human Rights) কার্যক্রম, এখতিয়ার ও ভূমিকা সম্পর্কে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা কতোটা জানেন বলা মুশকিল। রাজনীতিবিদরা তাদের কর্মকাণ্ডের দায় বহন করতে না চাইলেও নিজের দেশের নাগরিকদের মানবাধিকার লংঘন করলে তার দায় আন্তর্জাতিক ভাবে এড়িয়ে যাবার সুযোগ নাই বললেই চলে। পার পেয়ে যাবার সম্ভাবনা কম। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাই কমশনার নাভি পিল্লাই সেটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে করিয়ে দিয়েছেন। এভাবে বলেন নি যে আপনারা ভাল ভাবে চলুন, হিংসা বিবাদ কম করুন। বরং সুনির্দিষ্ট ভাবে ধরিয়ে দি (আরো পড়ূন)

রাজনীতির বিকল্প নাই

বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল !

আবার ইংরেজি দুই হাজার তেরো সালের ১৬ ডিসেম্বর আসছে। সামনে বিজয় দিবস। যে ‘বিজয়’ একাত্তরে আমরা অর্জন করেছি তার তাৎপর্য যদি আমরা উপলব্ধি করি তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি যাই হোক এই দিনটি ঠিক ভাবে উদযাপন করা দরকার। সেটা সম্ভব হবে কিনা তার আশংকা দেখা দিয়েছে। একটি নিউজপোর্টালের খবরে দেখেছি চলতি বছরের বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ বাতিল করা হয়েছে। অথচ এই দিনটি জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর সম্পর্ক রচনার দিন – মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ভুমিকা স্মরণ করা ও সৈনিকতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। খবর অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই অনুষ্ঠা (আরো পড়ূন)

সংগ্রাম কমিটি শক্তিশালী করা দরকার

বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনের তপসিল ঘোষণা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের গতি ও চরিত্রে গুণগত রূপান্তর ঘটিয়ে দিয়েছে। আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হবে। তীব্র হচ্ছে। শুরুতেই জনগণের লড়াই-সংগ্রামকে বানচাল করে দেবার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীঘরে আগুন দেওয়া ও দাঙ্গা লাগিয়ে সেটা ইসলামপন্থিদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেবার চেষ্টা চলেছে। বিশেষত গরিব ও অসহার মানুষদের। জনগণের সতর্কতার ফলে এই অন্তর্ঘাত চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় নি। কিন্তু বিপদ কাটে নি। কারন এই আন্দোলনকে বিনাশ করার জন্য এই ইস্যুটাই যথেষ্ট। অতএব সতর্ক নজর রাখতে হবে। জনগণকে বোঝাতে হবে, কিভাবে এই ধরণের ঘটনা নিজেরা ঘটিয়ে ইসলামের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। তারপর দুনিয়াব্যাপী প্রচার চলে ইসলাম কতো বর্বর ধর্ম। মুসলমানরা কতো নি (আরো পড়ূন)

মার্কিন শুনানি, নিরপেক্ষতার রাজনীতি ও পরাশক্তির ভূমিকা

এক

মার্কিন কংগ্রেসে গত বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময় ২১ নভেম্বর ২০১৩)বাংলাদেশের ওপর একটি শুনানি হয়েছে। এর প্রতি বাংলাদেশে আগ্রহ রয়েছে প্রচুর। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা ছাড়াই একপক্ষীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একটি নির্বাচনের পথে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। জনগণ উদ্বিগ্ন ও উৎকন্ঠিত। বাংলাদেশে তো বটেই, আন্তর্জাতিক ভাবে এই নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য হবে।

তবে দিল্লী ব্যাতিক্রম। শেখ হাসিনাকে দিল্লী সমর্থন করছে ও করবে। ভারতের প্রভাবশালী সাংবাদিকদের লেখালিখি থেকে স্পষ্ট বাংলাদেশে সংঘাত ও রক্তপাতের জন্য দিল্লী তৈরী। শেখ হাসিনাকে যে ভাবেই হোক ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। নইলে বাংলাদেশ (আরো পড়ূন)

সুবীর ভৌমিক কি দক্ষিণ এশিয়ায় আগুন লাগিয়ে দেবেন!

এক

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় নভেম্বরের ১ তারিখে সুবীর ভৌমিক সম্প্রতি যে লেখা লিখেছেন তার শিরোনামে দুটি অংশ ছিল। প্রথমাংশে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ একটি সহিংস পর্বের মধ্যে রয়েছে’; দ্বিতীয়াংশ, ‘বাংলাদেশে যেন বন্ধু সরকার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করতে পারে সেটা দেখার জন্য ভারতের অবশ্যই যা কিছু দরকার তার সবই করা উচিত’ (Bangladesh is in a violent phase and Ind (আরো পড়ূন)

নতুন রাষ্ট্র গঠনের পাঁচটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু মৌলিক দাবি

এ লেখা যখন লিখছি তখন আঠারো দলের হরতাল ও সমাবেশের প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে। বিরোধী দলের ওপর নতুন করে দমন পীড়ন শুরু হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গভীর রাতে খালেদা জিয়ার বাসা থেকে বেরিয়ে যাবার সময় গ্রেফতার হয়েছেন ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমূল বিশ্বাস। বেগম জিয়ার গুলশানের বাসা ঘিরে রেখেছে পুলিশ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা তার ভাষা বদলান নি। একদিকে বিরোধী দলের ওপর দমন পীড়ন জেল জুলুম আর অন্যদিকে তাদের সংলাপে ডাকা – এ এক পরাবাস্তব পরিস্থিতি। সরকার পক্ষীয় গণমাধ্যমগুলো নির্লজ্জ ভ (আরো পড়ূন)

বাংলাদেশের প্রতি ভারত ও মার্কিন অবস্থানের ভিন্নতা

প্রসঙ্গ একঃ আমেরিকা ভারতের কথা শুনল না

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস থেকে স্থানীয় মিডিয়ার জন্য একটা প্রেস রিলিজ পাঠানো হয়েছে ০৯ নভেম্বর সন্ধ্যায়। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটে ইংরাজীর সাথে বাংলাতেও বিবৃতিটি দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি নিউজপোর্টালে খবরটি ছাপা হয়েছে, প্রিন্ট পত্রিকাতেও এসেছে। প্রথম আলোর ১০ নভেম্বর প্রিন্ট কিম্বা অনলাইন সংস্করণেও তাদের নিজেদের করা বাংলা অনুবাদ দেয়া আছে। আমি সেটাই এখানে ব্যবহার করব। ওর কিছু অংশ এরকমঃ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র “গত কয়েক দিনের ঘটনাবলি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথ খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আম (আরো পড়ূন)

কী করবেন খালেদা জিয়া?

এ লেখা যখন লিখছি তখন বিরোধী দলের ওপর নতুন করে দমন পীড়ন শুরু হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এম কে আনোয়ার ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়াকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গভীর রাতে খালেদা জিয়ার বাসা থেকে বেরিয়ে যাবার সময় গ্রেফতার হয়েছেন ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও বিএনপির চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমূল বিশ্বাস। কী অভিযোগে তাঁদের গ্রেফতার করা হোল পুলিশ তৎক্ষণাৎ জানায় নি। বোঝা যাচ্ছে পরে তাদের বিরুদ্ধে যথারীতি মিথ্যা মামলা সাজানো হবে। বেগম জিয়ার গুলশান বাসভবন পুলিশ ঘিতে রেখেছে।

এছাড়া রাতে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও বিরোধীদলীয় চিফ হুই (আরো পড়ূন)

হুঁশিয়ার বাংলাদেশ

এ লেখা যখন লিখছি, তখন আঠারো দলীয় জোটের ডাকা হরতাল চলছে। হেফাজতে ইসলামও তাদের দাবিদাওয়া আদায়ের জন্য কর্মসূচী দিয়েছে। সংলাপের মাধ্যমে – অর্থাৎ উদার বা লিবারেল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংকট সমাধানের কোন সুযোগ আদৌ ছিল কিনা তা নিয়ে এখন কূটতর্ক হতে পারে, কিন্তু তার কোন উপযোগিতা আর নাই। হরতালের মতো কর্মসুচী দেয়া শুরু হয়ে যাবার পর রাজনীতির গতিমুখ বোঝা যাবে আগামি কয়েক দিনেই। আগামি ৭ তারিখের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একটি পর্ব শেষ হবার পর আরও অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে উঠবে। ওদিকে সাত তারিখ থেকে হেফাজতে ইসলামের ১৫ তারিখের সমাবেশ অবধি কী ঘটে তার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লেখা হয়ে যাবে। তাতে কোন সন্দেহ নাই।

আমি এই লেখা লিখছি চরম উদ (আরো পড়ূন)

জেলজুলুমের পরোয়া করি না

এক

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে।এতে আমি দুঃখিত ও মর্মাহতই শুধু নই,একই ভাবে গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। গণমাধ্যম আইনশৃংখলা বাহিনী নয়, তবুও কারা এই ধরণের বোমাবাজি করছে সেটা গণমাধ্যম কর্মীদের নিজ নিজ পেশাদারি দক্ষতা ও অনুসন্ধানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। শুধু তাই নয়, চাইলে কেন এধরণের বোমাবাজি ঘটছে সেটার কারণও খোঁজ করা পর্যন্ত যেতে পারেন। অন্যদিকে, কেবল গণমাধ্যম নয়, বিরোধী দল ও সরকারী দলের নেতাদের বাসাতেও বোমা হামলা হয়েছে। কারা এইসব করছে অবশ্যই খুঁজে বের করা উচিত। গণমাধ্যমের কর্মীদের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর (আরো পড়ূন)

গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবিতা: এখনকার রাজনৈতিক কর্তব্য

রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে। এতে যে কোন নাগরিকই দুঃখিত ও মর্মাহতই হবেন। আমি ব্যতিক্রম নই। শুধু তা নয়,একই ভাবে গভীর ভাবে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত।

এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ অক্টোবর রাতে ইটিভির ‘একুশের রাত’ অনুষ্ঠানে আমি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নিজ দায়িত্বে কিছু কথা বলেছি। আর,আমি দায়িত্ব নিয়েই কথা বলি। সাংবাদিক মনির হায়দার অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন। এতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আমার বিশ্লেষণ ও মন্তব্য নিয়ে তর্ক তৈরী হয়েছে। তার কিছু উত্তর আরেকটি দৈনিকে আমি দিয়েছি। এই তর্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভিন্ন কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে এখানে আলোচনা কর (আরো পড়ূন)

সুশীল রাজনীতি, সংলাপ ও সহিংসতা

এক

দুই নেত্রী সংলাপ করলে ও আগামি নির্বাচন অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে একটি আপোষ রফা হয়ে গেলেই বাংলাদেশের সংঘাত-সংকুল রাজনীতি শান্ত হয়ে যাবে এই অনুমান নিয়ে পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যমে অনেকের নিরর্থক কথাবার্তা এখন বিরক্তিকর কোলাহলে পরিণত হয়েছে। পত্রপত্রিকা, টেলিভিশান ও ওয়েবপোর্টাল এমন সব অন্তঃসারশূন্য তর্ক করছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নাই।

‘সুশীল’ কথাটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিন্দার্থে ব্যবহার শুরু হয়েছে এক এগারোর পর থেকে। কিন্তু আমরা প্রশ্ন করতে পারি বাংলাদেশে সুশীল রাজনীতির কি কোনই ইতিবাচক ভূমিকা নাই? সুশীল রাজনীতি বলতে আমি সেই রাজনীতির কথাই বলছি যা সাধারণত ‘ল (আরো পড়ূন)

নির্বাচন, পরাশক্তির হস্তক্ষেপ এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধ

পুঁজিতান্ত্রিক বিশ্বকাঠামোতে গণতান্ত্রিক চর্চা মানেই সাম্রাজ্যবাদীদের কর্পোরেট আধিপত্য মেনে নিয়েই রাজনীতি করা, বাংলাদেশে মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলো তাই করে কিন্তু তারপরও এই সাম্রাজ্যিক হেজিমনির যুগেও আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নিজস্ব কিছু স্বকীয়তা, সীমিত স্বাধীনতা রয়েছে তার ভিত্তিতে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের অধিকার আদায়ের বন্দোবস্ত করে। কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রেরএই সীমিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও পুরাপুরি নস্যাৎ হয়ে যাবে যদি বাংলাদেশ সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট হয়ে উঠে। বাংলাদেশের বুর্জোয়া শাসক শ্রেণীর সেবাদাসসুলভ মনোভাবের কারনে আগামী নির্বাচনে পরাশক্তির সমর্থন লাভ ক্ষমতার রাজনীতিতে খুবই গুরুত্ব (আরো পড়ূন)

টেলিফোনের রাজনীতি বনাম আন্দোলন

বেগম জিয়া ২৫ অক্টোবরের মহাসমাবেশে ঘোষণা করেছেন, আন্দোলন এবং সংলাপ দুই পথ ধরেই তিনি অগ্রসর হবেন। রাজনৈতিক কৌশল হিসাবে এটা সঠিক অবস্থান। কিন্তু তিনি কী অর্জন করতে চাইছেন সেটা এখনও সাধারণ জনগণের কাছে অস্পষ্ট। তাঁর রাজনীতির এই দিকটি সবচেয়ে দুর্বল। যখন লিখছি তখন শোনা যাছিল তাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফোন করবেন। শেষমেষ ফোন করেছেন হরতাল প্রত্যাহার করবার জন্য, আন্দোলন থেকে তাঁকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনরা। তাঁকে গণভবনে নৈশ ভোজেও দাওয়াত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আরেকটি দারুন খবর তাঁর লালফোন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তা ঠিক করে দেবেন বলেছেন। খুব সুন্দর! সংলাপ শুরু হয়েছে!!

শেখ হাসিনা করেছেন আন্তর্জাতিক চাপে, বেগম জিয়াকেও (আরো পড়ূন)

খালেদা জিয়ার রাজনীতি, এখন...

শেষাবধি ২৫ অক্টোবর...

এই লেখা লিখছি বহু প্রতিক্ষার ২৫ অক্টোবর, শুক্রবারে। বাংলাদেশের রাজনীতি কোনদিকে যেতে চাইছে তার কিছুটা আন্দাজ আমরা আজ ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যার মধ্যে করতে পারব। যেহেতু গতকাল অবধি দুইপক্ষের মধ্যে তথাকথিত ‘সমঝোতা’ বা ‘আপোষ’ হয় নি, অতএব রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মীমাংসা বলপ্রয়োগের মধ্য দিয়েই সম্ভবত নিষ্পন্ন হতে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা আইন-আদালত, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবিসহ রাষ্ট্রের সকল শক্তি প্রয়োগের প্রতিষ্ঠানকে বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতিরোধের প্রস্তুতি কেমন সেটা আমরা সম্ভবত এখন দেখত (আরো পড়ূন)

'প্রচলিত গণতন্ত্রে সত্য লুকানো হয় বলেই একে 'কুফরি' বলা হয়'

এ সাক্ষাৎকারটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে 'মাসিক রহমত' পত্রিকার আগস্ট ২০১৩, বর্ষ ২১, সংখ্যা ২৪৮। বাংলাদেশে ইসলামপন্থী রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে ইসলাম ও গণতন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্ক। সাক্ষাৎকারে দর্শন ও ইতিহাসের দিক থেকে এই প্রশ্নটি ইসলামি রাজনীতি কিভাবে মোকাবিলা করতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণশক্তি বিকাশের বাস্তব ও ব্যবহারিক দিকগুলোও আলোচনায় এসেছে। রাজনীতির তিনটি প্রধান 'স্তর' শনাক্ত করা হয়েছে যাতে জনগণের দিক থেকে এখনকার বাস্তব কাজের ধরণ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নির্ণয় সহজ হয়। সে তিনটি স্তর হচ্ছে (ক)  ইমান-আকিদার লড়াই, (খ)  বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে ইসলামের দ্বন্দ্ব টিকিয়ে (আরো পড়ূন)

বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতেই কি কাঁদবে?

এক

বিচারকরা সমাজের বাইরের কেউ নন, সমাজের উর্ধেও নন। সমাজের দ্বন্দ্ব-সংঘাত, মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণ সমাজের আর দশজনের মতো তাদেরকেও স্পর্শ করে। এই সীমাবদ্ধতা জেনেও কাকে ‘বিচার’ বলা যায় আর কাকে ‘বিচার’ বলা যায় না সে ব্যাপারে বিচারশাস্ত্রের আইনী ও ব্যবহারিক দিক থেকে কিছু ‘মানদণ্ড’ ঐতিহাসিক ভাবে গড়ে উঠেছে, যাকে আজকাল ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড’ বলা হয়।

ঐতিহাসিক ভাবে গড়ে ওঠা কথাটার তাৎপর্য বোঝা দরকার। এই অর্থেই বিচারের মানদণ্ড ঐতিহাসিক যে কাকে ‘বিচার’ বলা হবে আর কাকে বিচার বলা হবে না সেটা কেউ ওয়াশিংটনে, জেনিভায় বা ইংলণ্ (আরো পড়ূন)

সুন্দরবন ও জীবনযাপন: আরও কথা

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতার পক্ষে সমাজে একটা গণসমর্থন গড়ে উঠেছে। যেহেতু রামপাল প্রকল্পের স্থান ঠিক হয়েছে সুন্দরবন অতএব এই প্রকল্পের বিরোধিতা সুন্দরবন রক্ষার জন্য জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগও তৈরী করেছ। কিছু কথা ‘বাঘ, সুন্দরবন ও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প’ শিরোনামের লেখায় বলেছি। এখন কিছু বাড়তি কথা বলার সুযোগ নেব। কেউ কেউ বলছেন, ‘সুন্দরবন ছাড়া বাংলাদেশ টিকবে না’ – এই কথাটা ঠিক কি (আরো পড়ূন)

বাঘ, সুন্দরবন আর রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প

 এক

দৈনিক যুগান্তর ও চিন্তার ওয়েবপাতায় ‘গণতান্ত্রিক বিপ্লবের তিন লক্ষ্য’ ( ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩)  প্রকাশের পর সাড়া পেয়েছি বিস্তর। এতে অবাক হয়েছি, কিছুটা। সমাজ যেভাবে বিভক্ত তাতে যে কথা বলতে চেয়েছি তা পাঠকদের কাছে পোঁছানো কঠিন ভেবেছিলাম। কিন্তু মনে হয় তাঁরা বুঝেছেন।

শাপলা/ শাহবাগ বিভাজনের রাজনৈতিক মুহূর্ত বাংলাদেশে ঘটে যাবার ফলে আমাদের প্রথাগত চিন্তার ছক খানিক নড়বড়ে হয়েছে। অনেকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরী হয়েছে, অনেকের সঙ্গে বাধ্য হয়েই দূরত্ব তৈরী করতে হয়েছে। ফেইসবুক নাম (আরো পড়ূন)

গণতান্ত্রিক বিপ্লবের তিন লক্ষ্য

 সমাজবিজ্ঞানীরা কমবেশী সকলেই মানেন যে একটি জনগোষ্ঠির মধ্যে পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কের উদ্ভব ও বিস্তার একটি মাত্রা অতিক্রম করলে পুরানা প্রাক-পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্কগুলো ভেঙ্গে পড়তে থাকে, সমাজের রূপান্তর ঘটা শুরু হয়। এই অবস্থাতেই গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সূচনা ঘটে। প্রাক-পুঁজিতান্ত্রিক সম্পর্ক উৎখাত করে একটি জনগোষ্ঠি ঐতিহাসিক উল্লম্ফনের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে তাদের যাত্রা শুরু করে। ইউরোপের ইতিহাস এই সাক্ষ্যই দেয়। মোটাদাগে এই বিপ্লবের লক্ষ্য থাকে তিনটি। এক. নাগরিক হিসাবে ব্যক্তির আবির্ভাব ও বিকাশ নিশ্চিত করা; দুই. প্রাক-পুঁজিতান্ত্রিক উৎপাদন সম্পর্ক ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিয়ে নতুন ও গতিশীল উৎপাদনশীল সম্পর্ক প্রবর্তন। তিন. অতীত ইতিহাসের সঙ্গে সাংস্কৃতিক (আরো পড়ূন)

পাকা ফল বাদুড়ে খায়

 এক

সমাজে অর্থনীতিতে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে কিম্বা রাজনীতিতে যে সকল সম্পর্ক আমাদের জাপটে ধরে রাখে, মুক্ত হতে দেয় না, আমি তা উপড়ে ফেলার পক্ষপাতি। কেবল তখনই নতুন কিছুর নির্মাণ সম্ভব। সে নতুনের রূপ কেমন হবে সেটা বর্তমানের ভেতরে থেকেই অনুমান ও চিহ্নিত করা সম্ভব। বর্তমানের মধ্যে কাজ করেই তাকে ‘বর্তমান’ করে তোলা যায়, বাস্তবায়নও সম্ভব।

এক সময় দাবি করা হোত ইতিহাস সরল রেখার মতো। পেছনের যা কিছু সবই বাতিল করে দিয়ে আমরা শুধু সামনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে এগিয়ে যাওয়া মানেই ‘আধুনিক’ হওয়া, তথাকথিত 'প্রগতি'র অর্থও তাই। ইতিহাসের গতি রৈখিক, অর্থাৎ সরল রেখার (আরো পড়ূন)

৩. যেমন বেণী তেমনি রবে চুল ভেজাব না'

আন্দোলনে বিএনপির সাময়িক ইস্তফা

গত কিস্তি ছাপা হবার আগেই বোঝা গিয়েছে আন্দোলনের প্রশ্নে দোদুল্যমানতা ও পরাশক্তির ফাঁদে খাবি খাবার দুর্দশাই বিএনপি বেছে নিয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের ওপর নয়, নির্ভর করতে চাইছে জাতিসংঘের ওপর। আন্দোলন থেকে পিছু হটে জাতিসংঘের সহায়তায় ক্ষমতায় আসতে চাইছে। বিএনপি হরতাল-অবরোধ বা কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচিতে যাবে না। গরম ভাব ত্যাগ করে বিএনপি নরম হয়েছে। এর পরিণতি বিএনপির নেতানেত্রী বিশেষ ভাবে খালেদা জিয়া যথেষ্ট ভেবেছেন মনে হয় না। কিন্তু জাতিসংঘকে ডাকাডাকি শুধু বিএনপির জন্য নয়, বাংলাদেশের জন্যও আত্মঘাতী পথ। বিএনপির অবিলম্বে এই পথ থেকে সরে আসা উচিত। এই বিপজ (আরো পড়ূন)

২. যেমন বেণী তেমনি রবে চুল ভিজাবো না!!

কূটনৈতিক মহলের তৎপরতা

‘যেমন বেণী তেমনি রবে চুল ভেজাবো না’ শিরোনামে কিছু কথা বলা শুরু করেছিলাম। এ লেখা তারই ধারাবাহিকতা।

ইতোমধ্যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার কূটনৈতিক মহল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা সুষ্ঠ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। তারা চাইছেন বাংলাদেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেমন আছে তেমনি থাকুক; বড় কিসিমের গড়বড় কিম্বা দেশের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আলগা হয়ে যাক তারা চান না। তারা চাইছেন, রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার কোন বদল না ঘটিয়ে ক্ষমতার হাতবদল কোন প্রকার সংঘর্ষ ছাড়া ঘটুক। তারা এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী করতে চান যাতে প্রধান প্রধ (আরো পড়ূন)

১. যেমন বেণী তেমনি রবে চুল ভেজাবো না !!

‘এক চুলও নড়বো না’

শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ‘একচুলও নড়বেন না’। তিনি যেভাবে তাঁর অধীনে নির্বাচন করতে চান, সেভাবেই নির্বাচন হবে। তাঁর ইচ্ছাই শেষ কথা। বলেছেন, কিভাবে হবে সেটা সংবিধানেই লেখা আছে। এরও সুনির্দিষ্ট অর্থ আছে। অর্থ হোল, তিনি যেভাবে সংবিধান সংশোধন করে রেখেছেন, সেইভাবেই নির্বাচন হতে হবে: তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, সংসদ জারি থাকবে; থানা-পুলিশ-প্রশাসন তার আজ্ঞাবহ থাকবে, তাদের সহযোগিতা করবে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা; এই পরিস্থিতি মেনে নিয়েই বিরোধী দলকে নির্বাচনে আসতে হবে। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের এখন যতোটুকু এখতিয়ার তাকে সংকুচিত করা হবে, যতটুকু ক্ষমতা (আরো পড়ূন)

সিরিয়ার জটিল অংক

বারাক ওবামা যা আশা করেছিলেন সেটা হয় নি। বিলাতের পার্লামেন্ট সিরিয়ায় সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে নি। তিরিশে অগাস্ট বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে তর্ক হয়েছে পার্লামেন্টে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ব্রিটেন যুদ্ধে জড়াবে না। ওবামার প্লান এতে কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ কারনে একা হয়ে যাবে সেটা ভাবার অবশ্য কোন কারন নাই। এরপরও সিরিয়ার হামলায় অনেক দেশের সমর্থন পাওয়া যাবে। তবুও, মানতে হবে, ওবামার সামরিক বাসনা এতে কিছুটা দমিত হতে পারে। সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার চালাবার যুক্তি খাড়া করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে।

বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছেন। কিন্তু তার কোন সুস্পষ্ট বা অকাট্য (আরো পড়ূন)

কালোআইন ও মতের স্বাধীনতা

মাহমুদুর রহমান একবার আদালত অবমাননার দায়ে জেল খেটেছেন, নির্যাতীত হয়েছেন। দ্বিতীয়বারও তিনি গ্রেফতার হয়েছে, রিমান্ডে নিয়ে তাঁর ওপর নির্যাতন হয়েছে। তার মতাদর্শ ও রাজনীতির বিরোধীরা এতে পুলকিত হয়েছে, তাঁর সমর্থকরা তাঁর পক্ষে লড়ে গিয়েছেন। এই দুই পক্ষের বাইরেও অনেকে রয়েছেন যারা শুধু মাহমুদুর রহমান কেন, যে কোন ব্যক্তির নাগরিক ও মানবিক অধিকার রক্ষার নীতি অলংঘনীয় গণ্য করেন। তারা মাহমুদুর রহমানের মতাদর্শ ও রাজনীতির বিরোধী, সেটা তারা বলেছেনও, কিন্তু তাঁর অধিকার রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ গণ্য করেছেন। তাঁরা সেই নীতির জায়গার দাঁড়িয়েই গ্রেফতার ও দমন-পীড়নের নিন্দা করেছেন। যদি তা না করা হয় তাহলে রাষ্ট্র একটি ভীতিকর নিপীড়নের যন্ত্র হয়ে ওঠে; আর, ক্ষমতাসীনরা সেই যন্ (আরো পড়ূন)

গণমাধ্যম ও মানবাধিকার

আদিলুর রহমান খান শুভ্রকে প্রথমে অপহরণ করা হয়েছিল, তাঁর বাসার সামনে থেকে। আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও গুমের যে রেকর্ড বর্তমান সরকারের রয়েছে তা বিবেচনা করে এই অপহরণকে দেশে ও বিদেশে মানবাধিকার কর্মীরা সহজ ভাবে নেয় নি। তার পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে তার কোন নিশ্চয়তা ছিল না। সরকার তাঁকে হাজির করেছে বাধ্য হয়ে। কারন তাঁকে অপহরণের খবর দেশে বিদেশে বেশ দ্রুততার সঙ্গেই জানাজানি হয়ে গিয়েছিল। উৎকন্ঠা ও উদ্বিগ্নতা ছড়িয়ে পড়েছিল সর্বত্র। কেন তাঁকে কোন আগাম অভিযোগ ছাড়া গ্রেফতার করা হোল তার কোন ব্যাখ্যা সরকার দিতে পারে নি। গ্রেফতারের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমে জানিয়েছেন আদিলুরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। প্রশ্ন উঠল, যদি তাই হয়ে থাকে তা (আরো পড়ূন)

নির্বাচন নাকি গণতন্ত্র?

বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবার আগে আদৌ কোন নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় নতুন নয়। হয়তো হবে না, হয়তো হবে। ভদ্রলোক সমাজে যে উদ্বিগ্নতা আমরা দেখছি তাকে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক পক্ষে রয়েছে আইনী উদ্বিগ্নতা। যেমন, এই সরকারের মেয়াদ শেষ হলে যে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরী হবে তার মীমাংসা কিভাবে হবে? আরেক ধরণের উদ্বিগ্নতা হচ্ছে সামাজিক। সেটা হোল নির্বাচন যদি না হয়, ক্ষমতাসীনরা যদি একতরফা নির্বাচন করে, তাহলে দেশে একটা সংঘাতময় পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটবে। সেটা সামাল দেওয়ার উপায় কি? বড়লোকদের জানমাল রক্ষার ব্যবস্থা কিভাবে হবে? পাহারাদারি কে করবে? পুলিশ? সরকারের মেয়াদ শেষ হলে পুলিশও নাকি চোখ উল্টিয়ে ফেলে, আর হাওয়া যদি ভিন্ন ভাবে বইতে শুরু করে তাহলে ত (আরো পড়ূন)

ভালোই তো, ভালো না !

তথ্য মন্ত্রণালয় তথ্য চায়। তাদের কাছে তথ্য নাই যে তা না, তবু তারা তথ্য চায়। আজব ব্যাপার! তথ্য মন্ত্রণালয় তথ্য চেয়েছে ‘অধিকার’ ও ‘টি আই বি’র কাছে। দৈনিক জনকন্ঠে বিভাষ বাড়ৈ রিপোর্ট করেছেন, “শাপলা চত্বরের মৃত্যুর বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিপাকে ‘অধিকার’ (১৪ জুলাই ২০১৩)”। ভালো তো, ভালো না?

পড়ুক অধিকার বিপাকে। আসলে কেউই মারা যায় নি। জাতীয় সংসদেও সরকারদলীয় নেতৃস্থানীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন ৫ মে রাতে হেফাজতের সমাবেশে কোন প্রাণহানির ঘটনাই ঘটেনি। আর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী গত ১৯ জুন জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তৃতায় বলেন, “৫ মে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর কোনো গুলিবর্ষণ করা হয়নি বরং হেফ (আরো পড়ূন)

কাউকে না কাউকে বলে যেতেই হবে

শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেবেন না, তিনি পণ করেছেন তাঁর অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। এর পক্ষে তিনি আদালতের বরাত দিচ্ছেন। আদালত রায় দিয়েছে, তিনি আদালতের কথা মতোই চলবেন। আদালত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বাইরে স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সেই সত্য আদালত কিম্বা আওয়ামি লীগ দুইয়ের কেউই প্রতিষ্ঠিত করতে পারে নি। বলাবাহুল্য, বেগম খালেদা জিয়া জানেন এর অর্থ হচ্ছে নির্বাচনে কারচুপি করে বিরোধী দলকে হারিয়ে দেবার পন্থা হিশাবেই শেখ হাসিনা নিজের অধীনে নির্বাচন চাইছেন। অতএব খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করবেন না। তাঁর তত্ত্বাবধায়ক চাই। আওয়ামি পন্থিরা বলছে, ক্ষমতাসীনদের অধীনে সিটি কর্পোরেশানগুলোর নির্বাচন হয়ে গেলো। সেখানে আওয়ামী ল (আরো পড়ূন)

মাননীয় কৃষিমন্ত্রী, বিটিবেগুন চাই না

[এক]

াননীয় কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরির কাছে আমি একটি দরখাস্ত পেশ করব। কিন্তু তার আগে নিজের সম্পর্কে দুই একটি কথা না বলে পারছি না।

আমি কৃষকদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেতখামারে কাজ করছি। এটা গ্রাম বা কৃষিব্যবস্থার প্রতি কোন রোমান্টিক ধারণার বশবর্তী হয়ে নয়। তবে অনেকের মতোই শহরের চেয়ে গ্রাম আমার ভাল লাগে। নিজেকে অনেক সময় প্রশ্ন করি, ভাল লাগার ব্যারামটা শহরের ‘গেঞ্জাম’ থেকে দূরে থাকার বাসনা কিনা। কিন্তু সবসময়ই নেতিবাচক উত্তর পাই। কারন শহরও আমার ভাল লাগে, কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। দিনানুদিনের লড়াই-সংগ্রামের মধ্যে শহরে সাধারণ মান (আরো পড়ূন)

মিশরের রাজনীতি ও নির্বাচনবাদী ইসলামপন্থা

মিসরের সেনাবাহিনী জুলাইয়ের ৩ তারিখে সংবিধান স্থগিত ও নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মরসিকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছে। যুক্তি দিয়েছে বিরোধী দলের সঙ্গে সেনাবাহিনীর বেঁধে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমঝোতা করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। সমঝোতার একটা প্রস্তাব শেষ মুহূর্তে মরসি দিয়েছিলেন, কিন্তু ততোদিনে অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে। সেনাবাহিনী একই সাথে অধৈর্য বাকভঙ্গীতে হুমকি দিয়ে বলেছে, গণমাধ্যম ও বিরোধী শক্তি মোকাবিলার জন্য এক বছরই যথেষ্ট। একটি নির্বাচিত সরকারকে তার পূর্ণ মেয়াদ পালন করতে না দিয়ে মোহাম্মদ মরসির বিরোধীরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগসাজসে সেনা অভ্যূত্থান ঘটানোর যে পথ গ্রহণ করেছেন তা মিশরের জনগণের জন্য আত্মঘাতী পথ। বলাবাহুল্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ম (আরো পড়ূন)

চার সিটি কর্পোরেশান নির্বাচন

শেখ হাসিনা বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মানবেন না, সেটা তিনি পরিষ্কার বলে আসছেন। এর জন্য তিনি বিস্তর রক্তক্ষয় ঘটিয়েছেন। আরও যদি ঘটে তিনি এই অবস্থান থেকে নড়বেন না। আসন্ন আগামি জাতীয় সংসদের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকেই তিনি নির্বাচন করতে চান, সেই ইঙ্গিত রাজনীতিতে নানাভাবে তিনি দিয়ে রেখেছেন। যদি সদয় হয়ে নিজে ক্ষমতার দণ্ড হাতে না রাখেন তাহলেও তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে  প্রশাসনের ওপর তাঁর দাপট ও ক্ষমতা পুরাপুরি বহাল রয়েছে। যদি আদৌ নির্বাচন হয় তাহলে দলীয় আধিপত্য ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে তাঁকে যে ভাবে হোক নির্বাচনে জিতে আসতে হবে।  তিনি জানেন, রাজনীতিতে সহিংসতার মাত্রা যে স্তরে তিনি নিয়ে এসেছেন তার প্রাণঘাতী মেরুকরণের  কুফল ত (আরো পড়ূন)

ধর্ম প্রসঙ্গে

[ চিন্তা (বৃহস্পতিবার) পাঠচক্রে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়। তার মধ্যে ধর্ম, ধর্মতত্ত্ব, দর্শন ভাবুকতা ইত্যাদি অন্যতম। সম্প্রতি বিভিন্ন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ফরহাদ মজহার যে আলোচনা করেছেন এখানে তার কিছু সারসংক্ষেপ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হোল। আলোচনাগুলো যেন হারিয়ে না যায় তার জন্য কিছু বিষয় রেকর্ড করে রাখবার চেষ্টা। আশা করি একে কেন্দ্র করে আরও আলোচনার সুবিধা তৈরী হবে।

বলাবাহুল্য, মুখোমুখি আলাপের গুরুত্ব আলাদা। প্রবন্ধ বা লেখা হিশাবে হাজির করবার চেয়ে জীবন্ত প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা বিষয়ে প্রবেশ করতে অনেক বেশি সহায়ক, এটাই আমাদের ধারণা।  এর বৈশিষ্ট কোথায় পাঠক পড়া মাত্রই বুঝতে পারবেন। প্রাথমিক আলাপের কিছু অংশ এ (আরো পড়ূন)

‘বেটার লেইট দেন নেভার’

বাংলাদেশের কয়েকজন সম্পাদক গত ১৮ তারিখে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি, বন্ধ টিভি চ্যানেল ও আমার দেশ ছাপাখানা খুলে দেবার জন্য বিবৃতি দিয়েছেন। মাহমুদুর রহমান গ্রেফতার হবার প্রায় ৪০ দিন পর এই বিবৃতি এলো। এই ৪০ দিনে অবশ্য বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেক কিছুই ঘটে গিয়েছে। তবুও একদমই কোন বিবৃতি না আসার চেয়েও দেরিতে আসাকে মন্দ বলা ঠিক না। সাহেবরা যেভাবে বলেন, ‘বেটার লেইট দেন নেভার’। আমরাও তাই বলি। তাঁদের ধন্যবাদ জানাই।

হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ লংমার্চ ও সমাবেশের পাঁচ দিন পর ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে পত্রিকা অফিস থেকে গ্রেফতার করে সাদা পোশাক পরা (আরো পড়ূন)

অপারেশন ফ্লাশ আউট

নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশান ফ্লাশ আউট’ – অর্থাৎ হেফাজতিদের শহর থেকে টিয়ারগ্যাস ছুঁড়ে গুলি মেরে বোমা ফাটিয়ে যে ভাবেই হোক তাড়িয়ে দিতে হবে। শহর সাফ করতে হবে। শহর ধনি ও বড়লোকদের জায়গা। ভদ্রলোকদের নগর। সুশীলদের রাজধানী। যাদের পাহারা ও রক্ষা করবার দায়িত্ব র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও মজুদ। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই অভিযানের নাম দেয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, অন্যদিকে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) একই  অপারেশনের নাম দেয় ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। চরিত্রের দিক থেকে এটা ছিল মূলত একটি সামরিক অভিযান। নিজ দেশের নিরস্ত্র নাগরিকদের বিরুদ্ধে সাঁজোয়া যান ও মারণাস্ত্রসহ ঝাঁপিয়ে পড়া।  (আরো পড়ূন)

শিক্ষা ও কওমি মাদ্রাসার রাজনীতি

হেফাজতের আবির্ভাব এবং তাদের ১৩ দফা দাবিকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ রুচি ও হিংসার মাত্রা অনুযায়ী রাজনীতির বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন ভাষায় প্রতিপক্ষকে আক্রমণ এবং নিজ নিজ শ্রেণির পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর দ্বারা সমাজে শ্রেণি ও শক্তির চরিত্র আমরা কিছুটা শনাক্ত করতে পারছি। এর মধ্য দিয়ে সামগ্রিক ভাবে বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক স্তর সম্পর্কেও ধারণা করা যায়। আসলে বাংলাদেশে কী ঘটছে তা বুঝবার জন্য সঠিক তথ্যের চেয়ে প্রচার ও প্রপাগান্ডার দিকে অতি মাত্রায় ঝোঁক এবং বিশ্লেষণের চেয়েও নিজের বদ্ধমূল অনুমান ও মতের গোঁড়ামি নির্বিচারে উগরে দেবার মানসিকতাই প্রকট হয়ে আছে।

যথেষ্ট না হলেও বিভিন্ন শ্রেণিগুলোকে চেনার জন্য তাদের দাবিদাওয়াগুলো হলো প্রাথমিক উ (আরো পড়ূন)

পূর্ব বঙ্গের কৃষক আন্দোলনঃ সাম্প্রদায়িকতা না শ্রেণীসংগ্রাম?

আবুল মনসুর আহমদরে অনেকেই কেবল ব্যঙ্গ লেখক হিশাবে চিনতে চান। কিন্তু তাকে কেবল ব্যঙ্গ লেখক মনে করা তাঁকে ব্যঙ্গের শামিল। এতে তাঁর আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান আড়াল হইয়া যায়। ১৯৪৭ সালের আগের ও পরের ইতিহাস, বিশেষ কইরা আমাদের এই অঞ্চলের কৃষি প্রশ্ন ও তার রূপান্তর জানতে বুঝতে চাইলে আবুল মনসুর আহমদরে বাদ দিয়া সেইটা এক প্রকার অসম্ভব। তিনি ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ নামে একটা আত্মজীবনী লেইখা গেছেন। যেইটা নিছক আবুল মনসুরের আত্নজীবনী না, আমাদের এই ভু-খন্ডের আত্মজীবনীও বটে।

বইটা বিশাল, পুরা বইয়ের আলোচনা এইখানে সম্ভব না। আমরা শুধু কৃষক-প্রজা পার্টির ইতিহাসে নজর ফিরাব। আমাদের ইতিহাস আলোচনায় কৃষক-প্রজা পার্টি নিয়া আলোচনা করতে দেখা যায় না। (আরো পড়ূন)

অসামান্য বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম

তাঁর সঙ্গে দুইবার মাত্র দেখা হয়েছিল। এর একটা বড় কারণ, তিনি তাঁর জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষকতার সূত্রে থাকতেন চট্টগ্রামে। দ্বিতীয় কারণ আমরা এমন এক সমাজ তৈরী করেছি যেখানে জ্ঞানের কদর নাই, বিজ্ঞান তো দূরের কথা। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও বিশ্বসভায় নেতৃত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে মৌলিক বিজ্ঞান চিন্তার ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণা নাই। বিজ্ঞানীর যোগ্য সামাজিক সম্মান আমরা দিতে জানি না, তাঁদেরকে ঘিরে আমাদের কোন সামাজিক সংঘ নাই, চিন্তার আদান প্রদানের কোন সাধারণ পাটাতন নাই। ফলে জ্ঞানবিজ্ঞানের আউলিয়া হয়ে তাঁরা তাঁদের নির্জন সাধনায় একা একা রত থেকেছেন। এখন যখন সংবাদ পাচ্ছি যে তিনি আর নাই, তখন বেদনায় কাতর হতে পারি, কিন্তু সেটা কুমিরের অশ্রুর বেশি মূল্য পা (আরো পড়ূন)

শ্রেণি ও শক্তির নতুন বিন্যাস চলছে

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভাবাচ্ছে সবাইকে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও শক্তিও নতুন পরিস্থিতিতে নতুন ভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে। ভীত সন্ত্রস্ত মধ্যবিত্ত শ্রেণি দুই পক্ষের মধ্যে কোন একটা সমঝোতার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে শশব্যস্ত। তারা চাইছে রাজনীতির প্রধান দুই প্রতিপক্ষ সংলাপে বসুক। কোন একটা ফর্মুলা বের করে নির্বাচন করুক। হীনবীর্য পাতিবুর্জোয়া নীতিবাগীশরা যথারীতি সহিংসতা নিয়ে তুমুল তর্কবিতর্কে আসর গুলজার করে রেখেছে। জামাত-শিবিরকে দানব বানাবার কাজে সকল সৃষ্টিশীলতা ব্যয় করতে তারা কসুর করছে না, যেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর তার ট্রিগার হ্যাপি পুলিশ বাহিনী দিয়ে জামাতি দানবদের আরও নিখুঁত টার্গেটে হত্যা করতে পারে। অন্যদিকে জামাত বির (আরো পড়ূন)

ইনসাফ না থাকলে যা ঘটে

বাংলাদেশের সমাজ দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে, এতে সন্দেহ নাই। এই বিভাজনকে এতদিন আমরা যেভাবে আওয়ামী লীগ- বিএনপি বলে চিনতাম সেই বিভক্তি নয়। এই ভাগাভাগি আরও গভীরে, আরও ব্যাপক, আরো বিস্তৃত।

সমাজে মানুষ বিভিন্ন পরিচয় নিয়ে হাজির থাকে। সমাজের ভাষা ও সংস্কৃতিগত নানান ভিন্নতা ও বৈচিত্র আছে, নানা নৃতাত্ত্বিক জাতি আছে, বিভিন্ন ধর্ম রয়েছে এবং তাদের নিজের নিজের সংস্কৃতি, ধর্ম ও আত্মপরিচয়ের নানান ব্যাখ্যাও আছে। এই বিভিন্নতা ও বৈচিত্র থেকে সমাজ ও সংস্কৃতি তাদের পারস্পরিক ঐক্যের রসদ সংগ্রহ করে। সমাজ গতিশীল থাকে। পরস্পরের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা যেমন থাকে, তেমনি নানান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ও নিত্যনতুন সম্পর্ক নির্মাণের মধ্য দিয়ে একট (আরো পড়ূন)

'ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ': প্রাসঙ্গিক মন্তব্য

“শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বব্যাপী পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার যে সংকট আমরা দেখছি তাতে এটা নিশ্চিত বলা যায় বাংলাদেশে ফ্যসিবাদ আরো প্রকট ও রাজনৈতিকভাবে আরো হিংস্র রূপ নিয়ে হাজির হবার সম্ভাবনা রয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সংবিধান ও বিচার বিভাগকে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবার জন্য যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তা একটি আগাম ইঙ্গিত মাত্র”। (ফ্যসিবাদ সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক মন্তব্য)

কথাগুলো গত বছর (২০১২) ফেব্রুয়ারিতে ‘ডিজিটাল ফ্যাসিবাদ’ নামে প্রকাশিত বইয়ের ভূমিকা হিশাবে লেখা হয়েছিল। ফ্যসিবাদ এখন পূর্ণ রূপ নিয়ে বাংলাদেশে হাজির হয়েছে এবং দেশের মানুষকে স্পষ্ট দুই ভাগে ভাগ করে ফ (আরো পড়ূন)

শেখ হাসিনার নাম হবে ‘কারজাই’

দৈনিক সমকাল ঘোর আওয়ামীপন্থী পত্রিকা হিশাবে পরিচিত। গত আটই মার্চে দেখলাম তারা আট কলামে বড় লাল অক্ষরে প্রথম পাতায় শিরোনাম করেছে ‘মহাসংকটে দেশ’। বোঝা যাচ্ছে এটা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের কোন একটি অংশের উপলব্ধি। ঘটনা ঘটছে দ্রুত। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও শক্তি এই পরিবর্তনশীল ঘটনার মধ্যে কখন কী উদ্দেশ্যে কি অবস্থান গ্রহণ করছে সেটা এই ধরণের খবর দেখে আন্দাজ করা যায়। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর যে অংশ চতুর্দিকে পরিস্থিতি দেখে আতংকিত হয়ে পড়েছে এবং অশান্তি, সহিংসতা, বল প্রয়োগ ইত্যাদিকে নৈতিক জায়গা থেকে নিন্দা করে ভেবেছিল প্রলয় বন্ধ থাকবে, তারা এখন প্রকাশ্যে তাদের আতংক ব্যক্ত করছে। ইন্টারেস্টিং।

এই আতংকিত মধ্যবিত্তের পক্ষে সম্ভাব্য রাজনৈতিক (আরো পড়ূন)

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নতুন সাংগঠনিক রূপ

প্রথমে একটি কথা স্পষ্ট ভাবে বলা দরকার। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের নাগরিকদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা করা হয়েছে, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে, অনেক বাড়ি জ্বালিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করা হয়েছে। যারা এই হামলার স্বীকার হয়েছেন তাদের প্রায় প্রত্যেকেই গরিব ও নিপীড়িত শ্রেণির মানুষ। তাঁদের অপরাধ তারা হিন্দু। মনে রাখতে হবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণমানুষের পালটা ক্ষমতা যদি কেউ তৈরী করতে চায় তাহলে তার প্রথম কাজ হচ্ছে মাঠে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা। এটা স্রেফ বিএনপি বা জামাতের একটি কি দুটি বিবৃতি দিয়ে দায় সারার ব্যাপার নয়। মাঠে করে দেখানোর বিষয়।

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা এই ধরণের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করার (আরো পড়ূন)

‘গণহত্যা’ কী?

সরকার যে হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে পরিকল্পিত ভাবে একটি বিশেষ গোষ্ঠিকে ‘নির্মূল’ করাই সরকারের উদ্দেশ্য। একে কেন গণহত্যা বলা হচ্ছে তাতে অনেকে আপত্তি করছেন। এই হত্যাযজ্ঞ যারা চালিয়ে যেতে চান তারাই এই প্রশ্ন তুলছেন। যদি রক্ত তারা ঝরাতে না চান তাহলে সকল পক্ষকে অবিলম্বে হানাহানি বন্ধ করবার জন্যই তারা ডাক দিতেন। কূটতর্ক করতেন না। কিন্তু তারা তা না করে এই হত্যাকাণ্ড গণহত্যা কিনা সেই কূটতর্কই শুরু করেছেন। আমি এর আগে বারবার বলেছি সরকার যেভাবে মানুষ হত্যা করছে সেটা গণহত্যাই। এই হত্যালিপ্সা নিবৃত্ত করা দরকার। পুলিশের প্রতিও দাবি জানাতে হবে যেন অবিলম্বে গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করে। জামাত-শিবিরকেও অবিলম্বে সকল প্রকার হামলা ব (আরো পড়ূন)

নির্মূলের রাজনীতি

নির্বিচারে পুলিশ গুলি করে একদিনে ষাটেরও অধিক মানুষ হত্যা করেছে, এখনও হত্যাযজ্ঞ চলছে। ফলে আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করা। এই বর্বরতার কঠোর নিন্দা করা। এর আগে ‘এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করুন’ বলে আবেদন জানিয়েছি সকল পক্ষের কাছে। কিন্তু তার পরিবর্তে এই হত্যাযজ্ঞকে কেন ‘গণহত্যা’ বলা হোল তা নিয়ে শোরগোল শুরু করে দিয়েছে দলবাজ ও মতান্ধরা। তারা বলছে জামাত শিবির পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে, অতএব নির্বিচারে পুলিশ দিয়ে মানুষ হত্যা জায়েজ। কারন মারা হচ্ছে জামাত-শিবির। তাদের দাবি, যেহেতু পুলিশের ওপর আক্রমণ হয়েছে অতএব ক্ষমতাসীন সরকারের গ (আরো পড়ূন)

এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করুন

দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে পুলিশ যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে তাকে নির্বিচার গণহত্যা ছাড়া মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের দিক থেকে আর কিছুই বলা যায় না। বিক্ষোভ ও মিছিল দেখলেই গুলি করবার নির্দেশ পালন করছে পুলিশ। মনে হচ্ছে বাংলাদেশে হত্যার উৎসব চলছে। কাদের মোল্লার রায়ে কেন তাকে ফাঁসি দেওয়া হোল না একদল তার বিরুদ্ধে ফেব্রুয়ারির ছয় তারিখ থেকে শাহবাগে  অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে, দাবি করছে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে অভিযুক্তদের বিচার নয়, যেভাবেই হোক ফাঁসি দিতে হবে। ফাঁসির রায় ছাড়া শাহবাগ  ঘরে ফিরবে না। আদালতের ওপর এই অন্যায় চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এটা ঘটছে প্রকাশ্যে। পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় ক্ষমতার চাপ।

আদালত&nbs (আরো পড়ূন)

“টেলিভিশন”: সিনেমার গল্পের সমস্যা

মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর সিনেমা ‘টেলিভিশন’ রিলিজ হয়েছে সম্প্রতি সিনেমা হলে। কিছু তরুণ বন্ধুদের উৎসাহে শুক্রবার সকালে দশটায় অর্থাৎ প্রথম দিনের প্রথম শো দেখতে গিয়েছিলাম। দর্শকরা ছবিটি কিভাবে নেয়, কি ধরণের প্রতিক্রিয়া জানায় ইত্যাদি জানার দিক চিন্তা ভাবনা করে বন্ধুরা বলাকা হল বেছে নিয়েছিল।

সে হিসাবে যথারীতি সকালে যাওয়া। গিয়ে দেখা গেল টিকেটের চাহিদা এত বেশি যে বলাকা-২ বা আগের নাম বিনাকা হলে, তাও ব্যালকনি নয়, নীচতলার টিকেট পাওয়া গেল। সকাল দশটার আগেই হাউসফুল বোর্ডও টাঙানো হয়েছিল দেখেছিলাম। সকাল নয়টার দিকে বাসা থেকে রওয়ানা দেবার সময় ভেবেছিলাম এই শৈতপ্রবাহের সকালে নিশ্চয় হলে গিয়ে দেখব ভীড় তেমন নাই। দর্শকেরা হয়ত পরের শোগুলোতে ভীড় কর (আরো পড়ূন)

পদ্মা সেতু ঋণ বাতিল ও বিশ্বব্যাংক

বাংলাদেশে বিশ্বব্যংকের যে এত ভুরি ভুরি সমালোচক আছে পদ্মাসেতু নিয়ে কথা-বার্তা উঠার আগে তা ঠাহর করা যায় নাই। এহ বাহ্য, প্রকারান্তরে মিডিয়ার উপর শেখ হাসিনার দখল কতখানি তা বেশ অনুভব করা গেছে। এসব সমালোচনার মূল বিষয়, হাসিনা সরকারের দিকে দুর্নীতির উঠানো আঙ্গুল যে যেভাবে পারে সত্য-মিথ্যা, আর্ধেক বুঝা, না-বুঝা দিয়ে মুচড়ে দেয়া। আর সেই সঙ্গে বিশ্বব্যংকের বিরুদ্ধে এ উসিলায় একপ্রস্থ লিখার আনন্দে অনেকে জ্ঞানের বহর খুলতে শুরু করেছে! ষ্ট্রাটেজিটা হলো,হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ যেখান থেকে এসেছে সেই প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংককের গায়েই কালি লাগানো;এতে যার যা সাধ্যে কুলায়, এমন সমস্ত তীর ছুড়ে যতটা সম্ভব হাসিনার ইমেজ ড্যামেজ বা ক্ষতি রিপেয়ার করা। ব্যাপারটা (আরো পড়ূন)

সরকারি হাসপাতাল বা রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা

ঢাকার তিনটি সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার হালচাল

 চিন্তা’র তরফে সম্প্রতি ঢাকা শহরের তিনটি সরকারি হাসপাতাল--ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবার হালচাল ঘুরে দেখেছেন আমাদের প্রতিবেদক রোকেয়া বেগম ও শাহীনুর বেগম

 ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১০। সকাল ১১.৩০ টা থেকে ১.৩০

এই সময়ের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর বিভাগ ও বহির্বিভাগ ঘুরে রোগীদের অবস্থা দেখার চেষ্টা করি। আমরা দেখতে পাই, ইনডোর ব (আরো পড়ূন)

পোষাক খাতে মজুরি ও মুনাফা

ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা হলে কি রফতানিমুখি পোশাক খাত বন্ধ হয়ে যাবে?

তীব্র শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে সরকার তৈরি পোশাক খাতের শ্রমের ন্যূনতম মজুরি নতুন করে নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের মুদ্রার মান ও দ্রব্যমূল্যের বিচারে এ তিন হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির ফলে শ্রমিকরা দারিদ্র্যসীমার অনেক নিচে থেকে জীবন ধারণ করতে বাধ্য হবে। এ খাতের মালিকরা বলছেন, শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী যদি ন্যূনতম মজুরি পাঁচ হাজার টাকা করা হয় তবে দেশের তৈরি পোশাক খাত বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক বাজার, সেই বাজারে বাংলাদেশের (আরো পড়ূন)